বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“পরে কিন্তু আমাকে বকতে পারবিনা, বলে দিলাম।”(শিমু)
“কিছুই বলবোনা, যাহ এখন।”
“কোথায় যাবো?(শিমু)
“পড়তে যাবি! বুঝোস না?”
“যাইতেছি, এতো গলা দেখাইয়োনা। বোনের সাথে সুন্দর কইরা কথা কইতে হয়! জানো না সেটা? নাকি জানাই দিতে হবে৷”(শিমু)
“যাবি নাকি আমি উঠবো!”
শিমু ঠ্যানঠ্যান করে পড়ার রুমে চলে যায় আর আমি যাই ছাঁদে। একটু চাঁদের জকজকে আলোটা দেখবো। ফুল বাগানের পাশে বসলাম, ঘ্রাণে প্রানটা শিহরিত হয়ে গেছে আর চাঁদের আলোয় মনটা। দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছি। পকেট থেকে মোবাইল বের গান শুনতে লাগলাম। মনে পড়ল, বিকেলবেলা তুহিকে বিদায় দেয়ার পর আর ফোন দেয়া হয়নি, 'সে কি বাসায় পৌঁছেছে নাকি পৌঁছায়নি! তাও জানি না।' একবার ফোন দেয়া উচিত আমার। ডায়ালে গিয়ে নাম্বার খুজছিলাম ঠিক তখনই মাইশার নাম্বারটি সামনে এসে যায়। বিকেলবেলার মতো আবার মাইশাকে একের পর এক ফোন দিতে লাগলাম। এখনও মোবাইল বন্ধ! দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস নিয়ে চাঁদের দিকে তাকালাম। মনে হলো যেন, মাইশা চাঁদে বসে আমাকে দেখে হাসছে আর বলছে আমি চলে আসছি চাঁদে! তোমাকে একা রেখে, আর কখনও পাবে না আমায়। বুকের ভেতরটা ধুপ করে উঠল। নিঃসঙ্গ অনুভূত হচ্ছে আমার। মনকে কিছুটা শান্ত করতে ফোন দিলাম তুহিকে। একটু হলেও ভালো লাগবে আমার।
“হ্যালো”
“কেমন আছো?”(তুহি)
“মোটামুটি ভালো। তুমি?”
“আমি পুরোটাই ভালো কিন্তু তুমি মোটামুটি কেন?”(তুহি)
“এমনি একটু টায়ার্ড। এছাড়া আর কিছুনা।”
“কিছু খেয়েছো?”(তুহি)
“হ্যা, এইমাত্র নাস্তা করে এসেই তো ফোন দিলাম তোমায়।”
“ওহ, তাই।”(তুহি)
“হ্যা সেটাই। এখন শোনো, একটা কাজ করতে হবে তোমায়?”
“কি কাজ?”(তুহি)
“একটা গান গেয়ে শোনাও যাতে আমার মনটা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়৷”
“আমার কণ্ঠ ভালো না। গান গাইতে পারবোনা, মাফ করো আমায়।”(তুহি)
“সম্ভব নয়, তোমার কণ্ঠ অনেক মিষ্টি, অনেক ভালো আমি জানি সেটা। সুতরাং গান তোমার গাওয়াই লাগবে।”
“মাফ করা যায় না।”(তুহি)
“অসম্ভব!”
অবশেষে তুহি গান গাইতে শুরু করলো। 'আমারও পরানো যাহা চায়, তুমি তাই! তুমি তাই গো, আমারো পরানো যাহা চায়। মিষ্টি কণ্ঠে অসাধারণ গাইতেছে গানটা, আমারও ভালো লাগছে গানটা। আনমনে শুনেই চলছি। শিমু কবে যে পেছনে এসে গেছে আমি বুঝতে পারিনি। হঠাৎ হিহিহি করে একটা হাসি দিতেই পেছনের দিকে তাকালাম। ভদ্র শয়তানটাকে দেখে মেজাজ ১৫০ ডিগ্রির একটু উপরে চলে যায়। সাথে সাথে ফোন রেখে দিয়ে জোরে একটা জারি দিলাম শিমুকে। ইঁদুরের মতো দৌড়ে চলে যায়। ছাঁদ থেকে নেমে এলাম। রাত প্রায় দশটা বাজে বাজে। রুমে চলে গেলাম। বসে একটা গল্পের বই পড়ছি। পাশের রুম একটু একটু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম! বুঝতে বাকি রইলোনা, আমার ছোটমনিটাই কাঁদছে। আমার বুকে চিন করে উঠল। দুনিয়ার সবকিছু সহ্য করতে পারি। আমার বোনটির কান্না কখনও সহ্য করতে পারি না। শিমু দরজা লাগিয়ে কাঁদছে। বারবার দরজা ধাক্কানোর পরও দরজা খুলছেনা। অবশেষে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। জানি, শব্দ না শুনলে দরজা খুলে দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি কি না? সেটাই হলো! শিমু দরজা খুলে তাকাতেই আমি ওর রুমে ডুকে যাই।
“তুই আমার রুমে ডুকছোস কেন? চলে যা।”(শিমু)
“কি হইছে? বোন আমার। কাঁদছোস কেন?”
“খবরদার, আমাকে বোন বলবিনা৷”(শিমু)
“তাহলে কি বলবো?”
“কিছুই বলবি না। আমি তোর কেউ না।”(শিমু)
“কে বলছে তুই আমার কেউ না। তুই হলি আমার আদরের একমাত্র ছোটবোন। যাকে আমি অনেক ভালোবাসি।”
“আমি যদি কারো বোন হতাম তাহলে কি এতো ঝাড়ি খেতাম? আমাকে সবাই ঝাড়ি দেয় সুতরাং আমি কারো বোন না।”(শিমু)
“এমন করে বোন আমার। এই কানে ধরছি, আর কখনও এরকম হবে না। এবারের মতো মাফ করে দেয়।”
“তারপরও মাফ করবোনা, আমি খুব রাগ করছি।”(শিমু)
বুঝলাম পকেটে হাত দিতে হবে। ১০০ টাকার একটা নোট বের করে নাড়াতে লাগলাম। শিমুর রাগটাও কমে আসলো। যথারীতি আমার কাছ টাকা নিয়ে হিহিহি করে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে রুম থেকে পালিয়ে যায়। আমিও চলে গেলাম কিচেনে, মাকে বলে আসলাম খাবার দিতে! পেটে ক্ষুধায় চু চু করছে। ডাইনিং টেবিলে বসে অপেক্ষা করছি, একে একে সবাই চলে আসলো। প্রতিদিনের মতো আমরা খেতে লাগলাম। খাওয়া শেষ। প্রতিদিনের মতো শিমুকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের রুমে চলে যাই। বালিশে মাথা রাখতেই ঘুম চলে আসে৷ নির্ভার হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন ঠিক একই ভাবে চলে যায়। তারপর চলে আসে আমার বিয়ের দিন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গেছি আমি। সম্পূর্ণ বাসায় মানুষে ভরপুর৷ আমার একটু একটু লজ্জা লাগছে। আগেকার দিনের চেয়ে অনেক কম কথা বলছি। এদিকে শিমু পুরো বাসাটাকে হইচই করে মাতিয়ে তুলছে। সাথে তার বান্ধবীরাও আছেন। তাদের মনে যেন আজ ঈদের মতো আনন্দ! অন্যদিকে মা-বাবা নানান কাজ করে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমার বন্ধুরাও ইতিমধ্যেই চলে আসছে। সবার সাথে আড্ডাতে বসে পড়লাম। তারা বিভিন্ন টিপস দিচ্ছে আমায়! বাসর ঘরে কি করতে হবে? কিভাবে কথা বলতে হবে? এরকম সবকিছুই বুঝাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, তারা সবাই বিয়ে করে একেকটা ৪-৫ টা সন্তানের বাপ! অথচ একটায়ও বিয়ে করেনি। তারপরও তাদের কথাতে ভীষণ সায় দিলাম। তারাও মহা খুশি! অতঃপর যখন বিকেলের শেষ প্রহর ঘনিয়ে আসলো তখন আমরা সবাই সাজগোজ করে বের হয়ে গেলাম। জামাইয়ের সাজে আমি ভীষণ লজ্জা অনুভব করছি। এতো মানুষের মাঝে নিজেকে বড়ই এতিম মনে হচ্ছে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় বিপদ,'শিমু' আমার পাশে বসা! আমাকে নানাভাবে সবার কাছে বিব্রত করছে। তারপরও আমার কিছু করার ছিল না। চুপ করে বসে আছি। গাড়ী খুব দ্রুত চলছে। নিশ্চয়, আমরা কিছু সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবো। কিছুদূর গিয়ে একটা বাজারের কাছে গাড়ী থামালেন বাবা। কনের বাড়ীতে যাইতে নাকি মিষ্টি কিনতে হয়! তা না হলে অসম্মান হয়। সম্মান বাঁচাতে বাবা এতো বেশি মিষ্টি কিনলেন যার ফলে একটা গাড়ী পুরোটাই লোড হয়ে যায়! এরপর আমরা পথে আর কোথাও দাঁড়াই নি, সোজা চলে আসি তুহিদের বাসায়। অনেক সুন্দর করে সাজানো আমার শ্বশুর বাড়ীটা। দেখেই মনটা জুড়িয়ে গেল। মুচকি হাসি দিয়ে গাড়ী থেকে নামলাম। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে পারলাম না। আমার শালিকারা দল বেঁধে গেট ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেও ভেতরে ডুকতে পারলোনা। আমার বউয়ের আপন বোন আমার সুন্দরী শালিকা 'জোনাকি' বেশি চিল্লাচ্ছে! গেটের ভেতরে ডুকতে হলে নাকি টাকা দিতে হবে! আমার বন্ধুরা ১০০০ টাকা দিলো, কিন্তু তারা নেয় নি। তাদের দাবি, ১০,০০০ টাকা নাকি দিতে হবে৷ অবশেষে ৫০০০ টাকা দিয়ে কোনোরকম ভাবে গেট ছাড়ানো হলে আমাকে নিয়ে সবাই স্টেজে চলে যায়। আমি মাঝখানে চুপচাপ বসে আছি। চারপাশে অসংখ্য মানুষ। সামনে তাকিয়ে দেখলাম, তুহিকেও স্টেজে আনা হচ্ছে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now