বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“আমাদের তো কোনো বাসের ঘর নাই, সবই পাকা ঘর সুতরাং কোনো চিন্তাও নাই, আনলিমিটেড ঘুমাবো।”
“দেখবো, নিজেকে কতটুকু সংযত রাখতে পারো। এখন তো জোকস করছো, পরে আবার অন্যকিছুর জন্য জোর করবে না, বলে দিলাম। যদি জোর করো, তাহলে খবর করে ছাড়বো।”(তুহি)
“কি করবে শুনি?”
“চিৎকার দিয়ে বাসার সবাইকে জানিয়ে দিবো, তুমি মানুষ ভালা না।”(তুহি)
“চিৎকার করবে কেন? আর আমিই বা তোমার কাছে জোর করে কি চাইবো? আপোসে বিড়ালটা মেরে ঘুমিয়ে যাবো।”
“এই অসভ্য কথা বলবেনা, বলে দিলাম। আমার লজ্জা লাগে।”(তুহি)
“কি অসভ্য কথা বললাম? শুনি!”
“এই যে বললে, 'বিড়াল মারবে' ঐ শব্দটা অনেক বিশ্রী!”(তুহি)
“বিড়াল একটু দুষ্টমি করলে থাকে মারাটা বিশ্রী হবে! মানে, কি বলো তুমি? বিড়ালের শাস্তি দিতে হবে না। বিড়ালকে একটা চড় মেরে ঘুমিয়ে যাবো। আর তুমি কি সব ফালতু চিন্তা করে মাথা ঘামাচ্ছো?, ছি! ছি! ছি!”
“কিহ, আমাকে চড় মারবে? আর আমি ফালতু চিন্তা করি? আসলে তুমিই শয়তান, অন্যকিছু mean করে কথা বলছো আর আমাকে বোকা পেয়ে আরেক কথা বুঝাচ্ছ।”(তুহি)
“তুমি কি বিড়াল নাকি! যে তোমাকে মারবো।আমি তো বিড়ালকে মারবো।”
“ঐ একই কথা! আমি জানি, ঐ 'বিশ্রী' কথা দিয়ে মেয়েদের ইজ্জতের বারোটা বাজানো হয়। তুমি যদি আমার সাথে এরকম কিছু করো, তাহলে.... ”(তুহি)
“তাহলে কি?”
“তাহলে পুলিশের কাছে গিয়ে ধর্ষণের মামলা দিবো। কথাটি মনে রেখো।”(তুহি)
“হায় হায় এটা কি বলো? তাহলে তোমাকে বিয়ে কেন করবো? বিয়ে করে লাভটা কি আমার?”
“বিয়ে করলে অনেক লাভ! এই মনে করো, আমি তোমাকে ভালোবাসবো, তুমি আমাকে ভালোবাসবে? আমাদের ছোট বেবি হবে, আমাদের সংসারটাও অনেক সুন্দর হবে।”(তুহি)
“ভালোবাসবো টা কেমনে? আর বেবিটা কি আকাশ থেকে আসবে? বিড়াল মারলে তো পুলিশের মার খাবো!”
“বাসর রাত ব্যাতীত, অন্য রাতে সব হবে। এই রাতে আমরা শুধুমাত্র গল্প করে কাটাবো। আমি তোমার কোলে শুয়ে থাকবো, তুমি চুলে আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিবে। মাঝে গাল দুটো টেনে দিবে আর মজার মজার কথা বলবে সাথে হাজার বার বলবে 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'।”(তুহি)
“সাথে কি একটা-দুটো কিস করা যাবে?”
“যাহ, এতো অসভ্য কথা বলো কেনো? আমার বুঝি লজ্জা করে না? ইচ্ছে হলে করবে, না হলে নাই! মুখে বলার কি আছে?এখন চলো এখান থেকে উঠে যাই। আজ সারাদিন আমরা হাঁটবো। আর অনেক গল্প করবো”(তুহি)
“কিন্তু আমার যে ঘুম পাচ্ছে। সারাদিন হাঁটবো কেমনে? যদি ঘুম চলে আসে।”
“তাহলে ঘুমাবে।”(তুহি)
“কোথায়? মানে, হাঁটার মাঝে কেমনে ঘুমাবো?”
“যখন চোখে ঘুম চলে আসবে, আমরা কোথাও নিরিবিলি এক নির্জন স্থানে বসে যাবো। তারপর, আমার কোলে মাথা রেখে তুমি ঘুমিয়ে যাবে, আর আমি শুধু তোমাকে দেখবো।”(তুহি)
“এতো প্লান করে এসেছো?”
“প্লান করে কি আসা যায়? সিচুয়েশন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমিও সেটাই করবো।”(তুহি)
“সত্যিই বলছি, তোমায় যতই দেখছি ততই ভালোবাসার গভীর থেকে আরও গভীরে চলে যাচ্ছি।”
“ভালোই তো জানো। এরকম আর কতজনকে বলেছো শুনি?”(তুহি)
“আইসক্রিম খাবে? ঐযে আইসক্রিমওয়ালা দাঁড়িয়ে আছে।”
“আমার কথাটি এড়িয়ে যাওয়ার বাহানা! তাই না।”(তুহি)
“ওসব ফালতু প্রশ্ন করে কোনো লাভ আছে। তারচেয়ে বরং আমরা আইসক্রিম খাই, গরমের মাঝে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে তৃপ্তি আসবে।”
“ঠিক আছে, চল।”
দুটো আইসক্রিম কিনলাম। তুহির সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছি। যদিও আমার আইসক্রিম খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নাই। ওর প্রশ্নের উত্তর যাতে না দেই, সেই জন্য একটা বাহানা। যাকে বিয়ে করবো, তাকে অতীত জানিয়ে দিয়ে কষ্ট দিতে চাই না। যে কষ্টে আমি পুড়ছি সেটা আমার ভেতরেই থাক। এতেই আমার না হোক, এই বোকা মেয়েটার জন্য ভালো হবে। ওর স্বপ্নের মাঝে আমার আঘাত করা ঠিক হবে না। কি মায়াবী চেহারার মাঝে হাসিটাও দারুণ মানানসই, আইসক্রিম একবার চুষছে আরেকবার চারদিক চেয়ে নানান কথা বলে আমাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমিও সায় দিয়ে একটু একটু হাসছি। ভালো লাগছে এভাবে সময় কাটাতে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি আমার হবু বউটির দিকে। এটা খেয়াল করতেই তুহির কেমন একটা লজ্জাবোধ চলে আসলো। সুন্দর মুখ পরক্ষণেই লাল হয়ে ওঠে। আমি মুচকি হাসিতে তুহিকে বললাম,
“আইসক্রিম খাওয়া শেষ, এবার চল হাঁটি।”
তুহি আর আমি পথভুলা হয়ে হাঁটছি। আমাদের কোনো ঠিকানা নেই। যেদিকে মন চাইছে ঐদিকেই হাঁটছি। তুহি আমার একটি হাত ধরে আছে। মাঝে মধ্যে ধাক্কাও মারছে। আমার একটুও বিরক্ত লাগছেনা। মনে হচ্ছে, যদি এভাবে সারাজীবন হাঁটতে পারি। তখনই তুহি বলল,
“রাজ একটা কথা বলবো, শুনবে?”(তুহি)
“তোমার কথা শোনার জন্য অপেক্ষায় আছি, বলো?”
“আমাকে কখনও কষ্ট দিবে না তো?”(তুহি)
“তোমাকে কি কষ্ট দেয়ার জন্য বিয়ে করতেছি? একথা কেনো বলছো?”
“না অনেককেই দেখেছি বউদের খুব কষ্ট দেয় তাই বললাম।”
“কিছু কথা বলি শোনো, আমার জীবনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলো হলো আমার মা-বাবা আর শিমু। যাদেরকে ছাড়া আমি একমুহূর্ত ভালো থাকার কথা চিন্তায় আনি না। যাদের হাসিমুখ না দেখলে আমি কখনও হাসতে পারিনা। যাদের হাসিমুখ না দেখলে আমি কখনও খেতে পারি না৷ তুমি তাদের কে কখনও কষ্ট দিও না। বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে একটুও কষ্ট দিবো না। যদি তুমি আমাকে একটু ভালো নাও বাসো তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসবো৷ তোমার প্রিয় মানুষ হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আর আরেকটি কথা, জানি এটা শুনে হয়তো তোমার অনেক খারাপ লাগতে পারে, অনেক কষ্ট পেতে পারো তুমি। কিন্তু এটা সত্য কথা, আমি লুকিয়ে রাখলেও একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে। তখন আমাদের সাংসারিক জীবনে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আজকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই আসছি! তোমাকে জানাবো বলে।”
“কি সেটা, বলো?”(তুহি)
“আমার একটা রিলেশন ছিল। যাকে আমি ভালোবাসতাম। তার নাম মাইশা। সম্পর্কে আমার খালাতো বোন।”
“এখন তো নেই? যদি না থাকে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। এইসব টুকটাক কিছু বিষয় সবার জীবনে ঘটে।”(তুহি)
“তোমারও জীবনে কেউ ছিল নাকি?”
“হ্যা ছিল। তবে সেটা ছোট কালে। যখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম! হাহাহা!”(তুহি)
“আমার সাথে ফাজলামো করা হচ্ছে না!”
“বেশি ইমোশনাল হয়ে পড়ছিলে তুমি, তাই একটু হাসালাম। রাগ করো না।”(তুহি)
“খুব পাজি হয়ে গেছো! তোমাকে শাস্তি দিতে হবে।”
“কি শাস্তি?”(তুহি)
“কাছে আসো, বলছি....
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now