বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মধ্যরাত
.
চাঁদটা আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে ।
নদীর পানিতে ঢেউয়ে চাঁদের
অবয়ব ইচ্ছেমত নাচছে । রতন নদীতে
জাল ফেলে চুপচাপ বসে আছে ।
নৌকা ভাসছে নিজের ইচ্ছে মত ।
একটুপর জাল টানা শুরু করলো রতন ।
মাছগুলো জাল থেকে ছাড়িয়ে
পাত্রে রাখছে ও । মাছ ধরতে ধরতে
ওর নৌকা একটা চরে এসে আটকায় ।
অনেক পরিশ্রম হয়েছে এতক্ষন ওর ।
নৌকার গুলইয়ে বসে কিছুক্ষণ
বিশ্রাম নিল ও । তারপর নৌকা
থেকে চরে নামলো । আগে কখনও
আসে নি ও এখানে ।
পুরো চরটা ছোট ঝোপ ঝাড় আর
ফসলের ক্ষেতে ভরা । শুধু চরের
মাঝখানে ছোট একটা ঘর দেখা
যাচ্ছে যেখানে আলো জ্বলছে ।
রতন হাটঁতে হাটঁতে ঘরের দিকে
যেতে লাগলো । হঠাৎ ও দেখলো
একটা গরু ক্ষেতে ঘাস খাচ্ছে ।
অবাক হল খুব । এই জনমানবহীন চরে গরু
কোথা থেকে আসলো ? একটু সামনে
এগিয়ে ও দেখলো গরুটাকে আর
কোথাও দেখা যাচ্ছে না । হঠাৎই
উধাও হয়ে গেছে যেন । থমকে
দাড়াঁলো রতন ।
তখন ও দেখলো ওর সামনে সাদা
কাপড় পড়া কিছু লোক হাটঁছে ।
রতনের মাথা যেন ঘুরছে । এতক্ষণ তো
কাউকে দেখে নি ও । তাহলে এই
লোকগুলো হঠাৎ কোথা থেকে
আসলো ? লোকগুলো রতনের দিকে
ফিরে তাকালো । সবাই খুব বিষন্ন
আর সবার মুখেই অসংখ্য ক্ষত যেখান
থেকে অবিরত রক্ত ঝরছে ।
রতন ভয়ে ঘরের দিকে দৌঁড় দিল ; ও
ভাবলো ঘরে হয়তো মানুষ আছে ।
ঊর্ধ্বশ্বাসে ঘরের দিকে ছুটতে
থাকলো । ওর কাছে মনে হল পিছন
থেকে কে যেন বার বার ওকে
বাধা দিচ্ছে । রতন কোন দিকে না
তাকিঁয়ে সোজা ঘরের দিকে
যেতে লাগলো ।
ঘরের সামনে গিয়ে দরজার ফুটো
দিয়ে উঁকি দিল ও । তখন যা দেখলো
তাতে ওর রক্ত হিম হয়ে গেল । একটা
লাশ ঝুলছে ঘরের ভিতর আর দুইজন
লোক ছুরি দিয়ে কেটে কেটে মৃত
লাশটার মাংস খুবলে খুবলে খাচ্ছে
। ভয়ে গায়ের লোম দাড়িঁয়ে গেল
ওর । উল্টোদিকে দৌড়াতে শুরু
করলো ও ।
আশেপাশে আর কাউকে দেখতে
পেল না । দৌঁড়ে সোজা ও নৌকার
কাছে চলে আসলো । কোন রকমে
ঢেলে নৌকাটাকে পানিতে
নামিয়ে জোরে জোরে দাঁড়
বাইতে লাগলো । নদীর মাঝখানে
এসে কিছুটা শান্ত হল ও । তবে বুক
এখনও কাপঁছে ওর ।
হাত ব্যথা হয়ে গেছে দাঁড় বাইতে
বাইতে ; তারপরও থামছে না ও ।
কিছুক্ষণপর তীর দেখতে পেল ।
খুশিমনে দাঁড় বাইতে লাগলো ও ।
তীরের কাছাকাছি আসতেই রতন
লাফ দিয়ে নৌকা থেকে নামলো ।
তীরে এসে চোখ বন্ধ করে বালিতে
শুয়ে পড়লো ও । একটুপর চোখ খুললো ।
চোখ খুলেই দেখলো সেই ঝুলন্ত
লাশটা ওর পাশে পড়ে আছে ।
চোখগুলো খোলা ; জিহ্বা বাইরে
বের হয়ে আছে । ভয়ে চিৎকার
দিয়ে উঠলো ও । চারপাশে
তাকিঁয়ে বুঝতে পারলো ঘুরে
ফিরে ও আবার আগের চরেই এসে
পড়েছে ।
দৌঁড়ে ও নৌকায় গেল । নৌকায়
উল্টোদিকে ফিরে দুইজন লোক বসে
আছে । রতন নৌকায় উঠতেই
লোকগুলো ওর দিকে ফিরে
তাকালো । লোকগুলোর মুখে একটুও
চামড়া বা মাংস নেই ; শুধু কোটরে
চোখ দুটো রক্তের ন্যায় জ্বলজ্বল
করছে ; দাঁতগুলো বেয়ে রক্ত ঝরছে ।
চারপাশের বাতাসে তাজা
মানুষের রক্ত আর মাংসের গন্ধ ভসে
বেড়াচ্ছে ।
আর সহ্য হল না রতনের । জ্ঞান
হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো ও ।
কিছুক্ষণপর জ্ঞান ফিরলো ওর । চোখ
খুলে তাকিঁয়ে দেখলো ও নৌকার
গুলইয়ে শুয়ে আছে । আর একজন লোক ওর
পাশে বসে আছে । সকাল হতে শুরু
করেছে তখন । অন্ধকার কাটছে ধীরে
ধীরে । রতন উঠে বসলো ।
- আন্নে কে ?
- আমি কালু মাঝি । তুমি কেডা ??
এইহানে কি কর ?
রতন তখন এতক্ষণ ঘটে যাওয়া ভয়ংকর
ঘটনাগুলো সব বলল ।
সবশুনে কালু মাঝি বলল,
- এই চর তো খুব ভয়ানক । দুইডা পিচাশ
প্রেতাত্মা থাহে এইহানে । ওরা
মাইনষের গোশত খায় । তোমার
কপাল তো ভালা মিয়া , বাইচ্যা
গেছো । এই রাইত বিরাতে মাছ
ধইরো না আর ।
রতন ঘাড় দুলালো ।
- তোমার বাড়ি কই ?
- কুসুমতলী গাঁ ।
- পাশের গাঁয়েই আমি থাহি । এই
মাছ কয়ডা আমাগো বাড়িতে
দিয়া আইবা ভাই ? আমি কামে
আরেক জায়গায় যামু । দিয়া আসলে
খুউব উপকার হইতো, এই বলে কালু
মাঝি রতনকে বেশ কিছু মাছ দিলো ।
রতন বলল,"আইচছা দিয়া আমু নে ।"
কালু মাঝি খুশি হল খুব ।
রতন নৌকা নিয়ে বাড়ির দিকে
রওয়ানা দিল ।
সকাল হয়ে গছে তখন ।
সূর্য উঠেছে ।
রতন মাছ গুলো নিয়ে কালু মাঝির
বাড়িতে গেল । একজন বুড়ো মহিলা
উঠানে বসে ছিল । রতন মহিলাটকে
জিজ্ঞাসা করলো,
- এইডা কি কালু মাঝির ঘর ।
- হ , তুমি কেডা ?
- আমি রতন । হেয় এই মাছ কয়ডা
পাঠাইছে । হেয় কামে গেছে ।
পরে আইবো ।
রতনের কথা শুনে অবাক হল বুড়ো
মহিলাটা ।
- কালু !! কালু পাঠাইছে এই মাছ !!
কেমতে ? আমার পোলা তো মেলা
দিন আগে মইরা গেছে । ওর লাশ
নদীতে ভাইস্যা আইছে । ওর লাশের
হুদা মুখটাই চিনছি আমরা । পুরা
শরীলে গোশত আছিলো না । আমরা
এহনও জানি না কালু মরছে কেমতে ।
বুড়ো মহিলার কথা শেষ হওয়ার
সাথে সাথেই রতন মাছগুলো রেখে
বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো । ওর
এখনও ঘোরের মাঝে আছে । বুড়ো
মহিলার কথাগুলো ওর বুকে কাপুঁনি
ধরিয়েছে আবার ।
ধীরে ধীরে ও বুঝতে পারলো কালু
মাঝি কিভাবে মারা গেছে আর
তার আত্মাই গতরাতে ওর প্রাণ
বাচিঁয়েছে । মনে মনে ধন্যবাদ দিল
তাকে ।
আর কালু মাঝির ঐ কথাটা ও হয়তো
সারাজীবন মনে রাখবে,"এই রাইত
বিরাতে মাছ ধইরো না আর ।"
সমাপ্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now