বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজানো গোছানো সংসার (পর্ব :০৮)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X খাওয়াতে কোনোভাবেই মন বসাতে পারছিনা। মা অনেক্ষণ থেকে এটা খেয়াল করছেন। অবশেষে জিজ্ঞেস করেই ফেললেন, “রাজ কোনো সমস্যা? কিছু খাচ্ছিস না দেখছি আবার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।”(মা) “এমনি খুব বেশি ঘুম পাচ্ছে তো, তাই খাইতে মন চাচ্ছে না।” “একটু সহ্য করে খাবারটা খেয়ে নেয় নয়তো শরীর খারাপ করবে।”(মা) “আচ্ছা” বলে খাবার খেতে লাগলাম। মাইশা আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। হয়তো কিছু ভাবছেও। আমি সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে রুমে চলে যাই। দরজা ভালো করে আটকালাম যাতে কখনও কান্না আসলেও সেটা কেউ না বুঝে। বালিশের মাঝে হেলান দিয়ে বসে গেলাম। হঠাৎ মনে পড়ল, আমার বোনটিকে আজ ঘুম পাড়িয়ে দেই নি। তাড়াতাড়ি চলে গেলাম শিমুর রুমে। ডলফিনটা মুখ গোমড়া অন্যদিকে ঘুরে গেল। নিশ্চয়ই রাগ করে ফেলেছে। রাগ ভাঙ্গাতে দুইটা জিনিসই কার্যকরী, একটা হলো আইসক্রিম অন্যটা টাকা। আইসক্রিম তো এতো রাতে পাওয়া যাবে না। তাই পকেট থেকে একশত টাকা একটা বের করে হাত দিয়ে নাড়াচ্ছি। একটু একটু করে ফিরছে আমার দিকে! লোভ সামলাতে পারলো না, টাকা টান মেরে নিয়ে একটা হিংসুটে হাসি দিল। আর তাতে আমার হাসি এমনিতে চলে আসলো। হাহাহা করে হেসে দিলাম৷ এই একটা ম্যাজিশিয়ান, যাকে দেখলেই আমার সব কষ্ট নিমিষেই দুর হয়ে যায়। যার সাথে বললে মনে হয় আমার কোনো দুঃখ নেই, কখনও তা ছিলও না। হাসি মুখে শিমুকে ঘুম পাড়িয়ে আবার আসলাম রুমে। বসে বসে মেগাজিন পড়ছিলাম, ফোন আসলো। চেয়ে দেখলাম, 'তুহি'। ধরবো নাকি ধরবোনা ভেবে ভেবে ফোন ধরে ফেললাম, “হ্যালো। কেমন আছো?”(তুহি) “এইতো ভালো আছি। তোমার কি অবস্থা?” “আছি ভালো, তবে তোমার ওপর কিছুটা অভিমান করেছি ! সন্ধ্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ফোন দিলে না। কত অপেক্ষা করছিলাম, জানো?”(তুহি) “একটু কাজ ছিল, সময় পাই নি।” “এতো এতো কাজ থাকলে বিয়ে করে কি করবে? বউকে দেয়ার মতো সময় কি থাকবে তোমার?”(তুহি) “সময় আসুক, তারপর দেখা যাবে।” “বিয়ের ডেট ফাইনাল হয়ে গেছে, জানো তুমি?”(তুহি) “না তো! আমাকে তো কেউ বলল না।” “আমিও জানতাম না, আমাকে জোনাকি বলল, বাবা নাকি তোমাদের সাথে বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলেছেন। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যার পর গঠিত হবে আমাদের অনুষ্ঠান।”(তুহি) “বুঝলাম না, বাবা-মা এতো তাড়াহুড়ো কেনো করছেন?” “কেনো? তুমি খুশি হওনি? ”(তুহি) “তা নয়, বিয়ে তো চাট্টিখানি কোনো কথা নয়, অনেক বড় একটা প্রোগ্রামের ব্যাপার। একটা আয়োজনের ব্যাপার-সেপার আছে না? হঠাৎ করে এতোকিছু ম্যানেজ করা কেমনে সম্ভব?” “ওহ, তাও ঠিক। আচ্ছা কাল তো আমাদের দেখা হচ্ছে?” (তুহি) “হ্যা, ঠিক সময়ে চলে আসবো। এবার ফোন রাখতে হবে, অনেক বেশি টায়ার্ড আমি। ভালো থেকো। গুড নাইট।” “ওকে, গুড নাইট।”(তুহি) তুহির সাথে ফোন শেষ করে আমি শুয়ে পড়লাম। প্রচন্ড ঘুম আর ক্লান্তি আমাকে অনেকটা চেপে ধরছে। বালিশে চোখ রাখতেই ঘুম চলে আসলে আমি ঘুমিয়ে যাই। তখন অনেক রাত! হয়তো ২ টা বাজে বাজে। আমি ঘুমের মধ্যে বুঝতে পারলাম কোনো কিছু আমাকে ভর করে রেখেছে। আমার শ্বাসটাও ভারী ভারী লাগছে। চোখ অটোমেটিক খুলে যায়। কারো ঠোঁটের সাথে আমার ঠোঁট দুটি ঘনিষ্টভাবে জড়ানো! আমাকে এমন শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে যার ফলে আমার নড়াচড়া করার উপায় ছিল না। হাত দুটি নিচের কিছুর সাথে বাঁধা। পায়ের অবস্থাও একই! চোখ খুলে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছিনা। মুখ দিয়ে চিৎকার করবো, সেটারও কোনো উপায় নেই। আমার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ওর হাতে। বাতি বন্ধ থাকলেও গায়ের পারফিউমের ঘ্রাণ শুঁকে চিনতে পারলাম। এ যে মাইশা। কি করছে আমার সাথে? নিজের শরীরের কি কোনো মুল্য নেই ওর কাছে? মাইশা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছে আমি জেগে গেছি। খানিকটা সময়ের জন্য সে বিরতি নিয়ে আমার চোখের দিকে তাকায়। অন্ধকারে সেটা না দেখা গেলেও বুঝতে পারলাম তার চোখের পানি আমার মুখের মধ্যে পড়লে! আমি বাকরুদ্ধ। মাইশা আমার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে পাশে বসে যায়। কথা বলছে না, আমিও নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ এভাবে থাকার আমি মাইশাকে বাতি জ্বালাতে বললাম। উঠে গিয়ে বাতি জ্বালালো। চুল ছেড়ে এলোমেলো, প্রায় অর্ধনগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ চোখগুলো জবা ফুলের মতো লাল হয়ে আছে আর টপাটপ পানি পড়ছে। “আমার সাথে এরকম করলে কেনো?” “তোমার একটা ইচ্ছা পুরণ করে দিলাম। মনে আছে তোমার, যখন আমরা প্রথম রিলেশনে জড়িয়েছিলাম, তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। ক্লাস নাইনে পড়া একটা মেয়ে আমি! প্রেম-ভালোবাসা কতটুকুই বা বুঝতাম? সিনেমা দেখে দেখে অভিনয়ের মতো তোমার সাথে সময় কাটাতাম। যেদিন যেই সিনেমা দেখতাম সেই সিনেমার নায়িকারা যেরকম আচরণ নায়কের সাথে করতো আমিও সেইরকম আচরণ করতাম। তোমার কাছ অযথা টাকা চেয়ে নিতাম। অযথা তোমার সাথে রাগারাগি করতাম, অহেতুক কথাবার্তা বলতাম। তারপরও তুমি অনেক ভালোবাসতে, রাখতে অনেকটা আগলে আগলে। বিশ্বাস করো, তখন আমি বুঝতে পারিনি এটাকে ভালোবাসা বলে, এটাকে বলে প্রেম। আমার এটাও মনে আছে, আমাদের রিলেশনের যখন একবছর তখন আমি এসএসসি পরিক্ষা শেষ করেছি। আমরা রাজবাড়ীতে বেড়াতে গেছিলাম। তুমি আমাকে একটু অন্যরকম আদর করতে চেয়েছিলে, অনুভব করতে চেয়েছিলে আমার দুটো ঠোঁটের ছোয়া। আমি তখন লজ্জা আর ভয়ে কেঁদে দিলাম। তুমি আমার কাছে সেদিন অনেক ক্ষমা চেয়েছিলে আর বারবার প্রমিস করছিলে আর কখনও এরকম করবেনা। তুমি ঠিকই তোমার কথাটি রেখেছিলে, আমাদের ব্রেকাপ হয়েছিল আমার এইচএসসি পরিক্ষার পর। এতোদিন তুমি সত্যিই নিজেকে খুব ভালোভাবেই সংযত করেছিলে যা আমাকে খুব বেশি কষ্ট দিচ্ছে এখন। সেসময় তুমি যদি আমার কাছ জোর করে আমার এই শরীরটা ভোগ করতে তাহলে হয়তো সেসময়ের ঐ নোংরা ব্যবহার স্বরণ করে আমি তোমার কাছ থেকে আজ অনেকটা দূরে থাকতে পারতাম। তুমি সেটা করো নাই, যার জন্য আজ জ্বলে পুড়ে যাচ্ছি। আজ আমার মনে তোমাকে পাওয়ার কামনা জেগে ওঠেছে। জানো, বহুদিন থেকে আমার অনেক বড় একটা ইচ্ছা ছিল, তোমার বুকে শুয়ে থেকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও আমার বুকের ব্যাথা দুর করবো। আমার সেই আশাটা পূর্ণ করে নিলাম। এখন মরে গেলেও অন্তত কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারবো। ওপরে গিয়ে সবাইকে বলতে পারবো, আমিই জিতেছি। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now