বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজানো গোছানো সংসার (পর্ব-০৭)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X “না, মা ফোন দিয়েছেন।” “ধরে কথা বলো।”(মাইশা) “হ্যালো মা, বলো” “রাজ, মাইশা কি তোর সাথে?”(মা) “কেনো মা, কি হইছে?” “কিছু হয়নি, মেয়েটাকে তো বাসায় দেখছিনা। কই গেলো? বলে তো যায়নি।”(মা) “চিন্তা করো না মা। ও আমার সাথে আছে৷ স্টলে বসে চা খাচ্ছে।” “ চা কি বাসায় খাওয়া যেত না? এতো রাতে স্টলে যাওয়ার কি দরকার ছিল?”(মা) “আমি কি জানি মা, ও আসার পর তাকেই জিজ্ঞেস কইরো। আমি তো জোর করে নিয়ে আসিনি।” “আচ্ছা তাড়াতাড়ি চলে আয়।(মা) “ঠিক আছে মা।” মায়ের সাথে ফোন শেষ করে উঠে পড়লাম। চায়ের বিল দিয়ে চলে আসছি। মাইশা যেন এগুতেই চাচ্ছে না। পিছুটান রেখে হাঁটছে। আমি তার দিকে তাকাচ্ছি না। যদি আবার মায়ায় জড়িয়ে যাই। এটা ঠিক হবে না। অন্যদিকে তাকিয়ে চলতে চলতে অনেকদূর চলে আসলাম। পাশ ফিরে তাকালাম। মাইশা নেই। এই একটু সময়ের মধ্যে কোথায় উদাও হয়ে গেল। ওকে খুজতে আবার পেছনে দৌড়ে গেলাম। হেলান দিয়ে মাইশা একটা ছাউনীতে বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, “কি রে কোনো সমস্যা হইছে কি? এখানে বসে পড়লি যে!” মাইশা কোনো কথা বললো না। একটু কাছে গিয়ে দেখলাম, অনর্গল ওর চোখের পানি পড়ছে। আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুধু বললাম, “চল বাসায় যাই।” তাতেও মাইশার নড়চড় দেখা গেল না। বাধ্য হয়ে ওর হাতটা ধরে ফেললাম, মাইশা কেঁপে ওঠে। কোনো কথা না বলেই চলে আসে আমার বুকে। পুরনো সেই দিন গুলো একটু একটু করে মনে ভাসতে লাগল। প্রথম ভালোবাসা ছিল আমার৷ ও খুব ছোট ছিল। হয়তো এজন্য আমার ভালোবাসাটা বুঝতে পারেনি। একতরফা ভালোবাসতে ভালোবাসতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম৷ অবশেষে ব্রেকাপেই আমার ভালোবাসা শেষ আশাটা বলি হয়ে যায়। আজ আবার নতুন করে অনুভুতিটা চলে আসলো। মাইশার জড়িয়ে ধরাতে আমার চোখ দুটোর ভেতরে থাকা পানি ধরে রাখতে পারেনি। টপটপ করে পড়ছে। মাইশাও কাঁদছে অনর্গল, আর কেঁদে কেঁদে আমার বুক পুরোটা ভিজিয়ে একাকার করে দিচ্ছে। আমার হাত দুটো এতোক্ষণ পেছনের দিকে থাকলেও এখন আর রাখতে পারলাম না। ভাবনাহীন ভাবে আমি মাইশাকে পাঁজরের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। মনে এতো শান্তি আমার কখনও আসেনি। অবশেষে কান্নাজড়িত কন্ঠে মাইশা বলল, “আমরা কি আগের মতো আবার এক হতে পারিনা? বিশ্বাস করো আমি আর কখনও তোমাকে ছেড়ে যাবো না। একটা সুযোগ দাও আমাকে।”(মাইশা) “ছাড় আমায়, মানুষজন দেখে কি বলবে?” “আগের আমার কথার জবাব দাও, নাহলে ছাড়বোনা।”(মাইশা) কোনো কথার জবাব দিলাম না। আমার পাঁজর থেকে মাইশাকে জোর করেই সরালাম। ওর হাত ধরে একরকম টেনে হেঁচড়ে ওর হাত ধরে বাসা পর্যন্ত চলে আসলাম। আমি স্বাভাবিকভাবে বাসায় প্রবেশ করলেও মাইশা কিছুটা মনমরা ছিল। যদিও তার চেষ্টা ছিল কাউকে বুঝতে না দেয়া। আমি রুমে চলে যাই। কিছুই ভালো লাগছেনা আমার। নতুন করে তুহিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে গিয়ে পুরনো সেই জালাময়ী ভালোবাসা আমাকে আবার জাপটাচ্ছে নাতো! একদিকে মাইশা অন্যদিকে তুহি! আমি চাইলে এখনও তুহিকে বিয়ে না করে মাইশাকে বিয়ে করতে পারি, কিন্তু তা করবোনা। তুহি মেয়েটার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে। একটু একটু করে মেয়েটা অনেক বড় স্বপ্ন দেখছে। আর আমি যদি সেটার মধ্যে আঘাত করি তাহলে চির অপরাধী হয়ে যাবো। আর মাইশাকে বিয়ে করে যে সুখি হবো তার গ্যারান্টি কি? আগে আমার সাথে যা করেছে এখন তা করবেনা, তাও কেমনে বিশ্বাস করবো? বরং ওইসব নোংরা বিষয় আমাকে বারবার হতাশাগ্রস্ত করে দিবে। হ্যা, আমি তুহিকেই বিয়ে করবো। এটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত। আর কোনো ফালতু মায়ায় জড়াবো না। শুয়ে শুয়ে এসব আজেবাজে চিন্তায় আমার মাথাটা ভর করে ফেলল। ছাঁদে গেলে কিছুটা ভালো লাগবে ভেবে সেখানে চলে যাই। নিরব রাতে ওপরের চারদিকে তারার মেলা দেখছিলাম। আমার বুকে তখন হাহাকার বাজছে। পিচ্ছিটাকে সাথে নিয়ে রাতের আঁধারে লুকিয়ে লুকিয়ে কতই না তারা গুনেছি। কতই না ভালোবাসার গল্প বলেছি। চাঁদের আলোতে মুগ্ধ হয়ে ওর সুন্দর মুখখানির প্রেমে বারবার মজেছি। বাহুডোরে আগলে রেখেছি। তারপরও তাকে আপন করে রাখতে পারিনি। আমার কাছ থেকে চলে গেল, তাও আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আজ যখন আমি অন্যকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি ঠিক তখন আবার এসে আমার বুকের পিঞ্জরটা ভাঙ্গার দায়িত্ব নিল। আমাকে কোন ভুলের শাস্তি দিচ্ছে। এমন সময় ওর আসাটা কি অনেক জরুরী ছিল? কয়েকদিন পরে আসলে তো হয়তো এই অবস্থা হতো না। আজ এমন এক সময় এসে আবার হাত বাড়ালো, যেসময় আমার পায়ের শিকল অন্যের হাতে প্রায় আবব্ধ। আমি না পারছি তাকে ভালোবাসতে, না পারছি তুহিকে ছাড়তে। তবে হ্যা একটা কাজই পারছি, আমার চোখের পানিতে শরীর ভেজাতে। আগেও এটা করেছিলাম। যেদিন জোর করেই আমাকে ব্রেকাপ করাতে বাধ্য করেছিল। সেদিন সারারাত একা একা বসে কেঁদেছিলাম আমি। সেদিন বড়ই নিষ্টুরভাবে আমার বুকে সবগুলো পাঁজর ভেঙ্গে অচেনা পাখির মতো সে উড়ে যায়। অনেক মিনতি করে, ভালোবাসার দোহাই দিয়েও আমি তাকে আটকাতে পারিনি। শুধু তার যাওয়া দেখছিলাম আর কেঁদে কেঁদে চোখ দুটো লাল করেছিলাম। এখনও কি আমার সেই পরিনতি হবে? ঐ চাঁদের আলোর মাঝে কি আবারো আমার চোখের পানির ঝলমল দৃশ্য ভেসে উঠবে? নাকি ভালোবাসার প্রদীপে আমার জীবন আলোকিত হবে? আমি কিছুই বুঝতেছিনা। বসে পড়লাম ছাঁদে। চোখের মাঝে যত কান্না জমা ছিল সব বের করে নিলাম। জানি চোখ দুটো অনেক লাল হয়ে আছে। আর কেউ না বুজোক, আমার মা আর ডলফিনটা ঠিকই বুঝবে! কারণ ওরাই আমার জন্য ম্যাজিশিয়ান! জীবনে এমন কিছু করে ওদের কাছে ধরা খাইনি! সেটা আমার জীবনে ঠিক কতবার এসেছিল আমি জানি না। ওরা হয়তো আজই জেনে যাবে মাইশার সাথে আমার অনেক কিছুই ছিল! যাক সত্য আর কত লুকানো যাবে? একদিন তো জানবে সবাই। আজ না হয় জানলো। শুনতে পেলাম সিঁড়িতে কেউ ওঠার শব্দ। স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে আমিও চললাম সিঁড়ির দিকে। “ভাইয়া, তুই এখানে কি করিস? সবাই কখন থেকে তোর জন্য ডাইনিং টেবিলে বসে অপেক্ষা করছে। তাড়াতাড়ি চল, ডিনার করে যা ইচ্ছা তাই করিস।(শিমু) “তুই যা, আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসি।” শিমুকে ডাইনিং টেবিলে বিদায় করে দিয়ে আমি রুমে চলে যাই। ভালো করে মুখে ধুয়ে তারপর চলে আসি ডাইনিং টেবিলে। সবাই বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সবাইকে উদ্দেশ্যে করে 'সরি' বলে ডাইনিং টেবিলে বসে খেতে লাগলাম। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now