বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- ভালোবাসি তোমাকে ।
- তোকে তো আমি ভালোবাসি না
- তো কি হইছে? বিয়ে তো আমাকেই করবা
- উহু, তোকে আমি বিয়েও করবোনা
- আঁ আঁ আঁ,,,,,
কান্না শুরু করলো মেয়েটি।
সম্পর্কে তারা খালাত ভাই-বোন।
এমনই করে মেয়েটি। হঠাৎ করে এসে এই কথাগুলো বলে কান্নাকাটি করে আবার হাওয়া হয়ে যায়। ছেলেটি জানে মেয়েটির কোন কথার উত্তর কি ? তাই প্রতিবারই এইরকম কথা বলে থামিয়ে দেয় মেয়েটিকে। কিন্তু মেয়েটিকে দেখলেই তার কেমন যেন ভালো লাগে।
পাশাপাশি বাড়িতেই থাকে তারা।
,
মেয়েটির নাম প্রিয়ন্তি। বয়স তখন ১০ কি ১১হবে।
ভালোবাসার কি বুঝে? কে জানে?
ভালোবাসার কিছু বুঝুক আর নাইবা বুঝুক সে এতটুকু জানে, রিয়াদকে সে খুব পছন্দ করে।
রিয়াদের বয়স ১৭ হবে। ইন্টার এ পড়ে। পড়ালেখার খুব চাপ থাকায় সে মেয়েটিকে খুব বেশি মিস করতে পারেনা।
কিন্তু একট্য অবসর পেলেই মেয়েটির কথা মনে পড়ে।
,
এভাবেই চলতে থাকলো।ছেলেটি মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। শেষ বর্ষের ছাত্র সে।
তার বন্ধু বান্ধবরা সবাই Single থেকে double হয়েছে।
কিন্তু রিয়াদ কোনো রিলেশনশিপে যায়নি এখনো।খুব বেশি মেয়েদের দিকেও তাকায় না সে।
সে আগের মতই অবসর পেলেই মেয়েটির কথা মনে পড়ে তার। ,,
কিন্তু হঠাৎ একদিন লাজুক ছেলে রিয়াদের চোখ পড়লো একটি মেয়ের উপর।
খুবই কিউট লাগছিলো মেয়েটিকে, অদ্ভুত এক সৌন্দর্য তার চেহারায়। চোখ ফেরাতে পারছিলোনা মেয়েটার দিক থেকে।
মেয়েটির সাথে, সামনে, পিছে কয়েকটি ছেলে। তার সাথেই কথা বলছে আর হাটছে।
হঠাৎ দেখলো মেয়েটি তার দিকেই এগিয়ে আসছে।
কিছুক্ষনের জন্য নির্লজ্জ থাকা রিয়াদ আবার লাজুক হয়ে গেলো।
মাথা নিচু করে বসে রইলো। মেয়েটি কাছে এসে রিয়াদের কাছেই বসলো।
-হাই,
-জ্বি, আমাকে বললে?
-আশেপাশে তো কেউ নেই, মনে হয় আপনাকেই বলছি।
-ও আচ্ছা, কি বলবে বলো।
-আমি আসলে এই কলেজে এই বার ভর্তি হয়েছি, ফার্স্ট ইয়ারে। আপনি তো ফাইনাল ইয়ারে, তাই না ?
- (অবাক হয়ে) হুমম,,তুমি কিভাবে জানলে ?
-আমার অজানা কিছুই নেই।
-আচ্ছা,, তাই? কি নাম তোমার?
-হুমম.. আমি নিতু। আর আপনি তো রিয়াদ, তাই না?
-(আবার অবাক) হুমম,, (ভ্রু কুচকে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে)
- কি হল, তাকিয়ে আছেন কেনো?
-(থতমত খেয়ে) ওহ ! স্যরি । আসলে আপনাকে কেমন যেন চেনাচেনা লাগছে।
-তাই নাকি?
-আচ্ছা, আপনার চেনাচেনা ভাব নিয়ে আপনি থাকেন। আমি যাচ্ছি। Bye
-আচ্ছা
নিতু চলে যাওয়ার সময় কেমন যেন একটু বিচলিত হয়ে গেলো, রিয়াদ সেটা ভালোভাবেই লক্ষ্য করলো।
কিন্তু কেমন যেন মেয়েটিকে খুব আপন মনে হচ্ছে তার।
হিসেব মিলাতে পারছেনা কিছুতেই।
এতোদিন কত মেয়েকেই তো সে দেখেছে। কিন্তু এই মেয়েটির বেলায় অন্য রকম ভাবনা কেন?কেন তার বুকের বামপাশটা চিনচিন করছে?
আবার সেই প্রিয়ন্তির কথা ভাবতে শুরু করলো।
পরের দিন আবার প্রিয়ন্তির সাথে কথা হল। আগের দিনের চেয়ে একটু বেশিই কথা হল সেদিন।
এভাবে তাদের মধ্যে কথা বাড়তে থাকলো।
দুজনের মধ্যে কেমন যেন ভালো লাগা কাজ করতে লাগলো।
রিয়াদ চাইছিলনা মেয়েটার সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াতে।বারবার শুধু প্রিয়ন্তির কথা মনে পড়ত।
না জানি মেয়েটা এখন কেমন আছে? কি করে এখন? হয়তোবা এতোদিনে বিয়েও হয়ে গেছে। কিন্তু যাই হোক না কেন ? রিয়াদের মন থেকে প্রিয়ন্তি কখনোই মুছে যেতে চাইছেনা। রিয়াদের মনে হচ্ছে যেন, প্রিয়ন্তি ও তার জন্যই এভাবে অধীর আগ্রহে অপ্রক্ষা করছে।
কিন্তু নিতু খুবই আগ্রহের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চাইছিল। মেয়েটার ভাবভঙ্গি রিয়াদের কাছে কেন যেন খুব ভাল লাগতো।
সেদিন রিয়াদকে নিলা ফোন দিয়ে কিছু ইম্পরট্যান্ট কথা বলতে চাইলো। রিয়াদ তাকে পার্কে আসতে বললো।
রিয়াদ পার্কে বসে ছিলো।
হঠাৎ ঈ নিলা এসে সরাসরি প্রপোজ করলো।
- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
-আমি তো তোকে ভালোবাসিনা।
-ভালোবাসতে হবেনা। বিয়ে করলেই হবে
- তোকে তো আমি বিয়েও করবোনা
এই কথাগুলো কিভাবে যেন তডিৎ গতিতে বলে ফেললো তারা।
নিলা একথা শুনার সাথে সাথেই মুখ ফিরিয়ে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করলো।তার চোখে জল, কষ্টের জল।
রিয়াদ বুঝতেই পারলোনা কিভাবে তার মুখ দিয়ে এই কথা গুলো বেরিয়ে গেলো। সে কিছুক্ষনের জন্য অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো নিলার যাওয়াটা।
কিছুই বুঝতে পারছিলোনা সে। এই কথাগুলো তো ছোটোবেলায় প্রিয়ন্তি বলতো। আর সে এইভাবেই উত্তর দিত সবসময়।এই কথাগুলো তো অন্য কেউ জানেনা।
তাহোলে নিলা কিভাবে জানলো?
তাৎক্ষনাৎ রিয়াদ বুঝে গেলো, এ ঈ হচ্ছে সেই তার ছোটোকালের প্রিয়ন্তি। কিন্তু সে বুঝতে পারলোনা, তাহলে এতোদিন কেন সে তার আসল নাম লুকিয়ে রেখেছিলো? কেন এভাবে অন্য নামে তার সাথে সম্পর্ক গড়েছিলো?
কিন্তু এখন এসব প্রশ্ন ভাবার সময় নয়।
জলদি প্রিয়ন্তিকে আটকাতে হবে। বলে দিতে হবে তার মনের কথা। সেও নিলারুপী প্রিয়ন্তিকে ভালোবাসে।
উঠে দাড়ালো রিয়াদ। প্রিয়ন্তি অনেকদুর এগিয়ে গেছে।
অনেকটা দৌড়ানোর গতিতে হাটছে নিলা। সামনের রাস্তার ক্রসিং।
পেছন থেকে ডাক দিলো রিয়াদ।
- প্রিয়ন্তি, এই প্রিয়ন্তি,, প্রিয়ন্তি.... দাড়া প্রিয়ন্তি, থাম।
ডাক শুনার সাথে সাথেই প্রিয়ন্তি দাড়িয়ে গেলো। তার চোখে কেমন যেন খুশির কান্না ঝরে এলো।
-সর প্রিয়ন্তি, সরে যা রাস্তা থেকে। গাড়ী আসছে( রিয়াদ চিৎকার করে বললো)
প্রিয়ন্তি তার মনের অজান্তেই কখন যে রাস্তায় চলে আসলো, সে নিজেই জানেনা। পিছনে ফিরে দেখে খুব কাছেই একটা ট্রাক তার কাছাকাছি চলে এসেছে। তার আর রাস্তা পার হওয়া হলো না।
ট্রাকের ধাক্কায় দুরে চিটকে পড়লো প্রিয়ন্তিরর দেহ।
রিয়াদ দৌড়ে এসে প্রিয়ন্তিরর মাথা তার কোলে নিল।শেষ বিদায়ের প্রহর গুনছে প্রিয়ন্তি।
-আমি তোকে ভালোবাসি প্রিয়ন্তি♥
-(খুবই দুর্বল স্বরে) আমি তোমাকে ভালোবাসিনা।
-আমায় ভালবাসতে হবেনা। বিয়ে করলেই হবে।
- আমি তোমাকে বিয়েও করবোনা।
শেষ প্রহর বেশিক্ষন স্থায়ী হলনা প্রিয়ন্তির।
অজানার পথে পাড়ি জমালো সে।
রিয়াদ বাকহারা। প্রিয়ন্তিকে বলার মত আর কোনো কথা নেই তার।শুধু একটা কথাই বলার আছে,
-স্যরি প্রিয়ন্তি, স্যরি..... স্যরি স্যরি.......
★স্যরি প্রিয়ন্তি★rAjKuMaR
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now