বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজানো গোছানো সংসার (পর্ব - ০৫)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X “যা মনে আসলো তাই বললাম। আসলে কি তাই!”(তুহি) “তোমার কি মনে হয়? আমার গার্লফ্রেন্ড থাকলে তোমাকে বিয়ে করার জন্য এতোদূর দেখতে যাইতাম! আমি তো আমার গার্লফ্রেন্ডকেই বিয়ে করতাম।” “সত্যি কি নাই?”(তুহি) “নাহ, তা নয়। এখন একজন আছে।” “ওহ, কংগ্রাচুলেশনস! ভালো থাকেন, এবার ফোন রাখলাম। আর শুনেন, কাল বাবাকে ফোন করে বলবেন, আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি! আপনি আমাকে বিয়ে করছেন না।”(তুহি) “ কি আজব কথা! আমি কখন বললাম, যে তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি?” “ডং করতে হবে না। আসলে একটা ছেলেও দুনিয়াতে ভালো না। সবাই স্বার্থপর, শট, প্রতারক।”(তুহি) “তোমার কথার আগামাথা কিছুই আমি বুঝতেছি না। কি সব আজেবাজে বকছো?” “আমার কথা বুঝতে হবে না৷ আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে থাকেন।”(তুহি) “আমি তো গার্লফ্রেন্ড নিয়েই আছি, কিন্তু গার্লফ্রেন্ড নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ ভাবছে! এইজন্য তো ঝামেলায় পড়ে গেলাম।” “মানে! কি বুঝাতে চাইছো?”(তুহি) “বিয়ে ছাড়া তো বউ হয় না, হয় গার্লফ্রেন্ড। তোমার সাথে তো আমার বিয়েটা এখনও হয়নি। তাই তো চিন্তা করছি, বিয়ের আগ পর্যন্ত তোমার সাথে চুটিয়ে প্রেম করবো।” “আগে খুলে বলবে তো, আমি অন্যভাবে চিন্তা করছিলাম। Sorry...”(তুহি) “কোনো সমস্যা নেই আমি বুঝতে পারছি আমার হবু বউটা আমাকে একটু একটু করে ভালোবাসতে শুরু করেছে। তো, মিসেস হবু রাজ, আমরা কি এই সপ্তাহে একবার মিট করতে পারি?” “কেনো দেখা করবো?”(তুহি) “প্রেমিকারা কেমন হয় একটু বুঝতে চাই, একটু ভালোবাসার আশাবাদী। সুযোগটা কি পেতে পারি?” “চেষ্টা করা যেতে পারে।”(তুহি) “সেটা কখন?” ”আগামী পরশু মোহনপুরের পাঁচতারা রেস্টুরেন্টে সকাল ১০ টার সময় আপনার উপস্থিতি হয়তো আমাকে আনন্দময় করবে!”(তুহি) “যথা আজ্ঞা মহাশয়া!” “ধন্যবাদ, এবার ভালো করে উইশ করে আমাকে রাতে ঘুমানোর ছুটি দিবেন আশা করি, ঘুম আমার চোখের সন্নিকটে।”(তুহি) “শুভ রাত্রি, এবার ঘুমোতে পারেন।” তুহির সাথে ফোন শেষ করে মোবাইল চার্জে লাগালাম। আমারও ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। বাতির সুইচ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠতে একটু দেরি হয়ে যায়। ওঠে দেখলাম ১০.৩০ হয়ে গেছে! অফিসে যাওয়ার সময় পার হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই! আমাকে কেউ ডাকও দিলনা! প্রতিদিন তো ডলফিন আমাকে ঘুম থেকে জাগাতো। আজ আসে নি মনে হয়। যাইহোক, ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে গেলাম। বাসায় কেউ নেই। ডাইনিং টেবিলে খাবারও রাখা নেই! অন্যদিন সুন্দর করে সাজানো থাকতো। মাকে ফোন দিলাম। “মা তোমরা কই? বাসা একদম ফাঁকা দেখছি! ব্যাপার কি?” “আমরা ছাঁদে আছি। তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে চলে আয়।”(মা) “ সারপ্রাইজ! তাও আমার জন্য?” সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠলাম। ছাঁদে একটা জনমানব নেই। সামনে এগিয়ে আড়ালের ওই চিলে কৌটার পাশে দাঁড়ালাম। “এই যে মহাশয়, এইদিকে তাকান। হাবুর মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?” পরিচিত চেনা কণ্ঠ শুনে পাশে ফিরে তাকালাম। এই যে মাইশা! আমার বড় খালার মেয়ে। পাশ থেকে মা বের হলেন, সাথে শিমুও। “কি রে অবাক হলি?”(মা) “হ্যা, অবাক তো হওয়ারই কথা। মাইশা কবে আসলো?” “তোর বিয়ের খবর দেয়ার পর গতকাল তড়িৎগতিতে টিকিট করে রাতের ফ্লাইটেই দেশে চলে আসে।”(মা) “তা ভালো করেছে। তোমরা একা তো এতোকিছু সামলাতে পারবেনা। মাইশাও সাহায্য করবে। মাইশা কি বলিস?” “হ্যা, তাতো অবশ্যই। সাথে আরোও কতকিছুই করার জন্য তো দেশে আসলাম। হাহাহা..”(মাইশা) “বিয়ে টিয়ে করার প্লান আছে নাকি? থাকলে বলিস, আমার কাছে অনেক ভালো একটা পাত্র আছে। তোর সাথে মানাবে ভালো।” “নাহ, ওসব আমার লাগবেনা।”(মাইশা) “আচ্ছা মা, এই আজব প্লানে আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার প্লান তোমাদের মাথায় কে ডুকালো।” “আমি ছাড়া কেউ কি এসব প্লান করতে পারে? বুঝোস না,তোর বোন একটা লিজেন্ড।”(শিমু) “ফালতু চিন্তা ছিল।” “তোর কাছে তো ফালতু লাগবে। ভালো বললে যে আমাকে ধন্যবাদ দেয়া লাগবে, এজন্য ধান্ধা করছিস, আমি বুঝি সব।”(শিমু) “হইছে, এখন আর ঝগড়া নয়। চল সবাই ব্রেকফাস্ট করে ফেলি।”(মা) ছাঁদ থেকে নিচে নেমে আসলাম। ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করতে লাগলাম। মা নাস্তা তৈরী করে আনলেন। “খালা, আপনাকে আর বেশিদিন নাস্তা তৈরী করতে হবে না। ঘরে নতুন বউমা আনছেন। আপনি তো পায়ের ওপর পা তুলে খাবেন।” (মাইশা) “এইটা কিন্তু ঠিক কথাই বলছিস। আর কত কাজ করবো। এবার তো একটু রেস্টের প্রয়োজন।”(মা) “আমিও কিন্তু ভাবীর মাথায় পা তুলে খাবো।”(শিমু) “রাজভাই কি তোকে সে সুযোগ দিবে? যতই বল, সে তো তার বউ! হাহাহা”(মাইশা) “এই ঘরের প্রাইম মিনিস্টার হলাম আমি, আমার অর্ডার না শুনলে বাসা থেকে বাহির কইরা দিমু।”(শিমু) “বাব্বাহ, এতো পাওয়ার তোর? কই থেকে এতো সাহস পাস?”(মাইশা) “এই যে আমার গুলুমুলু ভাইয়া আছে না। ভাইয়ার কাছ থেকে পাই।”(শিমু) “গুলুমুলু ভাইয়া! হাহাহা!”(মাইশা) তাদের এসব কথা আমি বেকুবের মতো শুনছি কিন্তু কিছুই বলছিনা। নিচের দিকে চেয়ে স্মাইলিং হয়ে নাস্তা করছি। কিছুক্ষণের মধ্যে খাওয়া শেষ করে কিছুসময় বিশ্রামনিয়ে বারোটার নাগাদ আমি অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলাম। কিছু ফাইল ব্লক রাখা আছে, ওইগুলোর কাজ শেষ করেই চলে আসবো। গাড়ীতে বসে আছি। ড্রাইভারকে একটু শর্টকাট রাস্তায় যেতে বললাম। মোবাইলের রিং বেজে ফোন আসলো৷ তুহির কল। রিসিভ না করে কেটে দিলাম। ড্রাইভারের সামনে কি কথা বলবো? নিজের সম্মানের বারোটা বেজে যাবে। মোবাইল সাইলেন্ট করে অফিস পর্যন্ত চলে আসলাম৷ কাজ করছি মনোযোগ সহকারে। একে একে সব ফাইল শেষ করে ক্লান্ত হয়ে বসে আছি৷ এতোক্ষণ তুহির কথা আমার মনে ছিল না। মোবাইল হাতে নিয়ে ফোন দিলাম। “ফোন না ধরে কেটে দিলে কেনো?”(তুহি) “অফিসে কাজ অনেক বেশি ছিল। ফোন ধরার মতো একটুও সময় ছিল না। I am really sorry.” “ছি ছি আপনি ‘সরি’ বলছেন কেনো? আসলে আমার ঐসময় ফোন দেয়াই উচিত হয়নি।”(তুহি) “কি বলো তুমি? তোমার জন্য ফোন দেয়ার কোনো নির্দিষ্ট টাইম আছে নাকি? যেকোনো সময় ফোন দিতে পারো। তবে, তোমার একটা ব্যবহার আমার কাছে খুব খারাপ লাগে, সেটা জানো?” “নাতো! কি সেটা?”(তুহি) “আমি তোমাকে সব সময় ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করি আর তুমি আমাকে 'আপনি' বলে কথা বলো এটা না, আমার খুব খারাপ লাগে।” “আসলে এতো কম সময়ে 'তুমি' করে বলতে পারছিনা তো তাই!আস্তে আস্তে 'তুমি'র অভ্যাস করে ফেলবো।”(তুহি) “না, আস্তে আস্তে নয়। এখন থেকে বলতে হবে৷” “ঠিক আছে, বাবুসোনা”(তুহি) “বাবুসোনা!!!!...... (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now