বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজানো গোছানো সংসার (পর্ব-০৩)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X “আমার পছন্দ হইলেই কি বা না হইলেই কি? আমার মা-বাবার পছন্দ হইলেই হলো।” “ডং কইরোনা বাপজান,বুঝতেই পারছি ভিতরে ভিতরে রং ফুটতেছে। আর সাদু সাজো আমাদের কাছে।”(বাবা) “একদম ঠিক কইছো বাবা। তোমার ছেলেটা না খুব পাজি! ভেতরে ভেতরে সব ঠিক আর বাহিরে আমাদের ঠকাতে চায়।”(শিমু) “তুই কোন কথা বলবি না। যেভাবে ঘুমিয়ে আসছিলি ওইভাবে ঘুমাই যা। আমাকে একটু শান্তি দেয়।” “শোনো না ভাইয়া, আরেকটা কথা বলি?”(শিমু) “আর কোনো কথা শুনবো না। এই কান বন্ধ করে রাখলাম।” “এই মাত্র একটা কথা বলবো, তারপর চুপ হয়ে যাবো।”(শিমু) “ঠিক আছে, কি কথা বল?” “তুৃমি 'তুহি' ভাবীকে বিয়ে না করে 'জোনাকি' কে বিয়ে করে ফেলো। ওর ঠোল পড়া হাসিটা অনেক সুন্দর। আমাকেও আদর করে।”(শিমু) “মামার বাড়ীর আবদার! ওদেরকে এইটা বললে আমার আম যাবে, ছোলাও যাবে। আর তোর পছন্দ এতো জগণ্য হয় কেমনে? জোনাকির ঠোল পড়া হাসি দেখেই আমার জন্য পছন্দ করে ফেললি আর তুহি তো সব দিকেই পারফেক্ট! ওইটা কি তোর চোখে পড়ে নি? দেখতে যেমন সুন্দর, কথাও তেমন মিষ্টি।” “বাজান, ভেতরে ভেতরে তাহলে এতোটুকু!”(মা) “বিয়ের তারিখটা তাহলে ঠিক করে ফেলি, কি বলো রাজের মা?”(বাবা) “হ্যা, তোমার ছেলে তো মেয়ে দেখেই ঘন্টাবাজানো শুরু করে দিছে। তাড়াতাড়ি বিয়ে না দিলে কি যে করবে! কে জানে?” (মা) “কি যে বলোনা মা, আমি আবার কি করলাম? যে যেমন তার প্রশংসাও তো সেই রকম করা উচিত। আমিও তাই করলাম।” “হইছে বাজান, আর বুঝাতে হবে না।”(মা) “ভাইয়া, শোন না?”(শিমু) “বলছিনা তোকে? কোনো প্রশ্ন করবিনা। তারপরও কি ভাইয়া ভাইয়া করছিস?” “তোর একটা মাত্র বোন আমি, আমার সাথে এরকম করস কেন? যাহ আর বলমু না।”(শিমু) “হইছে, আর কান্নার ভান করে ব্ল্যাকমেল করতে হবে না। বল কি বলবি?” “আমাকে কোলে নিয়ে একটু ঘুম পাড়াই দেয়।”(শিমু) “মা-বাবার কাছে যা। আমি একটু ফেইসবুকে ডুকবো।” “তুই ঘুম না পাড়ালে আমি তো ঘুমাতে পারি না। আমার সোনা মনা ভাইয়া! প্লিজ। ঘুম পাড়াইয়া দেয় না।”(শিমু) “আয়, কোনো কথা না বলে চুপচাপ শুয়ে পড়।” “লক্ষী ভাইয়া, উম্মাহ।”(শিমু) কোলে উঠেই শুয়ে পড়ে শিমু। এতো বড় হয়ে গেছে কিন্তু ওর পাগলাটে স্বভাবটা এখনও যায় নি। ছোটবেলার মতো আমাকে ছাড়া একটা মুহূর্ত থাকতে পারেনা। আমি না ঘুম পাড়ালে ঘুমায়ও না। কখনও আমি ছাড়া একা কিছু খেয়েছে কিনা আমার মনে নেই। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ালেখা করে অথচ এখনও আমার কোলেই ঘুমায়! এটা কেউ বিশ্বাস করবে?হ্যা, আমাকে একটু বেশি জ্বালায়, এটা ঠিক। কিন্তু এতে আমি একটুও বিব্রত হইনা। একটা মাত্র বোন আমার। আমাকে যদি না জ্বালায় তাহলে কে জ্বালাবে? ভালবাসি তো, অনেক ভালোবাসি। আমি কখনও কখনও মন খারাপ করতাম, সেটা সবার আগেই আমার ছোট্ট হিরকের টুকরা বোনটিই ধরে ফেলতো। আর আমার মন ভালো করার নানান ফন্দি আটতো। এখনও সেটাই করে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সে একজন বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান। এমন আজব আজব কিছু কথা বলে যা মেজিশিয়ানরাও বলতে পারবেনা। সবকিছু মিলে আমার বোনটা একটা প্যাকেজ, যাকে আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তৈরী করে আমাদের মধ্যে পাঠিয়েছেন। কত মায়াবী মুখ, কি নিষ্পাপ চেহারা! চোখ দুটি হালকা নীল রংয়ের! এই জন্য আদর করে তাকে ডলফিন বলেই ডাকি। এই জন্য সে খেপে থাকে আমার ওপর! ওকে সবাই শুধু জীব জন্তুর নাম দেয়। এটা তার জন্য খুব দুঃখের। আমাকে একদিন বলেছিল, ”ভাইয়া তোমরা আমাকে যেভাবেই জন্তু-জানোয়ারের নামে ডাকো, এতে আমার মনে হয় আমি কোনো এক গ্রহের এলিয়েন।” কথাটি শুনে খুব হাসছিলাম আমি। মাঝে মাঝে এরকম অনেক কথাই বলে যা আমার হাসির অন্যতম কারণ। ওকে ছাড়া আসলেই আমি অসহায়। এভাবেই পাগলাটেই থাকুক আজীবন। ”রাজ, ও তো ঘুমিয়ে গেছে। কোল থেকে নামিয়ে সিটে রেখে, আরাম করে বসে যা।”(মা) “না মা, থাকুক। ওর আর কত ওজন? এমনিতেই ভালো আছি।” “তোরা ভাই-বোন দুইটা কখন কি যে করিস আমার মাথায় ধরেনা। এক মিনিট যেতেই না যেতে ঝগড়া শুরু করিস, আবার এক মিনিট আলাদা থাকতেও পারিস না৷”(মা) মায়ের কথার প্রতিত্তোর দিলাম না। শুধু একটু হাসি দিয়ে বসে থাকলাম। বাইরের দিকে তাকিয়ে মন মুগ্ধকর প্রকৃতি দেখে পথ চলতেছি৷ সবকিছু মিলে ভালোই লাগছে। বিকেলের পড়ন্ত বাতাসটা প্রাণটা জুড়িয়ে দেয়। তাতে ক্লান্তিটা অনেক বেশি ভেসে ওঠে৷ মা-বাবারও ক্লান্তি বোধ হয় এসে গেছে। দুজনই ঘুমিয়ে গেছেন। এ পাগলিটা আমার কোলে না ঘুমালে হয়তো আমারও ঘুম চলে আসতো। ও পাশে থাকলে আমার ঘুম, পেঠের ক্ষিধা সব চলে যায়। আস্তে আস্তে চারদিক সন্ধার লাল আলোয় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে, আমরা বাসার খুব কাছে চলে আসছি। আর কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাবো। পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম। এই সময়টুকু ফেইসবুকিং করে কাটিয়ে দিলে ভালো হয়। ডাটা কানেকশন অন করলাম। পাঁচ থেকে সাতটা মেসেজ আসলো। “অপ্সরী ললনা” নামের একটা আইডি থেকে! সাথে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ও! এই প্রথম কোনো মেয়ে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সহ মেসেজ দিলো! খুশির চেয়ে অনেক বেশিই অবাক হলাম৷ “কে হতে পারে, এই ললনা?” মেসেঞ্জারে গিয়ে বার্তা গুলো চেক করলাম। “হাই” “কেমন আছেন?” “রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করুন।” “বাসায় পৌঁছেছেন?” “কোনো সমস্যা হয়নি তো?” “চিন্তা করতেছি, বলুন প্লিজ!” এই মেসেজ গুলো পড়ে বুঝে গেলাম, উনি আমার হবু বউ “তুহি”! ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে আবার মেসেঞ্জারে ডুকলাম। একে একে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলাম, “আমি ভালো আছি।” “ আসতে কোনো সমস্যা হয়নি, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় পৌঁছে যাব। আর চিন্তা করতে হবে না।” ক্লিক করতেই চলে যায়। ‘এক্টিভ নাও’ দেখাচ্ছে! নিশ্চয় অনলাইনে আছে। রিপ্লে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। সেন্ড হওয়ার সাথে সাথে দেখেছে আর তাতেই seen লেখা দেখাচ্ছে। একটু পর আবার মেসেজ আসলো। “বললেন না, আমাকে কেমন লাগলো।”(তুহি) “পরে বলবো।” “অসহ্য লাগছে, প্লিজ বলেন না।”(তুহি) “আচ্ছা একটা কথা বলো তো,আমার ফেইসবুক আইডির ঠিকানা কেমনে পেলে?” “জোনাকি শিমুর কাছ থেকে জেনে নেয়, তারপর জোনাকি আমাকে বলেছে, আর তাতেই পেয়েছি।”(তুহি) “ওহ, তাই বলো। আচ্ছা, তোমার সেলফোন নাম্বারটা কি দেয়া যাবে?” “দিতে পারি তবে একটা শর্ত আছে। শর্তটা পূরণ করলে তবেই দিবো।”(তুহি) (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now