বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজানো গোছানো সংসার (পর্ব-০২)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বিভিন্ন ধরণের খাবার দেখে আমার জিহ্বায় জল চলে আসলেও বর হিসেবে আমার কিছুই করার ছিলনা। চুপটি করে জিহ্বার জল নিজে নিজেই গিলছি। হবু শ্বশুর বাবা-মাকে খাবার খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন সাথে ডলফিনটাকেও। আমাকে কোনোরকম একবার বললেন। আমি কিছু বুঝে ওঠতে পারলাম না। কনে দেখতে আসলে শ্বশুরবাড়ির লোকের কেন যে জামাইয়ের মা-বাবাকে এতো আপ্যায়ন করে! আরে, বিয়ে করবো আমি! কই আমাকে পটানোর চেষ্টা করবে! তা না, তারা মা-বাবাকে পটানোর চেষ্টায় আছে। নিজেকে বড়ই এতিম এতিম লাগছে৷ মা-বাবা একটু করে খাওয়া শুরু করলেন। শিমু তো এমনিতেই মোটা, তারপর খাওয়াতে ওস্তাদ! সে কি বসে থাকবে? আনলিমিটেড খাচ্ছে। এইদিকে সুন্দরী মেয়েটা আমাকে আপেলের এক টুকরো দিয়ে বললো, “দুলাভাই, লজ্জা পাইয়েন না, একটু খান।” বুঝতে পারলাম উনি আমার প্রিয় শালিকা। ভদ্রতা স্বরুপ টুকরা টি হাতে নিলাম আর সাথে ফ্রিতে মুচকি হাসলাম। শেষ কবে এতো মুচকি হাসি কবে হাসছিলাম মনে নাই। ভাগ্যের পরিহাসে এতো হাসতে হচ্ছে। বউ দেখতে এসে এতোটা লজ্জা পাবো জানলে আসতাম-ই না। খাইতে পর্যন্ত লজ্জা করে। পেটে ক্ষিধা রেখে খাওয়া বন্ধ করে দিলাম। এবার মনে হয় বউটাকে দেখাবে। সুন্দর করে নড়েচড়ে বসলাম। সত্যি সত্যিই শ্বশুর আমার পাশে বসা শালিকাকে- ডাক দিয়ে বললেন, “জোনাকি ভেতরে গিয়ে তুহিকে নিয়ে আয়।” বউয়ের নাম আগে জানলেও শালিকার নাম জানা ছিল না। জেনে গেলাম এখন। এদিকে শিমু ধীরে ধীরে এসে গা ঘেসছে। নিশ্চয় খারাপ মতলবে। আমি মায়ের দিকে একটু সরে বসলাম। কিন্তু শয়তানটা আবার আমার দিকে এসে আমাকে টেস দিয়ে বসলো। মাকে ইশারায় বুঝালাম, “যে ডলফিন আমাকে ডিস্টার্ব করছে।” মা হাসলেন, কিন্তু কিছুই বললেন না। আচমকা একটা মৃদুস্বরে আসসালামু আলাইকুম শুনে তাকালাম, বামদিকে। চোখে চোখ পড়ে গেল, মায়াবিনী এক অপ্সরী দিকে, পলকেই হারিয়ে যাই আমি। তুহি হেসে দিল। আর হাসবেই বা না কেনো? যেভাবে ওর দিকে তাকিয়েছিলাম, তাতে হাসারই কথা। তবে একটু ভালোও হয়েছে বটে! এতো কিউট একটা হাসি তো দেখতে পেলাম। তুহিকে আমাদের সামনে বসানো হলো। শিমু শয়তানটা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে আমার হাতের মধ্যে এমন একটা চিমটি দেয়, পরক্ষণে আমি লাফ দিয়ে উঠি। শিমু হাহাহা করে হাসতে থাকে। বাবা আমার দিকে চোখ লাল করে তাকান। মা টান মেরে বসালেন। তুহি হাসছে বুঝতে পারছি৷ নিচের দিকে চেয়ে থাকলাম। মা-বাবা তুহিকে নানা ধরণের প্রশ্ন করছেন আমি বসে বসে শুনছি। মাঝে মাঝে লেজ বিহীন ডলফিনটাআমার বউটারে জ্বালাচ্ছে। গাল টানে একবার, নাক ধরে ঠান মারে আরেকবার। কিছুসময় পর, আমার বাবা আর শ্বশুর দুজনই আমাদেরকে অন্যরুমে পাঠিয়ে দেন। দুজনই নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছি। আমি অনেক ঘামছি। “এই নিন টিস্যু, মুখটা মুছে ফেলুন।”(তুহি) “জ্বি, থ্যাংক্স।” “ওয়েলকাম”(তুহি) আমার মনের মধ্যে অনেক সাহস চলে আসে। কিছুটা সহজ হয়ে যাই। এতেই করেই ইচ্ছে হয় তুহির সাথে কথা বলার। “আপনি কি করছেন এখন?” “আপনার পাশে বসে আছি।”(তুহি) “না, মানে আপনি প্রফেশনালি কি করছেন? পড়াশোনা নাকি চাকরি?” “এখনও পড়াশোনা করছি। চাকরী করার ইচ্ছে আছে, কিন্তু করতে পারবোনা।”(তুহি) “কেনো করতে পারবেনা?” “আপনার ওপর বসে বসে খাবো, তাই!”(তুহি) “আমি আপনাকেই বিয়ে করবো! এটাতে সিউর আপনি?” “কেনো? গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?”(তুহি) “নাহ, সেরকম কেউ নেই।” “তাহলে আমাকে বিয়ে করবেন না কেন? আমি কি দেখতে অসুন্দর নাকি?”(তুহি) “আমি একথাটি তো বলি নাই কখনও!” “আচ্ছা, একটা কথার জবাব দিবেন?”(তুহি) “অবশ্যই কেনো নয়? বলেন।” “আমাকে দেখতে কেমন লাগে?” (তুহি) “যদি আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হই তবে মনে করো, তোমার চেয়ে সুন্দর আমি কখনও দেখিনি। আর রাজি না হলে মনে করবে তুমি দেখতে ভালো ছিলে কিন্তু আমার মনের মতো হতে পারো নি।” “কত সহজ প্রশ্নটা করলাম আর আপনি এতো কঠিন করে উত্তর দিলেন। আপনাদের বুঝা বড়ই অসম্ভব! যাহ, মোডটাই খারাপ হয়ে গেল।”(তুহি) “কোনো কিছু সহজে পেয়ে গেলে সাময়িক আরামদায়ক হয় কিন্তু তা দীর্ঘায়িত হয় না।একটু অপেক্ষা করলে ভালো কিছু পেতে পারো।” “ভাইয়া, ভাবীকে পাইয়া কি আমাদের ভুইলা গেলি, বের হও তাড়াতাড়ি! মা ডাকতেছেন।”(শিমু) “চলেন যাই, না হলে শয়তানটা আমাদেরকে ফেলুদা বানিয়ে মানুষের হাসির খোরাক বানাবে।” “আচ্ছা, চলেন।”(তুহি) দুজন দাঁড়ালাম। একটু একটু করে আমরা সামনের দিকে আগালাম। তুহি দাঁড়িয়ে থাকলে আমি দরজার বাহিরে চলে আসলাম। ডলফিনটা চোখ দুটো কপালে তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “ভাইয়া, এতোক্ষণ কি করলি? সুন্দর ভাবী দেইখা অজ্ঞান হইছিলি নাকি?” (শিমু) “চুপ শয়তান, কথা কম বলবি। নয়তো এমন মাইর দিমু না। সাতদিন অসুস্থ থাকবি।” “শুনলে ভাবী তোমার ইডিয়েট জামাইটা কি বলে?” তুহির দিকে থাকিয়ে শিমুর নালিশ। আমার হবু বউ আর কি বলবে? মুচকি একটা হাসি দিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়। আমিও আর কোনো কথা বলিনি, সোজা চলে আসি গেস্ট রুমে। মা-বাবা এখনও তাদের বেয়াই আর বেয়াইনদের সাথে কথা বলছেন। চুপিসারে গিয়ে বসলাম সবার সামনে। এভাবে কিছু সময় থাকার পর আমরা চলে আসলাম হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে। গাড়ীতে চুপচাপ বসে থাকার চেষ্টায় ছিলাম। কিন্তু এটা আমার ব্যর্থ চেষ্টা ছিল। শয়তান ডলফিন থাকতে আমার সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে এটা স্বাভাবিক। একশো একটা প্রশ্ন করে আমাকে অসহ্য করে তুলল। সহ্যের সীমা অতিক্রম হওয়ার আগেই মায়ের দারস্ত হলাম। “মা তোমার মেয়েটাকে সামলাও, দেখোনা আমাকে কি রকম জালাইতেছে?” “ছোট বোনদের জ্বালাতন সহ্য করতে হয়। চুপ করে বসে থাক, ও কথা বলুক।”(মা) “মা, এটা কিন্তু ঠিক বলোনি। আমি মাত্র কয়েকটা প্রশ্ন করলাম, একবারও জ্বালাইনি তো!”(শিমু) “অতিরিক্ত কথা না বলে একটু শান্ত থাকিস। মাথামোটা কোথাকার”(মা) “এই তুমি আমার মেয়েটাকে বকতেছো কেনো? ও কি করসে?”(বাবা) “দেখছো না! কেমন বকবক করে গাড়ীটা ঝাঁজিয়ে তুলল।”(মা) “এখন এসব করারই সময়, একটু করুক।”(বাবা) জানতাম বাবা উনার সোনা সোহাগা মেয়েটার পক্ষ নিয়া ওরে বাজপাখির মতো আচরণ করার সাহস দিবেন। সেটাই হলো৷ লায় পেয়ে গেছে, এখন আরোও বেশি করবে। মনটা চাইতেছে নাকের মধ্যে একটা দিয়ে জ্বলসায়ে ফেলি। মেজাজ আমার ভীষণ খারাপ হলো। এরই মধ্যে আবার প্রশ্ন করে বসলো! “ভাইয়া ভাবী কি তোর পছন্দ হইছে?” (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now