বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- আর কতদূর বাকি?
- মাত্র ১০ কিলোমিটার!
- ১০ কিলোমিটার!! এটাকে মাত্র বলছো বাবা?
- হ্যা রে বেটা, ১০ কিলোমিটার আবার বেশি হয় নাকি? জোয়ান কালে কত দশ কিলো. হাঁটছি তুই তো ধারণাই করতে পারবিনা। তোর মাকে বিয়েই করার সময় কোনো গাড়ি ছিল না। পালকি নিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ীতে গিয়েছি প্রায় ২৫ কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে বুঝলি? আর তুই যাচ্ছিস গাড়ীতে করে।
- কিহ!! কি বলো বাবা? নানু বাড়ি গেছো, হেঁটে হেঁটে !!
- এতো অবাক হয়ো না বাচাধন, আগেকার মানুষ এভাবেই বিয়ে করতো।
- তাই বলে, আমি এতো দূরে বিয়ে করতে পারবো না।
- এখন তো দেখতে যাচ্ছি। বিয়ে তো আর হচ্ছে না।
- আমার বিরক্ত লাগছে বাবা।
- থাম বেটা, এতো কথা বলিস না।
জানি বাবার সাথে কথার কাটাকাটি করে পারবোনা। তিনি যা বলবেন সেটাই আমাকে করতে হবে। কোন অপরাধে যে বিয়েতে রাজি হলাম। ধুর ভাল্লাগে না কিছু! ১৩০ কিলোমিটারের মতো আসলাম, এখনও ১০ কিলোমিটার যেতে হবে। এতো দূরে কোনো মানুষ বিয়ে করে। মা ও তো কিছু বলছেন না। পাশে বসে হিহি করে হাসতেই আছেন।
“এই রাজ, ওই দেখ অনলাইনে কি সুন্দর একটা গাড়ী। ঐইটা তুই কিনে ফেল, বউমাকে নিয়ে ছুটির দিনে ঘুরতে পারবি”(মা)
“মা, ওইসব গাড়ী-টাড়ি রাখো,এমনি মেজাজ খারাপ হচ্ছে।”
“ বুঝলি, বউমাকে দেখলে মেজাজ এমনিতে পানি হয়ে যাবে।”(বাবা)
“যেভাবে বলছো বাবা, মনে হচ্ছে তুমি ঐ মেয়েটাকে আগে থেকে চেনো!”
“ ছবিতে দেখলাম, কি সুন্দর!”(বাবা)
“মেকাপ করেই তো এ যুগে কালিয়া থেকে ডালিয়া হওয়া যায়। এইটাও হয়তো সেইম।”
“ছবিতে ওসব মেকাপের ছাপ একটু নেই, কতসুন্দর দেখলাম।”(বাবা)
“ছেলের বউকে এতো করে দেখতে হয় না। তুমি না দেখে নিচের চেয়ে থাকবা, ছেলের পছন্দ হলে তবেই বিয়ে হবে।” (মা)
“ কি সব আজবাজে বকছো হ্যা? ছেলেমেয়েরা শুনে কি বলবে? সবকিছুতে সন্দেহ করো না।” (বাবা)
“ Dear Parents, দয়া করে আপনারা একটু থামুন। আপনাদের ঝগড়া আমার খুবই বিরক্ত লাগছে।”
“এইতো এসে গেছি, ওই যে সামনের বাজারের পাশেই বউমাদের বাসা।” (বাবা)
“ সত্যিই!”(মা)
“হ্যা, সত্যিই! রাজ শিমুকে ডাক দেয়। গাড়ীতে ওঠার পর থেকেই ঘুমোচ্ছে!”
“বাবা, তোমার আদরের মেয়েটাকে ডাকা বাদ দাও। শুধু আমারে ডিস্টার্ব করে। ওকে গাড়ীতে রেখেই আমরা কনে দেখে চলে আসবো। ওরে সাথে নিলে না জানি কোন তালগোল পাকিয়ে আমাকে কাইশ্যা বানাই দিবে।”
“ তা কোনোভাবেই সম্ভব না। ডাক আমার মেয়েকে।”(বাবা)
“শিমু, ওই শিমু ওঠ, আমরা চলে আসছি।”
“এভাবে ডাকলে ও শুনবে নাকি? জোরে ডাক।”(বাবা)
“ডলফিন, ও ডলফিন, শয়তান ওঠ ! ওঠ এখন! আমরা এসে গেছি।”
এতো জোরে ডাক দিলাম, যার ফলে শিমু ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল৷ ড্রাইভারসহ আমরা সবাই হাহা করে হেঁসে উঠলাম৷ শিমু রেগে সিংহের মতো হয়ে গেছে। আমাকে না জানি কি করবে আজ? নিশ্চয় ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়, আমার বাঁশটা হয়তো রেডি করে রাখছে পরে নিশ্চয় দিবে। মনে মনে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি, যাতে হবু শ্বশুরবাড়িতে কোনো তালগোল না পাকায়।
“এই নেমে পড় সবাই, আমরা এসে গেছি।”(বাবা)
বাবার কথাতে আমরা একজন একজন করে নেমে পড়লাম। বাবা এগিয়ে গিয়ে সবার সাথে পরিচিত হতে লাগলেন। আমি আর মা এক সাথে, শিমুটা একটু পেছনে। আমি এতোক্ষণ অনেক ভালো থাকলেও এখন কেমন জানি লজ্জার মধ্যে পড়ে গেলাম। পিচ্চি কিছু ছেলেমেয়ে এসে আমাকে দুলাভাই, দুলাভাই বলে চারদিক ধ্বনিময় করে তুলল। আমি ততোক্ষণে মাথা নিচু করে, মৃদ হাসিতে আগাচ্ছি মায়ের সাথে সাথে।
“বইনরে, তোদের দুলাভাই এভাবে বরণ করা মেনে নিতে পারেন নি, তাই তো মাথা নিচু করে হাসছেন। তোরা অন্যভাবে উইশ কর।” (শিমু)
আগেই বলছিলাম, ডলফিন আমাকে যেকোনো বিপদে ফেলবেই! কথাটা সত্যি হলো। পিচ্ছিরা দৌড়ে চলে যায়। না জানি কি নিয়ে আসে? আল্লাহ, রক্ষা করো। বাসার ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখলাম, আরো অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মা আমাকে সালাম করতে বললে আমি সবাইকে সালাম দিয়ে একটু মৃদু হাসি দিলাম। আর ভেতর থেকে লজ্জায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম৷ একটু পাশে তাকাতেই দেখলাম, একটা সুন্দর মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে কেমন জানি, টিটকারি মার্কা একটা হাসি দিল। তার ওপর ক্রাশ খাইতেছিলাম কিন্তু আমায় আস্ত একটা বাশ দিয়া দিলো। যাক গে, কপাল খারাপ আমার। সবাইকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলাম। রুমটা খুব সুন্দর করে সাজানো। দেখেই মনটা আনন্দের আন্দোলন শুরু করলো। একে একে সবাই বসলাম, শিমুটা পাশ কেটে এসে আমার পাশের চেয়ারে বসে যায়। নিশ্চয় ভালো মতলব নেই তার! তাকাতেই ভেংচি কেটে দিল। বুঝে গেলাম, আজ আমার বারোটা বাজাবেই! সুযোগের সৎ ব্যবহার যাকে বলে। চুপচাপ বসে আছি। এদিকে পিচ্ছিরা চলে আসলো, সাথে ঐ মেয়েটাও। একটা থালাতে ফুলে ভরপুর। মনে মনে আন্তর্জাতিক মানের আনন্দিত হলাম৷ সহ্য হলো না আমার এক নাম্বার শত্রু ডলফিনের। আমার পিচ্ছিদের বুঝালো কি? আর ওরা বুঝলো কি? একটা পিচ্ছিকে ডাকে নিয়ে কি যেন ফিসফিস করে বললো।
পিচ্ছিটা একটা কথা বললো শুনলাম,“এখন বেশি ডং করলে আপুটার বিয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে, বিয়েটা হোক আগে তারপর!” আমার আর বুঝার বাকি রইলোনা। শিমু নিশ্চয় কিছু বাঁশ খাওয়ানোর ধান্দায় ছিল। আমার মা-বাবা কেমন একটা শয়তান জন্ম দিলেন। যে কিনা, আমাকে বাঁশ দেয়ার জন্য এক পা এগিয়ে রাখে। মনে মনে এসব চিন্তা করছি আর এদিকে পিচ্ছিরা লঙ্কা কান্ড করে ফেলল, আমার ওপর ফুল ছিটিয়ে পুরোটা ফুলের বস্তা বানিয়ে দিছে! আমি হাঁদারামের মতো দাঁড়িয়ে ফুল গুলো ঝেড়ে সবাই ধন্যবাদ জানালাম। হুহু করে পিচ্ছিরা হেসে দেয় আর চলে যায়। ওদের মনে হয় হাসি রোগ নামে কোনো কিছু আছে। মা-বাবা চুটিয়ে গল্প করছেন আমার হবু শ্বশুরের সাথে। আমার বইনটা ঐ টিটকারি দেওয়া মেয়েটার সাথে কথা বলছে আর ইশারায় আমাকে হেয় করছে, বুঝতে পারছি। খুব কষ্ট করে সহ্য করতেছি। এদিকে বউটারে কেউ দেখায় না। মনটা আনচান করতেছে। ছবিতে দেখেই ফিদা হয়ে গেছি যদিও মা-বাবার সামনে আমি সাধু সাজার চেষ্টা করি। হঠাৎ খাবারের মিষ্টি ঘ্রাণ আমার নাকে এসে লাগাতে বুঝতে পারলাম, বউটা দেখতে হলে আরো অপেক্ষা করতে হবে। কষ্টে বুকটা চৌচির হচ্ছিল, না পারছি সইতে না পারছি বলতে! যাক, খাবার চলে আসল আমাদের সামনে। আমরা সবাই নিরব হয়ে বসে রইলাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now