বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিরক্তির সাথে চিরকুটটার দিকে তাকিয়ে থাকে তাহমিদ ।
‘কখনও কি ভেবেছ বন্ধুর চেয়ে একটুখানি_’
ব্যাস ! শেষ ।
আর কিছু নেই লেখা ।
বন্ধুর চেয়ে একটুখানি কি ? বেশি নাকি কম ?
ভ্রু কুঁচকে ও দু’সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে আরও ।
তারপর পাশে বসা জুয়েলের পেটে কনুই দিয়ে খোঁচা দেয় ।
‘গুতাস ক্যারে ?’ মোটাসোটা শরীরটা আরেকটু দুলিয়ে ফোঁস ফোঁস করে ওঠে জুয়েল ।
‘আরে কান্ডটা দ্যাখ !’ ওর হাতে গুঁজে দেয় কাগজের টুকরোটা ।
‘কোথায় পাইলি ?’
‘ব্যাগের মধ্যে ঢুকানো ছিল । কলম রাখি যে পকেটে ।’
‘কে পাঠাইছে লেখা নাই তো ।’
‘আরে তুই বের করতে পারবি না ?’
‘খাড়া খাড়া জিনিসটা বুইঝা লই ।’ মোটা শরীরটা একটু ঘুরিয়ে ব্যাগ থেকে একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করে জুয়েল ।
বেশ কিছুক্ষণ কুঁতকুঁতে চোখ মেলে তাকিয়ে মিনিট পাঁচেক দেখে মাথা নাড়ে । আগ্রহের সাথে এই পর্যবেক্ষণ দেখছিল তাহমিদ । আর ধৈর্য রাখতে পারে না ও ।
‘কিছু পেলি ?’
‘হুম !’ মাথা তুলে জুয়েল । ‘কিন্তু আগে বলুম না । তুইও দেখ । তারপর একলগে ।’
তাহমিদও ম্যাগনিফাইং গ্লাস চোখে আটকে দেখতে যাবে – এই সময় ক্লাসে ঢুকে পড়লেন দেবনাথ স্যার । ইনি ইংরেজী পড়ান । সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়ে আবার বসে পড়ে ।
কলেজে আধ-ঘন্টার লাঞ্চ ব্রেকের পর এই প্রথম ক্লাস ।
লাঞ্চ ব্রেকের আধ-ঘন্টার মাঝেই কেউ চালিয়ে দিয়েছে এই চিরকুট ।
দেবনাথ স্যার এখন অ্যাটেনডেন্স নেবেন ।
নিজের রোলটা পার হয় যেতেই আবারও ঝুঁকে পড়ে তাহমিদ কাগজটার ওপর । হাতে আতশী কাচ ।
পাশের সারি থেকে ওদের ভাব ভঙ্গী দেখে মুচকি হাসে প্রিয়াংকা আর কেয়া ।
‘উমম...’ মাথা তোলে এবার তাহমিদ । ‘যদিও তুই-ই ক্লাসের একমাত্র গোয়েন্দা । তবুও আমিও চেষ্টা করে দেখি ... ম্যাটাডোর কলমে লেখা, উমম ... কাগজটা কাটা হয়েছে হাতে ছিড়ে ...উহু,থুতুতে ভিজিয়ে, আর্দ্র কাগজের কোণা শক্ত হওয়ার লক্ষণ থেকে যায়...আর এইটা ডাক্তারী প্যাড থেকে ছেঁড়া একটা কাগজ । অ্যাম আই রাইট ?’
‘সাবাশ !’ গোবদা হাত দিয়ে ওর পিঠ চাপড়ে দেয় জুয়েল । ‘প্রায় সবকিছুই ধইরা ফেললি ! আরেকটা জিনিস বাকি – লেখাটা একটা মাইয়ার । সম্ভবতঃ – হাতের লেখা পাল্টাইছে যে লেখছে । মানে তোর পরিচিত ওই মাইয়া । আর না পাল্টাইলে অন্য কাওরে দিয়ে লেখাইছে ।’
জুয়েল কলেজে গোয়েন্দা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ।
একমাস আগে চুরি হয়ে যাওয়া মকসুদের মোবাইলটা বের করতে জুয়েলের লাগে সাড়ে তেতাল্লিশ ঘন্টা । আর আড়াই দিন আগে বোর্ডে লেখা অশ্লীল বাক্যের রচয়িতাকে ওর বের করতে লেগেছিল আড়াই মিনিট ।
কিন্তু বেচারার ওজন একশ দশ কেজি । প্রথম কয়েক সপ্তাহ ওর নিকনেইম ‘ভোটকা’ হয়ে গেলেও কেসগুলো সমাধানের পর থেকে সবাই ওকে সমীহের চোখে দেখে । এই পর্যন্ত কলেজের সাতটি রহস্যের সমাধান করে ও । সমাধানের হার শতভাগ ।
সেই জুয়েলের পাশে বসে তাহমিদের ব্যাগে অপরিচিত নোট লেখে যাবে কোন একজন – জুয়েলের ভাষায় – ‘মাইয়া’ – আর কালপ্রিটকে ধরতে পারবে না ওরা – এ তো সাংঘাতিক লজ্জার কথা ।
কিন্তু এই দফায় চ্যলেঞ্জ করতে বাধ্য হয় তাহমিদ ।
‘কোন মেয়ের লেখা – আর তাও সেটা পালটে ?? এগুলো কিভাবে বললি ?’
‘খেয়াল করলে তুইও পারতি ।’ মামুলি কাজ করে ফেলেছে – এরকম ভাবে নাক-মুখ কোঁচকায় জুয়েল । ‘হাতের লেখার ধাঁচ ওরকম মাইয়াগোরই হয় । লেখা নিয়ে সৌখিনতা পোলারা করে না এত । ওগো লেখা জঘন্য হলেও দেখবি একটা সাজানো গোছানো ধরণ আছে । ওইটা দিয়া বোঝা যাইতেছে লেখছে একটা মাইয়া । আর অপরিণত ভাবটা খেয়াল কর – হয় ছোট বাচ্চায় লেখছে – অথবা মাইয়া নিজেই নিজের লেখা পাল্টানোর চেষ্টা করছে । শিওর !’
এবারে কিন্তু তাহমিদই অভিভূত হয়ে যায় ।
‘সাবাশ দোস্ত !’ জুয়েলের পিঠে চাপড়ে দিয়ে বলে ও । ‘বেশ উন্নতি হয়েছে রে তোর -’
‘চমৎকার !!’ দেবনাথ স্যারের গলায় প্রশংসার চাইতে ব্যাঙ্গই বেশি প্রকাশ পেল । ‘ক্লাস শুরু হতেই পিঠ চুলকে দিচ্ছ একে অন্যের ! কি মোহাব্বত ! দাঁড়িয়ে থাক তোমরা দুইজন ।’
‘ওহ শিট !’ বিড় বিড় করে তাহমিদ ।
হেসে কুটি কুটি হয় প্রিয়াংকা আর কেয়া ।
✭
কলেজ থেকে বের হয়ে জুয়েলের হাতে কাগজটা তুলে দেয় তাহমিদ ।
‘দোস্ত এভিডেন্সটা তুই বাসায় রাখ । পরে কাজে লাগতে পারে ।’
‘আমার কিন্তু এরই মধ্যে একজনরে সন্দেহ হয় দোস্ত ।’
‘আরে আরও তথ্য প্রমাণ দরকার ।’ গেটের দিকে তাকিয়ে দেখতে পায় তাহমিদ । ‘ওই যে প্রিয়াংকা চলে এসেছে । যা তুই । কাল দেখা হবে ।’
হতাশায় মাথা নাড়ায় জুয়েল ।
জুয়েলের বাসা একদিকে আর তাহমিদের আরেকদিকে । ওদের পাশের বাসায় থাকে প্রিয়াংকা ।
কলেজে যাওয়া আসাটা তাই একসাথেই হয় ।
বাসে উঠে পাশাপাশি বসে ওরা ।
এতক্ষণে সুযোগ পেয়ে খোঁচাতে ছাড়ে না প্রিয়াংকা ।
‘ক্লাসে দেখলাম কি একটা কাগজ নিয়ে শার্লক হোমসগিরি ফলাচ্ছিস তোরা ।’
‘কই না তো !’ আপত্তি করার চেষ্টা করে তাহমিদ ।
‘কি ছিল রে ? কেউ প্রেমপত্র দিয়েছে নাকি ? বেনামী ?’ মজা পায় প্রিয়াংকা ওকে বিব্রত হতে দেখে ।
‘এক রকম । লাঞ্চ-টাইমে কেউ আমার ব্যাগে ভরে দিয়েছিল ।’ স্বীকার করতে বাধ্য হয় তাহমিদ । তারপরই লাফ দিয়ে সোজা হয়ে বসে । ‘তুই জানলি কি করে ? তোর কাজ এইটা ??’
চোখ থেকে হাসি হাসি ভাবটা চলে যায় প্রিয়াংকার । ‘জানব কি করে ? গেস করেছি । যেভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলি । তাছাড়া লাঞ্চ-টাইমের বেল বাজতেই ক্লাস থেকে কেয়ার সাথে বেরিয়ে যাই আমি ।’ কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলে, ‘তাইলে তো তোর এবার হয়েই যাবে ।’
‘মানে কি !! কি হবে আমার ?’ সপ্তম আসমান থেকে পড়ে যেন তাহমিদ ।
‘দিলে তো ক্লাসের কোন মেয়েই দিয়েছে তাই না ? প্রেম হবে তোর ।’
‘শোন !’ জোর গলায় বলে তাহমিদ, ‘যেই মেয়ের সামনে এসে বলার সাহস নাই – এরকম মুরগির কলিজাওয়ালা মেয়ের সাথে আমি প্রেম-ট্রেম করতে পারব না । আমার প্রেমিকা হবে অনেক সাহসী । হুহ !’
‘এহহ!’ তীক্ষ্ণ গলায় প্রতিবাদ জানায় প্রিয়াংকা । ‘যেই না উনার সাহস । আর চায় সাহসী প্রেমিকা !’
প্রিয়াংকাকে কিল দেয় তাহমিদ ।
‘আবার মারেও অবলা একটা মেয়েকে ।’ অভিমানী গলায় বলে ও ।
আরেকটা কিল দেয় তাহমিদ ।
বাস ছুটে চলে ।
চলবে,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now