বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ৩
হাসপাতালে-রহমত বললো"স্যার ছেলেটা ঠিক আছে তো?"
-ঠিক তো আছে তবে..
-তবে কি?
-মাথায় প্রচন্ড জোরে আঘাতের কারণে স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
-এখন স্মৃতি শক্তি ফিরানোর কোনো উপায় নেই
-উপায় তো একটাই ছেলেটাকে তার পরিবারের কাছে দেও।তারাই অতীতের কথা রিপিট করে মনে করাতে পারবে।আর যদি ওর সাথে যা হয়েছে তা আবার হয় অন্য কারো সাথে তখনও মনে পড়তে পারে।কোনো গ্যারান্টি নেই কখন ফিরে।আজও স্মৃতি শক্তি ফিরে পেতে পারে না হয় দশ বা দশ বছর পর।বলা যায় না।
-ছেলেটাকে নিয়ে যেতে পারবো।
-পারেন। তেমন কিছু হয় নি শুধু মাথায় আঘাত আর কিছু না।
-কি বলেন আমি তো ওর বুকে ক্ষত দেখেছিলাম।
-কোথায় আমি তো কোনো ক্ষত দেখি নি।কি বলেন ভুল দেখেছেন
-আচ্চা আমি ছেলেটাকে নিয়ে যাই।
কেভিনে-
-উঠো
-আপনি কে?
-আমাকে চিনো নাই। আমি তোমার বড় ভাই।
-বড় ভাই।তাহলে ভাই আমি কে?আমার নাম কি?
-তুমি.....(কি বলি কি দিই।হুম আমার ছেলের নামটাই ওকে দিই)অরিক
-অরিক!!!নমটা কেমন শুনা শুনা লাগছে।
-নিজের নাম তো শুনা শুনা লাগবেই।
এরপর ছেলেটাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে অটো নিলাম।অটো চলছে হঠাৎ অটোর বাম পাশে দ্রুত বেগে একটি প্রাইভেট গাড়ি অটোর দিকে আসতে লাগলো।বাম পাশেই ছেলেটা বসে ছিলো।আমি কিছু করার আগেই ছেলেটা গাড়ি লাফ নেমে দ্রুত বেগে আশা প্রাইভেট গাড়িটাতে একটা হাত দিলো।এতো দ্রুত বেগে আশা গাড়ি সাথে সাথে থেমে গেলো।এটা কি দেখলাম এক হাতে থামিয়ে দিলো।ছেলেটা দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে বাড়িতে আসলাম।
-এই অরিক(নীল)তুমি কিভাবে এক হাতে গাড়িটা থামালে।
-জানি না। আমার মনে হলো পারবো তাই করি।
বাড়িতে এসে আমি অরিকের(নীল) কথা আমার বউকে বুঝিয়ে বললাম সাথে আমার ছেলে কেও।
অরিক(নীল)দেখলাম বাহিরে বসে ভাবছে কিছু।কি হলো ছেলেটার কি ভাবে এতো।আমাকে আবার থানায়ও যেতে হবে।অরিককে(নীল)না বলে থানায় গিয়ে সব বললাম।এটাও বললাম ছেলেটা আমাদের গ্রামের নয়।পুলিশ বলেছে খুজবে তিন চার দিন লাগবে।প্রথমে খুজে দেখবে ছবি দিয়ে পরে না পেলে। ছেলেটার ছবি কিভাবে দিই।আবার বাসায় ফিরে এসে হাতের বাটন ফোন দিয়ে ছবি তুলে আবার থানায় গিয়ে পুলিশ অফিসারকে দিলাম।আবার বাসায় আসলাম।ছেলেটা এখনো এক জায়গায় বসে আছে কি জেনো ভাবছে।
-ওর সামনে খাবার পরে আছে খাচ্ছেও না।
-কি হয়েছে খাও কেন?
-খেতে মন চাচ্ছে না তবে প্রচন্ড পিপাসা লেগেছে।
-তো পানি খাও
-তিন গ্লাস খেয়েছি একটুও পিপাসা মিটে নিই।
-কি যে বলো।আচ্চা খাবার খেয়ে নেও।
-ভালো লাগছে না খাবো না।আমি বাহিরে যেতে চাই
-আচ্চা চলো আমার সাথে।
(ছেলেটা দেখেই মনে হয় স্মৃতি শক্তি হরাইছে।একদম স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলে)
বাহিরে নিয়ে আসলাম।ছেলেটা হেঁটে যাচ্ছে চারপাশে তাকাচ্ছে।সব কিছু এমনভাবে দেখছে মনে হয় নতুন দেখছে।হতে পারে শহরের ছেলে গ্রামের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা নেই।
অন্যদিকে-ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়াররা শহরের দিকে যাবার চিন্তা করছে সবাই এখন গুহার ভিতর কার দিন।বের হতে পারবে না।ভ্যাম্পায়ার রাজ্যেও যাচ্ছে না যুদ্ধ হয়ে যাবে না হলে।
অরেকদিকে-অনিশা নীলের খোঁজ না পেয়ে খুজা শুরু করেছে।ফরেস্ট অফিসারদের জানানো হয়েছে শেরপুরের সেই জঙ্গলে খোজ শুরু হয়ে গেছে।অনিশা তো পারলে নিজে গিয়েই খুজে কিন্তু প্রেগন্যান্ট তো তাই পারছে না।
এইদিকে-হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের কাছে চলে আসলো।শেরপুরের বিপরীত পাশে মানে শেরপুর দিয়ে জঙ্গল পার করলে আরেকটা গ্রাম।সেটাতেই নীল বর্তমানে আছে।আর জঙ্গলে তো নীলের খোঁজ চলছেই।শেরপুরের পুলিশদেরও বলা হয়েছে।কিন্কু কেউ তো শেরপুরের পর জঙ্গলের পিছনের ছোট গ্রামে খোঁজ নিচ্ছে না।
ছেলেটা এক দৃষ্টিতে জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছে
-চলো সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। জায়গাটা ভালো না।
হঠাৎ দেখি ছেলেটা নাক দিয়ে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।মনে হচ্ছে কিছুই গন্ধ নিচ্ছে।মাগরিবের আযানও দিয়ে দিলো।ছেলেটার চোখ ধিরে ধিরে লাল হয়ে যাচ্ছে।চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেলো।
-এই তোমার কি হচ্ছে।
-গন্ধটা গন্ধটা আমার পরিচিত।
-কিসের গন্ধ আমি তো কিছুর গন্ধ পাচ্ছি না
-রক্তের গন্ধ।
ধিরে ধিরে ছেলেটার মুখ থেকে দাঁত বের হলো লম্বা।হঠাৎ বাতাসের বেগে অনেক দ্রুত জঙ্গলের ভিতরে চলে গেলো।এবার সব বুঝতে পারছি এক হাতে গাড়ি থামানো, আর এখন এতো দ্রুত বাতাসের মতো জঙ্গলে ঢুকা।ছেলেটা ভ্যাম্পায়ার।আর এক মিনিটও না দাড়িয়ে পালালাম।
অন্যদিকে -নীল রক্তের গন্ধ অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফ দিয়ে।
এইদিকে-অনিশা,নীলের বাবা মা ফরেস্ট অফিসারদের সাথে জঙ্গলে নীলকে খুজচ্ছে।খুজতে খুজতে গুহার সামনে চলে আসলো।সূর্য অনেক আগেই ডুবে গেছে।গুহার ভিতর থাকা রিক মিস্টি একটা রক্তের গন্ধ পাচ্ছে।গাড়ি থেকে নেমে ফরেস্ট অফিররা গুহার ভিতর খুজর জন্য ঢুকলো আর অনিশা সহ বাকিরা গাড়ি বসে রাইলো।গুহার ভিতর থেকে দৌড়ে ফরেস্ট অফিসার বের হলো।ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ারগুলো বের হয়ে ওদের দিকে আসছে।রিক তো দ্রুত অনিশার সামনে আসলো।রক্তের গন্ধটা আজ পর্যন্ত খাওয়া সব রক্ত থেকে মিস্টি।অনিশাকে টান দিয়ে সামনে আনলো।
-ওয়াহ কি রক্তের গন্ধ
এইদিকে ফরেস্ট অফিসারের রক্ত ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ার গুলো করে দিয়েছে।নীল বাবা মা বাকি।রিক ঘাড়ে কামড় দিবে এমন সময়।
চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now