বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আজকে এতো এতো ফোন দিলাম, একটাও ধরলে না কেনো?(সর্ণী)
-বলবো না! (রাফি)
-কেনো বলবে না? (সর্ণী)
-আগে বল, তুই আমাকে তুমি বলা কখন বাদ দিবি! তারপর বলবো।
-যেদিন মরে যাবো।
-ওসব আলতু ফালতু কথা বলে লাভ নাই, “তুমি” বলা তুই বাদ দে, আর সুন্দর করে কথা বল।
-আমি তোমাকে ভালোবাসি জানোই তো, তারপরও এরকম করো কেনো?
-ওইসব ভালোবাসা, টালোবাসা বইলা আমারে কাবু করতে পারবি না, সুতরাং বেহুদা চেষ্টা করিস না। তুই অন্য একটা ছেলেকে খুজে নেয়। প্রয়োজনে আমি তোকে সাহায্য করবো।
-আমাকে ভালোবাসলে তোমার সমস্যাটা কোথায়?
-আবার যদি এই কথাটি বলিস তাহলে আমি চলে যাবো।
-হাজার বার বলবো।
-বল তুই, আমি গেলাম।
রাফি সত্যি সত্যিই চলে যাচ্ছে দেখে সর্ণীর মনটা পুরোই খারাপ হয়ে যায়। রাফিকে ডাক দিয়ে আবার ফেরালো। রাফির শর্ত ছিল তুমি করে বলা যাবে না। সর্ণী মেনে নিলো। যদিও তার কষ্ট হবে।
-আচ্ছা এখন বলো, ফোন ধরলে না কেনো?(সর্ণী)
-আবার, “তুমি”(রাফি)
-সরি, বল।
-এমনি ধরি নাই। ফোন ধরলে তো তুই “তুমি, তুমি” বলা শুরু করিস।
-ওহ, বুঝলাম। এবার চল। বাসায় যাবো।
-ওকে চল।
দুজনে হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে চলল। সর্ণী থাকে একটা ছাত্রী হোস্টেলে আর রাফি মেসে। বেশ আগ থেকে তারা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যদিও সর্ণী রাফিকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য সে রাফিকে তার প্রতি কোনোভাবে আকৃষ্ট করতে পারছেনা। এই চিন্তা থেকে দিন দিন তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। খেতে বসলে খেতে পারে না, পড়তে বসলে পড়তে পারেনা, ঘুমাতে গেলে ঘুম আসেনা! মানে কোনো কিছুই ভালো লাগেনা। তবুও রাফিকে বুঝাতে পারে না। রাফির মন কেনো যে একটুও গলে না।
- রাফি চল না, ঐদিকে আরেকটু হাঁটি।
- এই না বললি বাসায় যাবি।
- বাসায় গেলে ভালো লাগবে না। আরেকটু সময় থাকি! এই মনে কর, সন্ধ্যার সময় বাসায় যাবো।
- সন্ধ্যার সময়! কি বলিস! আরও দু'ঘন্টা এভাবে থাকবো! আমি পারবোনা। আমাকে মাফ কর।
- প্লিজ
- তোর এসব আজব আজব আবদার দেখে আমার মাথায় কিছুই ধরে না।
- দাঁড়া, বাদাম কিনে আনি।
- আমিও আসি।
- না, এখানে বসে থাক। বাদাম ওয়ালার কাছে খারাপ ছেলেরা দাঁড়িয়ে থাকে, ওখানে তোর যাওয়া লাগবে না।
- সমস্যা কি থাকুক না ওরা।
-সমস্যা আছে। ওখানে যাওয়া তোর জন্য নিষেধ।
- তুই বললে আর হয়ে গেল। চল একসাথে যাবো।
- না বলছি, শুনিস নি।
- ওখানে গেলে কি হবে?
- ওখানে গেলে, ওই ফাজিল ছেলেরা তোর দিকে তাকিয়ে থাকবে। - থাকালে থাকাবে। তাতে সমস্যা কি?
- ছেলেরা থাকালে খুব ভালো লাগে, তাই না?
- হ্যা!
- চড় মেরে মুখ ফাটিয়ে দিবো, ইডিয়েট কোথাকার!
- বুঝলাম না, তুই এখন এতো জেলাস হচ্ছিস কেনো?
- কই, নাতো! আআআআআমি ককককই জেলাস হলাম।
- বুঝতে পারলাম এবার, তুইও ভালোবাসিস আমায়। তাহলে রাজি হচ্ছিস না কেন?
- ফালতু কথা রাখ, আমি বাদাম নিয়ে আসি।
রাফি বাদাম আনতে চলে যায়। সর্ণী এবার বুঝতে পারলো, রাফি মুখ দিয়ে না বললেও মন থেকে ঠিকই ভালোবাসে। মন থেকে কিছুটা কালো মেঘ সড়ে গেল সর্ণীর।
- কিরে, কই হারাইছোস? (রাফি)
- বসেই তো আছি। দেখতে পাচ্ছিস না।
- না, আমি কতসময় থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা তো খেয়ালই নেই তোর! অযথা, মিটিমিটি হাসছিস।
- ওহ, তাই বুঝি।
- এই নে বাদাম খা।
দুজনে বসে বাদাম খাচ্ছে, আর গল্প করছে৷ এরই মধ্যে রাফি খেয়াল করলো সর্ণী আবার মিটিমিটি হাসছে।
- কিরে হাসোছ কেন?
- বাহ, আমার হাসিও তোর চোখে পড়ে! ভালো তো।
- ভালোর কি হলো?
- হইছে কিছু, বলবোনা তোকে।
- তুই আবার মনে করিস না, আমি তোকে ভালবেসে ফেলেছি। তাহলে ভুল করবি।
-এখানে ভালোবাসার কথা কই থেকে আসলো। আমি কি বলেছি সেটা?
- না বললে ভালো।
- আচ্ছা রাফি একটা কথা জিজ্ঞাসাকরি, যদি কিছু মনে না করিস।
- বল।
- তোর কেমন মেয়ে পছন্দ?
- মানে?
- তুই কি রকম মেয়েকে বিয়ে করতে চাস?
- বলবো?
- প্লিজ বল।
- আচ্ছা শোন, আমি যাকে বিয়ে করবো সে হতে হবে খুব ভালো মনের, তার চোখ দুটি হতে হবে টানাটানা, ঠোঁট দুটি থাকবে আবেদনময়ী, হাসলে গালে টোল পড়বে, ঠোঁটের কাছে ছোট একটা তিল থাকবে।
- এইরকম মেয়ে কি দুনিয়াতে আছে?
- আছে। থাকবেনা কেন?
- থাকলে ভালো।
- মন খারাপ করে ফেললি?
- নাহ, বুঝতে পারলাম।
- কি বুঝতে পারলি?
- বুঝতে পারলাম, তুই কেনো আমাকে ভালোবাসিস না। এইসব কারণেই তো নাকি?
- না।
- তাহলে?
- অন্য কারণ আছে।
- কি কারণ? বল।
- নাহ থাক।
- প্লিজ বল।
- আসলে তোর আমার মাঝে একটা বড় দেয়াল রয়েছে, যেখান থেকে টপকানো আমার বা তোর কারোরই সম্ভব না।
- দেয়াল! কিসের দেয়াল?
- তুই হিন্দু আর আমি মুসলিম। এর চাইতে বড় দেয়াল আর কিই বা হতে পারে?
- আমি হিন্দু কে বলল তোকে?
- বলা লাগে নাকি? তোর নামেই তো বুঝা যায়।
- আরে হাঁদারাম! তুই এই কারণে আমারে এতো কষ্ট দিলি? একটা বার ও কি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারলিনা, “আমি কোন ধর্মের অনুসারী?”
- তুই হিন্দু নয়!
- না, আমি একজন মুসলিম। - তাহলে তোর নাম সর্ণী কেন? এই নাম তো একজন মুসলিমের হতে পারে না।
- আমার পুরো নাম হলো “রাহনুমা জান্নাত সর্ণী। ” সর্ণী আমার দাদীমনীর দেয়া একটা উপনাম মাত্র। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন দাদী-মনির সাথের খুবই খেলা করতাম। একদিন, আমাদের বাড়ীতে কোন এক আত্বীয় আসে বেড়াতে। ঐ আত্মীয় আমাকে কোলে নিয়ে খেলছিল। হঠাৎ করে আমি উনার একটা স্বর্ণের চেন ধরে ঠান দেই এবং নিজের কাছে নিয়ে আসি। উনি চাইলেও আর উনাকে দেইনি। আমার দাদি এসব দেখেই আমার নাম সর্ণী রেখে দেন। এরপর থেকে এটাই আমার ডাকনাম! বুঝলি এবার?
- সত্যিই
- হ্যা, সত্যি।
- ওহ বাঁচালি আমায়, চল এবার যাই।
- এখনও তো সময় আসে নি। আগে সন্ধ্যা হোক তারপর যাবো।
- বাসায় যাবো না।
- তাহলে কোথায়?
- কাজী অফিসে!
- কিহ!!
- কিহ, টিহ বলে লাভ নাই। বিয়ে করবো চল।
- কাকে বিয়ে করবি?
- ন্যাকামি করস কেন? তোকে ছাড়া আর কাকে?
- আমি তো তোর স্বপ্ন আকা মেয়েটির মত নয়।
- আমার স্বপ্ন আকা মেয়েটিই ছিলে তুই। আমি যেই রকম মেয়ে চাইতাম, সেইরকম মেয়েটা হলো তুই। এইযে দেখ, তোর চোখ দুটো কি রকম টানাটানা, গোলাপি ঠোঁটে আবেদনময়ী আঁচ, ঠোঁটের পাশে ছোট তিল, টোল পড়া হাসি! আর কি চাই?
- আচ্ছা মশাই, তাহলে আমাকেই ধারণা করে এই কথাগুলো বলেছিলে?
- জ্বি, জনাবা। এবার চলেন যাই।
- চলেন।
অবশেষে দুজন বিয়ে করে নিল। তাদের পরিবার প্রথম প্রথম জামেলা করলেও এখন সবাই তাদেরকে মেনে নিয়েছে। কেননা, সর্ণী ও রাফির ঘর আলোকিত করে একটা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। আর তার মুখ দেখেই সবাই রাফি ও সর্ণীকে ক্ষমা করে দেয়।
সমাপ্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now