বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-------খুনে ডাকাত------------
-পর্ব-১
যাহিদ আর রিনক এই গল্পের নায়ক,তাই উদের দিয়ে শুরু করলাম।
এক
চোখ ডলতে ডলতে ঘুম থেকে উঠলো যাহিদ।সকালের সোনালি রোদের আলো জানালা দিয়ে সোজা এসে পরছে যাহিদের উপর।চারদিকে পাখির কিচির মিচির শব্দ।
যাহিহিহিদ,পাশের রুম থেকে মা ডাকলো।খেতে আয়।
যাহিদ গিয়ে দেখে খাবার টেবিলের পাশে বসে মস্ত বড় একটা কেক নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে মা।মায়ের হাতের কেক তার খুব প্রিয়।তাই আর দেড়ি না করে দ্রুত টেবিলে বসে পড়লো।কেকটা মায়ের হাত থেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে বড় একটা টুকরো সোজা মুখে পুরে দিল।
মা,কেকে চিবুতে চিবুতে বলল সে।তোমার হাতের কেক খেলে মনে হয় সর্গের খাবার খাচ্ছি।তুমি আমাকে শিখাবে কিভাবে তুমি কেক তৈরি কর?
এই,মা বলল।তোর আবার গোয়েন্দাগিরী ছেড়ে হঠাৎ কেক বানানোর ইচ্ছা জাগলো কেন?
না মা এম....। হয়েছে আর বলতে হবেনা।তার কথার মাঝখানেই থামিয়ে দিল মা।
এই নে,একটা চিঠি যাহিদের হাতে দিল তার মা।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দরজার সামনে পড়ে রয়েছে।
যাহিদ চিঠিটা নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচারা করলো।সাধারণ একটা চিঠি।ঠিকানা টিকানা কিছু লেখা নেই তাতে।চিঠি টা খুলল সে।তাতে লেখা
"যাহিদ আজ বিকেল ৪ টায় হেডকোয়াটারে চলে আসিস।কিছু জরুরি কথা আছে।
ইতি
রিনক"
চিঠিটা পড়ে যাহিদ বেশ অবাক হলো।কারণ চিঠিটা লেখা হয়েছে পত্রিকা থেকে কেটে নেওয়া অক্ষর দিয়ে।সে ভাবলো হয়তো মজা করার জন্যই রিনক এমনটা করেছে।কিন্তু আবার সন্দেহ হলো।নিশ্চয় এর ভেতর কোনো গোলমাল আছে।
বিকেল ৪ টায় হেডকোয়াটারে পোছালো যাহিদ।আশ্চার্য রিনক কোথায়?ওইতো বলেছিল ৪ টার দিকে আসতে।।আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও যখন রিনকের দেখা পেলনা তখন হেডকোয়াটার থেকে বেড়িয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল।হঠাৎ পিছনে একটা ইঞ্চিনের আওয়াজ শুনে পিছে তাকালো সে।একটা লাল ট্রাক তাদের হেডকোয়াটারের সামনে দাড়ালো।কিছুটা সন্দেহ হলো গোয়েন্দা প্রধানের।তাই বেপারটা দেখার জন্য একটা গাছেড় আরালে লুকিয়ে পড়লো।ট্রাক থেকে একজন বিশাল দেহি লোক লাফিয়ে নামলো।এতই বিশাল যে পুরো মাটি কেপে উটলো।তার পিছে পিছে আরও দুটো লোক নামলো ট্রাক থেকে।তারপর সোজা চলল হেডকোয়াটারের দিকে।সন্দেহ আরও বেড়ে গেল যাহিদের।হেডকোয়াটারে ওদের কি কাজ?এ জমিদার বাড়িতে আবার ডাকাতেরা আস্তানা বানাইনিতো?
দূর এসব কি ভাবছি? নিজেই নিজেকে ধমক দিল গোয়েন্দা প্রধান।কিছুক্ষণ পর বিশাল দেহি লোকটা আর তার সাথে দুই চেলাটাও বেড়িয়ে এল।চেলা দুটোর হাতে রয়েছে একটা বস্তা।দেখে বোঝা যাচ্ছে খুব ভারি বস্তা।বস্তাটা আনতে হিমশিম খাচ্ছে লোক দুটো।
বিচ্ছু একটাকে ধরেছি বস আরেকটা এখনো বাকি।বস্তাটা ট্রাকের পিছনে রাখতে রাখতে বলল একটা লোক।
আমাদের, বলল বিশাল দেহি লোকটা।আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।দেখি ওই বেটাও আসে কিনা।এখন চল।এটা এখানেই থাক।
ওদের কথা শুনে ধড়াস করে উঠলো গোয়েন্দা প্রধানের বুকটা।তারমানে বস্তাটার ভেতর রিনককে আটকে রেখেছে,ভাবতেই বুকের ভেতর হাতুরি মারা শুরু হয়ে গেল তার।দ্রুত চিন্তা চলছে তার মাথায়।যেকরেই হোক রিনককে বের করে আনতেই হবে ওখান থেকে।প্রায় নিঃশব্দে ট্রাকটার কাছে এসে দাড়ালো যাহিদ।বস্তাটা যেখানে রাখা হয়েছে সেদিকে এগিয়ে গেল।আস্তে করে বস্তাটা খুলে দিল।ভেতরে হাত পা বাধা অবস্থায় পরে রয়েছে গোয়েন্দা সহকারি।তার মুখটাও বাধা।
হিশশশ'একদম আওয়াজ করবে না।রিনকের মুখের বাধন খুলতে খুলতে বলল গোয়েন্দা প্রধান।ব্যাটারা এখানেই আছে।
পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে দ্রুত হাত পায়ের বাধন কেটে দিয়ে রিনককে নিয়ে নেমে পড়লো ট্রাক থেকে।
দাড়া বলল রিনক।আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।বেটাদের একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে।
দ্রুত রিনক তার প্ল্যানের কথা বলল।তারপর দুজনেই কাজে লেগে পড়লো।পুরো বস্তাটা যেটার মধ্যে রিনক ছিলো তাতে ইট আর পাথর ভরে দিয়ে চলে এল।একটু পরই ট্রাকটা চলে গেল ওখান থেকে।
বেটারা যখন গিয়ে দেখবে রিনক নেই তার পরিবর্তে আছে ইট আর পাথর তখন যে তাদের অবস্থা কি হবে তা ভাবতেই হেসে একেবারে খুন হয়ে গেল দুই গোয়েন্দা।
এরপর রিনক জানালো তার কথা,সে এখানে কিভাবে এসেছে।
আমি,রিনক বলল।সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি একটা চিঠি পরে রয়েছে।নিয়ে খুললাম।দেখি পত্রিকা থেকে কেটে নেওয়া বর্ণ দিয়ে লিখা হয়েছে চিঠিটা।আর তা পড়ে জানতে পারি তুই বিকেল ৪টায় হেডকোয়াটারে ডেকেছিস আমায়।ভাবলাম তুই মজা করে এভাবে লিখেছিস।যখন হেডকোয়াটারে পৌছালাম দেখি তুই নেই।পিছনে ঘুরতেই একটা বারি এসে পরলো মাথায়।এরপর আর কিছু মনে নেই।যখন জ্ঞান ফিরলো দেখি একটা বস্তার মধ্যে হাত পা বাধা অবস্থায় পরে আছি।চিৎকার করতে গিয়ে দেখি মুখও বাধা।তারপরই তুই এলি।একটা লম্ভা দম নিল রিনক।
ওহ,বলল যাহিদ।এ ব্যাপার।তাহলে আমাদের ধরার জন্যই এ ব্যবস্থা।এরপর যাহিদ তার কথা বলল।সে কিভাবে ওখানে গেল।কিভাবে সন্দেহ জাগলো।সব শুনেতো রিনকের মাথায় হাত।
আজ যদি ওরা দুজনেই ধরা পড়তো তাহলে কি হত তা ভেবেই রিনকের ঘায়ের লোম কাটা দিল।এরপর তারা বাড়ি চলে এল।
দুই
নাহ এবার মনে হয় ছুটিটা ভালোই কাটবে।শস্তির নিশ্বাস ছেড়ে বলল রিনক।মামার বাড়ি যাচ্ছি কত দিন পর।ভাবতেই ধেই ধেই করে নাচতে ইচ্ছে করছে।
হয়েছে বলল যাহিদ।এখন বাস ভর্তি লোকের সামনে আর নাচতে হবে না।
আসলে ওরা যাচ্ছে যাহিদের মামার বাড়ি।তার মামার বাড়ি ঢাকা।তিনি একজন পুলিশ অফিসার।শহরের বড় বড় ক্রিমিনালদের তিনি পাকড়াও করেছেন।তাই তার বেশ হাকডাক আছে।বাস চলতে শুরু করলো।কয়েক ঘন্টা পর ওরা গিয়ে মামার বাড়িতে পৌছাল।মামা এখনো অফিস থেকে আসেনী।বাড়ির কাজের লোক রয়েছে,নাম রহিম।বয়স হয়েছে অনেক।তাই ওরা ওনাকে রহিম চাচা বলেই ডাকে।
,আরে তোমরা,উত্তেজিত ভাবে বললেন রহিম চাচা।আসছো যে একটাওতো খবর দিলে না।
আসলে চাচা বলল যাহিদ।আমরা মামাকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম।
হ্যা চাচা বলল রিনক।কিন্তু মামা কোথায়?
সাহেবতো অফিসে।বললেন রহিম চাচা।
অফিস মানে? যাহিদ বলল।আজ না শুক্রুবার।
আসলে চাচা বললেন।কাল রাতে এদিকটায় একটা বেশ বড় ডাকাতি হয়েছে।তাই সাহেব গিয়েছেন তদন্ত করতে।চলে আসবেন।তোমরা বস।আমি আসছি।রহিম চাচা চলে গেলেন রান্না ঘরের দিকে।
একটু পরই ফিরে এলেন কমলার জুস নিয়ে।
খেয়ে নাও,চাচা বললেন।আমি নিজের হাতে বানিয়েছি।
একটানেই জুসের গ্লাস দুটো শেষ করে ফেলল দুই গোয়েন্দা।
এরপর রহিম চাচা আনলেন আপেল,কলা, পাকা আম আরও কত কি।
ওদের খিদেও পেয়েছিল, সবকিছু খেয়েনিল।
সকাল পেরিয়ে দুপুর হলো,মামার কোনো খোজ নেই।তাই ওদের একাই লান্স সারতে হলো।
কিছুক্ষণ জিরিয়ে বেড়িয়ে পড়লো শহর দেখার জন্য।
-আর পারছিনা যাহিদ,হাপাতে হাপাতে বলল রিনক।চল গিয়ে কোথাও বসে জিরিয়ে নিই।
চল বলল যাহিদ।গিয়ে ঐ সামনের কফি শপে গিয়ে বসে একটু কফি খেয়ে নেই।
কফি শপে গিয়ে একটা কোণে বসলো দুইগোয়েন্দা।ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে চলে গেল।একটু পরই হাতে করে নিয়ে আসলো দু কাপ ওল্ড কফি।
যাই বলিস,কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল রিনক।মনে হয় ছুটিটা এখানে দাড়ুন কাটবে।
হুম.....বলেই কফির কাপটা হাতে নিল।কাপে চুমুক দিতে গিয়েই সামনের একটা টেবিলে গিয়ে চোখ পড়লো গোয়েন্দা প্রধানের।ধরাস করে ওঠলো বুকটা।
ওরা যে টেবিলটাতে বসে রয়েছে ঠিক তার বিপরীত দিকের টেবিলটাতে বসে রয়েছে বিশাল দেহি সেই লোক আর তার দুই চামচা।
চল এখান থেকে।বলল গোয়েন্দা প্রধান।
কোথায়?একটু জিরিয়ে..........
হিসসসসসসসসসস।মুখে আঙ্গুল দিল যাহিদ।ঐ দেখ।হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালো বিপরীত টেবিলটার দিকে।
ইয়াল্লা,চিৎকার দিতে গিয়েও থেমে গেল সহকারি গোয়েন্দা।এতো সেই লোকগুলো যারা ওদের ধরার চেষ্টা করে ছিল।
নিঃশব্দে কফি শপ থেকে বেড়িয়ে ওরা একটা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকলো।কিছুক্ষণ পর বের হলো বিশাল দেহ আর তার দুই চেলা।সোজা গিয়ে উঠলো একটা লাল ট্রাকে।ট্রাকের নাম্ভারটা লিখছিল এমন সময় পিছন থেকে দুটো হাত এসে পড়লো দুই গোয়েন্দার কাধে।চমকে পিছে ফিরে তাকালো ওরা।
একটা পুলিশ ওদের কাধ ধরে রেখেছে।
এই যে খোকারা, বলল পুলিশটা।তোমরা লুকিয়ে লুকিয়ে কি করছিলে?
আআমরা-আআআমরা,তোতলাতে শুরু করলো রিনক।
আমরা একটা ডাকাতের গাড়ির নাম্ভার লিখছিলাম।রিনকের কথাটা শেষ করে দিল গোয়েন্দা প্রধান।
ওহ ডাকাত।কেমন সন্দেহ পুলিশের কন্ঠে।আগে থানায় চলো তারপর সব হবে।চলো।
ওদের কথা বলার সুযোগ না দিয়েই দুজন কন্সটেবল এসে ওদের নিয়ে গাড়িতে ওঠালো।তারপর চলল সোজা থানার দিকে..............
চলবে........
জিবনে প্রথম গল্প লিখলাম। কেমন হল জানাবেন।pls
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now