বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাবি থেকে বউ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bd Harami (০ পয়েন্ট)

X ..এই রাসেল তোদের হলো,,?? - এইতো আম্মু যাচ্ছি,,পাঁচ মিনিট। ..তাড়াতাড়ি আয় দেরি হয়ে যাচ্ছে তো ও আপনাদের তো বলাই হয়নি আজ আমার একমাত্র ভাইয়ার বিয়ে।একটু পর আমাদের বউ আনতে যেতে হবে।আমি ভাইয়াকে তৈরি করছি তো তাই আম্মু এসে তাড়া দিচ্ছিল। ..ভাইয়া হয়ে গেছে চল -এতো তাড়াতাড়ি হয়ে হেল,,দেখনা কিছু বাকি রাখলি কিনা,,,?? ..লিপস্টিক লাগানোটা বাকি আছে,, দাড়াও লাগাচ্ছি,, - (ভাইয়া চুপ) আসলে ভাইয়া একটু বেশিই এক্সাইটেড,,ভাইয়া আর রুপা ভাবির চার বছরের রিলেসন।তাদের সম্পর্কের কথা শুনে দুপরিবারের কেউ আমত করেনি।ভাইয়া আবার একটা বড় কম্পানিতে জব করে।ধুমধাম করে বিয়ে হচ্ছে তাদের।তাদের রিলেসনের কথা আমি আগে থেকেই যানতাম,,তাই রুপাকে ভাবি বলেই ডাকি।আমার থেকে বছর খানেকের বড় হবে সে। গাড়িতে বসে আছি,,,গন্তব্য রুপা ভাবিদের বাড়ি।আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই,,,,,আমি রাসেল,অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি,,আর আমার কিন্তু একটা gf ও আছে,কাউকে বইলেন না আবার,,,আপনাদের তো বিশ্বাস নাই রাত একটা ভাইয়া দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে,,ভেতরে ঢুকছে না ,,ভাইয়া,,,,,,, কি,,,,,?? - কি,,,??? ভেতরে য়াও - যাচ্ছি তো(বলে দাড়িয়ে আছে) ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম ভেতরে ভাইয়ার লজ্জা একটু বেশিই মনে হচ্ছে,,, হাহাহা সারাদিন আনেক খাটাখাটনি গেছে,,,,লাবনির(আমার gf) সাথে একটু কথা বলে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে,,,,, কে যেন কান ধরে মাঝে মাঝে টানছে,,,দেমাগে নিলাম না ,,আউউউ,,,,কেক,,,কে,, - ভাবি মুখ চেপে হাসছে ,,ভাবি তুমি - হুম আমি,,,, এতো বেলা করে ঘুমাচ্ছ কেন,,,হুম ,,কী বরবো বলেন,,,,আপনার মতো একটা সুন্দরি বউ থাকলে তো সকালে ভেজা চুলের পানি দিয়ে ঘুম ভাঙ্গাতো,,, -এত বেলায় শুয়ে শুয়ে তাইলে এই স্বপ্ন দেখা হচ্ছে ,,কেন স্বপ্ন দেখতে মানা নাকি - এতো কিছু জানি না,,,,তাড়াতাড়ি নিচে আসো সবাই ওয়েট করছে ,,ওকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসতেছি ভালোই চলছে ভাইয়ার সুখের সংসার।আর আমাদের পরিবারও যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখি হয়েছে রুপা ভাবিকে পেয়ে।সারাদিন যেন সবাইকে একটি আমেজের মধ্যে রাখে মেয়েটা।অল্প দিনেই সবাইকে এতটা কাছে টেনে নিয়েছে মেয়েটা যে একটা দিন ওকে ছারা কেউ ভাবতে পারে না।আমিতো দিনের অনেকটা সময় ভাবির সাথে গল্প করে কাটাই।ভাবিকে বলেছি লাবনির কথা।আমাদের প্রেমের সফলতা ভাবিই দিতে পারবে কেননা ভাবির কথা কেউ ফেলবে বলে মনে হয় না। আজ সকালে ভাইয়া লন্ডন যাচ্ছে তার কম্পানির কোনো একটা প্রজেক্টের কাজে। ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম বন্ধুদের সাথে।একটা ফোন আসে আমার কাছে ভাইয়ার কম্পানি থেকে,,,যা বলে সেটা শুনে আমি নিস্তব্ধ হয়ে যাই,,,চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে,,,আমার ভাইয়া আর নেই,,ভাবতে পারছি না আমি। আমাদের পরিবারটা আর আগের মতো নেই।সব খুসিই যেন ফুরিয়ে গেছে।যেই মেয়েটা আগে সারাদিন সবাইকে মাতিয়ে রাখতো,,,তার মুখে হাসা নেই।চুপ করে বসে থাকে আর চোখের পানি ফেলে।কারো সাথে তেমন কথা বলে না। ২ বছর পর এখন অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই চলছে সব,,,চলবেই না বা কেন আমাদের ঘর আলো করে এসেছে ফুটফুটে একটা পরী।হ্যা ভাইয়ার মেয়ে।এখন ওই সবাইকে মাতিয়ে রাখে।ভাবিও অনেকটা স্বাভাবিক,,সবার সাথে কথা বলে।আর পরী আমাকে বাবাই বলা ডাকে,,,,, এতে অবশ্য কারো কোনো আপত্তি নেই। অফিস থেকে ফরে,,, ভাবি,,,ও ভাবি -(রান্না ঘর থেকে)কি,, ,,ভাবি পরী কোথায় • -ওতো ওর দাদুর কাছে ,,ওহ ,,পরী,,পরী (আমাকে দেখেই আমার কোলে আসলো) -রুপাকে নিয়ে একটু ঘুরে আসতে পারিস না,,???(আম্মু) ,,আমি ভাবিকে নিয়ে ঘুরতে যাব কেন,,?? -দেখ,,মেয়েটা সারাদিন বাসায় থাকে,,কতদিন কোথাও যায় না,,একটু ঘুরে নিয়ে আয়,,ওরো মনটা ভালো হবে ,,কিন্তু ভাবি রাজি হবে তো? -হবে না কেন, ওকে আমি বলে দিচ্ছি, কালকে তো তোর অফডে,কালি ওকে নিয়ে একটু ঘুরে আয় ,,আচ্ছা যাবো পরদিন বিকালে ভাবি একটা কালো শারি পরেছে,,হালকে মেকাপ,,তবে একটা কালো টিপ হলে আরেকটু ভালো লাগতো।আমরা একটা পার্কে বসে আছি। দুজনেই চুপ,, ,,ভাবি একটা কথা বলি -হুম বলো ,,তুমি আর বিয়ে করলে না কেন -(ভাবি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে) ,,কি হলো -আচ্ছা বলো তোমার লাবনির খবর কি?? ,,(বুঝলাম কথা ঘোরানোর চেষ্টা)হ্যা ভালো সন্ধায় একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম,, -আরে রাসেল যে ,,আরে সুমন(ভার্সিটির ভালো বন্ধু) তুই এখানে -এইতো এই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার হিসেবে আছি,,এটা কে,ভাবি নাকি(রুপাকে দেখিয়ে) ,,আরে আমার..... -মামা বিয়া করলা একটা বার জানায়লানা (ওর কথা শুনে কি বলব বুঝতেছিনা)ভাবি আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে ,,আরে তেমন কিছু না,,আজ আমরা যাই অন্য দিন আসবো ভাবিকে নিয়ে চলে আসলাম,,রাস্তায় একটা কথাও হয়নি তার সাথে। রাতে,,আম্মু ডাকতেছে ,,হ্যা আম্মু বলো -তোকে একটা কথা বলতে চাই রাসেল ,,হুম বলো -দেখ বাবা তোর ভাইয়া মারা গেছে আজ দুই বছর,,রুপা তখন থেকে আমাদের সাথেই আছে,চলে যাওয়ার কথাটাও মুখে নেয় নি।আমারো মনে হয়না ও চলে গেলে আমরা ভালো থকবো,,আল্প বয়সেই স্বামি হারিয়ে মেয়েটা ভেঙ্গে পরেছিল।এখন ও একটু স্বাভাবিক,,আর পরীও তো তোকে বাবা বলেই ডাকে।দেখ বাবা তুই কি পরীর সত্যিকারের বাবা হতে পারিস না,,,?? ,,মা তুমি এসব কি বলছো,,এটা কিভাবে সম্ভব। -আমি ঠিকি বলছি,এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না,আর ওকে বিয়ে করলে তুইও সুখি হবি। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না।চলে আসলাম ওখান থেকে।দেখি দরজায় ভাবি দারিয়ে আছে।তাইলে কি ভাবি সব শুনলো।নাহ ভাবিকে সরি বলতে হবে। লাস্ট ১০ নিন বাড়ির কারো সাথে কোনো কথা বলি না।লাবনিকেও বলেছি কথটা,,অনেক কেঁদেছে মেয়েটা।একদিন রাতে আম্মু আমার রুমে। -বাবা কি ভাবছিস তুই,, ,,(আমি চুপ)দেখি আম্মুর চোখে পানি -কিরে ,,ভাবি কি বলেছে -তার মানে তুই রাজি(আম্মুর মুখে আনন্দের হাসি)রুপা আমাদের কথা ফেলতে পারবে না। ,,হুম,,,,,তবে আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে। -আচ্ছা তোর সময় হলে আমাদের বলবি। এটা আমি কি বরলাম,,,লাবনিকে ফোন দিলাম ,,হ্যালো লাবনি,একটা ঝামেলা হয়ে গেছে -আমি জানি মানে -হুম আন্টি আমাকে বলেছে,,দেখ সব প্রেম সফলতা পায় না,,আমাদের টাও এরকমি হলো। ,,থ্যাংস(ফোনটা কেটে দিলাম) আমার এতো আনন্দ হচ্ছে কেন।হ্যা আমিও সম্ভবত রুপাকে ভালোবেসে ফেলেছি,,একয়দিন শুধু ওকে নিয়েই ভেবেছি,ওকে আপছন্দ করার কিছু নেই।আর আম্মুর কাছে সময় চাওয়ার কারণ ওর মনের আমার জন্য ভালোবাসা তৈরি করা। কি যেন ভেবে ছাদে আসলাম,,একি রুপাও ছাদে।ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। ,,কি করো -(চমকে গিয়ে)চাঁদ দেখি ,,হুম চাঁদটাকে বেশ সুন্দর লাগছে,(রুপার দিকে তাকিয়ে) -কোথায় চাঁদ দেখ?? ,,আমার সামনেই তো রুপা কিছু না বলে চলে গেল,,রাগে না অভিমানে বুঝলাম না। পরদিন থেকে রুপার সাথে কাছাকাছি থাকতাম।পরীকে দিয়ে ওকে বিভিন্ন কথা বলে জালাতাম।কিছুদিন থেকে দেখছি ও তেমন বিরক্ত হয় না। আমাদের কথা শুনে হাসে।আজ ভালোবাসা দিবস।অফিস থেকে আসার সময় মার্কেট থেকে একটা কালো শারি, কালো টিপের পাতা,আর কাচের চুরি নিয়ে আসলাম। দেখি রুপা পরীকে বলছে,,,তোমার বাবাই খুব পঁচা,,প্রতিদিন দেরি করে আসে,, আমাদের ভালোবাসেনা। ,,কি আমার মেয়েকে কি শেখানো হচ্ছে। পরীকে রেখে দৌরে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। লজ্জা পেয়েছে,,, প্যাকেটটা রেখে পরীকে নিয়ে চলে আসলাম। পরদিন আজ আমার আর রুপার বিয়ে হয়েছে।রুপা বসে আছে বাসর ঘরে।আমি ঘরে ডুকতেই সালাম করলো।ওকে বিছানায় বসালাম।দেখি চোখে পানি। ,,কাদছো কেন?? -কই কাঁদছি নাতো ,,চোখে যে পানি - আমাকে ছেরে চলে যাবে নাতো কোনোদিন(বলেই জরিয়ে ধরলো সর্বশক্তি দিয়ে) ,,না আমার লক্ষি ভাবি,, কোনোদিন যাবো না -(মারছে কেন)ভাবি না বউ ,,তাই - হুম ,,বউ একটা দাও না - কি দিব ,,ওইটা - যাহ শয়তান ,,তাইলে কিন্তু ভা,,,,,,, আর বলতে পারলাম না,,ওর ঠোট দিয়ে বন্ধ করে দিছে। সমাপ্ত# সবই কল্পনা।ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭৩১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now