বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৫.
-খুনী কে তার প্রমান পেয়ে
গেছি,স্যার।
পরদিন ইনস্পেক্টর থানায় প্রবেশ
করতেই জানালো সহকারী।
- কে? ছোট্ট
করে জানতে চাইলেন ইনস্পেক্টর।
-আপনি!
সরাসরি ইনস্পেক্টরে চোখের দিকে
তাকিয়ে বললো সহকারি।
-আমি!
হো হো করে হেসে উঠলেন
রবার্টসন। 'তুমি কি নিশ্চিত, খোকা?'
-অবশ্যই নিশ্চিত, স্যার। -
আচ্ছা,তাহলে শোনা যাক, কেনো
আমাকে খুনী হিসেবে সন্দেহ হলো
তোমার।
হেসে বললেন তিনি।
-প্রথমে আপনাকে মোটেও সন্দেহ
করিনি,স্যার। বক্তৃতা দেওয়ার ঢঙ্গে
শুরু করলো সহকারী।
'কিন্তু সেদিন
কার্লোকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার
লাশ-ক্রেতা কোথায় থাকে জিজ্ঞাসা
করতে সে বললো জানেনা,অথচ আমার
স্পষ্ট মনে আছে আপনি বলেছিলেন
'ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা এক
লোকের কাছে কার্লো লাশ বিক্রি
করে। তাকে একথা জানাতে সে কসম
খেয়ে বললো,
আপনাকে কোন জায়গার নাম বলেনি।
কেমন একটা খটকা
লাগলেও তখনো আপনাকে তেমন সন্দেহ
হয়নি। তারপর গতকাল মিস্টার
আরগফকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়
কথাপ্রসঙ্গে তিনি এক খ্যাপাটে
বিজ্ঞানীর কথা বললেন যিনি মরা
লাশকে জীবিত করার গবেষনা করছেন।
তারপর আরগফ যখন বললেন
'ওই পাগলা বিজ্ঞানী সম্পর্কে তো তোমার
জানার
কথা। তোমার বস রবার্টসনের খুব
ভালো বন্ধু সে।
তখনোই আপনাকে
সন্দেহ হলো। কিন্তু হাতে কোন নিরেট
প্রমান ছিলো না। তাই আপনাকে খুনীর
পরিচয় জানি বলে টোপ ফেললাম।
জানতাম
আপনি যদি খুনী হোন?
তবে রাতে আমার উপর অবশ্যই হামলা হবে।
তাই তৈরীই ছিলাম। তবে নিজে না
গিয়ে যে আর্নল্ডকে পাঠাবেন তা
অবশ্য ভাবতে পারিনি।
-কিসব আবোল-তাবোল বকছো
তুমি, ছোকরা।
আমি কেনো খুনী হতে
যাবো,আর তোমাকেই বা খুন করতে
যাবো কেনো?
-এই ছোট্ট শহরের নিরাপত্তারক্ষী
হওয়ার তুলনায় আপনি অনেক বেশী
দক্ষ, স্যার। একজন পুলিশ অফিসার
হিসেবে আরো অনেক উপরের পদে
যাওয়ার কথা ছিলো।
হয়তো যেতেনও।
কিন্তু উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার সাথে
কথা কাটাকাটির সময় তার মাথায়
পিস্তল ধরেন আপনি।
ফলস্বরুপ আপনাকে
এই অজপাড়াগায়ে ট্রানসফার করে
দেয়া হয়।
ধ্বংস হয়ে যায় আপনার
উজ্জল ক্যারিয়ার। স্বভাবতই হতাশ
হয়ে পড়েন আপনি।
এমন সময় আপনার
সেই বিজ্ঞানী বন্ধু আপনাকে জানায়
মৃতকে জীবিত করার গবেষনায় সফলতার
দারপ্রান্তে পৌছে গেছেন তিনি।
ফাইনাল এক্সপেরিমেন্টের জন্য তার
কিছু তাজা লাশ দরকার।
সফল হতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতে
আসবে বলে জানান তিনি।
অন্য সময় হয়তো রাজী হতেন না,
কিন্তু ক্যারিয়ারের এমন অবস্থায় আর বন্ধুর
ক্রমাগত অনুরুধে আপনি রাজি হয়ে
যান।
তবে আপনি আমায় একটা মিথ্যা
বলছেন। বলেছিলেন;
গোরস্থান নাকি খালি কফিনে ভর্তি।
আসলে একটা
লাশও সরানো হয়নি কোন কফিন থেকে।
কারন পুরনো লাশের হাড়গোড়ের কোন
প্রয়োজন ছিলোনা আপনার বন্ধুর। তার
প্রয়োজন ছিলো তাজা লাশের।
যেগুলো
আপনি খুন করার পর কার্লোর মাধ্যমে
সংগ্রহ করতেন। পরে প্রয়োজনীয় লাশ
সংগ্রহের পর বেচারা কার্লোকে
ফাসিয়ে দেন আপনি। খুব সুন্দরভাবেই
সামলেছিলেন সব। কিন্তু দুর্ভাগ্য
আপনার,স্যার।
এতো করেও শেষ রক্ষা হলোনা।
আমার কাছে ঠিকই ধরে পড়ে গেলেন আপনি।
- আমি যে খুনী তার
কোন প্রমান দিতে পারবে?
-অবশ্যই প্রমান দিতে পারবো, স্যার।
আপনিই
তো শিখিয়েছিলেন, প্রমান ছাড়া কোন
কথা না বলতে।
এইযে,
নিজ কানেই শুনুন।
টেপ রেকর্ডারটা তার দিকে
বাড়িয়ে দিল টম। চুপচাপ শুনতে
লাগলেন ইনস্পেক্টর। যখন টমের
প্রশ্নের জবাবে আর্নল্ড তার নাম
উচ্চারন করলো তখন একেবারে থম
মেরে গেলেন তিনি।
শুন্য দৃষ্টিতে সহকারীর দিকে তাকিয়ে
থাকলেন ইনস্পেক্টর।
হঠাৎ হিংস্রতা
ফুটে উঠলো তার মুখে।
দ্রুত নিজের
ড্রয়ার হাতড়ে পিস্তলটা বের করলেন তিনি।
- লাভ নেই,স্যার।
বিদ্রুপের হাসিহেসে বললো সহকারী।
'পিস্তলে একটাগুলিও নেই।
আপনার ছাত্র এতোটা কাঁচা কাজ করেনা'
-নিজের পিস্তলের
দিকে তাকিয়ে থমকে গেলেন
ইনস্পেক্টর।
- তবে আপনাকে
আমি শ্রদ্ধা করতাম। নিজের বাবার
মতো ভাবতাম। আমি চাইনা আপনার
কুকীর্তির কথা জেলা প্রশাসকের কাছে
পৌছাক। তাই আপনাকে তিনটা অপশন
দিচ্ছি,স্যার। ওই আলমারীটার তিন
নম্বর ড্রয়ারে একটা পিস্তল আছে। হয়
আপনি নিজের মাথায় নিজেই গুলি করে
আত্নহত্যা করবেন,এটাই সবচেয়ে
সম্মানজনক হবে,নতুবা আজ রাতেই এই
এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবেন।
আর নয়তো আমায় খুন করে সমস্ত প্রমান
মুছে এই শহরেই দিব্যি আসন গেড়ে
বসে থাকবেন।
কি করবেন সেটা
আপনার বিবেকের উপর ছেড়ে
দিলাম,স্যার।
আশা করি সঠিক
সিদ্ধান্তটাই নিবেন। ঘর ছেড়ে
বেড়িয়ে গেলো সহকারী।
কোন এক
আশ্চর্য কারনে তার চোখের কোনটায়
জমে উঠেছে সামান্য পানি। লোকটাকে
নিজের বাবার মত ভাবতো সে।
পরিশিষ্ট :
রোবরারের সকাল।
প্রার্থনা সেরে
স্থানীয় কবরস্থানের সামনে এসে
দাড়ালেন ইনস্পেক্টর টম রিডল।
ইনস্পেক্টর রবার্টসনের খুনের এক বছর
পেরিয়ে গেছে।
সেরাতে ভালোভাবেই
সব সামলেছিলো টম।
রবার্টসনকে
খুনের দায়ে আর্নল্ডকে ও তাকে
সহযোগীতার দায়ে কার্লোকে মৃত্যুদন্ড
দেয় সে। না দিয়ে উপায়
ছিলোনা,রবার্টসনের মতো সৎ একজন
পুলিশ অফিসারকে হত্যা করায়
শহরবাসী প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিলো
তাদের উপর। রবার্টসনের
অন্তেস্টিক্রিয়া শেষ হবার পর শহরের
নতুন ইনস্পেক্টর ঘোষনা করা হয় টম
রিডলকে। এরপর আর কোন খুন হয়নি
শহরে। শান্তির শহর হিসেবে পুনরায়
পরিচিতি পেয়েছে পাহাড়ের কোল
ঘেসে জেগে উঠা ছবির মতো সুন্দর এই
ছোট্ট শহরটি।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now