বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩.
পরদিন সকালে
থানায় ঢুকে ইনস্পেক্টরের হাসিমুখ
দেখতে পেলো টম।
- সুখবর আছে, টম।
কালপ্রিট ধরা পড়েছে।
- তাই নাকি?
কে সে? কিভাবে ধরা পড়লো?
- ধীরে, অতো উত্তেজিতো হয়োনা,
বলছি।
-আমি মোটেও উত্তেজিতো
হইনি। মুখ গোমড়া করে বললো টম।
-আচ্ছা,আচ্ছা। হাসতে হাসতে বললেন
ইনসপেক্টর। সহকারীকে নিয়ে এগিয়ে
গেলেন হাজতের দিকে।
সেলের ভিতর একজন মানুষকে কুজো হয়ে
বসে
থাকতে দেখলো টম। পায়ের শব্দ শুনে
মুখ তুলে তাকালো কালপ্রিট।
চেহারা দেখেই তাকে চিনতে পারলো টম এবং
আতকে উঠলো।
-কার্লো! অসম্ভব। এটা
হতে পারেনা।
এই শহরের একমাত্র
গোরখোর কার্লো। মৃতের কবর খোড়া এর
কাজ হলেও সে একজন জ্যান্তকে মৃত
বানিয়ে দিতে পারে তা এই শহরের
কেউ বিশ্বাস করবেনা। বুড়োকে
ছেলেবুড়ো সবাই ভালবাসে এবং শ্রদ্ধা
করে। ওর দ্বারা এই কাজ অসম্ভব।
-আমার কাছেও অসম্ভব মনে হয়েছিলো,
টম। কিন্তু নিজের চোখকে অবিশ্বাস
করি কি করে বলো?
-কি ঘটেছিলো
আমাকে বলুন তো।
- কাল রাতে তুমি
চলে যাবার পরও ঘুম আসছিলো না,তাই
আবার টহলে বের হয়েছিলাম। টনি'র
কবরের কাছে পৌছুতে হালকা আলো
দেখতে পেলাম। মনে হলো কেউ
টর্চলাইট জ্বালিয়ে তার মুখ চেপে
ধরেছে। এগিয়ে যেতেই দেখি কার্লো।
টনির লাশটা বের করে রেখে খালি
কফিনটাকে কবর দিচ্ছে সে।
ব্যস, ধরে
এনে দু'ঘা দিতেই স্বীকার করলো এই
লাশগুলা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা
এক লোকের কাছে বিক্রি করে ও।
এভাবে প্রায় ৫০ টার মতো লাশ
বিক্রি করেছে ও।
অর্থাৎ গোরস্তানের
প্রায় পুরোটাই খালি কফিনে ভর্তি।
বহু কষ্টে নিজেকে সামলালো টম।
এই গোরস্তানে
শুয়ে আছে ওর বাবা-মাও। অন্তত
এতোদিন ছিলো।
-খুনের কথা স্বীকার করেছে?
-তা করেনি। তবে খুনগুলো ওই করেছে। আমি
নিশ্চিত। অনেকদিন এই শহরে কেউ
মরছেনা। হয়তো তার ক্লায়েন্ট বেশী
তাগাদা দিচ্ছিলো,তাই খুন করেছে।
তবে একটা জিনিস খেয়াল করেছো?
সে কিন্তু বেছে বেছে অকর্মন্য আর
নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে খুন করেছে। মনে
হচ্ছে ভিক্টিম ছাড়া আর কাউকে কষ্ট
দিতে চায়নি।
-হু,স্যার,আমি একটু
কার্লোর সঙ্গে কথা বলতে পারি? -
অবশ্যই;যাও।
আমি বাসা থেকে ঘুরে
আসি। একটু ঘুম দরকার। সন্ধ্যায়
আসবো।
ততক্ষন পর্যন্ত সামলে রাখতে
পারবে না?
- পারবো, স্যার। আপনি কোন চিন্তা
করবেন না।
- ধন্যবাদ বৎস,মৃদু
হেসে থানা থেকে বেরিয়ে গেলেন
ইনস্পেক্টর।
৪.
- স্যার,কার্লো একজন অপরাধী।
কিন্তু আমি জানি খুনগুলো সে করেনি!
-তাহলে কে করেছে?
- সেটাও আমি জানি।
প্রমান নেই বলে নামটা
আপনাকে বলছিনা। কিন্তু আজ রাতেই
আপনার সামনে প্রমান হাজির করবো
আমি। বাঁচার কোন পথ নেই তার।
-বেশ। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে
আমি রাজী। তোমার উপর আস্থা আছে
আমার। দেখি সেটার প্রতিদান পাই
কিনা।
- পাবেন, স্যার। নিশ্চিত থাকুন।
ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসির
রেখা ফুটলো সহকারীর। কিন্তু সে
হাসি তার চোখ ছুতে পারলোনা।
*
গভীর রাত।
সাদা চুনকাম করা
তিনতলা বাড়িটার নিচতলার একটা
দরজা নিঃশব্দে খুলে গেলো।
ঘরে প্রবেশ করলো আততায়ী। খাটের দিকে
এগিয়ে গেলো সে। তার হাতে বেরিয়ে
এলো একটা ভয়ংকরদর্শন জাপানী
নাইফ।
খাটের উপর লেপ দিয়ে
আগাগোড়া মোড়া একটা মনুষ্যাকৃতি পড়ে
আছে। সেটার উপর ঝুকে পড়ে
এলোপাতাড়ি ছুরি চালালো আততায়ী
এবং শিগগীরই টের পেয়ে গেলো
লেপের নিচে কোন মানুষ ছিলোনা!
ভয়ের একটা হিমশীতল স্রোত নেমে
গেলো তার শিরদাড়া বেয়ে।
আততায়ীর পেছন থেকে লাইট জলে
উঠলো। আলমারীর আড়াল থেকে বেরিয়ে
এলো ঘরের মালিক। তার হাতের
পিস্তলটা লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
আততায়ীর দিকে।
হাত থেকে ছুরি খসে
পড়লো আততায়ী ওরফে মিস্টার আর্নল্ডের।
প্রায় চার মিনিটের
ইন্টারোগেশন শেষে জানা গেলো কেউ
একজন তাকে পাঠিয়েছে খুন করতে,
মোটা অঙ্কের বিনিময়ে।
আর তিন
মিনিট ইন্টারোগেট করে সেই কেউ
একজনের নামটাও জেনে নিলো ঘরের
মালিক!
সেই সাথে আর্নল্ডের পুরো
কথোপকথনটা টেপ রেকর্ডারে সেভ
করতেও ভুললোনা সে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now