বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৬
কমপিউটার অন করে এনকার্টা এনসাইক্লোপিডিয়া ওপেন করল
রানা।
তুরস্কের উপকূল থেকে আশি কিলোমিটার দক্ষিণে,
ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ সাইপ্রাস। যিশুর জন্মের
চোদ্দোশো বছর আগে সাইপ্রাসকে কলোনি বানায় গ্রিস; পরে
ঈজিপশিয়ান, পারশিয়ান, রোমান, ব্রিটিশ ও টার্কিশ শাসকরা
দেশটা দখল করে নেয়। সত্তরের দশকে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি
সাইপ্রিয়ট, এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে গোটা দ্বীপে
অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। ঊনিশশো চুয়াত্তর সালে
সাইপ্রাসের উত্তরদিকটা দখল করে নেয় তুরস্ক।
রানা জানে উত্তর সাইপ্রাসে মুসলমান, অর্থাৎ তুর্কি সাইপ্রিয়টএর
সংখ্যাই বেশি; তবে খ্রিশ্চান সাইপ্রিয়টের সংখ্যাও নিতান্ত কম
নয়। বিভিনড়ব জাত ও ধর্মের লোকজন মোটামুটি শান্তিতেই বসবাস
করছে ওখানে।
দক্ষিণ সাইপ্রাসে খ্রিশ্চান গ্রিক সাইপ্রিয়টরা সংখ্যাগরিষ্ট
হলেও, সেখানেও প্রচুর মুসলমান ও ইহুদি আছে। সাইপ্রাস ভাগ
হয়ে যাওয়ার পর আইন-শৃংখলা সংμান্ত নানা রকম সমস্যা দেখা
দেয়, যেমন অপরাধ করে একদিক থেকে আরেকদিকে পালিয়ে
যায় মিনালরা। এদিকটা দেখবার জন্য জাতিসংঘ থেকে
পাঠানো আর্মড পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই সাইপ্রাসের
পুলিশ ক্রিমিশনাররা প্রতি হপ্তায় ইউ.এন. পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে
বৈঠক করেন।
থাকুক ছুটিতে, বিসিআই হেডকোয়ার্টারকে জানাতে হবে কী
কারণে, কেন তুর্কি সাইপ্রাসে যাচ্ছে রানা। সেল ফোনে সরাসরি
ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করল ও। অপরপ্রান্ত থেকে বিসিআই চিফ
মেজর জেনারেল [অবসরপ্রাপ্ত] রাহাত খান সরাসরি রিসিভ
করলেন কলটা।
সুরাইয়া সম্পর্কে যা জানে সংক্ষেপে বস্কে জানাল রানা।
সবশেষে মেয়েটি কোথায় আছে জানিয়ে বলল, তার এখন খুব
বিপদ, তাকে সাহায্য করতে চায় ও।
‘বেদুঈন কন্যা হোক বা না হোক, গুণী হোক বা নির্গুণ; আমি
চাই না কোনও মেয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে পড়ো তুমি,’
বললেন রাহাত খান। ‘তবে বিশেষ কারণে এ-ব্যাপারটা আলাদা,
ওকে তোমার অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। উইশ ইউ গুড লাক,
মাই বয়,’ বলে যোগাযোগ কেটে দিলেন তিনি।
ফ্যামাগুস্তা বে।
স্যালামেস বন্দরে পৌঁছে প্রমেই একটা ইয়ট ভাড়া করবে
রানা। এখানে ওর কাভার : বিদেশি ট্যুরিস্ট, ডাঙায় ফুর্তি করবে,
পানিতে মাছ ধরবে।
জেটির দিকে হাঁটছে রানা, সিটারেট টানতে টানতে এক
ভদ্রলোক ওকে পাশ কাটিয়ে উল্টোদিকে চলে গেলেন বাতাসে
গাঁজার মৃদু গন্ধ পেল ও।
দেখামাত্র ভদ্রলোককে চিনতে পেরেছে রানা। কপালে অস্পষ্ট
চিন্তার রেখা ফুটল, ভাবল কী ব্যাপার, সিরিয়ান ইন্টেলিজেন্স-
এর সিনিয়র এজেন্ট আদনান মেনদেরেস এখানে কেন?
জেটিতে বোটের সংখ্যা এমনিতেই বেশি নয়, তার উপর
একটা বাদে কোনও বোটই পছন্দ হচ্ছে না রানার।
সাদা ইয়ট ওটা, নাম ফরচুনা, ঝকঝকে তকতকে চেহারা
দেখে বোঝা যায় মালিক খুব যতড়ব করে ওটার।
রেইলিং ঘেঁষে ফেলা ডেক চেয়ারে বসে ঝিমাচ্ছে এক লোক,
হাত দিয়ে কপাল ও চোখ ঢাকা। ওখানে একটা চেয়ার আছে,
এটা আন্দাজে ধরে নিতে হচ্ছে, কারণ দৈত্যাকার লোকটা বসবার
পর সেটার কোনও অংশই দৃশ্যমান নয়, বিপুল থলথলে চর্বি ও
মাংসে ঢাকা পড়ে গেছে সবটুকু। লোকটার হাত ও ঘাড়ের
অনাবৃত অংশ দেখে বোঝা যাচ্ছে তার গায়ের রঙ লজ্জায় ফেলে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now