বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"নতুন অতিথি"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X অভ্র অফিসে কাজ করছে।ইদানীং কাজের চাপটা খুব বেশিই যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মানেই পরিশ্রম বেশি করা।কাজ ভালো করলেও বসের ঝাড়ির উপরেই থাকতে হয়।তার উপর ছুটি নেই বললেই চলে।সকাল থেকে রাত অব্দি গাধার মত খাটতে হয়।আজ একটা ফাইল রেডি করতে গিয়ে অভ্র হাপিয়ে উঠেছে।শীতের পড়ন্ত বিকেলটাও ওর কাছে অসহ্য লাগছে।এমন সময় নীরার ফোন।অভ্রর বিরক্তিতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করল এই অসময়ে নীরার কল।ও কতবার বারণ করেছে অফিস টাইমে ফোন না দিতে।মাঝে কয়দিন বাদ ছিলো আবার শুরু হয়ে গেলো।আসলে মেয়েটার পাগলামি অভ্রর আর সহ্য হচ্ছেনা।একেতো অফিসে কাজের প্যারা তার উপর নীরার এই ছেলেমানুষি। বিরক্তি নিয়েই ফোনটা রিসিভ করল।নীরাকে কিছু বলতে না দিয়ে রাগত্ব স্বরে বলতে লাগল.. _আবার কল করেছো কেন! তোমাকে না বলেছি দরকার ছাড়া এই সময় কল করবে না।এটাইতো জানতে চাইবে খেয়েছি কিনা??কি করছি?? হ্যা আমি খেয়েছি আর এখানে কাজ করছি। তোমার মতো বসে নেই। গরগর করে কথাগুলো বলে ফেলল অভ্র।নীরা চুপ করে শুনছে।ও কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু অভ্র ওকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো।নীরার প্রতি বিরক্ত হয়েই আবার কাজে মন দিলো। অভ্র এইভাবে কলটা কেটে দেওয়ায় নীরা খুব কষ্ট পেয়েছে।না চাইতেও চোখে পানি চলে আসলো ওর। হ্যা অভ্রকে ও অনেক বেশি কেয়ার করে বলেই ফোন করত।কিন্তু ও বারন করার পরতো আর করে নাই বিরক্ত। আজকে একটা খুশির খবর দেওয়ার জন্য কল করেছিলো ও।ভেবেছিলো বাবা হতে যাচ্ছে শুনে নীরার মতো ও খুব খুশি হবে।কিন্তু অভ্রতো ওর কথাটাই শুনল না।নীরা শিক্ষিতা, বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে ও বুঝতে পারে তার স্বামী অফিসের কাজে ইদানীং ব্যস্ত আছে।তাই ও বেশি কথা বলেনা অভ্রর সাথে।তারপরেও অভ্রর মেজাজটা কেমন খিটমিটে হয়ে গেছে।ভালো করে কথাই বলেনা নীরার সাথে। নীরাদের আসল বাড়ি গ্রামে হলেও শহরেই মানুষ হয়েছে ও। খুব মার্জিত, রুপবতী আর গুণবতী একটা মেয়ে।অভ্র গ্রামে মানুষ হয়েছে।ইন্টারের পর শহরে পড়তে আসে।মেসে থাকলেও আত্বীয়তার খাতিরে মাঝে মাঝে নীরাদের বাসায় আসত। আর নিরার বাবা ভদ্র,সুন্দর ছেলে দেখে নিজের একমাত্র মেয়েকে অভ্রর হাতে তুলে দেয়।অভ্রর বাবা-মা গ্রামের আত্নীক বন্ধন ছেড়ে শহরে আসতে রাজি হয়নি বলে নীরাকে একাই বাসায় থাকতে হয়।নিরার চাকরি করাটাও অভ্রর পছন্দ না।তাই একা একা বাসায় নীরার আর ভালো লাগেনা।কিন্তু আজকাল অভ্রর আচরণটা নীরা একদম নিতে পারছে না।আগেতো ও এমন করত না।নাকি পরিবারের খাতিরে অভ্র ওকে বিয়ে করেছে।নীরা আর কিছু ভাবতে পারেনা।ওর মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে ওঠে।মনে হয় পুরো পৃথিবীটা ভনভন করে ঘুরছে।ও বিছানায় গিয়ে চোখটা বন্ধ করে শুয়ে পরে। রাতেও ওর মা হতে যাওয়ার কথাটা অভ্রকে বলতে পারেনা নীরা।অভ্রকে দেখেই ও বুঝতে পারে যে আজকেও মানুষটার মন ভালো নেই।আর বড্ড অভিমান হয় অভ্রর উপর ওর।অভ্রও ব্যাপারটা বুঝতে পারে কিন্তু কিছু বলেনা।এভাবেই কয়েকদিন চলতে থাকে নীরার অভিমান। আজ অভ্রর মনটা খুব ভালো আছে।অফিসের কাজটাও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেছে।নীরার মুখটা খুব মনে পড়ছে। পাগলিটা আজ কয়দিন পাগলামো করছে না।ও বুঝতে পারছে যে ও আসলেই নীরার জ্বালাতনগুলো খুব মিস করছে।মেয়েটার সাথে এতো রূঢ় আচরণ করা ঠিক হয়নি।হাসি মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে এই কয়দিন। মলিন মুখে নীরাকে মানায়না।অভ্র যে ওর হাসি মুখটাই সবসময় দেখতে চায়। বাসায় ফেরার পথে নীরার জন্য লাল রঙের চুড়ি কিনল অভ্র।মেয়েটা চুড়ি পরতে খুব ভালবাসে। অনেকদিন হল ওকে কোন গিফট দেওয়া হয়না।লাল রঙ পছন্দ হোক বা না হোক চুড়ি দেখে নীরা যে খুব খুশি হবে এইটা ভেবেই অভ্রর মুখে হাসি ফুটে উঠল।নিরার হাতের চুড়ির ঝুম আওয়াজটা ওর ভালোই লাগে। এসব ভাবতে ভাবতে বাসার উদ্যেশ্যে রওয়ানা দিলো। নীরার মনটা ভালো নেই,সাথে শরীরটাও।অভ্রকেতো কথাটা বলার সাহসই পাচ্ছেনা।তাই অন্য কাউকেও বলা হচ্ছেনা খুশির খবরটা। নীরা শুয়ে আছে এমন সময় কলিংবেল বাজছে।দরজা খুলতেই অভ্র হুড়মুড় করে রুমে ঢুকল।রুমে ঢুকেই নীরাকে খাবার রেডি করতে বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো অভ্র। খাবার টেবিলে এসেই অভ্র এমনভাবে খাওয়া শুরু করল যে নীরার মনে হচ্ছিল কয়দিন ধরে না খেয়ে আছে ছেলেটা। নীরা খাওয়া বাদ দিয়ে অভ্রকে দেখছে।অভ্র বিষয়টা খেয়াল করে বলতে লাগল.. _কি ব্যাপার খাচ্ছো না কেনো।আমার উপর রাগ করে লাভ নেই।খাও নইলে শরীর খারাপ করবে। _করলে করবে।তাতে তোমার কি!! _আমার কিছুইনা।সংসার সামলাবে কে,রান্না করবে কে,আর তোমার সেবাই বা করবে কে... _আমি অসুস্থ হলে তুমি কষ্ট পাবেনা!!তোমার কাজের চিন্তা।(অভিমানের সুরে)।আচ্ছা তোমাকে চিন্তা করতে হবেনা আমি অনেক অসুস্থ থাকলেও তোমার কাজগুলো ঠিকই করে দেব।যতই হাত পুড়ে যাক না কেনো। অভ্র দেখল যে নীরার হাতে ব্যান্ডেজ করা।আবার হাত পুড়িয়ে ফেলেছে অথচ ওকে বলেওনি।এত অভিমান মেয়েটার।ও রাগান্বিত হয়ে বলল. _হ্যা আমিতো তোমার শত্রু।আমাকে বলবে কেন হাত পুরার কথা। হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি।আর খাওয়া শেষে আমার সাথে ডাক্তারের কাছে যাবে।না গেলে জোর করেই নিয়ে যাবো। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমাকে জ্বালাবে কে তুমি জানোনা। নীরার অভিমানটা সরে গেলো।তার মনের আকাশে সে রংধনুর সাতটি রঙ দেখতে পেলো।এইবার কথাটা বলেই ফেলল.. _নেই মানে।আসছে একজন নতুন অতিথি। আমাদের ভালোবাসাকে ভাগ করে নিতে। কথাটা যেন অভ্রকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দিলো।অভ্র আর নীরা একে অপরের দিকে তাকায়। দুজনের চোখেই ভেসে ওঠে একটা নতুন মুখ,নতুন পৃথিবী। লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now