বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"রাত তখন ১২ টা বেজে ১ মিনিট"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X রাত প্রায় আটটা বাজে তখন। ছোট্ট লাইটের টিমটিমে নীল আলোয় বিছানার ওপর বসে আছে শুভ্র আর পাশে অর্থি । দুজন চুপচাপ । শুভ্র নিরবতা ভেঙ্গে বলল,  - কাল আমি বাসায় থাকবোনা অর্থি , ফিরতে রাত হবে।  . অর্থি অবাক হয়ে তাকায় শুভ্রর মুখের দিকে। এই শুভ্রকে চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে ওর! কাল অর্থির বার্থডে। আর আজ শুভ্র বলছে, অফিসের কাজে কাল সারাদিন বাইরে থাকতে হবে, রাতে ফিরতে দেরী হবে, এইসব! বিয়ের আগে যে মানুষটা ওকে এত্তো স্বপ্ন দেখিয়েছিলো, সবার আগে জন্মদিনে `হ্যাপী বার্থডে বাবুটা` বলে যার টেক্সট সবার আগে আসত মোবাইলে, সেই শুভ্র কাল যে অর্থির বার্থডে, তাই ভুলে গেল! অর্থির জন্মদিনের কথা মনে থাকলে নিশ্চয়ই এই কথা বলত না! . অর্থির মনে আছে , প্রতিবার ওর বার্থডের সময় ওরা দুজন শহর থেকে খুব দূরে কোথাও যেত, অনেক সবুজ যেখানে, কোন কৃত্রিমতা নেই যেখানে, নৌকায় চড়া, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা, আরো অনেক কিছু! . আগের কথা গুলো মনে করে প্রচন্ড অভিমানে চোখে কান্না চলে আসছে অর্থির। বিছানায় রাখা বালিশটা দুহাতে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছে ও। কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। চোখের কোণটা একটু পর পর ভিজে যাচ্ছে। শুভ্র অফিস থেকে এসেছে কিছুক্ষণ আগে। খায়নি এখনো।  . অর্থি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঁ হাত দিয়ে চোখ মুছে বলল,  - খাবে চলো।  - উহু, খাবোনা আজ, ক্ষিদে নেই। - আজ স্পেশাল খাবার আছে, আমি নিজে রান্না করেছি, চলতো! . এই বলে অর্থি শুভ্রর হাত ধরে টেনে ডাইনিং এ নিয়ে যায়। একটু আগে যে মেয়েটার চোখ অভিমানে সিক্ত হয়েছিলো তার কোন প্রমাণ নেই আর!শুভ্র অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বিছানা ছেড়ে চেয়ারে গিয়ে বসে। অর্থি খাবার এগিয়ে দেয়।ঢুলুঢুলু চোখে শুভ্র অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও খাবার মুখে দেয়। . অর্থি শুভ্রর দিকে আড়চোখে তাকায়। সত্যি খুব কষ্ট পাচ্ছে ও। শুভ্র কিছুটা খেয়ে প্লেট রেখে উঠে পড়ে। অর্থি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, -খাবেনা আর? - উহু, ক্ষিদে নেই।  . এই বলে শুভ্র উঠে হাত ধুয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। অর্থি চুপ করে ডাইনিং এ বসে আছে। নিজেকে আর বেঁধে রাখতে পারছে না ও! প্রচন্ড অভিমানে চোখে কান্না চলে আসে অর্থির।  না খেয়ে চুপিসারে ওদের রুমের পাশের বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় ও। বেলকনি থেকে দেখা যাচ্ছে শুভ্র ঘুমুচ্ছে। . রাত তখন প্রায় ১০ টা। প্রচন্ড অন্ধকার আজ বাইরে আর আকাশে মেঘ করেছে ভীষণ। তার ফাঁক গলে একটু চাঁদের আলো। কেমন মোহময় একটা পরিবেশ! এমন কত রাতে ওরা দুজন একসাথে পাশে বসে কাটিয়েছে কত রাত! উহ! আর চিন্তা করতে পারছে না অর্থি। . ভীষণ একা লাগছে আজ অর্থির! চোখের জলটুকু এখনো শুকোয়নি। চাঁদের আলোতে চিকচিক করে জ্বলছে অশ্রুগুলো। অর্থি বেলকনি থেকে সরে এসে শুভ্রর পাশে শুয়ে পড়ে। আজ রাতে কারো বার্থডে উইশ ওর প্রয়োজন নেই! ঠোঁট বাঁকিয়ে কান্না করতে করতে অর্থি ঘুমিয়ে যায় আলতো করে, একরাশ অপ্রকাশিত কষ্ট নিয়ে !  . সময়গুলো বয়ে যায় , আর মানুষগুলোর ও পরিবর্তন হয় হয়তো! কেউ বা ইচ্ছায়, কেউবা নিজেরই অগোচরে! পাশের মানুষটা কষ্ট পেয়েও কিছু না বলে চুপটি করে থাকে! . রাত বারোটা বাজে তখন! অর্থি ঘুমিয়ে! হঠাত প্রচুর চিৎকার চেঁচামেচিতে ধড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে ও! ঘরে প্রচুর আলো আর এত্তোগুলো মানুষ! শুভ্রর বাবা মা , অর্থির বাবা মা ! আরো অনেক বন্ধু ওদের! সবাই জন্মদিনের ক্যাপ পড়ে চুপ করে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে! নিস্তব্ধ সবকিছু!শুভ্র নেই কোথাও! অর্থি অবাক হয়!  . হঠাৎ সবাই একসাথে চিল্লায়ে উঠে বলে, "হ্যাপী বার্থডে অর্থি"!! অর্থি মুখ ফিরিয়ে দেখে এত্তো মানুষের ফাঁকে মাথা বের করে এত্তোগুলো লাল রঙের বেলুন আর গোলাপ নিয়ে শুভ্র ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে! অর্থি বোকার মতো হাঁ করে দেখছে সবকিছু! এটা স্বপ্ন নয় তো!! . অর্থির অবাক হওয়া থামেনি এখনো! এমন সময় হঠাৎ শুভ্র লাল রঙের বেলুনগুলো উড়িয়ে দিয়ে দুহাত প্রসারিত করে হাসি হাসি মুখ করে চিল্লায়ে উঠে বলে, হ্যাপী বার্থডে বাবুটা!! অর্থি অবাক হয়ে তাকায় মানুষটার দিকে! প্রচন্ড আনন্দে চোখের কোনে অশ্রু জমে যায় ওর! কেঁদে দেয় অর্থি! তারপর একদৌড়ে ছুটে গিয়ে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে ও! হুহু করে কাঁদছে অর্থি!  . রাত তখন বারোটা বেজে এক মিনিট! মেঘগুলো আকাশে নেই আর! জ্যোত্‍স্নায় ভিজে যাচ্ছে চারপাশটা। শিহরণ জাগা শীতল বাতাস গা কাপিয়ে দেয়! আর ওদিকে অর্থি কেঁদেই চলেছে! কাঁদুক! কারণ এটা কষ্টের অশ্রুসিক্ততা নয়। . ভালোবাসাগুলো হয়তো এমনই! ফুরোয় না কখনো! ভালো থাকুক ওরা দুজন! এমন করে। লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now