বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
""জীবনযুদ্ধ ০১"""লেখক:Jahid hasan(অপরাধী)
[[আমি কোন বড় লেখক বা ঔপন্যাসিক নই। তবে ইচ্ছে ছিল কোনদিন যদি সেই সুযোগ পাই তবে চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ জিজেকে আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে, সাথে ধন্যবাদ জিভের সকল সদস্য কে যাদের অনুপ্রেরণায় আজ আমি লেখার সাহস পেয়েছি। ]]
(উৎসর্গঃ আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে ও আমার মামুনি ও বাবাই ইভা ও ইভান কে)
ভূমিকা :
জীবন। এর সঙগা একেক জনের কাছে একেক রকম। কারও কাছে হয়তো জীবনটা অনেক আনন্দের, আবার কারও কাছে অনেক দুর্বিষহ। কারও কাছে জীবন হচ্ছে খেলার পুতুল আবার কারও কাছে জীবন মানে যুদ্ধ।কেউ হয়তো সারাজীবন পার করেও জীবনকে উপলব্ধি করতে পারে না। আবার কেউ খুব সহজেই নিজের জীবন উপলব্ধি করতে পারে। কেউ হয়তো শত চেষ্টায় জীবনের অর্থ, মর্ম বুঝতে পারে না, আবার কেউ হয়তো নিজের জীবনের অর্থ, মর্ম খুব সহজেই বুঝতে পারে। কারও নিয়তি হয়তো তার সাথে সাথ দেয়না আবার কারও নিয়তি হয়তো নিমিষেই তার সাথে সাথ দেই। কেউ হয়তো নিজের ভাগ্যের কাছে হেরে নিজের জীবন তছনছ করে। আবার কেউ হয়তো নিজের প্রিয় মানুষটিকে একটু সুখি দেখার জন্য নিজের জীবন তছনছ করে। আর কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের প্রবণতায় অনেকেই নিজের জীবন তছনছ করে ফেলে। আর সেটাই ফুটিয়ে তুলতে চাইছি এই উপন্যাসের মাধ্যমে।
০১.
কিছুদিন আগেই হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলা হয়েছে। ঢাকা সহ সারাদেশের মানুষ আতঙ্কিত। হঠাৎ এইরকম একটা ঘটনায় ঠেকে গেছে পুরো ঢাকা সহ বাংলাদেশ। এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্র বিন্দুতে হলি আর্টিজান। এই খবর শহর থেকে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে খুব দ্রুতই।রাফিন তা জানে ।সে এখন খোলা মাঠে তার প্রিয় বট গাছের নিচে শুয়ে আছে। এখানে শুয়ে থাকতে তার খুব ভালো লাগে। একসময় ছিল এই গাছের নিচে তার প্রিয় মানুষটির কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতো। শুয়ে শুয়ে দুইজনে চলে যেত স্বপ্নের জগতে। দুইজনের চোখে ছিল আকাশসম স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন যেন কখন হঠাৎ ভেঙে গেছে। এখন শুধু রাফিন ওই গাছের নীচে শুয়ে শুয়ে ওই নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওই বিশাল আকাশের মতো তারও যে বিশাল দুঃখ কষ্ট। এই কষ্ট ভোলার জন্যই তো রাফিন আজ নেশাই চূড় থাকে। তার পাশেই শুয়ে মিটিমিটি হাসছে সজীব, আর ভাবছে নিজের জীবন নিয়ে। আজ যদি তার বাবা মা বেচে থাকতো তাহলে তো আজ তার জীবন টা তার এমন হতো না। আজ থেকে বাইশ বছর আগে ওর বাবা মা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। তখন তার বয়স আর কত হবে? সর্বোচ্চ তিন বছর। তার পরিবারের কোন সদস্য তাকে নিতে চাই নি। তার দাদা দিদি নানা ভাই নানু ভাই সবাই মারা গিয়েছিল অনেক আগেই। আর ওর ভাগ্য?ভাগ্যগুনে তার বাবা ছিলো তার পরিবারের একমাত্র সন্তান আর মা ও ছিল তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। তবে সজীব এর একটা দুঃসম্পর্কের এক মামা। কিন্তু সেই মামা তাকে এতিমখানায় রেখে যায়। কে চাই এরকম আপদ ঘাড়ে নিতে? এরপর সজীবের জীবন চলতে থাকে অনাথ আশ্রমে। সেই অনাথ আশ্রম ছিল স্বনামধন্য এক ব্যবসায়ীর। উপরে ভদ্রতার নানা মুখোশ পরে থাকলেও উনার চরিত্র যে কি ছিল তা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। আমাদের ভদ্র সমাজের ভদ্রলোক কে যদি আবার লুইচ্চা,বাটপার,যোচ্চর,এসব বলা যাবে না। এদের বলতে হবে """উমুক"" ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র। অথচ সজীব, রাফিন উজ্জ্বল,ঐশী এদের যত পারো গালি দাও, এরা তো আর মানুষ না।এরা তো এই ভদ্র সমাজের শত্রু। আবার এদেরই ব্যবহার করে এই ভদ্র সভ্য সমাজের ভদ্র সভ্য লোকগুলো নিজের স্বার্থ হাসিল করে রাফিন উজ্জ্বল এর কথা বাদ দিলাম ঐশী মতো মেয়েকে দিনে দুপুরে হট বোম্ব, পতিতা, রক্ষিতা সেক্সি বলে গালি দেয় সেই সভ্য সমাজের ভদ্রলোক রাতের আঁধারে এসে সজ্জাশায়ী হয় সেই পতিতার সাথে। আবার উপর মহলের কাছ থেকে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাতের আঁধারে দালালের মতো ঐশীর মতো নিরীহ, অবলা মেয়েকে দিয়ে আসে ওই উপর কর্মকর্তা কে। আরে আমরা এতো ভিষন দেই আমাদের দেশে পতিতা নামক কোন সংক্রমক থাকবে না। ইউটিউব ইন্টারনেট এ বিভিন্ন স্লোগান দিই আমাদের দেশে কোন এইখানে পতিতা বাজার থেকে এতজন পতিতা সহ এতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি ওই স্লোগান দাদাকে বলতে চাই, যে সমাজের একজন মেয়ে নিজের দেহ বিক্রি করে দুমুঠো চাল ডালের ব্যবস্থা করছে তাকে গ্রেফতার না করে তাকে গ্রেফতার করুন যে আজ অসদুপায়ে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা আয় করে আজ দেশের সফল ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ। ধিক্কার এই সমাজকে যে এই সকল পতিতাকে একটা আয় সংগ্রহের ব্যবস্থা না করে দিয়ে আজ ওদের গ্রেফতার করছে। অথচ রাতের পর রাত এই ভদ্র সমাজের সভ্য ব্যক্তি একজন পিতার দেহ খুবলে খুবলে খাচ্ছে তাকে ছেড়ে দিচ্ছে আরও অন্য মেয়েদের সর্বনাশ করার জন্য। সজীব এই সব ভাবতে ভাবতে ঐশী দিকে তাকালো। মেয়েটা ক্লান্তিতে এই খোলা মাঠেই ঘুমিয়ে পরেছে। আজ চারদিন ধরে তারা এই জঙ্গলে দিন রাত কাটাচ্ছে।আবার সজীব তার ভাবনার জগতে ডুব দিলো। এতিমখানায় থাকাকালীন ওদের প্রতিদিন রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করতে হতো। আর সব টাকায় গিয়ে ধুকতে সেই সফল ব্যবসায়ীর পকেটে।যখন সজীবের ছয় বছর বয়স তখন তাকে বলা হলো তুমি এখন নিজেই নিজের পথ করে নাও। সজীব আরও একবার দেখতে পেল এই ভদ্র সমাজের কুৎসিত রূপ। এই সুন্দর পৃথিবীর নিষ্ঠুর চেহারা। দুইদিন ধরে ভিক্ষা চেয়েও যখন একমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করতে পারলো না। তখনই ক্ষুধার তাড়নায় উদ্যত হলো চুরি করতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ধরা পড়ে গেল। তখনই একজন মুরুব্বি এসে বাচালো তাকে। এরপর সজীব কে খেতে দিয়ে বললো ""নাম কি তোমার?"
সজীবঃ জ্বি চাচা সজীব।
মুরুব্বিঃ যাবে আমার সাথে? প্রতিদিন এরকম ভালো ভালো খেতে পাবে?
সজীবঃ সত্যি, প্রতিদিন খেতে এইরকম খেতে পাবো তো ?
মুরুব্বিঃ হুমম, পাবে। আর আমার নাম হচ্ছে ফজল শেখ। আমাকে তুমি ফজল চাচা বলে ডেকো কেমন!
সজীবঃ কিন্তু কোথায় যাবো চাচা আমরা?
ফজল চাচাঃ চাঁদপুর।
সজীবঃ চাঁদপুর?
ফজল চাচাঃ হুমমম, চাঁদপুর।
০২.
এরপর সজীব ফজল চাচার সাথে চলে আসে চাঁদপুর। আসলে সজীব বুঝতেই পারে নি, ফজল চাচাও ভদ্রতার আড়ালে একজন কুৎসিত,নোংড়া মানুষ। এরপর শুরু হয় সজীবের নতুন জীবন। এখানে যখন ও প্রথমে আসে তখন তার কাছে মনে হয়েছিল তার নিয়তি তার দিকে মুখ তুলে চেয়েছে। কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে শহরের মতো গ্রামের মানুষ ভদ্রতার মুখোশ পড়ে আছে। গ্রামে এসেই ফজল চাচা ওকে নিয়ে যায় গ্রামের মাতব্বর লিয়াকত আলীর কাছে।লিয়াকত আলী ফজল চাচাকে দেখে বলে উঠে
লিয়াকত চাচাঃআরে ফজল ভাই যে।সাথে দেখছি নতুন মেহেমান।
ফজল চাচাঃ হুমম্,খুব কাজের ছেলে।আমাদের খুব কাজে আসবে।তাই নিয়ে আসলাম।
লিয়াকত চাচাঃ তাহলে তো ভালোই হলো।রাতে আমাদের তিন নম্বর জাইগায় ওকে নিয়ে এসো বাকি কথা ওখানেই হবে।
(হঠাৎ ঐশীর ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে সজীব।)
ঐশীঃ ওই সজীব,সজীব।
সজীবঃ হুম....উ,আ।ও তুই ?কি বলছিস বল?
ঐশীঃ উজ্জ্বল,এসেছিল।আজ রাতে নাকি আমাদের লিয়াকত চাচা আর রহিম চাচা দেখা করতে বলেছে।
সজীবঃ কি বলিস? আমাদের ডাকিস নি কেন?রাফিন কি করছে?
ঐশীঃ আমি তোদের ডাকতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ও বললো,ওর এখানে বেশিক্ষন থাকা নিরাপদ না।ওকে যদি কেউ ফলো করে এখানে চলে আসে।তাই তোদের ডাকতে বারণ করেছে।আর ও বললো যে আমরা যেন চার নম্বর জাইগায় চলে যাই।জরুরী কিছু বলার আছে।আর রাফিন তো দেবদাশ হয়ে কখন থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হয় ও আকাশের মাঝে অরিন কে দেখছে।আর তুই ও তো কি ভেবেই যাচ্ছিলি।আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি এক দেবদাস ও আরেক বিন্দাস দুজনেই পাগলের মতো কি ভেবে যাচ্ছিস।আর আমি একা একা বসে বিরক্ত হচ্ছিলাম।আচ্ছা শুন আমার না আবার ঘুম পাচ্ছে।এই জঙ্গলে কি আর ভালো ঘুম হয়? আবার রাতে মনে হয় আবার কোন অপরেশন হয়?তাই এখন ভালো করে ঘুমিয়ে নেই।তুই ও ঘুমিয়ে যা।
সজীবঃ ঠিক আছে।তুই ঘুমা।
(এরপর সজীব আবার ভাবনার জগতে হারিয়ে গেল..........)
To be continued.....
Part2.Coming Soon.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now