বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়াবীনি মায়াবতি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shajib Raj (০ পয়েন্ট)

X মায়াবিনী মায়াবতী || Jubyda baset || আজ প্রায় বছর খানেক বাদে ছাদে এলাম। যদিও সাততলা বিশিষ্ট এই ছাদটি আমার খুব প্রিয়। ছাদে এলে উত্তরার শান্ত শিষ্ট মনোরম পরিবেশ নজরে আসে। এই শান্ত পরিবেশ আর মাথার উপর বিশাল আকাশ মনটাকে ভালো করার জন্য যথেষ্ট । যদিও আগে মন ভালো করার জন্য আসতাম না আসতাম ভালো লাগতো তাই। কিন্তু আজ এসেছি মন ভালো করতে। আজ মনটা অত্যাধিক খারাপ। আজ সপ্তাহ হয়ে এলো আনিতার কোন খবর নেই। সর্বপ্রকার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর বাইরে শুধুই আমার জন্য। এই তো এক সপ্তাহ আগে ভার্সিটি চত্বরে আড্ডা দিচ্ছিলাম আমরা ছয় জন। আমরা সেই কলেজ থেকেই একসাথে, ভার্সিটি তে এসেও আমরা শুধুই ছয়জন। আমাদের মাঝে দ্বিতীয় কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। যদিও আরিফ, রাতুল আর শুভ্রের প্রেমিকা , তানিয়ার বর আছে কিন্তু ওরা কখনওই আমাদের গ্রুপে প্রবেশ করতে পারেনি। অনেক ঝগড়া, খুনসুটি , আর অসমাপ্ত আনন্দের মাঝেই দিন কাটছিল আমাদের। আনিতা আর আমার কোন ভালোবাসার মানুষ ছিল না। নাহ, ভুল হয়ে গেল আনিতার ছিল ভালোবাসার মানুষ সেই কলেজ জীবন থেকেই আর সেই মানুষ টি হলাম আমি। দীর্ঘ পাঁচটি বছর ধরে ও আমাকে ভালোবাসে। আমি যে একেবারেই বুঝতামনা তা নয়, সব কিছুই বুঝতাম কিন্তু ওকে বুঝতে দিতাম না। ভেবেছিলাম আবেগের বশে এসব করছে সময় ও বয়স সব ঠিক করে দিবে। আমরা সমবয়সী আর এ ধরনের রিলেশনশিপ আসলে খুব একটা সফল হয় না। তাই সবসময় না বোঝার ভান করতাম। আরো একটা ভুল ভেবেছিলাম সেটা হলো , মেয়েটি আমার অবহেলায় একসময় পরাজয় স্বীকার করে নিবে। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম। সেদিন আরিফ খুঁচা মেরে বলেছিল, কিরে পিয়াস তুই প্রেম ট্রেম কিছু করবিনা? নাকি তোর দ্বারা ওইসব হবে টবে না। আমি হেসে বলেছিলাম আমার মায়াবতীর দেখাই তো পেলাম নারে। তোরা তো জানিস যতোদিন আমি আমার মায়াবতী কে পাবো না ততোদিন প্রেম কেনরে বিয়েই করবো না। তানিয়া বলে উঠলো , থাক তাহলে আর বিয়ে করতে হবে না চিরকুমার থাক। গত চার বছর ধরে শুনে আসছি যে তুই মনের মধ্যে এক মায়াবিনী মায়াবতীর চেহারা এঁকে রেখেছিস আর তাকে না পেলে বিয়েই করবি না যত্তোসব ফালতু কথা। হুট করেই আনিতা আমার সামনে হাটু গেড়ে বসে বলল, আজ পাঁচটি বছর তোকে ভালোবাসি শুধু তোর মায়াবতী আমাকে আটকে রেখেছে। আমিও তোর সাথে সাথে তোর মায়াবতীর অপেক্ষা করেছি। তুই মায়াবতী কে খুঁজে পেলে আমি সরে যাব। কিন্তু তুই তার দেখাও পাচ্ছিস না আর আমিও সরে যেতে পারছিনা। খুব কষ্ট রে, আর কতো বল? সেদিন ওর অশ্রুর কোন মুল্য দিতে পারিনি কিন্তু আজ কেনো জানি খুব কষ্ট হচ্ছে। আনিতা এরপর থেকে আর ভার্সিটিতে আসেনি আমিও দুদিন যাইনি। দুদিন পর গিয়ে জানতে পারলাম আনিতাও আসেনি। পরদিন ওর বাড়িতে গিয়ে দেখতে পেলাম বড় একটা তালা ঝুলছে। এর আগেও আনিতার বাড়িতে এসেছি দু একবার ওকে পৌঁছে দিতে কিন্তু কখনো ভেতরে ঢুকিনি। আমি আবার খুব লজ্জাবান ছেলে। তারপর থেকে প্রতিদিন ওর জন্য মন কাঁদে, একটা সিট খালি থাকে আমাদের আড্ডায়। তানিয়া কেউ বলেছিলাম আনিতার কোন খবর থাকলে বল। তানিয়া রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছিল, কি করবি ওর খবর নিয়ে? তুই তোর মায়াবতী কে নিয়েই থাক। বলেই গট গট করে হেটে চলে গেল। আনিতা যাওয়ার পর থেকে আমাদের আড্ডাটা আর জমেনি। সবাই কেমন রুক্ষ রুক্ষ হয়ে গেছে। তবে কি সব আমারই দোষ? এসব ভাবতে ভাবতেই মনে হলো ছাদে আমি একা নই। সুন্দর একটা পারফিউম এর সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে আর এতেই দ্বিতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি বেশ পরিস্কার। এদিক ওদিক তাকাতেই ছাদের একদম বাম কোনে একটি মেয়েকে দেখতে পেলাম হাল্কা আকাশি রংয়ের সালোয়ারকামিজ পড়া। চুল গুলি বাতাসে উড়ছে সাথে ওড়নাও। কেমন ঘোর লাগা পরিবেশ। তবে একটা জিনিস কেমন খটকা লাগলো । মেয়েটির চুল যেভাবে উড়ছে দেখে মনে হচ্ছে ঝড় উঠেছে অথচ আশেপাশের গাছের পাতা নড়লেও অতটা আলোড়িত হচ্ছে না। কিন্তু এই চিন্তাটা বেশিক্ষণ মনে টিকলো না। মন শুধু চাইছে একবার মেয়েটির মুখটা দেখতে। মেয়েটি আমার দিকে পেছন ফিরে থাকায় মুখটি দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমার মনের কথা যেন শুনতে পেল, পিছন ফিরে তাকিয়ে ছোট্ট একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে আবার আকাশ দেখায় মগ্ন হয়ে গেল। আর আমি? আমার মনে হলো হাজার ভোল্টের শক খেলাম। এই তো আমার মায়াবতী ঠিক যেমনটি আমি চেয়েছিলাম। যাকে একবার দেখলেই মায়ায় পড়ে যাব, এই তো সেই। যার অপেক্ষায় কাটিয়েছি এতটি বছর, আর যার জন্য আজ আমি বন্ধুহারা। আমি দেখছি আমার মায়াবতীকে আর সে দেখছে পশ্চিমে ঢলে পড়া রক্তিম সূর্যের আভায় রঞ্জিত নীল আকাশ। সূর্যের সেই আভা মায়াবতীর মুখে পড়ে তাকে আরো যেন আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কানের কাছেই কর্কশ স্বরে কাক ডেকে উঠায় বিরক্ত হয়ে সেদিকে চাইলাম অথচ আশেপাশে কোন কাক চোখে পড়লো । বিরক্তি নিয়ে আবার ছাদে তাকাতেই দেখতে পেলাম ছাদ শূন্য হা হা কার করছে। বুকের মধ্যে ছ্যাঁত করে উঠল। পরক্ষনেই ভাবলাম সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে বলে হয়ত মেয়েটি চলে গেছে। পরদিন আবারো এলাম, সেও এলো। আমি অপলক নয়নে তাকে দেখি আর সে দেখে আকাশ। এভাবে সপ্তাহ পার হয়ে গেল, আর মায়াবতী কে শুধু দেখেই গেলাম। একবারো বুকে সাহস হয়নি তার সামনে গিয়ে কথা বলার বা তার সম্পর্কে কিছু জানার। ভালোভাবেই বুঝতে পারলাম আমি ফেঁসে গেছি। এই একসপ্তাহ আনিতা কে একটুও মনে পড়েনি। শুধু ভার্সিটি তে গেলে একটু মিস করতাম মেয়েটাকে ব্যাস ওটুকুই। আজ শুভ্র কেমন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, কিরে আনিতা যাওয়ার পর থেকেই তোর মধ্যে কেমন বদলে যাওয়া ভাব এসে গেছে, আনিতাকে তুই ভালোবেসে ফেলেছিস তাই না? আমি মাথা নিচু করে বললাম, নারে আমি আমার মায়াবতীকে খুঁজে পেয়েছিরে। আরিফ লাফ দিয়ে উঠে বলল, কে সে, নাম কি মেয়েটির? আমাদের পরিচয় করিয়ে দিবি না? তানিয়ার দিকে তাকাতেই ওর ছলছল চোখটা দেখে চোখ ফিরিয়ে আরিফ কে বললাম, যানিনা কে সে। রোজ বিকালে ছাদে আসে, আবার চলেও যায়। বিল্ডিং এর প্রতিটি ফ্লোরে খোজ নিয়েছি কিন্তু মেয়েটির কোন খোজ পায়নি। শুভ্র বলল, রোজ ছাদে আসে তো কথা বলিসনি? -- নারে সাহসে কুলায়নি। তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না চল আজ আমি তোর বাড়িতে যাব দেখব তোর মায়াবতীকে বলেই আরিফ দাঁড়িয়ে গেল। আমি আর আরিফ বসে আছি ছাদে। আজ আসতে দেরি করছে কেনো জানি মেয়েটি। আরিফের হাতের সিগারেট শেষ হতেই আমি সেই অতি পরিচিত পারফিউম এর সুবাস পেলাম। তাকিয়ে দেখলাম আমার মায়াবতী এসে গেছে, আজ সে শুভ্র সাদা শাড়ি পড়েছে। নীল আকাশের পেজা পেজা মেঘ পুঞ্জীভূত হয়ে যেন আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে । মাজার কাছে কনুই এর গুতায় আমার হুশ ফিরল। আরিফ বলছে ওই, ওইদিকে কি দেখো চান্দু? তোমার মায়াবতী কই? আমি ছাদের বায়ে হাতের ইশারায় দেখিয়ে আরিফ কে বললাম দেখ আজ সে শুভ্র সাদা শাড়ি পড়েছে, কি অপূর্ব লাগছে তাই না? আরিফ একবার আমার দিকে আরেকবার সেই নির্দিষ্ট স্থানের দিকে তাকিয়ে চোখ দু'টি বড় বড় করে বলল, ওই তুই কি শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে গেলি? ওখানে তো কেউ নেই! আমি ঝট করে তাকাতেই দেখতে পেলাম জায়গাটি শুন্য। এই মাত্র ছিল, গেল কোথায়!! দ্রুত ছাদ থেকে প্রতিটি ফ্লোরে ফ্লোরে চেক করলাম নিচে গিয়ে দারোয়ান চাচা কে জিজ্ঞাস করলাম কিন্তু না কেউ তাকে দেখেনি। আমি যেন খুব বড় একটা ধ্বাক্কা খেলাম। এটা কি করে সম্ভব! একটা মানুষ এইভাবে তো হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারেনা। এরপর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেল সে আর এলো না। প্রতিদিন ছাদে বসে পাগলের মতো তার অপেক্ষা করতাম কিন্তু সে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। আজ বিকালে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাদে উঠেছি। ছাদ পুরোপুরি চেক করে ছাদের দরজায় তালা দিয়ে এক কোনে বসে আছি তার অপেক্ষায়। জানি সে আসতে পারবে না, দরজায় যে তালা। তবুও কঠিন স্বরে বললাম, আজ তুমি না এলে আমাকেও আর পাবেনা। বলতে না বলতেই সেই সুবাসে সমস্ত ছাদ ভেসে গেল। আজ আর লজ্জা নেই দৌড়ে গেলাম তার কাছে। প্রশ্ন করলাম তুমি কে, কোথায় থাকো, কি তোমার পরিচয়। একবারে সবগুলি প্রশ্ন করে দম নেওয়ার জন্য থামতেই মেয়েটি বলে উঠল, খুব কষ্ট তাই না পিয়াস? দেখো তুমি মাত্র কয়েকদিনের দেখায় একটি মেয়ের জন্য এত কষ্ট পাচ্ছো। অথচ তাকে তুমি চেনোনা জানোনা, এমন কি তার সাথে কখনো কথা পর্যন্ত বলোনি। তাহলে একবার ভেবে দেখো যে মেয়েটি পাঁচটি বছর তোমাকে দেখেছে, চিনেছে, সুখে দুঃখে পাশে থেকেছে, তোমাকে ভালোবেসেছে তার কত কষ্ট । তুমি তোমার কল্পনার মায়াবতীর জন্যে একজন সত্যিকারের মায়াবতীকে ফিরিয়ে দিয়েছো। তুমি জানতে তোমার স্বপ্নের কন্যা বাস্তবে নাও আসতে পারে তবুও তুমি মেয়েটিকে কষ্ট দিলে। তুমি ফিরে যাও পিয়াস, সে এখনো একবুক ভালোবাসা নিয়ে বসে আছে তোমারি প্রতিক্ষায়। আর আজ আমাদের শেষ দেখা, আমি কে, কি আমার পরিচয় সময় হলে তোমার সব প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে। ভালো থেকো। আজ আর কাকের ডাকের কোন প্রয়োজন পড়লো না আজ সে আমার চোখের সামনেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। আমি উদ্ভ্রান্তের মত এদিক ওদিক তাকিয়ে তাকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। দৌড়ে গিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তালাটি ঠিকি ঝুলছে। তাহলে, সে এলো কি করে? তবে কি আরিফের কথাই ঠিক? সবই আমার অবচেতন মনের কল্পনা!! সারারাত ধরে প্রথম থেকে শেষ অব্দি ভাবলাম। আনিতাকে ফিরিয়ে দেবার তিনদিনপর আমি মায়াবতীকে দেখতে পাই, কখনো তাকে ছাদে আসতে বা ছাদ হতে যেতে দেখিনি। আশপাশের কেউ তাকে চেনেনা। আজ ছাদে নিজ হাতে তালা মেরেছিলাম তবুও সে কি করে ছাদে এল আর কি করেই বা চোখের সামনে গায়েব হয়ে গেল! তাহলে আরিফ ঠিকি বলেছিল, আমি আনিতাকে ফিরিয়ে দেবার পরথেকেই হীনমন্যতায় ভুগি আর তার থেকেই সৃষ্টি এই মায়াবতী আসলে বাস্তবে তার কোন অস্তিত্বই নেই। পরদিন খুব ভোরে তানিয়ার বাড়িতে হাজির হয়ে ওর হাতে পায়ে ধরলাম আনিতার খবর জানার জন্য। তানিয়া বলল, তুই যেদিন ওকে ফিরিয়ে দিলি তার দুদিন পরেই ওর বড় বোন রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। দাফনের জন্য ওরা গ্রামের বাড়িতে যায়। আনিতা মানুষিক দিক দিয়ে খুব ভেঙে পরেছে, ওর বোন ছিল ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড । কিছুতেই একবারে দুইটা শক মেনে নিতে পারছিলো না তাই ওদের গ্রামে রেখে আংকেল ফিরে আসেন। এখনো গ্রামেই আছে। সেদিন রাতে তানিয়ার ফ্যামিলি কে রাজি করিয়ে তানিয়া সহ বাকি তিন বন্ধুকে নিয়ে এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে হাজির হয়ে গেলাম। পাঁচটা টিকিট কেটে রওনা হলাম রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। বেল বাজাতেই আনিতার মা দরজা খুলে দিলেন। আমাদের সবাইকে দেখে হাসি মুখে অভ্যার্থনা জানালেন। আনিতার কথা জিজ্ঞাস করতেই কোনার একটা রুমের দিকে ইংগিত করে বললেন, যাও বাবা আনিতা ওই রুমে আছে। আমি রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে পর্দাটা একটু সরাতেই দেখতে পেলাম আনিতা জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বুকে একটা ফটোফ্রেম জরিয়ে ধরে আকাশ পানে চেয়ে আছে আর চোখে জলের কনা চিকচিক করছে। ওকে দেখতে এখন খুব মায়াবী মায়াবী লাগছে। হুট করেই রুমে প্রবেশ করে বলে উঠলাম আমার অভিমানী বন্ধুটা এতো ভালবাসে আমায় যে আমার ছবি বুকে জরিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। আমি এসে গেছি আর ওই ছবির দরকার পড়বে না। আমার আচমকা কথা শুনে চমকে উঠল আনিতা আর হাত থেকে ফসকে পড়ে গেল ছবির ফ্রেমটা। আমি এগিয়ে গিয়ে ফ্রেমটা তুলতেই চমকে উঠলাম যেন ভূত দেখেছি। এ যে আমার কল্পনার মায়াবতী । সেই নাক সেই চোখ, সেই হাসি। পাশ থেকে আনিতা বলে উঠল, আমার মাত্র এক বছরের বড় বোন। আমার জগত ছিল জানিস। যেদিন তুই আমাকে ফিরিয়ে দিলি সেদিন সারারাত আমি ওর কোলে মাথা রেখে কেঁদেছিলাম। পরদিনও না খেয়ে শুধুই কান্না করেছি। তারপরদিন আপু আমার কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে তোকে আনতে গিয়েছিল। আমাকে কথা দিয়ে গিয়েছিল তোকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু তোকে আনতে গিয়ে নিজেই চলে গেল না ফিরার দেশে। আনিতার কথা শুনতে শুনতে দু'চোখ বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে সিক্ত করে দিল আমার হাতে ধরা আমার মায়াবতীর ছবিখানাকে। আর মনে মনে বললাম তুমি কল্পনা ছিলে না তুমি বাস্তব ছিলে, হ্যাঁ আমি সব প্রশ্নের উত্তর আজ পেয়ে গেছি। তুমি তোমার কথা রাখতেই গিয়ে ছিলে আমার কাছে। ভালো থেকো আমার মায়াবিনী মায়াবতী ভালো থেকো.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now