বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব (১০ম পর্ব) (শেষ পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব ফ্যান্টাসি ১০ম পর্ব (শেষ পর্ব) জাকিউল অন্তু চোখের দেখায় যতটুকু আন্দাজ করছি তা থেকে বুঝতে পারছি কমপক্ষে এক হাজার ছোট ছোট গ্রিম্পি কোন এক অতিপ্রাকৃতিক শক্তির বলে বিশাল আকার ধারন করেছে। অনেকটা লিজিওনের সঙ্গী দানবদের মতন। ওদের যে শিশুসুলভ চেহারা ছিলো তা বিকৃত হয়ে কুৎসিত আর দানবীয় লাগছে। অস্বাভাবিক লালসা তাদের চোখেমুখে। যে দানবকে তারা এইমাত্র সাবাড় করলো এখনো তার রক্ত লেগে আছে ওদের দাঁত আর ঠোঁটে। লেগে আছে বললে ভুল হবে জিহ্বার লালা মিশ্রিত হয়ে সেই রক্ত বিশ্রীভাবে ঝরছে মুখ থেকে। ওদের চাহনীতে আমাদের প্রতি জিঘাংসা প্রকাশ পাচ্ছে। যা আমাদের অন্তরাত্মা কে বার বার সাবধান করে দিচ্ছে যে ওরা যে কোন মুহূর্তে আক্রমণাত্মকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে আমাদের ওপর । ওদিকে পেছনের লাল আলোর বলয় টা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। কাছে আসতেই বুঝলাম ওটা এই স্কেলিডেথ ভবনের নিরাপত্তা বলয়। অর্থাৎ আমরা পেছন থেকেও বন্দী হয়ে যাচ্ছি। আমরা দুজন অনুপ্রবেশকারী যোদ্ধা ভয়ানকভাবে রুপান্তরিত হওয়া গ্রিম্পিদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছি। এখন গ্রিম্পিরা ইচ্ছা করলেই আমাদের গ্রাস করতে পারে। কিন্তু ওরা সেটা করলোনা। কেন জানিনা ওরা আমাদের ওপর থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে আবার দানব ভক্ষনে মনোযোগী হলো।লোহার খাঁচায় বন্দী আছে গুনে গুনে পনেরটা দানব। খাঁচার দরজা খুলে তাদের খেয়ে ফেলতে হিংস্র গ্রিম্পিদের মোটে দু থেকে তিন মিনিট লাগছে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে শেষটায় ওদের খাদ্যতালিকায় আমরা ই অবশিষ্ট থাকবো। যেন বহু বছর ধরে ক্ষুধার্ত এই প্রানীর দল! তাদের ক্ষুধা মেটাতে দানবের দলের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা নিজের সঙ্গীদের এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখার পর শুরুর দিকে একটু আর্তনাদ, একটু গর্জন করে উঠলেও এখন নির্বিকার হয়ে আসন্ন মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। কেউ পালানোর চেষ্টাও করছেনা। ওরা জানে এতে লাভ হবেনা। বরং ধরা পড়লে আরো কঠোর হতে পারে মৃত্যু। অবশ্য জীবন্ত অবস্থায় কারো খাদ্যে পরিণত হবার চাইতে কঠোর পরিণাম আর কি হতে পারে? এখন ঠিক বুঝতে পারছি গ্রিম্পিটালের রাজা এন্ডুইন কিভাবে মারা গিয়েছিলেন!তিনি তাদের অতি আদরের পোষা প্রানীদের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরতে পেরেছিলেন এবং আমার অনুমান যদি সত্য হয় গ্রিম্পিরা যে গভীর রাতে দানবে পরিণত হয় এবং স্কেলিডেথ যে ওদের ই তৈরি ফাঁদ সেটাও জেনে ফেলেছিলেন রাজা। রাজার মৃত্যুর পর ওদের সত্যটা কেউ জানার আগেই গ্রিম্পিরা একে একে সবাইকে শেষ করে দেয়। আজ কিছুক্ষণ আগে যে টাটকা কঙ্কাল দেখে এসেছি তারা কি তাহলে এতদিন পর অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া গ্রিম্পিটালবাসীর দল? হতে পারে। তবে শেষ রক্ষা তো আর হলোনা। বেচারাদের মরতেই হলো। আর ওদের সাথে থাকা উজ্জ্বল সবুজ পাথরের রহস্য রহস্যই থেকে গেলো। আমাদের কপালেও পর্যায়ক্রমিক ভাবে সেই অসহায় অধিবাসীর মত নির্মম মৃত্যুই অপেক্ষা করছে তা আর বলে দিতে হয়না। পেছনের লাল বলয় ভেদ করতে গিয়েছিলাম কিন্তু ঐ বলয়ে এমন কিছু একটা আছে যা আমার পিঠে থাকা ডানার পালক পুড়িয়ে দিচ্ছে কিন্তু আশার বিষয় হচ্ছে ডানা একটু আধটু পুড়ে গেলেও বলয়ের বাইরে বেরুনো যাচ্ছে। আবির ও ব্যপারটা লক্ষ্য করেছে। ও ইশারায় আমাকে ওকে সুদ্ধ উড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বোঝালো।আমিও তাই ভাবছি। কারন হাতে অস্ত্র থাকলেও এখন তা কাজের অযোগ্য। গ্রিম্পিদের সংখ্যার তুলনায় একটা তলোয়ার আর একটা ধনুক আর তার কিছু তীরের ফলা কিছুই নয়। অতগুলোর প্রানীর কোন ক্ষতি ই করতে পারবেনা এই অস্ত্রগুলো বরং ততক্ষনে আমরাই ওদের খাবারে পরিণত হবো। গ্রিম্পিদের ভক্ষনপর্ব আগের মতই চলছে। এখনো প্রায় সাত আটটা দানব খাওয়া বাকি ওদের। কিন্তু হঠাৎ একটা ব্যপার ঘটলো যাতে ওদের খাওয়ায় বিরতি দিতে হলো।অকস্মাৎ স্কেলিডেথের ছাদ থেকে একটা সবুজ পাথরের টুকরো জ্বলজ্বল করতে করতে ঝাড়বাতির মত নেমে এলো গ্রিম্পিদের ঠিক মাথার ওপর। এটা গ্রিম্পিটালের দিঘীর পাড়ে ভাঙা জাহাজের ওপর থাকা সবুজ পাথরের মত দেখতে।পাথর দেখামাত্র ওরা খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে হা করিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলো পাথরগুলো। পাথর নামার পরপর মাথার ভেতর ওডিলির কথাও শুনতে পেলাম । ওডিলি বললো " কোন এক অজানা কারনে গ্রিম্পিরা এই পাথরের সংস্পর্শে এলে সম্মোহিতে মত আচরণ করে। আপনারা এই সুযোগে পালান। কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছি রাজা এন্ডুইনের পরিবারের কিছু সদস্য এবং কিছু সাহসী যোদ্ধা প্রজা এখনো বেঁচে আছে। তারা দিঘীর পাড়ে কালো গাছটার কোটরে লুকিয়ে আছে এখন। আপনারা গিয়ে ওদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে দিঘীর নিচের পথ ধরে কার্থেজে নিয়ে যান। গ্রিম্পিটাল ওদের জন্য আর নিরাপদ নয়। তারপর যা হয় দেখা যাবে।ওরা অবশ্য এতকিছুর পরেও নিজ বাসভূমি গ্রিম্পিটাল ছাড়তে চাইছেনা। কিন্তু কি ই বা করার আছে? এখন বের হয়ে উড়াল দিন ডেডলী মার্কম্যানকে নিয়ে। আর দেরী করা ঠিক হবেনা। স্কেলিডেথ থেকে বের হতে মন চাইছে আবার চাইছেনা। সুন্দর দেখতে কিছু প্রানী রাতেরবেলা কুৎসিত জীবে পরিণত হয়। তারা একটা পুরো এলাকাকে অধিবাসী শুন্য করে বীরের মত বেঁচে থাকবে আর উলটো আমরা তার ভয়ে পালাবো এটা কেন জানি ভেতর থেকে মানতে পারছিনা। অথচ পরিস্থিতি সাংঘাতিক বৈরি। শেষ পর্যন্ত স্কেলিডেথ থেকে আবির কে কোলে নিয়ে বের হতে যাবো তখন আবিরের কোমরে একটা রশি দেখে মনে মনে একটা দুর্ধর্ষ পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেললাম তৎক্ষণাৎ। আবিরকে ওর একটা তীরের ফলার পেছনে রশিটা বেধে ঐ ছাদের সবুজ পাথর লক্ষ্য করে ছুড়তে বললাম। যেন তীরের ফলা পাথর ভেদ করে আটকে যায়। মাথায় যে বুদ্ধি এসেছে তা অনেকটাই আত্মঘাতী কিন্তু সফল হলে অনেক বড় একটা উপকার হবে গ্রিম্পিটালের বেঁচে যাওয়া অধিবাসীদের। আমরা অন্তত মনে শান্তি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো। পরিকল্পনা এই। স্বচ্ছ সবুজ পাথর ভেদ করে ডেডলী মার্কসম্যান তার তীর সেঁধিয়ে দেবে। তীরের পেছনের রশি থাকবে আমাদের হাতে। সেই রশি ধরে হ্যাচকা টান দিলে পাথরটা খুলে চলে আসবে আমাদের দিকে আমরা ওটা নিয়ে উড়ে বেরিয়ে আসবো স্কেলিডেথের সেতুর মত প্রবেশপথের ওপর। তারপর সবুজ পাথরটা সেতু থেকে ফেলে দেবো নিচে বহু দূরের নদীতে। সম্মোহিত গ্রিম্পির দল পাথর ধরার জন্য ঝাপ দেবে নদীতে। আর এতদূর থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ শুরু হলো কিন্তু পাথরটাকে নদীতে ফেলার পর গ্রিম্পির দলের কিছু সদস্য নদীতে ঝাপ দিলেও বেশীরভাগ সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে চরম আক্রোশে আক্রমণ করলো। আমিও মরিয়া হয়ে উঠেছি। মার্কসম্যান ওর নিশানা দেখিয়েছে এবার আমার পালা। আবিরকে সেতুর ওপারে নিরাপদ জায়গায় পালানোর নির্দেশ দিয়ে আমি হাতের তলোয়ার টা চেপে ধরলাম।তলোয়ারের পরিধিজুড়ে তার সবুজরঙা আবরন ওটার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে! তারপর একটা চিৎকার দিয়ে সেই বিশেষ ক্ষমতাযুক্ত তলোয়ার বিঁধিয়ে দিলাম সেতুর মাঝখানের মেঝেতে। সবুজ আলোর ফোয়ারা ছুটলো আর সঙ্গে সঙ্গে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়তে লাগলো সেতুটা। গ্রিম্পির দল টাল সামলাতে না পেরে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া পাথুরে সেতুর আঘাতে প্রবল বেগে পড়তে থাকলো নিচের নদীর দিকে। আমিও ওদের সাথে নিচের দিকেই যাচ্ছিলাম। কার্থেজ নিয়ে ঠিক এরকম একটা ঘটনাই দেখেছিলাম দুঃস্বপ্নে। এখন আমার করনীয় কাজ একটাই। পিঠের ডানাদুটো প্রানপনে ঝাপটানো। নিচের ঐ নদী যেন আমায় আকর্ষন করছে। আমি ডানা ঝাপটে যত টুকু ওপরে ওঠার কথা ঠিক ততটা উপরে উঠতে পারছিনা। তবুও বহু চেষ্টার পর অনেক কষ্টে আবির যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো সেখানে পৌছুলাম। গ্রিম্পি অধ্যায়ের এখানেই শেষ। আবির আমায় জাপটে ধরলো। ওকে ওডিলি এরমধ্যেই গ্রিম্পিটালের অধিবাসীদের কথা জানিয়েছে। এখন সেই অধিবাসীর দল নিজেদের মত থাকতে পারবে গ্রিম্পিটালে।কারন সেতু ভেঙে পড়ায় বেঁচে যাওয়া দানবগুলো স্কেলিডেথের লোহার খাঁচায় আটকে পড়েছে।গ্রিম্পিটাল এখন সম্পূর্ন বিপদমুক্ত। অবশ্য বিপদমুক্ত না বলে হিংস্র দানবমুক্ত বলাই শ্রেয়। গ্রিম্পিটালের ভাগ্যবান অধিবাসীদের সাথে শেষবারের মত দেখা করে আমরাও নিজের এলাকায় ফিরে যাবো। আবিরকে নিয়ে উড়ে চললাম দিঘীর পাড়ের উদ্দেশ্যে। ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে একটা মজার প্রশ্ন করলাম ডেডলী মার্কসম্যান তথা আবিরকে। "আচ্ছা আবির, গ্রিম্পিদের দল না হয়ে ওটা যদি ইঁদুরের দল হতো তাহলে আমাকে ডক্টর গ্রিফিনোর বদলে কি বলে ডাকতি?" আবির কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা চুলকে উত্তর দিলো " তখন তোমাকে ডক্টর গ্রিফিনো না ডেকে ডাকতাম হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা! কি তাইতো? "ঠিক ধরেছিস। একদম তাই। তোর বুদ্ধি আছে। বলে হাসতে লাগলাম দুজনে। এ হাসি যুদ্ধজয়ের হাসি,এ হাসি আমাদের প্রথম অভিযানে সফল হবার হাসি! (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now