বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর সাথে প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X 》》 স্বপ্ন খাদক আমার একটি অভ্যাস খুব বাজে। আর সেটি হলো- প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটা। ইদানিং এটা আমার নেশায় পরিনত হয়েছে। ফজরের নামাজ শেষ করে জনমানবশূন্য রাস্তা দিয়ে হাটা কোন সাধারন কথা নয়। তবে অসাধারনও নয়। যারা এই রকম নিরব রাস্তায় একা একা হাটতে ভালোবাসে তাদের কাছে এটা দারুন অনুভূতি। যেমনটা আমার। এই রাস্তাটা দিয়ে মানুষ খুব বেশি একটা যাতায়াত করে না। আমিও করতাম না। তবে কি ভাবে যেন এই রাস্তাটার সাথে পরিচয় হয়ে গেলো আমার। আজ কয়েকদিন হলো এই রাস্তাটা দিয়ে হাটাহাটি করিনা। হঠাৎ করেই ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ি। যার ফলে কয়েকদিন হাটাহাটি বন্ধ ছিলো। না কালকে যেতে হবে। রাস্তাটাকে অনেক মিস করেছি এই কয়দিন। রাতেরখাবার খেয়ে শুয়ে শুয়ে উপরের কথাগুলো ভাবছি।এমন সময় আম্মু রুমে আসলো। -কিরে রিহান। এখনো ঘুমোস নি?[আম্মু]। -এইতো আম্মু শুয়ে শুয়ে ঘুমোতে চেষ্টা করছি। কিন্তু ঘুম আসছে না।[আমি]। -তা কি করে আসবে আপ-তা কি করে আসবে আপনার নবাব সাহেব শুনি। আপনি তো আবার রাত ১টা বা ২টায় অনলাইন থেকেই বের হোন। এখন কি করে আসবে ঘুম। [দমক দিয়ে]। না।আর রক্ষা নেই। আম্মু জেনে গেছে আমি এতো রাত পযন্ত অনলাইনে থাকি। -না মানে। মাঝে মাঝে একটু অনলাইনে যাই এই আরকি।[আমি] -হয়েছে হয়েছে আর মিথ্যা বলতে হবেনা। এখন চুপচাপ ঘুমা। বলেই আম্মু মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমিও চুপ করে শুয়ে ঘুমোতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই ঘুমোতে পারলাম না। তাই জোর করেই চোখ দুটো বন্ধ করে শুয়ে রইলাম। কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও বলতে পারবো না। হঠাৎ করেই ঘুম ভাঙ্গলে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে। আমি অনুভব করতে পারছি কে যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি ওঠে বসলাম। কিন্তু বিছানার আশেপাশে কাউকেই দেখতে পেলাম না। আমি অনেকটা অবাক হলাম কারন- আমার রুমটা ফুলের গন্ধে ভরে গেলো। আমাদের এখানে তো কোনো ফুল বাগান নেই। তাহলে ফুলের গন্ধ আসছে কোথায় থেকে? আমি তাড়াতাড়ি বিছানানা থেকে নেমে লাইট অন করলাম। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না। ভাবলাম হয়তো এটা আমার মনের ভুল। তাই লাইট অফ করে আবার ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাঙ্গলো আম্মুর ডাকে। -রিহানঐই রিহান নামাজে যাবিনা।[আম্মু] -হু যাবো। তূমি যাও আমি এখনি যাচ্ছি[ঘুম ঘুম চোখে]। -ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি চলে যাস। এইযে তোর টুপিটা টেবিলের ওপরে -ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি করে ঘুম থেকে ওঠে টুপিটা হাতে নিয়ে মসজিদে গেলাম। তারপর ফজরের নামাজ পড়ে একটু হাঁটতে বের হলাম। অনেকদিন পর আবার এই রাস্তায় হাঁটতে এসেছি। নিরব,নিস্তব্ধ রাস্তা। এই রাস্তাটা যে কেন আমার এতো ভালো লাগে তাও জানিনা! কেন জানি মনে হয় রাস্তাটার সাথে আমার অনেকদিনের পরিচয়। রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটছি মাথা নিচু করে। মাঝে মাঝে সামনে তাকিয়ে দেখছি কোনো মানুষ আসছে কিনা। না কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আর এতো সকালে আসারও কথা নয়। মাথা নিচু করে হাটছি আর স্কুল লাইফের দিনগুলোর কথা মনে করছি। হঠাৎ কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম। সম্ভবত কোন গাছের সাথে ধাক্কা খেয়েছি। আস্তে আস্তে উঠে দাড়িয়ে সামনের দিকে তাকালাম। সামনে তাকিয়ে ভূত দেখার মতো ভয় পেয়ে গেলাম। আমি কোন গাছের গঙ্গে ধাক্কা খায়নি। একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়েছি। এতো সকালে এই রাস্তায় তো কোনো মানুষ আসে না আমি ছাড়া।তাও আবার একটা মেয়ে এতো সকালে। নিশ্চয় এটা আমার মনের ভুল। তাই ভালোকরে তাকিয়ে দেখলাম। কিন্তু না। এটা তো দেখছি একটা মেয়েই। বোরকা পড়া। হাত গুলো ও পা গুলো মোজা দিয়ে ডাকা। শুধু চোখদুটো দেখতে পাচ্ছি। আমার মুখ দিয়ে কোনো কথায় বের হচ্ছেনা। তবুও কষ্ট করে বললাম- -সরি আপু। বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা মারিনি। -ঠিক আছে। আমি বুঝতে পেরেছি। আপনি কি আমাকে একটু সাহায্য করবেন।[মেয়েটা]। -কি সাহায্য। আর এতো সকালে আপনি এই রাস্তা দিয়ে কোথায় যাচ্ছেন।[মেয়েটা কে উদ্দেশ্য করে]। -আপনি আমাকে একটু বাজার পযন্ত পৌছে দিবেন। একা একা খুব ভয় পাচ্ছি।[আমার দিকে তাকিয়ে] - ঠিক আছে চলুন। বলেই আস্তে আস্তে বাজারের দিকে হাটতে লাগলাম। অনেকক্ষন ধরে হাটছি। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছি না। না এই মেয়ে এমনিতেই কথা বলবে না। আমাকেই আগে কথা বলতে হবে দেখছি। -যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা জিঙ্খেস করবো আপনাকে?[আমি]। -জ্বী!বলুন।[মেয়ে] -আপনার নামটা কি জানতে পারি?। -জ্বী!আমার নাম মাহমুদা সুলতানা (তৃষা)। আপনার নাম?। -আমার নাম রিহান। আপনি এতো সকালে বাজারে গিয়ে কি করবেন।[মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে] -আমি হাফেজিয়া মহিলা মাদ্রাসায় পড়ি। প্রতিদিন মাদ্রাসা শুরু হয় বিকালে। এখন থেকে শুরু হবে সকালে। তাই আজকে থেকেই সকালে যেতে হবে প্রতিদিন। -আপনি এতো সকালে তাও আবার একা একা আসতে পারবেন প্রতিদিন? -কি করবো বলেন। পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। সবাই আকাশে থাকে। -সবাই আকাশে থাকে মানে।কিছু বুঝলাম না আপনি কি বলতে চাচ্ছেন।[আমি] -না মানে। সরি এটা ভুল করে বলে ফেলেছি। আমি বলতে চাচ্ছিলাম আমার মা-বাবা সবাই কাজে ব্যস্ত থাকে তো তাই আমাকে একাই আসতে হবে। এইতো মাদ্রাসার কাছে এসে গেছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এগিয়ে দেবার জন্য।[তৃষা] -না না ঠিক আছে এটা আমার কতর্ব্য।[আমি] -এজন্যই তো আকাশ থেকে তোমার জন্য পৃথিবীতে এসেছি। [রহস্যময় হাসি দিয়ে] -মানে।[অবাক হয়ে] -মানে কিছুনা। যাই ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।বলেই একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো। এই হাসিটার গভীরে নিশ্চয় কিছু একটা লুকিয়ে আছে। যা আমি বুঝতে পারছি না। চলবে........! [কিছু বানান ভুল হতে পারে,আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৬৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর সাথে প্রেম
→ পরীর সাথে প্রেম। {শেষ পর্ব}
→ পরীর সাথে প্রেম {3}
→ পরীর সাথে প্রেম {2}
→ জলপরীর সাথে প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now