বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অর্ধমানবী শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ovro Amrito (০ পয়েন্ট)

X -আজকে পূর্ণ পন্দ্রের রাত।আজকে রাতে কোনো মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে সে নিশ্চয় অর্ধমানবীর মায়াতে পড়েছে।(তান্ত্রিক) -তাহলে এখন ওকে কোথায় খুঁজে পাব? (আবির) -ওকে খুঁজতে যেও না তোমাদের ক্ষতি হবে। আমি আমার মন্ত্রবলে ও যেখানেই থাকুক ওকে ডেকে আনব এই জায়াগাতে। . অতঃপর তান্ত্রিক যজ্ঞ শুরু করলো। কিন্তু যজ্ঞের আগুন বারবার নিভে যাচ্ছে। তারমানে ভূতের ঈশিতাকে দূরে কোথাও নিয়ে গেছে। . -আবির তোমার একফোঁটা রক্ত এই আগুনে দাও তাহলে আর যজ্ঞের আগুন নিভবে না।(তান্ত্রিক) . অতঃপর আবির তার হাত কেটে দুঁফোটা রক্ত যজ্ঞের আগুনে ফেলে দিল আর দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। তান্ত্রিক মন্ত্র পড়তে শুরু করলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশে কালো মেঘে ঢেকে গেল আর অনেকগুলো গলাকাটা লাশ আসতে থাকে। সবার প্রথমে থাকে ঈশিতা।ঈশিতাকে দেখে রাজ দৌড়ে যায় কিন্তু ঈশিতার কাছে যেতেই ঈশিতা তাকে এক ধাক্কায় দূরে ফেলে দেয়।একি! ঈশিতাও যে ওদেরই মতো।তার মানে ঈশিতাকে কি ওরা মেরে ফেলেছে? . -শয়তানের দল ঐ মেয়েটাকে ছেড়ে দে। (তান্ত্রিক) -এই মেয়ের রক্তকে ঐ ছেলেটার রক্তের সাথে মিশিয়ে নদীতে ফেলতে পারলে আমাদের অর্ধমানবী রুপ মুক্ত হবে। (অর্ধমানবী) -তোদের এই স্বপ্ন কোনোদিনই সত্যি হবে না। -দুষ্টু তান্ত্রিক ঐ ছেলেটাকে আমাদের কাছে দিয়ে দে।আজ এই পূর্ণ চন্দ্রের তিথি প্রায় ২০০ বছর পড়ে এসেছে।আমরা এই তিথির অপেক্ষাতে ২০০ বছর পার করেছি। এই মেয়েটার সাথে ঐ ছেলেটার রক্তের বৃষ্টিই আমাদের মুক্তি দিতে পারবে। -তোদের এই স্বপ্ন কখনোই সত্যি হবে না। আজকে তোদের বিনাশ হবে। . অতঃপর তান্ত্রিক মন্ত্র পড়তে শুরু করলো।অপরদিকে ঐ অর্ধমানবীর দল ঈশিতাকে মাঝে রেখে চারদিকে ঘুরতে লাগলো। অর্ধমানবীরা আস্তে আস্তে ভয়ানক রুপ ধারন করছে।কি বিশাল সেই রুপ।অতঃপর রক্তের বৃষ্টি শুরু হলো।ঐ অর্ধমানবীগুলোর রক্ত ছুটে ছুটে বৃষ্টির রুপ নিয়েছে। এদিকে তান্ত্রিকের যজ্ঞের আগুনও নিভে গেছে।আর তখনই অর্ধমানবীগুলো তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। . -এখন কি হবে?ওরা যে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।(আবির) -যতক্ষন না পর্যন্ত চাঁদ পূর্নরুপে বিকাশিত হচ্ছে ততক্ষন এদের শক্তি কমবে না।(তান্ত্রিক) -তাহলে এখন ওর কি হবে! -ওর কিছুই হবে না। ওদের মুক্তির জন্য তোমার রক্ত লাগবে। কিন্তু আমি সেটা হতে দিব না। -ওরা যে আমাদের কাছাকাছি চলে এসেছে। -চাঁদের আলো না ফুটলে আমার কোনো শক্তিই কাজ করবে না। -তাহলে এখন উপায়? -সবই সৃষ্টিকর্তার হাতে। . আবিরকে ঐ অর্ধমানবীগুলো স্পর্শ করতে যাবে ঠিক সেই সময়েই মেঘ সরে গিয়ে চাঁদের আলো প্রকটিত হল।সাথে সাথেই যজ্ঞের আগুন জ্বলে উঠলো।অপরদিকে ঐ বিশাল রুপী অর্ধমানবী থেমে পড়লো। . -আমি এই আত্মাগুলোকে কিছু সময়ের জন্যই বশীভূত করতে পারব। এই সময়ের মধ্যেই তোমাকে এদের বিনাশ করতে হবে। (তান্ত্রিক) -কিন্তু কিভাবে এদের বিনাশ হবে?(আবির) -তোমার প্যান্টের বাম পকেটে হাত দিয়ে দেখ একটা কাঠি রাখা আছে। . অতঃপর হাত দিয়ে দেখে সত্যিই কাঠি রাখা আছে। . -এটা কিসের কাঠি আর এটা আমার পকেটে কিভাবে এলো? -এটা কোনো সাধারন কাঠি নয়।এটাকে বলে প্রেত ডাল। -কিন্তু এটা দিয়ে কি হবে? -এটা দিয়েই বিনাশ হবে ঐ অর্ধমানবী গুলোর। -কিভাবে? -আমি কিছু সময়ের মধ্যে এদেরকে বশীভূত করতে পারব আর সেই সময়ের মধ্যেই ঐ প্রেত আত্মার রানী খুঁজে বের করতে হবে।রানীর মাথায় একটা মণি আছে ।ঐ মনিতে এই কাঠি ছোঁয়াতে পারলেই ওদের বিনাশ হয়ে যাবে। . অতঃপর তান্ত্রিক কিছু সময়ের মধ্যে আত্মাগুলোকে বশীভূত করে ফেলে। আবিরও ঐ অর্ধমানবীগুলোর মধ্যে চলে যায়।এখানে তো শতাধিক লাশ। এখানকার মধ্যে কোনটা রানী কিভাবে বুঝা যাবে?একদিক থেকে দেখতে থাকে। লাশগুলো কি বিশ্রী সবারই গলার অর্ধেক কাটা।শরীরের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে রক্ত ঝরছে।এখন পর্যন্ত অর্ধমানবীগুলোর রানীকে খুঁজে পায়নি। এদিকে তান্ত্রিকের মায়াবল শেষ হয়ে আসছে।ঠিক তখনি তার চোখে তৃষার লাশ চোখে পড়ে।তৃষার মাথার উপর চাঁদের আলো পড়ে জ্বলজ্বল করছে। তারমানে তৃষার আত্মাই রানী।তৃষার কাছে পৌঁছানোর আগেই মায়া শেষ হয়ে যায় । যার ফলে আত্মাগুলো তাদের শক্তি পুনরায় ফিরে পায়।কিন্তু আবির তাদের পূর্ন শক্তি ফিরে পাওয়ার আগেই ঐ কাঠি তৃষার আত্মার মণিতে ছোঁয়ায় আর সাথে সাথেই চারিদিকে ধোঁয়া উঠতে থাকে। আত্মাগুলোর ভয়ানক শব্দে পুরো গ্রাম কম্পিত হয়ে ওঠে।দেখে দেখতেই আত্মা গুলোর দেহ পুরে ছাঁই হয়ে যায়। গ্রামটিও অভিশাপমুক্ত হয় । ঈশিতারও জ্ঞান ফিরে আসে। . -আমি কোথায়? (ঈশিতা) -যেখানে ছিলি সেখানেই আছিস। (আবির) -কিন্তু আমাকে এসে যে ডাকলো সে কোথায়? -কে তোকে ডাকলো? -একটা মেয়ে এসে ডাকলো আর আমি তার সাথে গিয়েছিলাম? -তারপর? -আমি ভেবেছিলাম সে একটা মেয়ে ছিল। কিন্তু সেটা একটা আত্মা ছিল।কি বিশ্রী রুপ! -তারপরে কি হলো? -তারপরে আমি দৌড়ে আসতে যায় কিন্তু ঐ আত্মা আমাকে গাছের সাথে ধাক্কা দেয় তারপরে আমি পড়ে যায়।তারপর থেকে আমার আর কিছু মনে নেই। -তোকে প্রেত আত্মারা নিয়ে গেছিয য়ো তারপর তান্ত্রিক দাদুর সাহায্যে তোকে ফিরিয়ে এনেছি। -আপনাকে অনেক ধন্যবাদ! -আমাকে ধন্যবাদ দেবার কি আছে।বরং এই গ্রামবাসী তোমার কাছে ঋণী।তোমরা না থাকলে এই পুর্নিমার তিথিতে ঐ আত্মার বিনাশ হতো না। তোমাদের জন্য ঐ অর্ধমানবী আত্মাগুলোর বিনাশ হয়েছে।গ্রামবাসী চিরদিন তোমাদের কথা মনে রাখবে। (তান্ত্রিক) . অতঃপর গ্রামবাসীরা চন্দ্র উত্সবে মেতে ওঠে।এখন তারা অভিশাপমুক্ত।এখন গ্রামে আর কোনো ভয় নেই। . সমাপ্ত . লেখাঃ #অভ্র_অমৃত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now