বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আমি আর হাঁটতে
পারছি না।খুব ক্ষুধা
পেয়েছে।(পূজা)
-তুমি এখানে একটু বসো
আমি দেখি আশেপাশে
কিছু পায় কি না।
(পার্থ)
-ঠিক আছে ।
কিন্তু,তাড়াতাড়ি
আসবেন।
-আমি তাড়াতাড়িই
আসব।তুমি কিন্তু
এখান থেকে কোথাও
যাবে না।
-অচ্ছা।
.
অতঃপর পার্থ খাবারের
খোঁজে চলে যায়।এদিকে
পূজা ঐখানে একা একা
বসে আছে।হঠাত্ কিছু
বখাটে এসে পূজাকে
উত্যক্ত করতে থাকে।
.
-কি সুন্দরী এই
জঙ্গলের পথে কার
অপেক্ষা করছো?
(বখাটে ছেলেটির
একজন)
-একি!কারা আপনারা?
(পূজা)
-একা একা জঙ্গলে
এসেছো আর জঙ্গলের
রাজাকে চিনো না?তা
তোমার প্রেমিক কি
তোমাকে ফেলে রেখে
গেছে।পথ খুঁজে পাচ্ছো
না?চলো আমাদের সাথে
পথটা দেখিয়ে দিই
(পূজার হাত ধরে)
-ঠাসসস.....
অসভ্য,বেয়াদব তোদের
বাসায় কি মা বোন
নেই?
-মা বোন থাকলে কি
আর তোমার মতো
সুন্দরীকে পাওয়া যাবে।
ঐ তোরা দাঁড়িয়ে
দাড়িয়ে কি
দেখছিস,উঠা শালিরে।
আজকে ওরে নিয়া
সিনেমা বানামু।
.
অতঃপর বাঁকি দুজন
পূজাকে টেনে হিঁচড়ে
জঙ্গলের দিকে নিয়ে
যেতে থাকলো।
.
এদিকে পার্থ খাবার
নিয়ে এসে দেখলো পূজা
সেখানে নেই।পার্থের
মনে অজানা এক ভয়
কাজ করছে।কোথায়
গেল পূজা?ওর কোন
বিপদ হলো না তো।ঠিক
তখনি জঙ্গলের
ভিতরে পূজার গলার
আওয়াজ শুনতে পায়
পার্থ।গলার শব্দ
অনুসরন করতে করতে
একেবারে বখাটেদের
সামনে চলে আসে।
.
-ভাই ঐ মেয়েটাকে
ছেড়ে দিন।(পার্থ)
-দেখ দেখ সিনেমার
হিরোও চলে এসেছে।
কি হিরো আমাদেরকে
মেরে তোর হিরোইন
নিয়ে যাবি?(বখাটের
সর্দার)
-আমি
স্বাভাবিকভাবে
কাউকে মারি না।আর
যদি মারি তাহলে সে
স্বাভাবিক থাকে না।
-তুই একা আর আমরা
৩জন।তো ভুলেও
আমাদের সাথে লাগতে
আসিস না।আমাদের পথ
ছাড়া।
-যদি না ছাড়ি।
-তোকে মেরে তোর
নায়িকার সাথে
সিনেমার শ্যুটিং করব।
-ঠিক ৫ মিনিট পরে
তুই ওর হাত ছেড়ে
পালাবি।
.
অতঃপর দুজন বখাটে
পার্থকে মারতে এসে
নিজেরাই মাইর খেয়ে
ছুটে পড়লো।এই দৃশ্য
দেখে ৩য় জন পূজার
হাত ছেড়ে দিয়ে
পালালো।
.
-কিরে নায়িকার সাথে
শ্যুটিং করবি না?
(পার্থ)
-বাঁইচা থাকলে অনেক
শ্যুটিং করতে পারব।
নিজে বাঁচলে বাপের
নাম(দৌড়াতে দৌড়াতে)
-হা হা পরের বার কোনো
মেয়ের দিকে চোখ তুলে
তাকানোর আছে
আজকের কথা মনে
করে নিস।তুমি ঠিক
আছো তো?
-হ্যাঁ আমি ঠিক আছি।
আপনি দেখছি ফাইটিং
ও পারেন?(পূজা)
-একদমই না।বাঁচার
তাগিদে একটু প্রয়োগ
করি।এই যে নাও
তোমার জন্য খাবার
এনেছি।(ব্রেড প্যাকেট
টা হাতে দিয়ে)
.
অতঃপর পূজা পার্থের
হাত থেকে ব্রেড নিয়ে
খেতে লাগলো।কিছুটা
খেয়ে মনে পড়লো
পার্থও তো কিছুই
খায়নি।
.
-আপনি খাবেন না?
-আমার খাওয়া লাগবে
না।তুমিই খাও!
-খাবেন না মানে?
আপনিও তো গত ১ দিন
ধরে কিছুই খাননি।
নিন এইটুকু খান
(ব্রেডের কিছু পার্থের
দিকে দিয়ে)
-বললাম না আমি খাব
না।তাড়াতাড়ি খেয়ে
নাও এখান থেকে
বেরিয়ে পড়তে হবে।
-খান বলছি(রাগি
স্বরে)।
অতঃপর পার্থ পূজার
আলুথালু রাগি মুখ দেখে
ব্রেড টুকু খেয়ে নিল।
অবশ্য তারও ক্ষিদে
পেয়েছিল কিন্তু
পূজাকে সেটা বলেনি।
-তো এবার আমরা কী
করব!(পূজা)
-আপাতত হাঁটা ছাড়া
উপায় দেখছি না।(পার্থ)
-মানে কি?আমরা কি
শুধু হেঁটেই যাব?
-হ্যাঁ হেঁটেই যাব।
-তো এবার কোথায়
যাবেন?
-হাঁসপাতালে যেতে
হবে।
-হাঁসপাতালে কেন?
-তোমার পায়ে অনেকটা
কেটে গেছে এখুনি
ড্রেসিং না করলে পরে
ইনফেকশন হতে পারে।
-এসবের দরকার নেই
আমি এমনিতেই ঠিক
আছি।
-চুপ!কোনো কথা নয়।
পাশেই একটা
হাঁসপাতাল আছে।
.
অতঃপর হাঁসপাতালে
গিয়ে পূজার পায়ের
কাটা জায়গাতে
ড্রেসিং করা হল।
কিন্তু যখন
হাঁসপাতালের বিল
দিতে গেল তখন পকেটে
হাত দিয়ে দেখে তার
ওয়ালেট নেই।নিশ্চয় ঐ
মারা-মারিতে ওটা
কোথাও পড়ে গেছে।
.
-কি ব্যাপার আপনার
বিলটা দিতে এত সময়
লাগছে কেন?
(রিসিপশনের মহিলা)
-আসলে ম্যাম আমার
ওয়ালেট টা পাচ্ছি না।
(পার্থ)
- পাচ্ছেন না মানে?২
হাজার টাকা সব
মিলিয়ে বিল এসেছে।
-ম্যাম আমার কাছে
কোনো টাকা পয়সা
নেই।প্লিজ একটু
বোঝার চেষ্টা করুন।
-আপনাদের মতো মানুষ
অনেক দেখেছি।আপনি
আপনার রোগীর কাছে
যান আমাদের
ক্লিনিকের এম ডি
এসে আপনার সাথে কথা
বলবে।
.
৫ মিনিট পরে,
.
-এম ডি সাহেব এসেছে
।আপনার যা বলার
উনাকে বলুন।(ঐ
মহিলা)
-ওকে ম্যাম।(পার্থ)
-আরে দোস্ত তুই?উনি
কে?(এম ডি)
-আরে রকি!তুই এখানে
কি করে?
-আমিইতো এই
হাঁসপাতাল টা খুলেছি।
-তারমানে তুইই এম ডি
স্যার?
-হ্যাঁ।আগে বল তুই
হঠাত্ বান্দরবন আর এ
কে?
-ও পূজা।আমার
ফ্রেন্ড।
-তো বান্দরবনে ঘুরতে
এসেছিস?
-না।আমাদের
কিডন্যাপ করে আনা
হয়েছে?
-কিডন্যাপ!পুলিশের
ছেলে কিডন্যাপ হয়
কি করে?
.
অতঃপর পার্থ রকি কে
সব খুলে বলে।একদম
প্রথম থেকে শেষ
পর্যন্ত।
-বলিস কি।তাহলে তো
খুব বাঁচা বেঁচে গেছিস।
-আচ্ছা শোন আমার
কাছে কোনো টাকা
নেই।তোর ক্লিনিকের
বিল দিতে পারব না ।
-আরে ব্যাটা তোরে কি
বিল দিতে বলেছি?
-আচ্ছা শোন তোর
ফোন টা দে
-কি করবি?
-বাবার কাছে কল
দিতে হবে।বাবা হয়তো
খুব চিন্তায় আছে।
-এই নে।
.
অতঃপর ফোনটা নিয়ে
পার্থ তার বাবাকে কল
দেয়।
.
-হ্যালো।
-হ্যালো বাবা আমি
পার্থ।
-কোথায় তুমি,কেমন
আছো।ঐ
সন্ত্রাসীগুলো কি
তোমাকে ছেড়ে দেয়নি?
-বাবা আমি ঐ
সন্ত্রাসীদের হাত
থেকে পালিয়ে এসেছি।
তুমি কোনো চিন্তা
করো না।
-তুমি এখন কোথায়?
-আমি এখন
বান্দরবনে।
-তুমি একটু সাবধানে
থাকো আমি ৫ ঘন্টার
মধ্যে আসছি।
-আচ্ছা বাবা।রাখছি
তাহলে।
-আমি তাহলে
ওখানকার পুলিশকে
জানিয়ে দিই ওরা
তোমাকে সুরক্ষিত
রাখবে।
-লাগবে না।এখানে আমি
আমার এক বন্ধুর সাথে
আছি।
-আচ্ছা সাবধানে
থাকবে।
টুট টুট টুট।কলটা
কেটে গেল।
-কিরে ভাই তোর বাবা
তোকে নিয় এখনো সেই
ছোট কালের মতোই
ভয় পায় ।
-আর বলিস না।
-তো এখন কি করবি।
-বাবা না আসা পর্যন্ত
তোর এখানে একটু
সুরক্ষিত থাকতে হবে।
-এখানে থাকবি কেন?
চল আমার বাসাতে
যায়।
.
.
চলবে...
.
লেখাঃ #অভ্র_অমৃত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now