বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পার্থ আর পূজা ঐ
আস্তানা থেকে
পালিয়েছে অনেক্ষন
হয়ে গেল ।কিন্তু এখন
পর্যন্ত এই জঙ্গল
থেকে বের হতে পারছে
না ।যেদিকেই যাচ্ছে
সেদিকেই নদী ।
অর্থাত্ তারা একটা
দ্বীপে আটকা পড়েছে ।
.
-বারবার ঘুরে তো একই
জায়গাতে আসছেন।
(পূজা)
-জায়গাটা আমার খুব
ভালো লেগেছে তাই
যেতে ইচ্ছা করছে না।
(পার্থ)
-আচ্ছা আপনি এমন
সিরিয়াস মুহূর্তে
কিভাবে ফান করতে
পারেন?আমি না
একদমই বুঝি না।
-আমরা একটা দ্বীপে
আটকা পড়েছি।সকাল
না হওয়া পর্যন্ত
কিছুই করা যাচ্ছে না।
-তারমানে সারারাত
আপনার মতো একজন
ছ্যাঁচড়ার সাথে
আমাকে এই জঙ্গলে
থাকতে হবে?
-না থেকে উপায়ও নেই।
-কেনো যে তখন ওখান
থেকে পালিয়ে এলাম ।
ওখানে থাকলে
কমপক্ষে এই মশার
কামড় খেতে হতো না।
-চলো তোমাকে আবার
ওখানে দিয়ে আসি।
-না না।একবার বেরিয়ে
আসতে পেরেছি এই
অনেক।আর ভুলেও যাব
না ওখানে ।
-এই চুপ চুপ(আস্তে
করে)
-কেন?
-ঐ যে মনে হয় ঐ
গ্যাংয়ের লোকজন
আমাদের খুঁজতে বের
হয়েছে।
-এখন কি হবে?
-এই ঝোপের আড়ালে
চুপ-চাপ থাকো তাহলে
ওরা আমাদের দেখতে
পাবে না।
.
-বস ওরা এদিকে নেই?
(গ্যাংয়ের একজন)
-নেই মানে?এই অল্প
সময়ে কোথায় পালালো
দুজন?(ইকবাল)
-বস চলুন ওদিক টাতে
দেখি।
-হ্যাঁ চল চল।ওদের
এখান থেকে বের হতে
দেওয়া যাবে না।
.
.
-লোকগুলো কি
গিয়েছে?(পূজা)
-হ্যাঁ চলে গিয়েছে।এখন
আমার হাতটা ছাড়তে
পারো।(পার্থ)
-না না।আমার
অন্ধকারে খুব ভয়
লাগে।আপনার হাত
ছেড়ে দিলে আপনি যদি
আমায় ফেলে চলে যান
তখন!
-বাব্বা তোমার এত ভয়!
ভয় পেয়ো না!আমি
তোমার সাথেই আছি।
-আপনি আমায় খুব
ভালোবাসেন তাই না?
-হঠাত্ এ প্রশ্ন?
-আপনি জানতে
চাইবেন না আমি কেন
আপনার প্রস্তাবে
রাজি হই না।
-অবশ্যই জানতে
চাইবো!
-আসলে আমি
একজনকে ভালোবাসি।
-কে সে?কে আমার
সতীন?
-আপনি পাথ্বিব
পার্থের নাম শুনেছেন?
-পাথ্বিব পার্থ আবার
কে?(পাথ্বিব পার্থ
আমি নিজেই)
-ঐ যে ইউটিউব
সিঙ্গার।
-ও ঐ ফালতু সিঙ্গার।
-খবরদার ওকে ফালতু
বলবেন না।ও আমার
একমাত্র ক্রাশ।
-চেহারা না দেখেই
ক্রাশ।ওর তো চেহারা
ভালো না আর এজন্য ও
প্রকাশে আসে না।
-চেহারা দিয়ে সবকিছু
বিচার হয় না।
-ওর থেকে তুমি আমার
সাথে প্রেম করো।
হ্যান্ডসাম লুক
আছে,ওয়েল বিল্ড
বডিও আছে।
-আপনি আমায় যতই
ইমপ্রেস করুন না কেন
আমি আপনাকে
ভালোবাসতে পারব না।
-এখন যদি আমি
তোমার সাথে খারাপ
কিছু করি তাহলে?
-আপনি আমার কিছুই
করবেন না।যাকে
ভালোবাসা যায় তার
ক্ষতি কখনোই করা
যায় না।
-ইমোশনাল
ব্লাকমেইলটাও দেখছি
ভালোই পারো।
.
সারারাত মশার
অত্যাচারের পর দিনের
আলো ফোটার সাথে
সাথে।
.
-এই পূজা ওঠো।(পার্থ)
-উফ এত সকালে কি
কেউ ঘুম থেকে উঠে!
আরেকটু ঘুমাই!(পূজা)
-এটা কি তোমার বাসার
বেডরুম নাকি যে
সারাদিন ঘুমাবে।
তাড়াতাড়ি উঠো ওরা
যে কোন মুহুর্তে চলে
আসতে পারে।
-আগে বলবেন না।
তাড়াতড়ি চলুন?
.
অতঃপর দুজন হাঁটতে
হাঁটতে দ্বীপের প্রায়
শেষ প্রান্তে চলে
আসে।অতঃপর একজন
জেলেকে দ্বীপের
কাছে দেখা যায়।
লোকটি তাদের কাছে
আসে,তারপর
.
-একি আপনারা কারা?
এই ভয়ানক দ্বীপে
আপনারা কিভাবে
এলেন?(লোকটি)
-আগে আমাদের
নৌকাতে করে এখান
থেকে বের হতে দিন
তারপর সব বলছি ।
(পার্থ)
-ঠিক আছে নৌকাতে
উঠে আসুন।
.
অতঃপর তারা দুজন
নৌকাতে উঠে গেল।
.
-তো এবার বলুন
আপনারা এখানে এলে
কিভাবে?
-আমাদেরকে এখানে
কিডন্যাপ করে আনা
হয়েছে?
-ঐ দ্বীপে কি লোক
থাকে!
-হ্যাঁ ওখানে একটা
গ্যাংয়ের ডেরা আছে।
-বলেন কি?আপনারা
ভালোই ভালোই
বেরিয়ে আসতে
পেরেছেন এই অনেক।
-আচ্ছা এটা কোন
জায়গা?
-এটা বান্দরবন?
-কি!
-আপনারা কোথায়
থেকে এসেছেন?
-আমরা ঢাকাতে থাকি।
-ও আচ্ছা।আমি
আপনাদের এর থেকে
বেশি নিয়ে যেতে পারব
না।আপনাদের এখানে
নামিয়ে দিচ্ছি এখান
থেকেই রাস্তা পেয়ে
যাবেন।
-অনেক ধন্যবাদ
আপনাকে।
.
অতঃপর নৌকা থেকে
নেমে দুজন কিছুদূর
হেঁটেই রাস্তা পেয়ে
যায়।হাঁটতে হাঁটতে এক
পর্যায়ে পূজা বসে পড়ে।
.
-কি হলো এভাবে
রাস্তার ধারে বসে
পড়লে কেন?
-আমি আর হাঁটতে
পারছি না।আমার পায়ে
কেটে গেছে!
-কই দেখি?একি!
অনেকটাই তো কেটে
গেছে।কিভাবে হলো
এটা?
-নৌকা থেকে নামার
সময় পা পিছলে গিয়ে
পা কেটে গিয়েছে।
-আমাকে আগে বলবে
না।অনেকটাই তো
কেটে গেছে।
-সমস্যা নেই।আমি
যেতে পারব।
-এখানে বসো।আমি
এখনি আসছি।
.
অতঃপর পার্থ গিয়ে
জঙ্গল থেকে এক
ধরনের লতা নিয়ে
আসে।যেটা দিলে
রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় ।
.
-দেখি তোমার পা টা
এদিকে এগিয়ে দাও!
-এসব লাগাতে হবে না।
এমনিতেই সেরে যাবে।
-দাও বলছি।
.
অতঃপর পূজার কাটা
জায়গাতে জঙ্গলের ঐ
লতার রস লাগিয়ে
দিল।কিছুক্ষন পরেই
রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।
.
-বাহ আপনি দেখছি
ডাক্তারিও জানেন।
-আমার ডাক্তার হবার
খুব শখ ছিল।কিন্তু
মেডিকেলে চান্স না
হওয়াতে সে সুযোগ
হয়নি।
-ডাক্তার না হয়েও
দেখছি অনেক কিছু
জানেন।
-প্রাথমিক কিছু জানি
আরকি।আচ্ছা চলো
এগোতে থাকি।দেখি
খাবারের কিছু পাওয়া
যায় কি না।
.
অপরদিকে,
.
-বস ওদের কোথাও খুঁজে
পায়নি ।(গ্যাংয়ের
লোক)
-একটা ছেলে আর
একটা মেয়েকে দেখে
রাখতে পারলি না?
তোদের এত চোখের
সামনে দিয়ে পালালো
কিভাবে?(ইকবাল)
-বস ওরা মনে হয়
এতক্ষনে রাস্তা পেয়ে
গেছে।আমাদের এখান
থেকে সরে যাওয়াই
উচিত।
-আমি এখান থেকে
কোথাও যেতে পারব না।
আমার বিরুদ্ধে সুট
এন্ড সাইট অর্ডার
আছে।পুলিশ দেখা
মাত্রই আমাকে গুলি
করে দিবে।
-বস তাহলে আমরা
গিয়ে খুঁজে দেখি।আমার
মনে হয় অতক্ষনে ওরা
এই গ্রামের বাইরে
যেতে পারেনি।
-হ্যাঁ তাই কর।ওদের
খুঁজে না পেলে আমার
মৃত্যু নিশ্চিত ।আমি
মরার আগে আমার
ভাইকে দেখে যেতে
চাই।ততক্ষন পর্যন্ত
আমাকে বাঁচতে হবে।
-বস আপনি কোনো
চিন্তা করবেন না।
আমরা ঐ দুজনকে
আপনার সামনে ধরে
আনব।
.
.
চলবে........
.
লেখাঃ #অভ্র_অমৃত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now