বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"লেখকের পরীটার মিষ্টি একটা গল্প"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X আজকে সকাল থেকে শরীরের ওপর দিয়ে খুব ধকল গেছে। দেহটা কেমন জানি ম্যাচম্যাচ করছে। তাই দুপুরে খাবার পর শুয়ে পরলাম। . ঘুম ভাঙলো ফোনের টনে। উফ! এই অসময়ে আবার ফোন দিলো কে?ধুর! ফোন করারও আর সময় পায় না। ঘুম জড়ানো চোখেই ফোনের দিকে তাঁকালাম। পিউলী ফোন করেছে। -- হ্যা বলো?(আমি) -- কি করছো? -- ঘুমাচ্ছি -- হোয়াট! এই অবেলাই তুমি ঘুমাচ্ছো? -- অবেলা কোথায়? এটাতো দুপুর বেলা -- দুপুর? চোখ কি কপালে আছে?যাও উঠে ফ্রেস হয়ে ঠাকুর ঘরে প্রণাম করে প্রার্থনা করে এসো -- পরে যাবো আগে একটু ঘুমিয়ে নেই -- নাহ তুমি এখনি উঠে যাও (রেগে) -- পরে প্লীজ -- এখনি বলছি না(আরো রেগে) এবার রেগে ফোনটাই কেটে দিল। তাতে কি ঘুমাই . কিছুক্ষন পর আবার আমার পরীটার ফোন। এবার আবার কি বলে ঝাড়বে তা কে জানে দেখি ধরি নয়লে তো আবার আমাকে আস্ত গিলে খাবার হুমকি দিবে। -- তুমি এখনো উঠোনি না(নরম সুরে) -- এইতো উঠছি(যদিও শুয়েই) -- ঘুমা তুই একেবারে মরনের মত । আমি আর ফোন দিবোনা তোকে আর তুইও দিবিনা।(কঠিন সুরে)আহা কি মিষ্টি কণ্ঠ!! আবার ফোন কেটে দিলো। যাহ! কি মেয়েরে বাবা? মনে মনে হাসলাম পাগলি মেয়ে। ঠিকই একটুপর আবার ফোন দিবে আর বলবে বাবু সোনা রাগ করেছো?আমি তো তোমার আমার ভালোর জন্যই তো ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রণাম করতে বলি। পরীটা আমার খুব বিশ্বাসী! ঈশ্বরের প্রতি ভাবভক্তি বজায় রেখে প্রার্থনা করলে নাকি ভালবাসার সম্পর্ক মধুর হয়। কোন খারাপ নজর পড়েনা। সম্পর্কে ফাটল ধরেনা। আরও বলে আমাদের বাচ্চা হলে অনেক সুন্দর হবে, ঈশ্বরের অনুসারী! দেখো! হুম মেয়েটি অনেক স্বপ্নের জাল বুনে আছে। সারাক্ষণ আমাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আমি কি করছি?ঠিকমত খাচ্ছি কিনা? আর রোজ সময়মত ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করতেছি কিনা। আমার পরীটা আমার এত খেয়াল রাখে যে মনে হয় তাকে আমি একমাস পর বিয়ে করতে চলেছি . নাহ্ যাই এখন পরীটা আমার খুব রেগে গেছে। যদি আবার শুনে প্রার্থণা না পড়ে ঘুমিয়েই ছিলাম তাহলে তো আমার কপালে শনি সোম বুধ সব আছে। ফ্রেস হয়ে ঠাকুর ঘরে গিয়ে প্রার্থনা শেষ করে তারপর আমার রুমে এসে দেখি পরীটার অনেক কয়টা মিসকল। এখন কি বেক করবো? না থাক পরে করবো।যে রেগে আছে। রাগ ভাঙলে নিজে থেকেই আবার ফোন করবে। . সন্ধার পর বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েই কাটাচ্ছিলাম।আস্ তে আস্তে রাত গভীর হতে থাকলো! রাত ১০টা হবে এরই মধ্যে দেখি পিউলীর ফোন...ইসস ওরে তো ফোন দিতেই ভুলে গেছিলাম। . এই রে এখন কি করি তারপর যদি জানতে পারে আমি এত রাতে বাড়ির বাইরে তো কি করবে তা কে জানে?রাস্তা থেকে একটু গলির ভেতরে গেলাম। ভয়ে ভয়ে ফোনটা ধরে কানে নিলাম -- এই তুমি কোথায়? ফোন ধরতে এতো সময় লাগে (চিল্লায়) ওরে বাবা কানতো ঝালাফালা হয়ে গেলে রে -- কোথায় আবার বাসায়! সরি -- মিথ্যা বলছো -- নাহ নাহ সত্যি বলছি। আমার পরীকে মিথ্যা বলতে পারি, কক্ষনও না। -- হুহ ঢং! সন্ধার পর ফোন দিয়েছিলাম ধরো নি কেন? আবার বেক ও তো করো নি? -- তখন তো প্রার্থনায় গেছিলাম। আর তুমি রেগে ছিলে বলে করি নাই। সরি -- হুম হইছে।প্রার্থনা করছো তো? -- হ্যা গো করছি। বউয়ের কথা ফেলি কি করে বলো? -- ওরে কত শোনে রে আমার কথা। -- শুনিতো সকাল বিকাল রাত -- হয়েছে হয়েছে! খাইছো? -- এখনো হয়নি -- ক্যান? বলিনি বেশি রাত করে খাবেনা -- আর হবেনা! সরি -- সরি কি হুম? তুমি না আসলে কি যে -- কি বলো বলো -- পাগল একটা -- সে যাই হোক না কেন....পাগলটা কিন্তু তোমারই -- হুহ তাই যে -- জ্বী ম্যাডাম এবার তো একটু মিষ্টি করে কথা বলো -- এতক্ষন তাহলে কি করে বললাম?? -- রেগে রেগে -- হাহাহাহা -- হাসছো যে -- তোমার কথা শুনে। আচ্ছা... বাবুটা আমার কি করছে এখন? -- হাহা এইতো এখন বউ বউ লাগছে! বসে আছি গো। তুমি কি করছো গো বাবু সোনা? -- হিহিহিহি তাই? শুয়ে শুয়ে আমার পাগলটার সাথে কথা বলছি। -- পাগলটাকে কি খুব মিস করা হচ্ছে ? -- হুম অনেকগুলান -- আমিও করছি আমার পাগলিটাকে। -- শুভ। --হুম বল? -- আমার না খুব আইসক্রিম খেতে মন চাচ্ছিলো জানো। গিয়ে দেখি ফ্রিজে কোন আইসক্রিমই নেই পিংকি খেয়ে ফেলেছে শয়তান একটা!আমার জন্য একটুও রাখে নি -- ঠিকই করেছে -- ওই কেন ঠিক করেছে ? -- কেন আবার এখন তো অল্প অল্প ঠান্ডা পড়া শুরু করছে আর এতরাতে আইসক্রিম খেলে তো ঠান্ডা লাগবে। আর যখন নেই তখন তো বেশ ভালোই হয়েছে। -- হুম তা ঠিক! কিন্তু -- কি মন খারাপ? -- নাহ! তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। তারপর আমাকে ফোন দিবা ওকে -- আচ্ছা লাভ ইউ -- লাভ ইউ টু . উফফ বাঁচলাম! আস্ত একটা পাগলি মেয়ে একটা কখন যে কি খেতে কি করতে মন চায় ওর তো ভগবানই ভালো জানেন। অসময়ে আজব আজব সব কাজ কর্ম। কিন্তু মন চাইছে এতে ওর দোষের কি! হয়তো খুব খেতে মন চাইছে নাহ কি করি এখন? . পিউলীদের বাসা আমাদের বাসা থেকে খুব একটা দুরে না এইতো লেগুনায় গেলে ১০-১২ মিনিট লাগে। দুবার দরজা নক করতেই দেখি আন্টি দরজা খুলে দিলো। -- কেমন আছো বাবা?ভিতরে এসো -- এইতো ভালো আন্টি। আপনি কেমন আছেন? --ভালো বাবা -- ও!আন্টি পিউলী কোথায়??? -- ও তো ওর রুমেই বাবা।কেনো ডেকে দিবো? -- না আন্টি আমি যাচ্ছি পিউলীর রুমের সামনে গেলাম কয়েকবার নক করলাম -- আসছি মা (পিউলী) হিহিহি বর কে মা বলে কি ফাজিল মাইয়ারে আবার নক করলাম কোন কথা ছাড়াই -- আসছি বলছিনা ( রেগে) এই মেয়ে এত অল্পতেই রেগে যায় কেনো। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি রেগে যায় তার থেকে কম সময়ে তার কমল রুপ ধারন করে! -- শুভ তুমি? ( আশ্চর্য+ মুখে হাসি) -- হুম কেন আসতে পারিনা? -- পারবানা কেন? -- ভিতরে আসতে বলবে না বাইরেই দাড়িয়ে থাকবো -- এসো এসো। তুমি আসছো আমি ভাবতেই পারছিনা। বিশ্বাস করো -- না করার কি আছে এই দেখো তোমার পাগলটা তোমার সামনে দাড়িয়ে আছে। -- হুম তাইতো দেখছি । তো কখন আসা হলো? -- এইতো কিছুক্ষন হলো -- হাতে কি তোমার ওটা? -- ও তাইতো ভুলে গেছি। এই নাও তোমার জন্য -- কি এটা? -- নিজেই দেখে নাও -- ওমা আইসক্রিম। এত রাতে কষ্ট করে আনার কি ছিলো? -- কোথায় কষ্ট করলাম!? আর তোমার খেতে মন চাইছে আর আমি কি সেটা না পূরণ করে পারি।বল? আর কিছু না বলে বাচ্চা মেয়েদের মত খেতে শুরু করে দিলো। -- এই আস্তে আস্তে খাও। -- দাড়াও তো। একটু ভালো করে খেতে দাও -- হুম -- ওই! -- ওইভাবে তাঁকিয়ে কি দেখছো? আইসক্রিম খাবে? -- না তুমি খাও। আমিতো অন্য কিছু খেতে চাই খাওয়া থামিয়ে চোখ বড় বড় করে -- অন্য কিছু মানে? -- ও কিছুনা হিহিহিহি -- হাসছো যে -- ইচ্ছে করছে? -- কি? -- আইসক্রিম খেতে -- এখনি তো বললে খাবে না -- এখন বলছি... ওর হাতের আইসক্রিমটা কেরে এক কামড় বসিয়ে দিলাম হিহিহি এই নাও এবার তুমি খাও -- বদমাইশ একটা আমার মাথার চুল গুলো টেনে --ইসসস লাগছে তো -- লাগুক . এবার গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম --এই শুভ কি করছো তুমি দরজা লাগাচ্ছো কেন?? -- কাজ আছে! কি কাজ!? দেখ ফাজলামি করবানা একদম -- হিহিহি -- এই তুমি এভাবে তাঁকাচ্ছো কেন? দেখো কাছে আসবা না কিন্তু নয়লে -- নয়লে কি হুম?? পিউলীর কাছে গিয়ে, কোমরে হাত দিয়ে বুকে টেনে নিলাম। -- এই কি করছো তুমি?ছাড়ো! দেখ একদম দুষ্টামি করবা না। -- করবো। অন্য সময়তো খুব বুলি ফোটাও। আজ তার প্রতিশোধ নিবো। আমাকে শুধু আঙ্গুলের ওপর ঘুরানো তাইনা। -- শুভ আমি কিন্তু চিল্লাবো -- হুহ হুহ চিল্লাও চিল্লাও -- মা........(আস্তে আস্তে) এর মধ্যেই পরিটা চোখ বন্ধ করে ফেলেছে। কি নিষ্পাপ চেহারা। লাইটের ছড়ানো আলো ওর মুখটাই পরেছে। ইসস কি অপরুপ দেখাচ্ছে! তারপর আলতে করে ওর কপালে চুমু খেলাম। . এই পরি কাদছো কেন??চোখ খোলো?? চোখ বন্ধ,,, তবুও চোখ বেয়ে দুফোটা জ্বল গড়িয়ে পড়লো -- এই পরি তাঁকাও! তাঁকাও! তবুও কেঁদেই চলেছে। -- বলছিনা তাঁকাও! কান্না করছো কেনও তুমি হুম -- শুভ! -- হুম বল! প্লীজ কেঁদোনা তুমি! জানোনা কাঁদলে আমার কষ্ট হয়! -- শুভ এত সুখ আমার কপালে সইবে তো -- কেন এমন কথা বলছো হুম? আর কখনো এসব বলবানা। -- জানিনা তবে মাঝে মাঝে খুব ভয় করে তোমাকে যদি হারিয়ে ফেলি। -- ধুর পাগলি! যার ভালবাসায় বিশ্বাস আছে, ভালবাসা আকড়ে রাখার শক্তি আছে তার ভালবাসা কখনো হারায় না। আর আমি তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো হুম। তোমাকে ছাড়া যে আমি নিষতেজ। -- সত্যি বলছো? -- হুম সত্যি সত্যি! ভগবানের ওপর যার এত বিশ্বাস.. তাকে ভগবান নিরাশ করবেন কি করে হুম! -- তাই যেন হয়! এ বলেই আমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো . -- শুভ তোমাকে এভাবে বকাবাকি করি বলে কি তুমি কষ্ট পাও?? -- ধুর পাগলি কষ্ট পাবো কেন?? তোমার এই শাসন শাসন ভাবটা আমার খুব ভালো লাগে! আমি তো জানি তুমি আমার কতটা ভালো চাও। আর ভাল চাওয়াটা শুধুমাত্র ভালবাসার মানুষগুলোই পারে। -- তাই বুঝি? -- হুম ম্যাডাম! দেখি এবার মুখখানা! ইসস কেদে চোখদুটি কি করছে রে! এতো ভালবাসো কেন আমায়?? -- তো কি কম ভালো বাসবো? আমার শুভকে আমি অনেক ভালবাসবো ! আমার জীবনের চাইতেও বেশি..! তোমার তাতে কোন সমস্যা? -- নাহ নাহ একদমই না আমার তো শুধু একটাই সমস্যা -- কি? -- এইযে ঠোঁট দুটোর কান্না -- যাহ দুষ্টু আবার দুষ্টামি তাইনা? মেরে হাত পা ভেঙগে দিবো একদম! -- তাই হাহা হাহা তাহলে আমি যাই -- এই না মা মা তোমার জামাইয়ের ক্ষুদা লাগছে খেতে দাও বলতে বলতে চলে গেলে পরীটা আমার। লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now