বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ #অর্ধমানবী
পর্ব-২
.
.
বাড়িতে আবিরের বাবা
ও মা দুজনই অনেক
চিন্তায় ছিল।আবির
যখন শেষ রাতে বাড়ি
ফিরলো তখন তাদের
একটু স্বস্তি হলো
.
-একি মা তোমরা এখনো
ঘুমাওনি?(আবির)
-তোর চিন্তায় কি আর
ঘুম আছে?তোর সাথে
ওরা কারা?(আবিরের
মা)
-ওরা আমার ফ্রেন্ড।
-তা তোর আসতে এত
রাত হলো কেন?
-আরে রাস্তার জ্যামে
পড়েছিলাম।আচ্ছা মা
তুমি কি তৃষাকে আমি
আসব সেকথা
বলেছিলে?
-কার নাম বললি?
-তৃষা।ঐ যে চেয়ারম্যান
এর মেয়ে।ওর সাথেই
তো এলাম।
-তৃষার সাথে এলি
মানে?
-ওর সাথেই তো এলাম।
আচ্ছা ওকে তুমি
পাঠিয়েছিলে কেনো
বলোতো?
-তৃষা তো ৭দিন আগে
নদীতে ডুবে মারা
গেছে?
-মারা গেছে মানে?
তাহলে আমার সাথে যে
এলো ও কে?
-যা ওদের নিয়ে ঘরে যা।
তোর এতকিছু ভাবতে
হবে না।
.
অতঃপর আবির তার
বন্ধুদের নিয়ে ঘরে
চলে আসে।আবিরের
মাথায় কিছুই ঢুকছে
না।যে মানুষটি গত ৭
দিন আগে মারা গেছে
সে মানুষটি কিভাবে
তার সামনে এলো?
নিশ্চয় এখানে কোনো
রহস্য আছে।সেটা
আমাকে জানতে হবে।
আচ্ছা ওটা ওর আত্মা
ছিল নাতো?এসব
চিন্তা মাথার মধ্যে
ঘুরপাক খেতে থাকে।
এসব ভাবতে ভাবতে
কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে
বুঝতেই পারেনি।
পরেরদিন সকালে ঘুম
থেকে উঠে নাস্তা
সেরে তারা বের হয়
গ্রাম ঘুরতে।গ্রামের
শেষপ্রান্তে আছে এক
বিশাল জলপ্রপাত।
সবাই মিলে সেই
জলপ্রপাতের কাছে
যায় ।কি স্বচ্ছ সাদা
পানি!কিন্তু হঠাত্
করেই পানির রং লাল
হয়ে ওঠে।তারা একটু
অতঙ্কিত হয়ে ওঠে।
.
-হঠাত্ করে পানির রং
এভাবে লাল হয় উঠলো
কেন? (ঈশিতা)
-আমিও তো কিছুই
বুঝতে পারছি না ।দারা
আবিরকে এদিকে ডাক
দিই।(রাজ)
.
অতঃপর তারা পিছনে
তাকিয়ে দেখে আবির
নেই।কোথায় গেল
আবির?হঠাত্
আবিরের গলার শব্দ
শোনা যায়।শব্দটা
জঙ্গলের ভিতর থেকে
আসছে।শব্দ অনুসরন
করে কিছুটা দিয়ে
শব্দটা আর শুনতে
পাওয়া যায় না।অতঃপর
আবিরকে একটা
গাছের নিচে অজ্ঞান
অবস্থায় পড়ে থাকতে
দেখা যায়।রাজ কাছে
গিয়ে আবিরকে ডাক
দেয়
.
-আবির.....আবির ওঠ।
-............
-এই আবির(মুখে এক
ঝাপটা পানি ছিটিয়ে)
-কে কে?আমি কোথায়?
-তুই এই জঙ্গলে এলি
কিভাবে?
-কিভাবে এলাম?
-মনে করতে পারছিস
না?
-কিভাবে এলাম
কিভাবে এলাম?হ্যাঁ
মনে পড়েছে।
-বল?
-একটা মেয়ে আমাকে
এদিক থেকে ডাকছিল।
তার ডাক শুনে আসি।
কিন্তু,তার কাছে
আসতেই ভয়ে আমার
পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে
যায়।সে কি বিশ্রী
চেহারা।সারা মুখে
ক্ষত।গলার অর্ধেকটা
কাটা।মুখ দিয়ে রক্ত
ঝড়ছিল।আমি দৌড়ে
পালাতে পারছিলাম না।
মনে হচ্ছিলো কেউ
আমাকে ধরে রেখেছে।
-তারপর কি হলো?
-তারপর আমার আর
মনে নেই?
-আবির,রাজ ঐ দেখ
গাছের ডালে একটা
লাশ ঝুলছে।(ঈশিতা)
-আরে সত্যিই তো
(আবির)
-লাশটাকে ওখান থেকে
নামাতে হবে।(রাজ)
-কিন্তু এই লাশটা
জঙ্গলে এলো কিভাবে?
আরে কিছুক্ষন আগে
এই মেয়েটাই তো
আমাকে ডাকছিল।
এটাই তো ওর লাশ।
(আবির)
-চল আমরা তাড়াতাড়ি
এখান থেকে বেরিয়ে
যায়।(ঈশিতা)
-আরে দারা আগে
লাশটা ওখান থেকে
মাটিতে নামায় তারপর
নাহয় যাব।(রাজ)
-রাজ তোর ঐ লাশের
কাছে যাওয়া ঠিক হবে
না।চল চলে যায় ।
(ঈশিতা)
-হ্যাঁ চল চলে যায়
(আবির)
-আরে তোরা শুধুশুধু ভয়
পাচ্ছিস।আমি গাছে
উঠে লতা-পাতা ছিড়ে
দিলেই লাশটা পড়ে
যাবে।তারপর না হয়
যাব।
.
অতঃপর রাজ গাছে
উঠে লতা ছিঁড়ে দেয়
এবং লাশটা মাটিতে
পড়ে যায়।সাথে সাথেই
চারদিকের মাটি থেকে
ধোঁয়া উঠতে থাকে!
হঠাত্ করে লাশটা
দাঁড়িয়ে যায়।
তিনজনেরই গলার
পানি শুকিয়ে যায়।আরে
এটা তো তৃষা।তারমানে
তৃষা সত্যিই মারা
গেছে?
.
-একি তৃষা তুমি!তোমার
এ অবস্থা হলো
কিভাবে?(কম্পিত
স্বরে আবির)
-আমার এই অবস্থার
জন্য তুমি দায়ী!(তৃষা
ভয়ানক স্বরে)
-আমি দায়ী?
-হ্যাঁ।তোমার জন্য
আজ আমার এ অবস্থা।
-কিন্তু আমি তোমার
কি করেছি?
-বাবা আমার বিয়ে
ঠিক করেছিল। কিন্তু
আমি ভালোবাসতাম
তোমাকে।এজন্য
সেদিন গভীর রাতে
বাড়ি থেকে পালিয়ে
যায়।তারপর নদীর
ঘাটে যেতেই কিছু
বখাটে আমাকে
আক্রমন করে।মনের
মতো আমাকে ভোগ
করে আমার গলা কেটে
নদীতে ফেলে দেয়।
-কিন্তু আমি তো
এসবের কিছুই জানি
না।
-তোমার জন্যই
আজকে আমার এই
অর্ধমানবী রুপ।ঐ
মেয়েটার তাজা রক্তই
আমাকে এই রুপ থেকে
মুক্তি দিতে পারে।
(ঈশিতাকে দেখিয়ে)
-দোখো তুমি ওর কিছু
করো না।তোমার
এই অবস্থার জন্য তো
ও দায়ী নয়।
-আমার এই
অর্ধমানবী রুপ থেকে
মুক্তি পেতে ওকে আজ
মরতেই হবে।
.
এরপর তৃষা ঈশিতার
দিকে এগিয়ে আসতে
থাকে।কিন্তু সূর্যের
আলো তৃষার গায়ে
লাগার সাথে সাথেই
তৃষা ভয়ানক চিত্কার
শুরু করে।সূর্যের
আলোতে তার পুরো দেহ
গলে মাটিতে মিশে
যায়।আর এই সুযোগে
আবিরাও জঙ্গল থেকে
বেরিয়ে আসে।হঠাত্
তারা খেয়াল করে
বাইরে প্রায় দুপুর হয়ে
গেছে।কিন্তু জঙ্গলে
তখনো সূর্যের আলো
পড়েনি।কি হচ্ছে
তাদের সাথে এসব?এখন
রাজেরও মনে ভয়
করছে।তারমানে কি
এটা একটা ভুতুরে
গ্রাম?
.
-আমি আর এক মুহূর্ত
এখানে থাকব না।(রাজ)
-কেনো তোর আবার কি
হলো?(আবির)
-এই ভুতুরে গ্রামে
থাকতে চাই না।আজই
ঢাকায় চলে যাব।
-ঠিক বলেছিস আমিও
থাকব না।(ঈশিতা)
-আচ্ছা আজকে থাক
কালকে নাহয় চলে
যাস।আজকে পূর্নিমার
রাত।গ্রামে পূর্নিমা
উত্সব হবে।
-পূর্নিমা উত্সব!
আমিতো জীবনেও
দেখিনী।(ঈশিতা)
-সেজন্যই তো থাকতে
বলছি।
-আচ্ছা আজকে
থাকব।
.
অতঃপর তারা বাড়িতে
চলে আসে।কিন্তু
তখনকার ঘটনা
কাউকেই বলেনি।রাতে
পূর্নিমা উত্সবে
আবিরের সাথে রাজ
আর ঈশিতা মিলে যায়।
গ্রামের সবাই এসেছে
উত্সবে।সেখানে
দেখতে পায় গ্রামের
একজন বৃদ্ধ
তান্ত্রিককে।
তান্ত্রিক আবিরকে
খুব ভালোবাসে।সে
বিশ্বাস করে
আবিরের মধ্যে কোনো
আদ্ধাত্বিক শক্তি
আছে আর সেই পারবে
এই গ্রামকে
অভিশাপমুক্ত করতে।
.
-আরে আবির বাবা
তুমি গ্রামে কবে এলে?
(তান্ত্রিক)
-এই তো দাদু কালকে
এসেছি।(আবির)
-একাই এসেছো?
-না।আমার সাথে আমার
দুই ফ্রেন্ড এসেছে।
.
অতঃপর রাজ দৌড়ে
আসে
.
-আবির ঈশিতা
কোথায়?(রাজ)
-ও তো তোর সাথেই
ছিল।(আবির)
-ও তোকে খুঁজতে
খুঁজতে এদিকেই
এসেছে।
-ও তো এখানে আসেনি!
-এখানে আসেনি তাহলে
গেল কোথায়?
.
.
চলবে...
.
লেখাঃ #অভ্র_অমৃত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now