বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আফরু, এই আফরু।
- ......
- এই আফরিন শুনো না একটু।।
- কি হয়েছে কি তোমার?
- না মানে পানি পিপাসা পেয়েছে।
- তো আমি কি করব?(রেগে গিয়ে)
- তুমি তো পানি না নিয়ে কোথাও বের হও না। তোমার ব্যাগে পানির বোতল থাকে সবসময়। একটু পানি দাও না।
- পারব না। চুপ থাকো।
- এই পানি দাও না একটু প্লিজ।।
- না দিতে পারব না। আমাকে বলছ কেন? কিছুক্ষন আগে যে মেয়েটার সাথে কথা বলছিল আবার হা করে তাকিয়ে ছিলে তার কাছে গিয়ে বলো।। আমার কাছে পানি নেই।
- আরে ও তো আমার পুরনো বান্ধবী ছিল। অনেকদিন পর দেখা তাই একটু কথা বললাম।
- একটু কথা বলেছ তুমি? পাকা ১ ঘন্টা ধরে কথা বলেছ। আর তোমার জন্য আমি ২ টা বাস মিস করেছি। তা না হলে এতক্ষনে বাড়ি চলে যেতে পারতাম।
- সরি। ভুল হয়ে গেছে।
- সবই তোমার ভুল। সরি তোমার পকেটে রেখে দাও। এই জ্যাম কখন ছাড়বে আল্লাহ জানে।
- সরি বললাম তো। এখনো রাগ করে থাকবে?
- চুপ থাকো তো।।
চুপ হয়ে যায় ইফতি। ইফতির খুব ভালো করেই জানা আছে আফরিনের রাগ সম্পর্কে। বিয়ের প্রায় ২ বছর হতে চলছে ইফতি আর আফরিনের। ভালবাসার কোন কমতি নেই তাদের মাঝে কিন্তু আফরিন যখন রেগে যায় ইফতির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। খুব সহজ্র রাগ করে না আফরিন কিন্তু একবার রেগে গেলে রাগ ভাংতে ইফতির অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।
ইফতি আর আফরিন ঢাকাতেই থাকে। আজ বাদে কাল ঈদ। সবার সাথে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ওরা দুজন। বাস টার্মিনালে দেখা হয় নাবিলার সাথে। নাবিলা আর ইফতি ক্লাসমেট ছিল কলেজে। অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় দুইজন কথা বলা শুরু করে। কতদিনের জমানো কথা যেন শেষ হতে চায় না। কথা শেষ হতে হতে এক ঘন্টা পার। ইফতি যখন নাবিলাকে বিদায় দেয় ততক্ষনে রাগে ফুলে আফরিন এটম বোম হয়ে গেছে। কোনরকম বাসে উঠে বসে তারা। ইফতি মনে মনে ভাবতে থাকে কিভাবে রাগ ভাঙ্গাবে আফরিনের।।
.
কিছুক্ষন পর...
- এই আফরিন।
- আবার কি হয়েছে তোমার?
- এই যে দেখছ পাশের সিটে বাবুটা?
- হ্যা দেখেছি।
- কত্ত কিউট না? আমাদের এই রকম কিউট একটা বাবু হবে।
- ..........
- এই কি বলো। হবে তো?
- জানি না। একদম চুপ করে বসে থাকো। কথা বললে একদম নাক ফাটিয়ে দিব আমি তোমার।
- পরে আবার তোমাকেই আমার সেবা করতে হবে। হি হি হি।
- একদম ছাগলের মত হাসবে না। আর আমি তোমার সেবা করব কিসের জন্য? আমার কি আর কাজ নেই নাকি?
- আমি ছাগল? ছাগলের মত হাসি?
- হ্যা তা নয়ত কি?
- আবার এই ছাগলটাকে ছাড়া তোমার চলে না। ভুলে যেও না এই ছাগলের বুকে মাথা রেখেই কিন্তু প্রতিরাতে ঘুমাও।
- এই তুমি চুপ করবে? একদম চুপ করে বসে থাকো।
- আচ্ছা ঠিক আছে।।
.
বিকালের দিকে বাড়ি চলে আসে ইফতি আফরিন। বাড়ির সবাই তাদের দেখে দারুন খুশি। অনেকদিন পর ইফতি তার বউ নিয়ে বাড়ি এসেছে। বাড়িতে আসার পর আফরিন অন্যদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইফতির ছোটবোন স্পর্শ তার একমাত্র ভাবীকে পেয়ে মহাখুশি। একা কিছুতেই ভাবীকে ছাড়তে চাইছে না স্পর্শ। এদিকে ইফতি সুযোগ খুজতে থাকে কখন একটু আফরিনকে একা পাবে। কিন্তু ইফতির সেই সুযোগ আর আসে না। ইফতি বুঝতে পারে রাত হওয়ার অাগে আফরিনকে আর পাওয়া যাবে না। রাত হওয়ার অপেক্ষায় থাক ইফতি।
.
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে শুয়ে আছে ইফতি। কিন্তু আফরিনের আসার কোন নাম গন্ধ নেই। ইফতি আর অপেক্ষা করতে না পেরে আফরিনকে খুজার জন্য পা বাড়ায়। এমন সময় আফরিনের আসার পায়ের শব্দ পায় ইফতি। সাথে সাথে হাত দিয়ে নিজের দু কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ইফতি।।
ঘরে ঢুকেই ইফতিকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রচন্ড হাসি পেয়ে যায় আফরিনের। কিন্তু আফরিন ইফতিকে বুঝতে না দিয়ে বিছানা গুছানো শুরু করে।
কান ধরে কাজ হয়নি বুঝতে পেরে ইফতি নিজেই কান ধরে উঠা-বসা করতে শুরু করে। এই দৃশ্য দেখে আফরিন আর চুপ থাকতে পারে না। হো হো করে উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করে ইফতি। আফরিনের হঠাৎ এইভাবে হেসে উঠায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় ইফতি।। গুটি গুটি পায়ে আফরিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ইফতি।
- এই শুনছো(মিনমিনে কন্ঠে)
- হ্যা বলো।
- আই এম সরি। আর এমন হবে না। ক্ষমা করে দাও না এইবারের মত?
- তাই নাকি?
- হ্যা সত্যি বলছি কখনো আর কোন মেয়ের সাথে কথা বলব না।
- মনে থাকবে?
- হ্যা থাকবে।
- গুড। এইবারের মত মাফ করে দিলাম। আবার যদি এইরকম হয় না সোজা ডিভোর্স দিয়ে দিব।
- আর হবে না প্রমিজ।
হাসতে হাসতে জড়িয়ে ধরে আফরিন ইফতিকে। কেন যেন এই ছেলেটার উপর রাগ করে থাকতে পারে না আফরিন। ইফতি যখন ওকে আফরু বলে ডাকে সেই ডাক উপেক্ষা করার শক্তি আফরিনের নেই।
- এই শুনো.(আফরিন)
- কি?(ইফতি)
- তোমার জন্য একটা খুশির খবর আছে।
- ওহ আচ্ছা তাই নাকি? সেটা পরে শুনব আগে মিষ্টি মুখ করে নেই।
- জ্বী না। আমার কথা আগে শুনতে হবে। তা না হলে কিছুই পাবে না।
- আচ্ছা বলুন তবে।।
- আমাদের না অতিথি আসছে।
- অতিথি? সে তো ইদের সময় কত অতিথি আসে। তো কাল আবার কে আসবে?
- ধুর গাধা। কিছু বুঝে না।
- কি বুঝব?
- বলছি যে অতিথি আসবে। ঘরে নতুন অতিথি আসছে।।
- কি? তারমানে কি আমি যা ভাবছি সেটাই?
- হ্যা হ্যা। তুমি বাবা হবে।
- ইয়াহু।।।।
- এই কি করছ আস্তে। পরে যাব তো। কোল থেকে নামাও আমাকে।
- তুমি আজকে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ দিয়েছ আফরু।।
- তাই নাকি মি. সাইকো?
- হ্যা। অনেক অনেক ভালবাসি মিসেস সাইকো তোমাকে।
- আমিও অনেক ভালবাসি আমার সাইকো টাকে।
.
মি.সাইকো আর মিসেস সাইকোর ভালবাসা তো চলতেই থাকবে। বেচে থাকুক এইরকম ভালবাসা,ভালবাসার মানুষগুলো।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now