বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খাবার

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)

X সবাই কে আমার অনুরোধ রইলো,দয়া করে একবার হলেও পড়ে দেখুন হয়তো আপনার বিবেকে নাড়া দেবে,,,,,,,,,,। ২০০৫ সালের কথা। দীপালিদের বাসায় নিয়ম ছিল, সে খাবে রাতের ভাত, আর দুপুরে খাবে তার ভাই। এই নিয়মের পেছনে জিরো ফিগারের বাসনা না -ছিল তার বাবার চাল কেনার অক্ষমতা। একদিন সন্ধায় দিপালির ভাই এমনই ক্ষুধার্ত ছিল যে সে তার বোনের রাতের ভাগটুকু খেয়ে নেয়। প্রায় ২৪ ঘন্টার অভুক্ত দীপালি যখন দেখে তার ভাত তারই আপন চুরি করেছে, তখন অভিমানে তার কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আর কোনোদিন যেন বাবা মায়ের কাছে ভাত চাইতে না হয়, তাই সে কন্ঠে কাপড় জড়িয়ে ঝুলে পড়ে। জীবনের মত সে তার ভাগের ভাতটা ভাইকে দিয়ে যায় । আমরা জানি আত্নহত্যা মহাপাপ। তবে আমরা জানি না যে আজ রাতে আমাদের হাড়ি ধোয়ার সময় যে ভাতগুলো ফেলে দেয়া হবে তাতে দীপালির ও ভাগ ছিল। যতই জনসংখ্যা বাড়ুক, এই দুনিয়াতে আল্লাহ যত মুখ সৃষ্টি করেছন তাদের সবার খাবারের ভাগও তিনি রেখেছেন। গরিব মানুষের মুখের গ্রাস কি শুধু মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো একাই কেড়ে নেই? না। আমরাও নিই। রাসুলুল্লাহ (সা) বেশি খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন, বলেছেন মুসলিমরা এক পেটে খায়, আর কাফিররা খায় সাত পেটে। সহিহ বুখারি, হাঃ৫০৮১/মুসলিম হাঃ২০৬০ আমরা এ জমানার মুসলিমরা শুধুই যে বেশি খাই তা নয়, বেশি খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে উচ্ছিষ্টাংশটি ডাস্টবিনের কুকুরদের সমর্পণ করি। চার পেয়ে এবং দুপেয়ে কুকুর। বাংলাদেশে বিয়ে বাড়িতে মোচ্ছব চলে প্লেটভর্তি করার । পিজা হাট অফার দেয় - এসো, দেখি কত খেতে পার! সিয়াম মানে সংযম কে বলেছে? সিয়াম মানে রাক্ষসের মতো খাওয়া, যতবেশি খাওয়া যাবে ততই লাভ। সারা বছরে মাত্র একবার পিজা হাট ইসলামের শিক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখায় - রমাদান মাসে। সিয়াম মানে সংযম কে বলেছে? যে দশ পদের কমে ইফতার করেন না সে? আমেরিকায় মসজিদে মসজিদে ধুম ধারাক্কা ইফতার দেয়। মানুষ ডিসপোজ্যাবল্পলেট ভরে খাবার নেয়, কিছুটা খায়, কিছুটা ছড়ায় তারপরে প্লেট ভাজ করে ট্র‍্যাশে ফেলে দেয়। বিরিয়ানি ভর্তি প্লেট । রুটি -মাংস ভর্তি প্লেট। নাশপাতি- আঙুর-খেজুর ভর্তি প্লেট । বাবা ছেলে বসে একই কাজ করে। ফেলে দেয়ার আগে একটুও হাত কাপে না । মাথায় একটুও আসে না যে সোমালিয়াতে সেই মুহুর্তে মানুষ ইফতার করছে করছে শুধু বাতাস দিয়ে। সৌদি আলিমদের কাছে ফতোয়া জানতে চাচ্ছে - তাদের সাহরিতে খাবার কিছু নেই, ইফতারেও না ; তাদের রোজা হবে তো? সৌদী মুফতি উত্তর দিতে পারেননি, শুধু অঝোরে কেদেছেন । আমরা কেউ প্রশ্নটা শুনতে পাইনি। আমরা ছিলাম তখন ভোজনে ব্যস্ত! পৃথিবী কত বদলে যায় । এইতো বছর পঞ্চাশেক আগেও সোমালিয়াকে বলা হত আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি । সেই সবুজ আজ কোথায় হারিয়ে গেছে! হারিয়ে গেছে গরু - ছাগলের পাল । মানুষের পাল এখন থাকে খোয়ারে। আইএমএফ দয়া আর মমতার বাধনে বেধে রেখেছে ওদের । ভালবেসে ঋণ দিয়েছে । তারপর বাতলে দিয়েছে ঋণ শোধের উপায় । এই বাধন কি আর ছেরা যায় ! বিজ্ঞানীরা বলবেন জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণেই নাকি এ দুর্ভিক্ষ । পশ্চিমা মিডিয়া বলবে আল -শাবাব মুসলিম চরমপন্থিদের জন্যই আজ এই দশা । খিলাফাতওয়ালারা বলবে তাগুতের তাবেদার সরকারের দোষ । আমি বলবো না । আমার চোখের ভাসতে থাকবে বিশাল সব ট্র‍্যাশব্যাগ । কালো কালো ট্র‍্যাশব্যাগ। একটা ব্যাগে যে পরিমাণ খাবার ফেলে দেয়া হয়েছে তাতে একটা গ্রামের সবগুলো ক্ষুধার্ত মানুষ একবেলা পেটপুরে খেতে পারতো । শস্য -শ্যামলা - সুজলা বাংলাদেশে এখন আগের মতো জল নেই । আমনের মৌসুমে যেখানে ক্ষেত জলে থই থই করতো, সেখানে এখন পাম্প বসিয়ে সেচ দিতে হয় । ডীপ টিউবওয়েল । পানির স্তর নেমে গেছে বহু নিচে, আশি ফুট গভিরতাতেও কাজ চলে না । আমেরিকাতে চলছে পঞ্চাশ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ খরা । তবু আমাদের বলছেন নেই । বুক কাপে না । ভাবখানা এমন যেন আল্লাহর সাথে পানি চুক্তি করা আছে । আথচ আল্লাহ বলছেন নেই । মহান আল্লাহ হুমকি দিলেন সুরা মুলকের শেষে -তিনি যদি পানির স্তর নামিয়ে নেন তাহলে ভৃপৃষ্টে কে দেবে পানি? আমরা এই হুমকির থোড়াই কেয়ার করি । আল্লাহ আল।কুর,আনের দুটি জায়গায় বলেছেন - তোমরা অপচয় কোরো না, আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালোবাসেন না । আমরা আল্লাহর ভালোবাসার থোড়াই কেয়ার করি । নানান জাতের ভালোবাসাতে ভর্তি হয়ে গেছে চারিদিক । আল্লাহর ভালোবাসা না দেখা যায়, না বেচা যায় । এ ভালোবাসা দিয়ে কি করব? রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন - কারও কাছ থেকে মাটিতে খাবার পড়ে গেলে সে যেন সেটা তুলে, ধুলোটা ঝেড়ে খেয়ে ফেলে ; শয়তানের জন্য রেখে না দেয় । তিনি খাবার পড়ে হাত চেটে খেতে বলেছেন ; কারণ, খাবারের কোন অংশে বারাকাত আছে সেটা মানুষ জানে না । মুসলিম, হাঃ৫০৪৪ আমাদের যে টেবিল ভদ্রতা শেখানো হয় তাতে পতিত খাবার অচ্ছুত ময়লা, তুলে খাওয়া তো দূরে থাক, সেটা স্পর্শই করা যাবে না । কাজের মানুষেরা পড়ে ঝাড়ু দিয়ে সেটা ফেলে দেবে । হাতের আঙুল বা থালা মুছে খাওয়া তো নিতান্তই অসৌজন্যতা । জেরুজালেমে ঈহুদীরা মুসলিমদের হারিয়ে দিয়েছে বলে আমরা হায় হায় করি । আর এদিকে আমরা নিজেরা নিজেদের ডাইনিং টেবিলে ইসলামকে হারিয়ে দিয়েছি । শয়তান এখন আর আমাদের শত্রু না - বন্ধু । তাকে আসন পেতে দিই খেতে । শয়তানের জন্য খাবার বরাদ্দ রাখি । আর বারাকাত দিয়ে আমরা কি করবো ? বারাকাত কমছে বলেই খাবারে বিষ দেয়া হচ্ছে, লাফিয়ে লাফিয়ে খাবারের দাম বাড়ছে, খাবারের স্বাদ - তৃপ্তি সব উধাও হয়ে যাচ্ছে । আপন হাতে কল্যানের দরজা বন্ধ করে অন্য কে দোষ দিয়ে কি লাভ? ইসলামের কথা বাদ দিই, খাবার নষ্ট মানে তো নিতান্ত গরিব অসহায় কৃষকের অক্লান্ত সাধনার উপহাস করা । তার শ্রম, তার কষ্টটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা । আমরা শহুরে মানুষ ; একগোছা ধান ফলাতে যে কত কষ্ট তা আমরা কি করে বুঝবো ? পাতে ফেলে রাখা এক মুঠে ভাতের দাম আমাদের কাছে কয়েক পয়সা মাত্র - এর চেয়ে বেশি কিছু তো নয় । রান্না করা করা খাবার ফেলে দেয়া মানে সেই মানুষটার প্রতি অশ্রদ্ধা - যে করে, চুলার আচ সহ্য করে খাবারটা রান্না করলো । সেই মানুষটার প্রতি অসম্মান - যে কষ্ট করে খাবারটা বয়ে নিয়ে এলো বাজার থেকে । আমরা বুদ্ধিজীবি মানুষ । কাজের লোকদের সময় আর শ্রম কিনে নিয়েছি মাত্র কয়েক টাকায় । টাকা দিয়ে সবকিছু শোধ করা যায় না -এটা আমরা বুঝতে চাই না । পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ ছিলেন মুহাম্মদ (সা) । মদীনাতে হিজরত করার পর থেকে মৃত্যু অবধি তার পরিবার -পরিজন পরপর তিনদিন পেটপুরে খেতে পাননি । বুখারি,হাঃ৩২৭ প্রথম ইসলাম গ্রহনকারী সাহাবীদের এমন দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে যখন হাবালা গাছের পাতা ছাড়া তাদের আর কোনো খাবার ছিল না । তখন তাদের মল আর ভেড়ার মলের কোনো পার্থক্য ছিল না । বুখারী, হাঃ৩২৩ আমাদের আল্লাহ খাবারের যে প্রাচুর্য দিয়েছেন সেটাকে আল্লাহর নি,আমাত বলে আমরা ভাবতে ভালোবাসি ; ভুলেও চিন্তা করি না যে এটা আল্লাহর পরীক্ষাও বটে । অথচ আমরা প্রতিদিন খাবার নষ্টের মাধম্যে আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করছি । শাস্তি হিসেবে চেয়ে নিচ্ছি ক্ষুধাকে । ভাই আপনি যদি কুর,আনকে আল্লাহর বানী বলে বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে এরপর আপন থালায় একটি ভাতও রেখে উঠে যাওয়ার আগে মনে রাখবেন - ইন্নাহু লা ইয়ুহিব্বুল মুসরিফীন- নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালোবাসেন না । আপনি যখন আপনার সন্তানের উচ্ছিষ্ট খাবারটি ফেলে দিচ্ছেন, তখন মনে রাখবেন - ইন্নাহু লা ইয়ুহিব্বুল মুসরিফীন । বেগুনের এক কোনে একটু দাগ দেখে পুরোটা ছুড়ে ফেলে দেয়ার আগে মনে রাখবেন -ইন্নাহু লা ইয়ুহিব্বুল মুসরিফীন । পৃথিবীর মানুষের ভালোবাসা না পেলেও জীবন কাটিয়ে দেয়া যায় ; মানুষের রব্ব আল্লাহর ভালোবাসা না পেলে ধ্বংস অনিবার্য । আল্লাহ যেন আমাদের মুসরিফীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন । খাবার যেমন আল্লাহর রহমত, তেমনি তার পক্ষ থেকে পরিক্ষাও । তাই কোনো অবস্থায়ই তা নষ্ট করা যাবে না, এটা যেন আল্লাহ আমাদের মনে -জীবনে গেথে দেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি খাবারের বিল বাদে , সবকিছু দিতে পারব ।
→ রাসুল (সা.)-এর কিছু খাবারের আলোচনা তুলে ধরা হলো।
→ করোনা প্রতিরোধে যেসব খাবার বেশি খাবেন
→ ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে যেসব খাবার
→ জান্নাতিদের খাবার
→ মজার গল্প: খানা(খাবার)...
→ "সিগারেট যদি পুষ্টিকর খাবার হতো"
→ পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার-পর্ব ২
→ পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট খাবার-পর্ব ১
→ এক শেয়ালের খাবার খোঁজা
→ বিচিত্র খাবার
→ কুকুর আর তার মালিকের খাবার
→ মজার খাবার
→ আফ্রিকার খাবার দাবার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now