বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যাদুকর ও মুসা (আ)

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)

X অত্যাচারী ফেরাউন মূসা (আ) এর বিরুদ্ধে তার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দক্ষ যাদুকরদের ডেকে আনলো। জাদুকররা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই এলো। আর তারা উৎসাহিত হয়ে মূসা(আঃ) কে বলল, ‘হে মূসা! হয় তুমি (তোমার জাদুর লাঠি) নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি’ (ত্বোয়াহা ২০/৬৫)। মূসা বললেন, ‘তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন তারা ‘তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল’ (শো‘আরা ২৬/৪৪), তখন লোকদের চোখগুলিকে ধাঁধিয়ে দিল এবং তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল ও এক মহাজাদু প্রদর্শন করল’ (আ‘রাফ ৭/১১৬)। ‘তাদের জাদুর প্রভাবে মূসার মনে হ’ল যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো (সাপের ন্যায়) ছুটাছুটি করছে’। ‘তাতে মূসার মনে কিছুটা ভীতির সঞ্চার হ’ল’ (ত্বোয়াহা ২০/৬৬-৬৭)। এমতাবস্থায় আল্লাহ ‘অহি’ নাযিল করে মূসাকে অভয় দিয়ে বললেন, ‘তুমিই বিজয়ী হবে’ ‘তোমার ডান হাতে যা আছে, তা (অর্থাৎ লাঠি) নিক্ষেপ কর। এটা তাদের সবকিছুকে যা তারা করেছে, গ্রাস করে ফেলবে। তাদের ওসব তো জাদুর খেল মাত্র। বস্ত্ততঃ জাদুকর যেখানেই থাকুক সে সফল হবে না’ (ত্বোয়াহা ২০/৬৮-৬৯)। / জাদুকররা তাদের রশি ও লাঠি সমূহ নিক্ষেপ করার সময় বলেছিল, ‘ফেরাঊনের মর্যাদার শপথ! আমরা অবশ্যই বিজয়ী হব’ (শো‘আরা ২৬/৪৪)। তারপর মূসা (আঃ) আল্লাহর নামে লাঠি নিক্ষেপ করলেন। দেখা গেল তা বিরাট অজগর সাপের ন্যায় রূপ ধারণ করল এবং জাদুকরদের সমস্ত অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল’ (শো‘আরা ২৬/৪৫)। । এদৃশ্য দেখে তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ জাদুকরগণ বুঝে নিল যে, মূসার এ কীর্তি আসলে জাদু নয়। কেননা জাদুর সর্বোচ্চ বিদ্যা তো তাদের কাছেই রয়েছে। মূসা তাদের চেয়ে বড় জাদুকর হ’লে এতদিন তার নাম টা তো শোনা যেত। তার উস্তাদের খবর তো জানা যেত। তাছাড়াও তারা বলাবলি করলো যে- তার যৌবনকাল অবধি সে তো আমাদের কাছেই ছিল। কখনোই তাকে জাদু শিখতে বা জাদু খেলা দেখাতে বা জাদুর প্রতি কোনরূপ আকর্ষণও তার মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। । তার পরিবারেও কোন জাদুকর নেই। তার বড় ভাই হারূণ তো সর্বদা আমাদের মাঝেই দিনাতিপাত করেছে। কখনোই তাকে এসব করতে দেখা যায়নি বা তার মুখে এ বিষয়ে কখনো কিছু শোনা যায়নি। রাতারাতি কেউ বিশ্বসেরা জাদুকর হয়ে যেতে পারে না। নিশ্চয়ই এর মধ্যে অলৌকিক কোন সত্তার নিদর্শন রয়েছে, যা আয়ত্ত করা মানুষের ক্ষমতার বাইরে। এ সময় মূসার দেওয়া তাওহীদের দাওয়াত ও আল্লাহর গযবের ভীতি তাদের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করল। অতঃপর সবকিছু বিবেচনা করে সত্য তাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে গেলো আর ‘তারা সিজদায় পড়ে গেল’। এবং ‘বলে উঠল, আমরা বিশ্বচরাচরের পালনকর্তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করলাম, যিনি মূসা ও হারূণের রব’ (শো‘আরা ২৬/৪৬-৪৮; ত্বোয়াহা ২০/৭০; আ‘রাফ ৭/১২০-১২১)। সুবহানআল্লাহ! ___ পরাজয়ের এ দৃশ্য দেখে হতবিহবল ফেরাঊন নিজেকে সামলে নিয়ে তৎক্ষণাৎ জাদুকরদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, ‘আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয়ই সেই (অর্থাৎ মূসা) তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে’ (ত্বোয়াহা ২০/৭১; আ‘রাফ ৭/১২৩; শো‘আরা ২৬/৪৯)। অতঃপর সম্রাটসূলভ হুমকি দিয়ে বলল, ‘শীঘ্রই তোমরা তোমাদের পরিণাম ফল জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব’ (শো‘আরা ২৬/৪৯)। জবাবে জাদুকররা যা বললো, সেইটা সারাজীবন মনে রাখার মতো।- __ ‘কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব’(৫০)। ‘আশা করি আমাদের পালনকর্তা আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি সমূহ ক্ষমা করবেন’ (শো‘আরা ২৬/৪৯-৫১; ত্বোয়াহা ২০/৭১-৭৩; আ‘রাফ ৭/১২৪-১২৬) কি কনফিডেন্স!! কি দৃঢ় ঈমান!!!! ৫ মিনিট আগেও ছিল কুফরি যাদুকর! এখন ঈমানের স্বাদ পেয়ে প্রাণ হারানোর ভয়ে এতটুকুও ভীত নয়!!! এইটাই ঈমান... ... তারা আরও বললো যে ‘আমরা তোমাকে( ফেরাউন) এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন (ও মু‘জেযার) উপরে প্রাধন্য দিতে পারি না, যেগুলো (মূসার মাধ্যমে) আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং প্রাধান্য দিতে পারি না তোমাকে সেই সত্তার উপরে যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে’(৭২)। ‘আমরা আমাদের পালনকর্তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যাতে তিনি আমাদের পাপসমূহ এবং তুমি আমাদেরকে যে জাদু করতে বাধ্য করেছ, (তার পাপসমূহ) তা মার্জনা করেন। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী’ (ত্বোয়াহা ২০/৭২-৭৩)। __ জাদুরকদের পরিণতি : জলে নেমে কুমিরের সাথে যুদ্ধ করে জেতা যায়না। ফেরাউন ছিল কুমিরের চেয়েও ভয়ংকর। ফলে যা হবার তাই হলো। জাদুকরদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল কি-না, সে বিষয়ে কুরআনে স্পষ্টভাবে কিছু বলা না হ’লেও সূরা ত্বোয়াহা ৭২ হ’তে ৭৬ পর্যন্ত বর্ণিত আয়াত সমূহের বাকভঙ্গিতে প্রায় নিশ্চিতভাবে বুঝা যায় যে, তা তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়েছিল। _ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস, উবায়েদ ইবনু উমায়ের ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেন, ‘যারা সকালে জাদুকর ছিল, তারা সন্ধ্যায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করল’। সুবহানআল্লাহ!!!!! ______ উল্লেখ্য যে, এরপর ফেরাঊনের স্ত্রী ও মূসার পালক মাতা ‘আসিয়া(রা)’ প্রকাশ্যে ঈমান আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন’। এত এত ক্ষমতাধর স্বামী, বিশাল রাজ্য, অঢেল প্রাচুর্য, জাঁকজমক - এসবে তিনি গা ভাসিয়েছেন? নাহ, এগুলোর কিচ্ছু তাঁকে এতটুকুও টানেনি। আল্লাহর কাছে যেতে এসব কিছু ত্যাগ করে ফেলতে এতটুকুও দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েননি তিনি। ... আল্লাহ তাঁর এই ত্যাগকে, কীর্তিকে, দৃঢ়তাকে মহিমান্বিত আর চিরস্মরণীয় করে রাখলেন যুগে যুগে আগত-অনাগত কোটি কোটি মানুষকে জানানোর জন্য; সম্মানিত ও পবিত্র কুরআনের আয়াতে তাঁকে ঈমানদারদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে পেশ করে। আর কেনই বা আল্লাহ এভাবে তাঁকে মহিমান্বিত করতেন না বলুন!!...নিচের আয়াতটা পড়লেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে- __ ‘আল্লাহ ঈমানদারগণের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন ফেরাঊনের স্ত্রীর, যখন সে বলেছিল, ‘হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকটে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর! আমাকে ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের হাত থেকে উদ্ধার কর এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দাও’ (তাহরীম ৬৬/১১)। __ যার হাতে পুরো সাম্রাজ্যের ক্ষমতা, সমস্ত সম্পদের মালিকানার অধিকার; সেসব থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আর কি চাইলেন? জান্নাতে আল্লাহর নিকট একটিমাত্র বাড়ি... সুবহানআল্লাহ!! এইটাই ঈমান। প্রকৃত ঈমান। যার স্বাদ থেকে আমরা সারাজীবনের জন্য বঞ্চিত। ================== "আল্লাহর কাছে আসার গল্প" - এই দুটো উদাহরণ কিয়ামত পর্যন্ত সারা বিশ্বের জন্য চিরবিস্ময়কর, চিরস্মরণযোগ্য, ঈমান বৃদ্ধিকারী আর অনুপ্রেরণাদায়ী হিসেবে অক্ষত থাকবে। =========================== চির অক্ষত আল কুরআনে চির অম্লান হয়ে থাকবে ঈমানদারিতার এ দুটো ঘটনা--- ______ #1 ‘আল্লাহ ঈমানদারগণের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন ফেরাঊনের স্ত্রীর, যখন সে বলেছিল, ‘হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকটে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর! আমাকে ফেরাঊন ও তার পারিষদবর্গের হাত থেকে উদ্ধার কর এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দাও’ (তাহরীম ৬৬/১১)। ________________ #2 আমি(ফেরাউন) অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব। তারা বলেছিলো, " কোন ক্ষতি নাই! আমরা তো আমাদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তন করব। আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী। [ সুরা শু’য়ারা ২৬: ৪৯-৫১] ======= সুবহানআল্লাহ!!!!!! আল্লাহ যেন এর ছিটেফোঁটা পরিমাণ ঈমান হলেও তা আমাদের দান করেন .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now