বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই প্রমা তুমি কি
এখন বাসায় যাচ্ছ?
-- হ্যা ভাইয়া।
-- এই নাও, এইটা………….
-- (আরজুর কোন কথা
না শুনেই সে কাগজটি
নিয়ে
স্থান ত্যাগ করল)
এতক্ষন কথা হচ্ছিল
প্রমা ও আরজুর মধ্যে।
আরজু
প্রমার ভাইয়ের বন্ধু। প্রমা আরজুকে অনেক
দিন
থেকে পছন্দ করে।
কিন্তু কখনো
আরজুকে মুখফুটে
বলতে পারে নি। কথায়
আছে না, মেয়েদের বুক
ফাটে তো মুখ ফুটে না।
অন্য দিকে আরজু খুব
উদ্ভট
টাইপের ছেলে। তার
মাথায় আগুছালো চুল,
চোখে
মোটা ফ্রেমের চশমা।
চোখ দুটো কুরিয়ান
খরগোসের
ছানার মতো ছোট
ছোট। আর তার চাল-
চলন অতি
সাধারন। আরজু
প্রমাকে খুব ভয় পায়।
ভয় পাওয়ারি
কথা, প্রমা খুব রাগী স্বভাবের মেয়ে। সে
রেগে
গেলে বড় ছোট কাউকে
পরুয়া করে না।
প্রমা বাসায় এসে
কাগজটি খুলতেই চোখ
দুটি
কপালে ঊঠে যাওয়ার
উপক্রম। আরজু
কাগজটিতে
প্রেম পত্র লিখেছে
তাও আবার প্রমাকে।
যাকে সে
জমের মত ভয় পায়।
প্রমা কোন কিছু
চিন্তা না করেই
খুশি মনে চিঠিটা
পড়তে শুরু করল।
২.
প্রিয়,
কি বলে শুরু করব
বুঝতে পারছি না। হয়ত
মনে করছ
আরে এরকম কত
দেখলাম কত পত্র
পেলাম। ব্যাপার
হচ্ছে এখন পত্র
মিতালী খুবই কম।
আসল কথায় আসি।
প্রথম যেদিন তোমাকে
দেখলাম ভিতরটা
কেমন
যেনো কেঁপে উটলো। কি
করে এর বিশ্লেষন
দিবো
বুঝতে পারছি না। যদি
কমন ভাবে বলি
তাহলে, হয় এর
আগে অনেক প্রস্তাব
পেয়েছো, অনেকের মুখে প্রশংসা শুনেছো।
জানো তোমাকে
যতবার দেখি
ভিতরটা কেমন যেনো
কেঁপে উঠে। একটু
দেখার জন্য
মনটা ছটফট করে।
তাহসানের “বিন্দু”
গানের কয়েক
লাইন খুব বেশি মনে
হচ্ছে। ভেবে ছিলাম
নিজেকে
স্রোতের বিপরীত
একজন’ আসলে তাই।
এমনটা কখনো
হবে ভাবিনি। আগে
কখনো স্বপ্ন দেখতাম
না। কিন্তু
যেদিন থেকে তোমাকে ভালবাসলাম,
সেদিন
থেকেই হয়তো আমার
স্বপ্ন দেখা শুরু। দিনে দিনে
ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্ন
গুলো মিলে এক বিশাল সাম্রাজ্য
তৈরী করেছে। সেই
বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে থাকবে
শুধু তুমি। তুমি হবে
আমার রানী। সেই সাম্রাজ্যের
এক পাশে থাকবে
বিশাল সমুদ্র, এক
পাশে দৃষ্টির
সীমানা জুড়ে লালা
গোলাপের বাগান..আর
আমাদের জড়িয়ে
থাকবে অন্তিম নীল
আকাশ।
কখনো হাত ধরে রক্ত
লাল ফুলেদের মাঝ
দিয়ে
হেটে যাব। সন্ধে
বেলায় তোমার বুকে
জড়িয়ে ধরে
বিশাল সমুদ্রের মাঝে সূর্যটাকে বিদায়
জানাব।
তুমি অপলক দৃষ্টিতে
আমার দিকে তাকিয়ে
থাকবে
আমি তোমার
এভাবেতাকিয়ে থাকা
দেখে হেসে
ফেলব। তুমি সেই হাসি
দেখে একটু লজ্জ্বা
পেয়ে
যাবে। আমি তখন
আলতো করে তোমার
চোখের
সামনে নুয়ে আসা চুল
গুলো সরিয়ে দিব। আগে
কখনো
স্বপ্ন দেখা হতো না।
আর এখন এক মুহূর্তের
জন্য স্বপ্ন
দেখা থামাতে পারি না।
মনে হয় যেনো প্রতিটা মুহূর্ত তুমি সাথে
আছো। আচ্ছা, ছোট্ট
একটা প্রশ্ন
করি? কাউকে
ভালোবাসা কি পাপ না
অন্যায় না
অপরাধ না নিষেধ?
আমি তোমাকে
ভালোবাসি-
তোমার দৃষ্টি কোন
থেকে এটা কি? নিশ্চয়
অন্যায়?
পাপ ও হতে পারে? তাই
না? কথা গুলো তোমার
সামনে দাঁড়িয়ে বলা
উচিৎ ছিল। কিন্তু
আমি
তোমার সামনে যেতে
পারি না। বড্ড ভয়
লাগে।
তোমাকে দেখলে
অনেকটা এলোমেলো
হয়ে যাই।
কথা বলার ভাষা
হারিয়ে ফেলি। কেনো
এমনটা হয়
বুঝি না। এটাই বুঝি ভালোবাসা, এটাই
বুঝি
প্রেম?
আমার কপালটা
সত্যিই অনেক
অদ্ভুত। যাকে এতো
ভালোবাসি, সে
আমাকে একদমই সহ্য
করতে পারে
না। আচ্ছা, তুমি কেনো
ছেঁড়া কাগজের মত
আমাকে
বারবার ছুড়ে ফেলে
দিচ্ছ?
একটা মেয়েকে
কীভাবে প্রেম নিবেদন
করতে হয়
সেটা আমার জানা নেই।
তবে এটা জানি, আমি
তোমাকে অসম্ভব
ভালোবাসি। আমার
সূর্যের
আলোর মত নিরপেক্ষ।
কিন্তু আমি তোমাকে
তা
বুঝাতে পারি না। আমি
যে এমনি। আর্টসেল
এর দুঃখ
বিলাস গানটার মতো
বলতে ইচ্ছে করছে
‘আমি বড়
অসহায় অন্য পথের
একটি নাটকই দেখি
মহা কালের
মঞ্চে’। আজ কাল বড়
অদ্ভুত আচরন হচ্ছে।
আমি ঘুমাই
রাত ৩-৪ টার দিকে।
একদিন বিছানায় শুয়ে
আছি
মনে হচ্ছে তুমি মাথায়
হাত বুলিয়ে দিচ্ছ। ঘুম
চলে
আসল। এমন ঘুম আমি
আর কখনো ঘুমাই নি।
লাস্ট
ঘুমিয়ে ছিলাম এমনি
আমার মায়ের কোলে।
একটি
কথাও বানিয়ে বলছি
না। তোমার সামনে
দাঁড়িয়ে
কথা বলতে পারি না
তাই ভিতরের সব
কষ্ট আনন্দ
গুলো লিখে দিচ্ছি।
জানিনা ভালোবাসবে
কিনা!
তবুও আমি তোমাকে
ভালোবেসে যাব।
সেটাতো
আর বাধা দিতে পারবে
না। এই পাগলের জন্য ভালোবাসা তোমার
মনে জন্মাবে কি না
জানিনা।
ভালো থেকও। সব সময়
হাসিখুশি থাকবা।
হাসলে
তোমাকে ভালই লাগে।
এই লাস্ট ব্রেঞ্চ এর ছাত্রের
কি পরিনতি হবে জানি
না। আমি আছি থাকব
সব
সময়। একটা কথা
রাখবা? একদিন আমার
সাথে বাদাম
খাবা? স্রেফ পাঁচ
মিনিটের জন্য।
বাদামের খোসা
না হয় আমিই ভেঙ্গে
দিলাম। তোমার কষ্ট
করতে
হবে না। আরো অনেক
কিছু লিখার ছিলো।
এসো চলে যাই দূর
পাহাড়ে,
যেখানে আমি আর
তুমি,
নাহ তুমি আর আমি,
সময় এসেছে আমার
চলে যাবার,
এবার আর ফিরবো না,
চলে যাব ঠিক তোমার
আত্মার
কাছে,
আত্মার সাথে আত্মার
কথা হবে।
ইতি,
________________
৩.
চিঠিটা পড়ে প্রমার
বিশ্বাস হচ্ছে না যে
এটা
আরজু লিখেছে।
বিশ্বাস না হওয়ারি
কথা। কারন
আরজু এইসব প্রেম
ভালোবাসায় বিশ্বাসি
নয়। সে
কখনো প্রেম করাতো
দূরের কথা তার কোন
মেয়ে
বন্ধুও নেই। আর সে
নাকি আজ প্রেম পত্র
লিখেছে
তাও আবার অনেক
রোমাঞ্চকর ভাবে।
কোন কিছু না
ভেবেই প্রমা আরজুকে
ফোন দিলো।
--হ্যাল (আরজু)
--তা সাহেব কলমের
কালি ফুঁড়িয়ে
গিয়েছিল নাকি
যে চিঠির শেষে
নিজের নামটাও
লিখলেন না?
(প্রমা)
--তখনতো তুমি আমার
কোন কথা না শুনেই
চলে
গেলে। ওহে শুনো, তুমি ফাহিমকে বলে দিয়
যে,সে
যেনো তার নামটা লিখে
নেয়। (ফাহিম প্রমার
ভাই)
--মানে! ভাইয়া কেনো
লিখবে? তাও আবার
ভাইয়ার
নাম।
--ওহ, তোমাকেতো বলা
হয়নি, ফাহিম একটা
মেয়ের
প্রেমে পড়েছে। সে
প্রেম পত্র লিখতে
পারছে না
তাই আমাকে বলল
আমি লিখে দিলাম।
--তার মানে চিঠিটা
তুমি আমার জন্য
লিখনী?
(রেগে গিয়ে)
--না তো, এই চিঠিটা
ফাহিমের জন্যই
লিখেছি।
তোমার যদি প্রয়োজন
হয় আমি পরবর্তিতে
তোমাকে
একটা লিখে দিব।
--কি বললি তুই?
চিঠিটা আমার জন্য
লিখস নি? শুন
এখন একটা চিঠি
লিখবি আমাকে তুই।
আর কখনো যদি
শুনেছি তুই অন্য
কারো জন্য চিঠি
লিখেছিস তাহলে
তোর পা আমি ভেঙে
ফেলব। আগামি কাল
বিকাল
৩:২৫ মিনিটের সময়
তুই আমার সাথে
পার্কে দেখা
করবি। (রেগে গেলে
প্রমা তুই করেই বলে)
আর কোন কথা বলতে
না দিয়েই ফোন কেটে
দিল
প্রমা।
৪. বিকাল ৩:২৫ মিনিট।
আরজু আগে এসেই
প্রমার জন্য
অপেক্ষা করছে। প্রমা পার্কে ঢুকেই দেখল
আরজু
একটা ব্রেঞ্চিতে বসে
আছে। প্রমা গিয়ে
আরজুর
পাশে বসল। কেহ কোন
কথা বলছে না। ২
মিনিট পর
আরজুই প্রথমে
নিরবতা ভাঙল।
--আমাকে পার্কে
ডাকলে কেনো প্রমা।
(আরজু)
--দেখো আরজু আমি
পেচিয়ে কথা বলতে
পছন্দ করি
না। আমি তোমাকে
ভালবাসি। আর এই
কথাটি বলার
জন্য তোমাকে এখানে
ডেকেছি। (আরজু)
--তুমি এইসব কি বাজে
বকছ প্রমা? তুমি
আমার বন্ধুর
বোন। এই কথাটি যদি
ফাহিম যানে কি হবে
বুঝতে
পারছো?
--আমি এতো কিছু
বুঝি না। আমি
তোমাকে
ভালোবাসি এটাই বেস।
আর এই গল্পে তুমিই
হিরো,
এখানে ভাইয়াকে ভয়
পাওয়ার কি আছ?
--তুমি যে রকম সহজ
ভাবছ বাস্তবতা তথটা
সহজ না।
--আমি এতো কিছু
শুনতে চাই না। এখন
তুমি আমাকে
হাটু গেড়ে প্রপোজ
করবে এটাই ফাইনাল।
--আমি পারব না।
--কি বলে? আমি
তোমার সব দাত খুলে
ফেলব, যদি
তুমি আমায় এখন
প্রপোজ না কর।
অজ্ঞতা আরজু ভয়ে
প্রমার কথাই শুনতে
হলো।
--I LOVE YOU “PROMA”.
(হাটু গেড়ে বসে)
--এইসব স্টাইল পুরনো
হয়ে গেছে। নতুন কিছু
বল।
--প্রমা তুমি কি আমার
ভবিষৎ বাবুর মা হবে?
--শুধু বাবুর মা কেনো,
তুমি বললে তোমার
নাতী
নাতনীর দাদী হতেও
রাজি আছি।
ভালো থাকুক
প্রত্যেকের
ভালোবাসা।
(বি: দ্র: ভুল ত্রুটি
ক্ষমার চোখে দেখবেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now