বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপুর সঙ্গে তোড়ার ভীষণ ভাব। ভাই-
বোন বলে নয়। দুজন বন্ধুর মতো।
অপুর বড় বোন তোড়া। তোড়া স্কুলে
যায়, অপু এখনো যায় না। তবে কিছু দিন
হলো বায়না ধরেছে, তাকেও নিয়ে
যেতে হবে।
মা বললেন, সে কি অপু, তুমি তো
এখনো কথাই বলতে পারো না। স্কুলে
যাবে কী করে!
অপু অবাক! মাকে বলল, তুমি বুঝি জানো
না, মানুষ স্কুলে গিয়েই সব কিছু শিখে।
আমি স্কুলে গিয়ে কথা শিখব, লেখা শিখব।
সাঁতার কাটব।
কথা শুনে তোড়া হাসে। তুই সাঁতার কাটবি
অপু! তাও আবার স্কুলে!
কেন, তোমার স্কুলের পাশেই যে
একটা পুকুর আছে। ওখানে হাঁসেরা কত
সুন্দর দলবেঁধে সাঁতার কাটে। ডানা ঝাঁপটায়।
আমিও হাঁসের সঙ্গে সাঁতার কাটব। খুব মজা
হবে।
অপুর বন্ধু বাবাই। সে এখনো স্কুলে যায়
না। তবে বইয়ের সঙ্গে খুব ভাব তার।
হাতের কাছে বই পেলেই মুখে দেয়,
ছিঁড়েও ফেলে। অপু হাসে। বোকা
ছেলে! বই কি খাবার জিনিস!
তাহলে কিসের জিনিস, বল! বাবাই হাসে।
বই পড়ে অনেক কিছু জানা যায়। দুনিয়ার খবর
লেখা আছে বইয়ে।
তোর মাথা! রেগে যায় বাবাই। সে
আরো বলে, বইয়ে ভুলও লেখা থাকে।
যেমন? অপুর বই খুব প্রিয়। তাই বন্ধুর কথা
ভালো লাগে না তার।
বাবাই কিন্তু তৈরি। সে বলল, এই দেখো,
বইয়ে লেখা ঘোড়ার ডিম। ঘোড়ার কি
কোনো ডিম হয়! এটা মিছে কথা নয়!
হুম! তোড়া এমন শব্দ করল, যেন সে
মস্তবড় পণ্ডিত। রামগড়ুরের ছানা। বড়দের
মতো করে ভাবতে ওর ভালো লাগে।
সুযোগ পেলেই অমনি অপু আর বাবাইকে
সে ছাত্র বানিয়ে শাসায়। তোড়া জানে না,
ভয় দেখিয়ে কখনো ভালো পড়ানো
হয় না। এই জন্য ক্লাসে বেত নেওয়া
নিষেধ।
ওরা বসেছিল দাওয়ায়, বাবাইয়ের ছড়াটা বেশ
লাগে তোড়ার। রবি ঠাকুরও এককালে ছড়া
লিখেছিলেন, জল পড়ে পাতা নড়ে।
ছোট্ট, কিন্তু কী মিষ্টি।
তোড়া কিন্তু কিছুতেই মানতে পারে না
যে বইয়ে ভুল লেখা হয়। তাই সে
ঘোড়ার ডিম নিয়ে ভয়ানক ব্যস্ত হয়ে
পড়ল। অপু আর বাবাই একজোট,
তোড়াকে ছাড় দেবে না ঠিক করেছে।
তোড়া যদি ঘোড়ার ডিম দেখাতে না
পারে, তাহলে তার দিদিগিরি শেষ।
বাবাইয়ের ডিম পছন্দ নয়, ও খায় সবজি। অপু
অবশ্য মিষ্টি খেতে পছন্দ করে। তোড়া
আবার বাঘের মতো, মাংস পেলে আর
কিচ্ছু চাই না ওর। সে যাক গে, তোড়া
এখন খাবার নিয়ে ভাবছে না, ওর মাথায় লাট্টুর
মতো ঘোরে ঘোড়ার ডিমের কথা। অপু
তাকে ভীষণ মানে। বাবাইকে যদি
ঘোড়ার ডিম দেখানো না যায় তাহলে অপু
ওর সামনে মুখ দেখাতে পারবে না।
নিজের বোন বলে কথা।
বাবাই বাড়ি গেলে অপু চুপি চুপি বোনকে
বলল, আচ্ছা আপু, ঘোড়া কি সত্যি সত্যি ডিম
পাড়ে? পাড়লে কিভাবে! দাঁড়িয়ে না বসে?
এই যেমন ধরো মুরগি বসে বসে ডিম
পাড়ে।
ধেৎ! বিরক্ত হয় তোড়া। বকা দিয়ে
ভাইকে হটানো গেলেও মাথা থেকে
ঘোড়ার ডিম কিছুতেই আর যায় না। যেমন
করে হোক, বাবাইকে তার ঘোড়ার ডিম
দেখাতেই হবে। নইলে ও ভাববে, সব
বই ভুল।
রাতভর ভাবল তোড়া। কিচ্ছুটি এলো না
মাথায়; বরং শেষ রাতে একটু স্বপ্নের
মতো এসেছিল। তোড়া দেখল, ঘোড়া
নয়, ডিম পাড়ছে বাঘ। ওমা, এ কী! বাঘের
দেখাদেখি হাতিও ডিম পাড়ছে। ওই তো,
ডিমের ভেতর বাবুহাতির শুঁড়টা কেমন
নড়ছে!
মনে মনে একখানা ছড়া এলো তোড়ার—
বাঘে পাড়ে ডিম, ডিম পাড়ে হাতি/তাই নিয়ে
বাবাইয়ের সে কি মাতামাতি! /ডিমে দিলে তা,
বাছা করে হাঁ/ শুঁড়খানা যেন বলে খা খা খা!
মা বলেছেন ভোররাতের স্বপ্ন নাকি
সত্যি হয়! তার মানে বাঘ বা হাতি ডিম পাড়লে
ঘোড়াও পাড়তে পারে। কিন্তু প্রশ্ন
হলো, স্বপ্নে দেখা বাঘের ডিম তো
বাবাইকে দেখানো যাবে না। না দেখলে
ও বিশ্বাস করবে কেন!
মহা টেনশনে পড়ে যায় তোড়া। ওদিকে
ইশকুলের সময় হয়ে গেল। বই-খাতা
গুছিয়ে এবার ইশকুলের পথ ধরতে হবে।
মাথার পরে গনগনে রোদ। তার ওপর
আবার ঘোড়ার ডিমের চিন্তা। সব মিলে
সে এক যাচ্ছেতাই অবস্থা।
পথে পড়ে জঙ্গল। গাঁয়ের স্কুল কি না,
মেলা ঝোপঝাড় বুনোপথ পেরিয়ে
তবে ইশকুলে যেতে হয়। যেতে
যেতে ভাবে তোড়া। স্বপ্ন কি সত্যি
হয়! বাঘের ডিমটা স্পষ্ট দেখেছে সে
—ইয়া বড় আর বাদামি রং দেখতে। সামান্য
পুঁচকে মুরগির ডিমের চেয়ে তা অনেক
বড়। বাঘের একটা ডিম পরিবারের সবাই
মিলে খেয়েও শেষ করতে পারবে না।
ঝোপের আড়ালে কিছু একটা নড়তে
দেখে একটু দাঁড়ায় তোড়া। কী ওটা? গরু
না ঘোড়া! ঘোড়াটা ওখানে কী করছে!
খুব তাড়া ছিল তাই না থেমে একছুটে
তোড়া ইশকুলে গিয়ে ঢুকল।
লজ্জা ফেলে ক্লাসের কয়েকজনকে
বলল, তোমরা কি কেউ ঘোড়ার ডিম
দেখেছ? ওর কথা শুনে বন্ধুরা সব মুখ
মুচড়ে হাসে। হয়তো ভাবছে প্রচণ্ড
গরমে তোড়ার মাথাটাই গেছে।
কিন্তু তোড়া মোটেও দমেনি; বরং উৎসাহ
বাড়ছে। বাঘের ডিম আছে, হাতির আছে,
তাই ঘোড়ারও আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো,
ঘোড়া নাকি দাঁড়িয়ে ঘুমায়। তাহলে ডিম কী
করে পাড়ে! দাঁড়িয়ে, বসে, না শুয়ে!
ওদিকে বাবাই আর অপু ওই কথা বলে বলে
ওর কান ঝালাপালা করে দিয়েছে। বলো না
আপু, ঘোড়ার ডিম দেখতে কেমন?
ঘোড়ারা কখন ডিম পাড়ে? কত বড় হয়!
ঘোড়ার ডিমের খোসা কেমন শক্ত!
থামবি তোরা? যত সব গজকচ্ছপের দল।
গজকচ্ছপ কী আপা? বাবাই আবার নতুন
করে গোঁ ধরল।
আমি কী জানি! মুখে এলো তাই বললাম।
গজ মানে হাতি। হাতির সঙ্গে নাকি কচ্ছপের
একরকম লড়াই আছে। যেমন তোদের
সঙ্গে আমার। গজ গজ করতে করতে
বলল তোড়া। ওর মাথায় তখনো ঘোড়ার
ডিম ঘুরছে।
মায়ের সঙ্গে তোড়ার বেশ ভাব। তাই
বলে ফালতু কথা একদম পাত্তা দেন না মা।
তোড়া সুযোগ বুঝে বলল, আচ্ছা মা,
ঘোড়ার ডিম দেখতে কেমন? মা তো
অবাক। মেয়ে বলে কী! ঘোড়ার ডিম?
তা আবার হয় নাকি! চোখ পাকিয়ে মা
বললেন, তোর কী হয়েছে বল
তো! এসব কী উল্টাপাল্টা কথা বলছিস!
তোড়া যা বোঝার বুঝে গেছে। তবে
সে বাবাই আর অপুর কাছে কিছুতেই
হারবে না। বেলা পড়লে তোড়া বেরিয়ে
যায় বাড়ি থেকে। সোজা জঙ্গলে। সেই
যেখানে একটা ঘোড়াকে দাঁড়িয়ে
থাকতে দেখেছিল সকালে।
ভয়ে ভয়ে ঝোপের ভেতর দিয়ে
সে ঘোড়ার কাছে গেল। মজার ব্যাপার,
ধূসর-সাদা দেখতে একটা ঘোড়া তখনো
সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তোড়া বোকা
মেয়ে নয়। ঘোড়া এখানে মিছে কেন
দাঁড়িয়ে থাকবে! পেছনে গিয়ে দেখে
সত্যি সত্যি একটা ঘোড়ার ডিম। ডিমের রং
সাদা না, একটু বেগুনি মতো।
অবাক ব্যাপার! ধূসর-সাদা ঘোড়ার ডিম কিনা
বেগুন রং! হয় কখনো!
মাথা ঘুরে যায় তোড়ার। ঘোড়ার তাহলে
সত্যি সত্যি ডিম হয়। ওকে দেখে ঘোড়া
সাইড দেয়, মানে সরে দাঁড়ায়। তোড়া
ডিমখানা তুলতে গিয়ে হুমড়ি খায়। উরি বাব্বা!
কী ভারী!
তোড়া কিছুক্ষণ ঠেলাঠেলি করে বুঝল,
ঘোড়ার ডিম তোলা তার কাজ নয়। বুদ্ধি
করে তক্ষুনি সে ছুটে গেল বাড়ি।
ডেকে আনল বাবাই আর অপুকে। এই,
তোরা দেখবি যদি আয়।
তোড়ার হাঁক শুনে খেলা ফেলে অপু-
বাবাই ছুটল জঙ্গলে। ঘোড়াটা তখন আর
নেই। তবে সেই বেগুনরং আজব জিনিস
কিন্তু গাছের নিচে ঠিকই ছিল।
তোড়া বলল, এই দেখ ঘোড়ার ডিম।
ঘোড়াটাও এখানেই ছিল। তোদের
দেখে ভয়ে পালিয়েছে। কী বিচ্ছু
রে বাবা! বাবাই আর অপু চুপ। কিচ্ছু বলে
না। দুজন দুজনকে দেখছে। মানে যা
বোঝার বুঝে নিয়েছে ওরা! বেগুনি
রঙের ঘোড়ার ডিম, না হাতি! বোকা
পেয়েছ আর কি!
(সূত্রঃ- কালের কন্ঠ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now