বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"""ধোকা"""

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X অধরা কোথায় তুমি? - রান্না ঘরে। কেনো? - তুমি কি জানো না,সকালে উচ্ছাসিত আলোর সমাগমের একটি সকালে তোমাকে প্রথম না দেখলে ভালো লাগে না? - আধিকেতা হচ্ছে? সকাল সকাল এসব ভালো লাগে না আজকাল। তাড়াতাড়ি ওঠো অফিসের সময় হয়ে গিয়েছে। (অধরা) আমি আর কিছু বললাম না। অধরা রান্নাঘর থেকে চিৎকার করে কথাগুলো বললো। আমার মনটা কেমন যেন করে উঠল। কি এমন হত একটু এসে দেখা দিলেই? এর আগে যখনি ডাকতাম তখনি অধরা চলে আসত। আর আজকাল কেনো যে এমন করছে ও বুঝতে পারছি না। আমি বেড থেকে উঠে রান্না ঘরে গেলাম। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখলাম কেবল বেকার দাঁড়িয়ে আছে। আমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরতেই ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে নিল। আমি অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম... - কি হল আমার অধরা জান? - কিছু হয়নি। এমনি ভালো লাগছে না। - আমাকে বলো কি হয়েছে? - আরে বাবা,বললাম তো কিছু হয়নি। তুমি যাও অফিসের দেরি হয়ে যাবে গুছিয়ে নাও। আমি খাবার দিচ্ছি। আর কিছু বললামম না আমি। অধরা কেমন যেন আচরন করছে। কি হয়েছে সেটাও সে আমাকে বলছে না। আমি এসব ভাবতে ভাবতে গোসলে গেলাম। খানিকটা পর গোসল শেষ করে বের হতেই দেখি আনাফ আর অধরা আমার জন্য খাবার টেবিলে বসে আছে। আমি যেতেই আনাফ বললো.. - পাপা, আজ অফিস থেকে ফেরার সময় আমার জন্য খেলনা নিয়ে আসবে। - ওকে মাই বয়। আর তোমার কি লাগবে? - আচ্ছা রোজ রোজ এই একই কথা কেনো বলো? প্রতিদিনই তো বলি আমার কিছু লাগবে না। ঠিক ভাবে মন দিয়ে অফিস করলেই হবে। . অধরা কেমন মেজাজে কথা বলছে ঠিক বুঝতে পারছি না। ওর মধ্যে আমার প্রতি কোনো চাপা অভিমান লুকিয়ে নাকি সেটাও বুঝতে পারছি না। কিন্তু সে সবকিছু যেন স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলছে। আমি একগাল হেসে অধরাকে বললাম... - তা বললে তো হবে না অধরা জান। যাও আসার সময় তোমার জন্য আইস্ক্রীম নিয়ে আসবো। - হুমম অধরা কেবল উত্তর দিয়ে অধরা খাবার বেধে দিতে লাগল। ওর কাজের প্রতি আমি অবাক চোখে তাকালাম। আজকাল যে ওর কি হল। রোজ অফিসে যাওয়ার আগে আমার কপালে ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিত। আজ অনেক দিন হল ও এটা করছে না। আমিও বুঝতে পারছি না কি হল ওর। আমি আর কিছু বললাম না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অফিসের জন্য বের হলাম। অফিসে আসার সময় দরজার কাছে এসে দাঁড়ালাম এটা ভেবে যে, অধরা এই বুঝি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু দিবে কিন্তু না। অধরা সব গুছিয়ে দিয়ে সোফাতে বসে টিভি দেখতে লাগল। আমি নিরাশ দৃষ্টিতে একটু চেয়ে থেকে আনাফকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ওর স্কুলে নামিয়ে দেবো বলে। গেট দিয়ে যখন বের হচ্ছি তখনি দেখলাম নীরব সাহেব বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। আমি বললাম.. - আরে আপনি এখানে এ সময়ে? - হুমম, এ দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে দেখা করে যায়। কেমন আছো আনাফ? - জ্বি ভালো স্যার। আপনি কেমন আছেন? - আমিও ভালো। ওকে আবির ভাই আমি তাহলে এখন আসি। বিকালে তো পড়াতে আসতে হবে আনাফকে। নিরব কথাটি বলে চলে গেল। আমরাও চলে আসলাম আমাদের গন্তব্যের দিকে। আনাফকে নীরব প্রাইভেট পড়ায়। খুব ভালো একজন ব্যক্তি উনি। রোজ সাইকেল চালিয়ে তিনি অন্য এলাকা থেকে আনাফকে পড়াতে আসে। আনাফ এইবার ক্লাস ৫ এ পড়ে। এসব ভাবতে ভাবতে আমি অফিসে চলে আসি। এটা আমার নিজের অফিস। তবুও সময়ের কাজ সময়মত করি বলে সবার মত আমিও ঠিক সময়ে আসি। . অফিস শেষ করে বাড়িতে আসলাম। কলিংবেল বাজানোর খানিকটা পর আনাফ এসে দরজা খুলে দিল। এটা আজ অনেকদিন থেকেই হচ্ছে আনাফ এসে খুলে দেয়। আমি আনাফের হাতে খেলনা দিয়ে বললাম.. - আব্বু, তোমার আম্মু কোথায়? - আম্মু তো শুয়ে আছে। আম্মুর নাকি শরীর খারাপ। - ওহ,যাও পড়তে বসো তুমি। আনাফ রুমে চলে গেল দৌড়ে। আমি আমাদের রুমে চলে আসলাম। এসে দেখি অধরা শুয়ে আছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে শার্ট খুলতে খুলতে বললাম.. - আনাফ বললো তোমার নাকি শরীর খারাপ? কি হয়েছে? - হুমম এই একটু মাথা যন্ত্রনা আরকি। সেই একিই কথা। প্রতিদিনের মত এই এক কথা আমি শুনতে শুনতে বিরক্ত। আমার শার্ট খোলা শেষে অধরাকে জড়িয়ে নিতে যাবো তখনি সে উঠে সরে যেয়ে বলল.. - এই থামো,তোমার গায়ে ঘাম। এই অবস্থায় আমাকে ছুবে না। - কেনো? এর আগেও তো এমন হয়েছে কই মানা তো তখন করতা না। বরং তুমিই আমাকে বাড়িতে আমার পর জড়িয়ে ধরে মুখ লুকাতে বুকে। - সে তখন করতাম। এখন কেমন যেন লাগে। - ওহ,এই নাও আইস্ক্রীম। - ফ্রিজে রেখে দাও পরে খাবো। অধরার কথা শুনে অনেক অবাক হলাম। সে এমন বলবে ভাবতেই পারিনি। কারন এর আগে অধরাকে আইস্ক্রীমের কথা বললেই লাফিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে আহাল্লাদি গলায় বলতো.. "আমার বরটা অনেক ভালো। আমাকে কত্ত ভালোবাসে"। কিন্তু নাহ, অধরার আচরন অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। আমি কিছু বললাম না। সে শুয়ে আছে আমি আর আনাফ রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। ওকে ডাকলাম কিন্তু সে খাবে না। . এভাবেই চলে গেল আরো কয়েকটা দিন। অবহেলাতে আমি নিস্বঙ্গতায় পড়ে গেছি। সবকিছু পাল্টে গেছে। অগাধ ভালোবাসা আজ হারিয়ে গেছে অবহেলা নামক এক নেশাতে। অধরা রোজ বলতো "আমাকে ছেড়ে যাবে না তো" আর আজ কিনা অধরাই আমাকে ছেড়ে যেতে চাই। কারনগুলো জানতে চাইলে বলে "রোমান্টিকতা আর ভালো লাগে না। আগে লাগত, তবে মানুষ পরিবর্তন হয় তাই আমিও হয়েছি" আমি তাকে কিছু বলি না। অধরা আর কেয়ারও নেয় না আমায়। আমি তাকে কেয়ার নিতে চাইলে সে থামিয়ে দেয়। আমি না খেলে সে খেত না এখন তার উলটা। অফিসে বসে এসব কথা ভাবছি। তখন বেলা ১১ টা বাজে। আমি অফিসে চলে এসেছি আজ একটু তাড়াতাড়িই ন' টার সময়। হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠল। আমি দেখলাম নাম্বারটি অচেনা। কলটি রিসিভ করতেই অপাশ থেকে শুনলাম.. - এই কোথায় তুমি? আজ আসতে এত দেরি করছো কেনো? (মেয়েলি কন্ঠ) - এই তো চলে আসছি, গেটের কাছে। তোমাকে ছাড়া কি আমি থাকতে পারি জান? - স্যার, আপনার ফাইল রেডি। আশিকের কথা বলার সাথে সাথেই লাইনটা কেটে গেল। আমি হা হয়ে আশিকের দিকে তাকিয়ে আছি। কেমন যেন কন্ঠ দুটো বেশ পরিচিত মনে হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েটির কন্ঠ। কিন্তু আমার ফোনে কিভাবে কল আসলো এভাবে? দুইটা মানুষের কথা শুনতে পেলাম। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হল কণ্ঠটা আমার কারো না সেটা হল অধরার। আমি আর দাঁড়ালাম না। সটান উঠে সোজা অফিস থেকে বের হলাম। গাড়ির কাছে আসতেই ঝুম করে বৃষ্টি হল। আমি গাড়ি চালিয়ে বাড়িতে আসলাম। বাড়ির গেটের বাইরে গাড়িটা রেখে ভিতরে ঢুকতেই দেখি পুরাতন একটি সাইকেল পাঁচিলের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। সাইকেলটি আর কারো নয় নীরবের। ভিজতে ভিজতে বাড়ির গ্রীল দেয়া দরজার কাছে আসলাম। খোলায় আছে।হাত ঘড়ির দিকে তাকালাম, বেলা ১১ টা ১৫। নীরবের তো এখন আসার কথা না সে তো পড়াতে আসবে বিকেলে তবু কেনো সে এখন এখানে? . সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দরজা ঠেলে বারান্দাতে ঢুকলাম। সব দরজা বন্ধ। আমি আমাদের রুমের দরজা ঠেলা দিলাম। কিন্তু ভিতর থেকে বন্ধ। পাশেই জানালাটা খোলা তবে পর্দা টানানো। আমি আস্তে হেটে সেখানে গেলাম। কাঁপা কাঁপা হাতে পর্দাটি সরাতেই আমার চোখ দুটো যেন ভয়ংকর কোনো আগ্নেয়গীরীর লাভা প্রতিস্থাপন। আমার সারা শরীর যেন জমে গেছে। আমি দেখলাম.. অধরা আর নীরব একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। আমার শরীরে যেন কাটা দিয়ে উঠল। মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা, এই ধরটাই আমাকে টাচ করতে দেয় না আমি ওর স্বামী হয়েও। আর সেই অধরাই আজ অন্য পুরুষের সাথে?? অধরা বলল.. "নীরব তুমি অনেক রোমান্টিক একটা ছেলে।" কথাটি শুনে চোখ দিয়ে আমার পানি কের হয়ে নিচে পড়ল। কালই অধরা আমাকে বলেছিল "এসব রোমান্স আমার এখন ভালো লাগে না পরিবর্তন হয়ে গিয়েছি।" আমি একদম বরফ মানব হয়ে জমে গেলাম। ভুল দেখছি বা শুনছি ভেবে নিজেকে বোঝালাম কিন্তু..? আরো অবাক হলাম ওরা বললো.. - এই অধরা জান। (এটা আমি বলে ডাকতাম আর আজ নীরব বলছে) - এই তুমি নামে ডাকবে না তো। (অধরা) - কেনো গো? - আবির এ নামে ডাকে। রাগ হয় শুনলে। - কেনো? - রাগ হবে না? বিছানাতে সুখ দিতে পারে না আবার সে পুরুষ। - বিছানাতেই সি প্রকৃত ভালোবাসার সুখ সীমাবদ্ধ অধরা? (নীরব) - আমি মনে করি, আমি না সব মেয়েরাই এটাই প্রকৃত সুখ হিসেবে চাই। - ওহ,আমি তা দিচ্ছি তো তোমাকে তাই নাকি? - হুমম তাই তো এখন আর আবিরকে সহ্য হয় না। তোমাকে এখন খুব ভালোবাসি। চলো তো এখন শুরু করি। - যদি আবির আসে? (নীরব) - নাহ গো ও আসবে না। ও এখব বিজি। - আফান আসে যদি? - এই তুমি রোজ এককথা বলো কেনো? কেউ আসবে না এখন তুমি নিশ্চিত। - হেহেহে..কাঁকের বাসায় কোকিলে আজ মাস্তি করবে। কাঁক টেরও পাবে না। - হাহাহাহা...এটা তো রোজ মাস্তি করো। . কথাগুলো শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। এই বি তবে অধরার ভালোবাসা? এই কী তবে ভালোবাসার বিশ্বাস? এই কি তবে ভালো রুপি নারীর আসল পরিচয়? ভালোবাসা কি বিছানাতেই? দেহের সুখটাই কি বড়? প্রশ্নগুলো আমাকে ভীষন ভাবাচ্ছে। মাথাটা ঘুরছে। দৌড়ে গাড়ির কাছে এসে দরজা খুলে গাড়ির মধ্যের বক্স খুললাম। সেখানে রাখা আছে, একটি রিবালভার, বড় ছুরি, কাস্তে, কয়েকটি ব্লেড। পিস্তলটা সেখানে রেখে সবগুলো নিয়ে নিলাম। বাড়ি থেকে গাড়িটা অনেক দুরে রেখে আসলাম। সময় বাজে তখন ১ টা। আমি এসে দেখি রুমের মধ্যে তখন রাশলীলা চলছে। এমন দৃশ্য একটি স্বামী তার বৌকে এভাবে দেখে সহ্য করতে পারবে না। আমি মাথা ঠান্ডা করলাম। আরেকটু খেলে নিক দুজন আমার সাথে। আমি ছাদের সিড়ির ঘরের মুখে দাঁড়িয়ে রইলাম। সময়গুলো চলে যাচ্ছে। এখন বাজে সাড়ে তিনটা। নীরব বের হল। একটু পর আফান আসলো। তার ৩০ মিনিট পর আবার নীরব আসল। আমি সব ছাদের ঘরে দাঁড়িয়ে দেখছি। ৬ টার সময় নীরব বের হল উঠানে, সাথে বের হল অধরাও। এ সময় আফান ভিডিও গেম নিয়ে একটু ব্যস্ত। বাড়ির দরজার কাছেই উঠানে দাঁড়িয়ে ওরা কথা বলছে। বেশ জোরেই কথা বলছে। আমি শুনলাম.. - এই আরেকবার হবে নাকি? (নীরব) - না না..আবির আসবে এখনি। আফানও আছে। - আরে আবির ভাই এখন আসবে না। আর আফান খেলছে তো। নীরব অনেক বলার পর আবার অধরা রাজী হল। দুজনেই ভিতরে চলে গেল। আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম। শীতে গা কাঁপছে আমার। তবে রাগে যেন শীত চলে গিয়েছে। সাত টা নাগাদ নীরব চলে গেল। তার ১০ মিনিট পর আমি নামলাম। বারান্দায় এসে দেখি দরজা হালকা খোলা। মেইন দরজাও আজ খোলা। আমি রুমে যাওয়ার বারান্দার দড়িতে টাঙানো আমার কাপড় পরে নিলাম চেন্জ করে। রুমে এসে দেখি অধরা উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। সাবধানে ধারালো অস্ত্রগুলো টেবিলে রাখলাম। - অধরা? - আরে তুমি? (চমকে উঠে) - হুমম। তা তোমার শরীরে এ অবস্থা কেনো? চুলগুলো এলেমেলো, কাপড়গুলো ঠিক নেই। - ওহ, না মানে দুপুর থেকে শুয়ে আছি তো তাই হয়ত। - তা কাপড়গুলো ঠিক ঠাক করে শুয়ে পড়লে তো হয়। - এমনিতেই আরকি। মনে মনে হেসে দিলাম। রাগে শরীরটা কেঁপে উঠল। কারন, আমি যে কাপড় চেন্জ করেছি সেটাও সে দেখেনি। সে টেরই পাইনি এসব। আমি উঠে দাঁড়ালাম। আশিককে (আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি) কল দিলাম। আফানকে আমার গ্রামেের বাড়ি রেখে আসার জন্য। - কি ব্যাপার তুমি হঠাৎ আফানকে দাদুর বাড়ি পাঠাচ্ছো? (অধরা) - কয়েকদিন ধরে সে অনেক বায়না করছিল। সমস্যা নেই আমরা কাল যাবে ও আজ যাক। - না না আমি যাবো না এখন। - ওহ, ওকে থেকো তুমি। মনে মনে আবার হাসলাম। কারন অধরা যাবে না এর কারন নীরবের জন্য। অধরা গেলে নীরবকে সে পাবে না। খানিকটা পর আশিক আসলো। আমি আফানের কাছে গেলাম। আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলো। আমিও আফানকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। তখনি আফান কানে কানে বললো.. - পাপা, আম্মু ভালো না। আম্মু অনেক খারাপ। আমি আম্মুর ফোন একদিন চুরি করে নিয়েছিলাম আমার বন্ধুকে একটু কল দিবো বলে। কিন্তু আম্মুর ফোনে মেসেজগুলো দেখেছিলাম আব্বু স্যারের সাথে বাজে মেসেজ। তাই তোমার নাম্বার এর সাথে কানেক্ট করে দিয়েছিলাম যাতে তুমি বুঝতে পারো। আমি কিছু বললাম না। এতটুকু ছেলের বুদ্ধি দেখে বেশ অবাক হলাম। কি ন্যাচারালি বুদ্ধি ওর। আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম। তারপর তাকে পাঠিয়ে দিলাম আশিকের সাথে। আশিক নিয়ে চলে গেল। আমি আমার রুমে চলে আসলাম। এসেই অধরার হাত ধরলাম.. - এই হাত ছাড়ো। কেমন লাগছে।, (অধরা) - বিরক্তি? (আমি) - নাহ মানে ভালো লাগছে না। লাগবে কী? একটু আগেই তো তুই অন্য কারো শরীরের সাথে লেপ্টে ছিলি। মনে মনে এসব বললাম। আমি ওর হাত ধরে টেনে বিছানাতে ফেললাম। অধরা কেমন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি ওর তাকানোর মাঝে ভয় খুজে পেয়েছি। কিছু বললাম না। এক টানে গা থেকে শাড়ি খুলে ফেললাম। ছিড়ে দিলাম বাকিকি কাপড়ও। - আবির কি করছো এসব? - রোমান্চ। - এসব আমার এখন ইচ্ছে করছে না ছাড়ো। - হিহিহিহি.. আমি হাসি দিলাম। অধরা জানে এই হাসির মানে নেই। এটা একটি রহস্যময় হাসি। আমার হাসছি ও চেয়ে আছে। আমি হাসি হাসি মুখে বললাম.. - তা কেনো ভালো লাগবে অধরা জান?নীরব হলর তো খুব ইনজয় করতে। - মানে? কি সব বাজে কথা বলছো? কথাটা শুনে আবার হাসলাম জোরে। হাসতে হাসতে আমার ডান হাতে যত জোর আছে সবটা শক্তি দিয়ে কোষে ওর গালে চড় মারলাম। অধরা ছিটকে পড়ে গেল দুরে। সাথে সাথে সুন্দর মুখে আংগুলের দাগ পড়ে গেছে। চোখ দিয়ে ওর পানি বের হচ্ছে। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ঠোটের কোণা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। আমি পৈশাচিক এক হাসি দিলাম। এরপর সব কাপড় খুলে দিলাম টেনে। আমিও। মেতে উঠলাম নিজের স্ত্রীর সাথে জোর পূর্বক ধর্ষনের খেলাতে। বেশ তৃপ্তি অনুভব করছি। সে কান্না করছে। আমি বেশ হাসছি। সব শেষ হওয়ার পর বললাম... - সামান্য একটু সুখের আশাতে সব শেষ করে দিলি। তোর কাছে অবহেলিত আমি। ফোন দে নীরবের কাছে। ফোন দিয়ে বল যে আবির আজ রাতে আসবে না। আফানের দাদুর বাড়ি গিয়েছে আফানকে নিয়ে। - না এটা পারবো না। - ছুরি দেখেছিস? কাপড়সব ঠিক কর। সাজুগুজু করে তোর রাতের প্রহরীকে ডাক। না হলে এখনি তোকে মেরে রেখে দেবো। . অধরা ভয়ে ভয়ে নীরবকে কল দিল। আমার সেখানো কথাগুলোই সে বললো। আমি রুমের সাথে লাগোয়া বাথরুমে ঢুকলাম অধরার ফোন নিয়ে। নতুন একটি নাম্বার। মেসেজগুলো চেক করতেই মাথাটা আরো খারাপ হয়ে গেল। তখনি শুনলাম কারো দরজা খোলার শব্দ। ভিতরে প্রবেশ করে নীরব আবার দরজা লাগিয়ে দিল। - ওহ জান, এরাকম একটা রাতের জন্যই তো আমি অপেক্ষা করছিলাম। বাসা আজ ফাকা। আজ মনের মত করে দুজনে থাকবো। ইসস আগে বললে তো থেকে যেতাম। বাইরে বৃষ্টি আসতে সমস্যা আর হতো না। - হুমমম ঠিক বলেছো। - তোমাকে এমন শুকনো লাগছে কেনো? কি হয়েছে? - নাহ তেমন কিছু না। - হুমম চলো শুরু করি। বেশ কয়েক মিনিট পর আমি বাথরুম থেকে বের হলাম। হাতে ছিল ধারালো অস্ত্রগুলো। আমি আমার রুমে এসেই বললাম.. - বাহ কি অসাধারন ৩ডি পিকচার দেখছি। আমার কথা শুনে নীরব লাফিয়ে উঠল। গায়ে কোনো কাপড় নেই ওর। হাত দিয়ে তার গোপনাঙ্গ ঢাকলো। লজ্জা আর ভয়ে সে কাপতে লাগলো। আমি জোরে হেসে উঠলাম। - আবির ভাই আ আ আপনি? - বাড়িটা কি তোর যে তুই থাকবি? - না মানে অধরা। - হুমম অধরা...আচ্ছা নীরব বলতো তুই অধরার প্রতি কেনো আকৃষ্ট? ভালোবাসা নাকি শরীরের জন্য। বল..(ঝাড়ি দিয়ে) - ইয়ে না মানে শরীরের জন্য। - হিহিহিহি...বয় বিছানায়। আর আমি ভালোবাসি তাকে কেবল মন থেকে। কতটা ভালোবাসি সে জানে না। - বউকে রাখার জন্য আরো অনেস কিছু সুখের দরকার হয়। কেবল ভালোবাসা লাগে না। অধরার কথা শুনে যেয়ে আরেক গালে চড় দিলাম। চড় খেয়ে সে লুটে পড়ল। নিরব কান্না জুড়ে দিল। - ভাই মাফ করে দিন। আর হবে না। কথাটা বলার সাথে সাথে ব্লেড দিয়ে ওর মুখের উপর জোরে দাগ টেনে দিলাম। ও চিৎকার করে দিল। বাইরে অঝোর বৃষ্টি কেউ শুনবে সেই চিৎকার। আমি বললাম.. - কতটা বছর,কতটা সময় তীলে তীলে জমে রেখেছি অধরার জন্য ভালোবাসা। সে ভালোবাসা ছিল পবিত্র। আর তোরা তা নষ্ট করে দিলি। কথাটি শেষ হতেই আরেকটি ব্লেড দিয়ে অধরার গালে টেনে দিলাম। রক্তে সব মাখামাখি। সবাই চিৎকার করে কান্না করে মাফ চাচ্ছে। আমি হাসছি। আমার হাসিতে কোনো রং নেই আছে কেবল রক্তের ঘ্রান। আমি ছুরি দিয়ে নীরবের গোপনাঙ্গ কেটে নিলাম। সে ছটফট করতে লাগল। অধরা ভয়ে জোরে চিৎকার করতে লাগল। আমি সাথে সাথেই ছুরি দিয়ে নীরবের গলাতে টান দিলাম। ধারালো ছুরির আঘাতে সঙ্গে সঙ্গে ওর গলার নলি কেটে গেল। নীরব নিস্তব্ধ। কেবল রক্তগুলে সব বেয়ে বেয়ে নিচে পড়ছে। আমি জোরে হেসে দিলাম। আমার হাসি শুনে অধরা চুপ হয়ে গেল। আমি অধরার কাছে গেলাম। অধরা ভয়ে কাঁপতে লাগল আর বললো.. - আমাকে মাফ করে দাও আমি এ ভুল আর কোনোদিন করবো না আবির। - হিহিহিহি...তোকে যেদিন বিয়ে করেছিলাম। সেদিন মনের মধ্যে ভালোবাসার অনুভুতির বীজ বুনেছিলাম। কিন্তু সেই বীজগুলো এভাবে অন্যের গবাদি পশু এসে নষ্ট করবে ভাবিনি। কথাটি শেষ হতেই ব্লেড দিয়ে আরো একটা টান দিলার মুখে। সে লাফাতে লাগল। আমি পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললাম.. - ভালোবাসা তো কেবল ভালোবাসা অধরা। যা থাকে মনের গভীরে। মনের গভীরে রেখে তা সর্বদা উপলব্ধি করতে হয়। কিন্তু অনেকেই তার মুল্য বোঝে না। যার প্রধান উদাহরন তুই। হাত টেনে এনে ওর আংগুল থেকে একটি আংগুল কেটে নিলাম। অধরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। - আবির আমার কি দোষ? - তুই আমার ভালোবাসার মুল্য দিস নাই। যিনা করেছিস যা আল্লাহর নিষেধ থাক্কা সত্বেও আমাকে ঠকিয়েছিস খারাপ কাজ করে। আমার বিশ্বাস নিঢে খেলেছিস। খেলেছিস আমার ভালোবাসাকে নিয়ে খেলেছিস আমার সন্তান কে নিয়ে। - আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসবো আবির। কথাটি বলার সাথে সাথেই ব্লেড দিয়ে গলাতে দিলাম এক টান। রক্ত ফিন্কি দিয়ে বেরিয়ে আমার শার্টে এসে লাগল। আমার সারা মুখে এসে পড়ছে। অধরা কথা বলতে পারছে না। কেবল জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। আমি সরে আসলাম। এসে বললাম.. - তোকে তো মারবোই তবে আরেকটু যন্ত্রনা সহ্য কর। দেখ কেমন লাগে। ৫ মিনিট পর অধরার পেটে যেয়ে ছুরিটা চালান করে দিলাম মনের যত রাগ ছিল ততবার করে। রাগ মিটে যাওয়ার খেয়াল করলাম সব কিছু নিস্তেজ হয়ে গেছে। অধরার গলা হা হয়ে রয়েছে। চোখ দুটো যেন উল্টে গেছে। জোরে কেঁদে উঠলাম। দৌড়ে অধরার কাছে যেয়ে বললাম.. - এই অধরা উঠ, তোকে ভালোবাসি আমি ওঠ। কি হল ওঠ? কোনো শব্দ নেই।আজ সবকিছু বৃষ্টির পানিতে ছমছম করছে। ঝুম ঝুম বৃষ্টির শব্দে চারিদিক মিশে একাকার হয়ে গেছে।জোরে জোরে বললাম "ভালোবাসা তো কেবল দূর্বিষহ এক অদেখা শিহরণের নাম,,, যা স্তম্বের ন্যায় দাড়িয়ে রয় সব মানুষের মনের মন্দিরে,,, বিশ্বাষের উপর ভিত্তি করে,,,বিশ্বাস হারালে ভালোবাসা কঠিন হয়ে যায়,,,তখন ভালোবাসার মরণ হয় না,,,হয় বিশ্বাসের। লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now