বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ দাদার বিয়ে ...
লেখাঃ অদ্ভুত বালক
,
,
আমাদের পাশের বাসার মোখলেছ দাদা, গতকাল রাতে আবারও বউ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। মোখলেছ দাদার এটা আট নাম্বার বিয়ে। এর আগেও মোখলেছ দাদা সাত সাতটা বিয়ে করেছেন, কিন্তু কোনো বউই তিনমাসের বেশি টেকেনি। একসময় আমার মনে হয়েছিলো, মোখলেছ দাদা বোধহয় আর বিয়েই করবে না। কিন্তু আমার এই ধারনাকে ভূল প্রমান করে, দীর্ঘ সাত বৎসর পর মোখলেছ দাদা আবারও বিয়ে করেছেন।
.
কী আর করার? গভীর রাতেই গেলাম মোখলেছ দাদার বউরে দেখতে। মোখলেছ দাদার দরজায় কড়া নাড়তেই, আঠারো বছরের এক সুন্দরী রমনী এসে দরজাটা খুলে দিলো। আহা! মাশাল্লাহ! এইরকমও মেয়ে হয়। ইস! যদি এইটাই আমার বউ হইতো! এইসব কথা ভাবছি আর মুগ্ধনয়নে সখিনা থুক্কু মোখলেছ দাদার সদ্য বিবাহিত বউয়ের রূপের সুধা পান করছি।
সম্ভিত ফিরতেই দেখি মোখলেছ দাদা আমার সামনে খারায় আছে। আমি কিছু বলার আগেই মোখলেছ দাদা বললো, " খারাইয়া কী দেহোস? তোর দাদীজানরে কদমবুসি কর! "
কী আর করার অগত্যা কদমবুসি করে নিজের ঘরে ফিরে আসলাম।
.
সকালবেলায় ঘুম থেকে উইঠাই সোজা দাদাগো বাড়ি গেলাম। গিয়াই দেখি দাদীজান গোসল করতাছে। আমারে দেইখা দাদীজান একটা মুচকি হাসি দিলো। আমিও নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী দাদীর হাসি ফেরত দিলাম। হাসি ফেরত দিয়া প্রতিদিনের মতো আজকেও দাদার বিছানায় শুয়ে আছি! দাদার বিছানায় শুয়ে থাকাটা নতুন ব্যপার নাহ! আমি এত বড় হয়েছি দাদার বাসাতেই। বলতে গেলে আমিই দাদার নিত্যসঙ্গী। হঠাৎই দাদা হুড়মুড়্ করে এসে আমায় ঘর থেকে বের করে দিলেন। ধমকের সুরে বললেন, এটা নাকি আমার দাদীর ঘর। হুটহাট করে এই ঘরে আর ঢোকা চলবেনা। আমিও মনখারাপ করে ঐ ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম।
.
মোখলেছ দাদার চেহারা মাশাল্লাহ! কালো চুল সব সাদা হয়ে গেছে। সামনের ইনসিজরের দাতদুটো পড়ে গিয়ে, আলিবাবার গুহার সৃষ্টি হয়েছে। বয়সের ভাঁড়ে কুঁজো হয়ে গেছেন। তাতে কী? টাকার তো আর অভাব নাই! কথায় আছে, টাকায় নাকি বাঘেরও চোখ মিলে।
কথাটা আগে বিশ্বাস করতাম না। মোখলেছ দাদারে দেইখা এখন করি। মোখলেছ দাদার আপসুস একটাই, তার কোনো ছেলেপুলে নাই। আগের সাতসাতটা বউয়ের কারোরই বাচ্চা হয় নাই। দাদা সন্তান লাভের আশায় রবার্ট ব্রুশের সঙ্গী হয়ে অষ্টমবারের মতো বিয়ে করে বউ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন।
.
মোখলেছ দাদার বউ হেব্বী ওভার স্মার্ট। মোখলেছ দাদারে নিয়া কোত্থাও যায়না। গেলে আমারে নিয়া যায়। আমিও যাওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া। শুধু বললেই হলো। আজ সকালে মোখলেছ দাদার বউরে ডাক্তারের কাছে নিয়া গেছিলাম। ডাক্তার সখিনারে ভালো করে দেইখা কইলো, সখিনা নাকি প্রেগন্যান্ট!
আমিতো মহাখুশি! এতদিনে মোখলেছ দাদার অপূর্ণ ইচ্ছা পূর্ন হবে। দুইকেজি নাটোরের কাঁচাগোল্লা কিনে মোখলেছ দাদারে সুখবরটা জানালাম। আমার মুখের সুখবরটা শোনার পর দাদা কাদতে কাদতে কইলো, আমার লগে তুই এমনডা করবার পারলি?
আমিতো পুরাই অবাক! আমি একটা ভদ্র সুশীল পোলা। আমি আবার কী করলাম???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now