বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক অনেক দিন আগে, চীন
দেশে লিউ নামে এক মেয়ে
বিয়ে করে বাস করতে লাগল
তার স্বামী এবং শ্বাশুড়ীর
সাথে।
খুব অল্পসময়েই লিউ দেখল যে
তার শ্বাশুড়ীর সাথে বাস
করাটা প্রায় অসম্ভব।
ক্রমশ তাদের মধ্যে
মতবিরোধ আর ঝগড়া শুরু হয়।
শাশুরি প্রায়শই লিউকে
কটাক্ষ করতো বিভিন্ন
কাজে।
পরিস্থিতি সবচাইতে
খারাপ করল যে দিকটা
সেটা হল, চাইনিজ পরম্পরা
অনুয়ায়ী লিউ তার
শ্বাশুড়ীকে সবসময়েই মাথা
নুইয়ে সন্মান জানাতে হতো
এবং শ্বাশুড়ীর সমস্ত আদেশ
মেনে নিতে হতো।
অনেক দিন এবং সপ্তাহ পার
হয়ে গেল কিন্তু তাদের
বিবাদ না কমে দিন দিন
বাড়তেই থাকল।
এ সমস্ত ঘটনা ক্রমেই লিউর
স্বামীকেকে হতাশাগ্রস্থ
করে তুলল। এর মধ্যে যখন তার
স্বামী কাজের প্রয়োজনে
কিছু দিনের জন্য দূরে চলে
গেল। তখন সে তার মাকে
লিখে পাঠাল যে, এখানে এই
অদ্ভুত মানুষ আর তাদের
সংস্কৃতির সাথে মিলে
চলতে পারছে না। তাই সে
বাড়ি ফিরে আসছে। কয়েক
দিন পরে তার মায়ের কাছ
থেকে উত্তর পেল। সেটাতে
লেখাছিল
“দুই জন লোক কারাগারের
ফটক দিয়ে বাহিরে তাকাল
একজন দেখতে পেল কাদা আর
অন্যজন আকাশের তারা ”
লিউ কোনভাবেই তার
শ্বাশুড়ীর এই খারাপ আচরন
বরদাস্ত করতে পারছিলনা,
এবং সে সিদ্ধান্ত নিল যে
কিছু একটা করতেই হবে।
একদিন লিউ তার বাবার এক
বন্ধু মি: হং এর কাছে গেল
যার একটা ফার্মেসি
রয়েছে। লিউ তাকে সমস্ত
ঘটনা খুলে বললো এবং তার
কাছে কিছু বিষ চাইল যা
দিয়ে তার শ্বাশুড়ীকে
মেরে ফেলে এ সমস্ত সমস্যার
সমাধান করা যায়।
মি: হং কিছুক্ষণ চিন্তা করে
বললেন," লিউ, আমি
তোমাকে সাহায্য করবো
তোমার সমস্যার সমাধান
করবার জন্য, কিন্তু আমি
তোমাকে যা যা বলবো তাই
তোমাকে অক্ষরে অক্ষরে
পালন করতে হবে।"
লিউ খুশিমনে তার কথায়
রাজী হয়ে গেলো। এই
কয়েকটা শব্দতেই তার
অন্তরদৃষ্টি খুলে গেল। এবার
সে আর পরিবেশকে নয় বরং
নিজেকে বদলিয়ে ফেললো।
আদিবাসী প্রতিবেশীদের
সাথে বন্ধুসুলভ আচরন শুরু
করলো। আপন মনে মরুভুমির
সৌন্দর্য্ আবিষ্কার করলো।
তার পৃথিবী বদলে গেল। অল্প
সময়েই তার কাছে ঐ জায়গা
মনে হল এক নতুন জগৎ এক নতুন
পৃথিবী। এক নতুন আনন্দলোক ।
শিক্ষাঃ সময়ের প্রয়োজনে
একটু ভালো থাকার আশায়
নিজেকে বদলে নিন,
উপযোগী করে তুলুন
পরিবেশের সাথে। কাদা
না খুজে আকাশের তারা
খুঁজার চেষ্টা করুন সব সময়।
মি: হং পেছনের রুমে গেলেন
এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে
এলেন একটা ঔষধের প্যাকেট
নিয়ে।
তিনি লিউকে বললেন,"
তোমার শ্বাশুড়ীকে মেরে
ফেলবার জন্য এমন কোন বিষ
দেয়া উচিৎ হবেনা যা
তাৎনিক ভাবে তাকে
মেরে ফেলবে। এতে লোকের
সন্দেহ তোমার উপর পরবে।
তাই আমি তোমাকে এমন
একটা ঔষধ দিচ্ছি যা
তোমার শ্বাশুড়ীর শরীরে
ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া
করবে। প্রতিদিন তার
খাবারের সাথে এটা অল্প
করে মিশিয়ে দিবে। এটার
কার্যকারীতা শুরু হতে
কয়েকমাস লেগে যেতে
পারে, আর তাই তুমি তোমার
শ্বাশুড়ীর সাথে এ কদিন
ভাল ব্যবহার করতে থাক
যাতে লোকের সন্দেহ
কোনক্রমেই তোমার উপর না
পরে। কখনই তার সাথে তর্ক
করবেনা, তার প্রতিটি ইচ্ছা
পুরণ করবে এবং তার সাথে
রানীর মতো আচরণ করবে।"
লিউ খুবই খুশী হল। সে মি:
হংকে ধন্যবাদ দিয়ে
তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে
এল তার শ্বাশুরীকে হত্যা
করবার কাজ শুরু করবার জন্য।
সপ্তাহ পার হয়ে মাস পার
হয়ে গেল, লিউ তার ঔষধটা
শ্বাশুড়ীকে নিয়ম করে
খাওয়াতে লাগল। সে সবার
সন্দেহের উর্দ্ধে থাকবার
জন্য মি: হং এর উপদেশও
অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে
লাগলো। সে তার বাজে
রাগকে প্রশমিত করলো, তার
শ্বাশুড়ীর সমস্ত আদেশ মাথা
পেতে পালন করতো এবং
তার সাথে আচরণ করত তার
নিজের মায়ের মতই।
ছয়মাস পর পুরো ঘরের দৃশ্যপট
পাল্টে গেল।
লিউ তার রাগকে এতটাই দমন
করা শিখে গেল যে, সে আর
তেমন করে উত্তেজিতই হতে
পারত না।
তার সাথে তার শ্বাশুড়ীর
এই ছয়মাসে কোন তর্কই বাধল
না, আর এখন লিউ তার
শ্বাশুড়ীর সাথে অনেক
বেশী ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল।
লিউর প্রতি তার শ্বাশুড়ীর
আচরণেরও পরিবর্তন হল, এবং
তিনি লিউকে তার মেয়ের
মতই ভালবাসতে শুরু করলেন।
তিনি তার বন্ধুবান্ধব এবং
আত্মীয় স্বজনদেরকে বলতে
লাগলেন যে, পৃথিবীতে যত
বৌমা আছে তার মধ্যে
লিউ হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট।
লিউ এবং তার শ্বাশুড়ী,
মেয়ে এবং মা এর মতই বাস
করতে লাগল।
সবকিছু দেখে লিউর স্বামীও
খুব খুশি হয়ে উঠল। একদিন
লিউ আবারও মি: হং এর
কাছে সাহায্যের জন্য আসল।
সে মি: হং-কে বলল, " প্রিয়
মি: হং, আপনার বাকি ঔষধ
আপনি ফিরিয়ে নিন এবং
যতটুকু ক্ষতি আমার শ্বাশুড়ীর
হয়েছে তা কাটাবার কোন
ঔষধ দিন। তার মধ্যে অনেক
পরিবর্তন হয়েছে এবং এখন
তাকে আমি আমার মায়ের
মতই ভালবাসি।"
মি: হং হেসে সামান্য
মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন,
"লিউ, ভয় পাবার কোন কারন
নেই, আমি তোমাকে কোন
বিষ দেইনি। যেটা
দিয়েছিলাম সেটা ছিল
একপ্রকার ভিটামিন। যা
তোমার শ্বাশুড়ীর স্বাস্থ্য
ভাল হতে সাহায্য করেছে।
একমাত্র বিষ ছিল তোমার
মনে এবং তার প্রতি
তোমার আচরণে, যেটা তুমি
পুরোপুরি ধুয়ে ফেলেছ তাকে
ভালবেসে।"
মনে রাখবেন," যে যাকে
যতটা ভালবাসা দেবে,
প্রতিদানে ততটা
ভালবাসাই পাবে। আপনি
যেমন ব্যবহার করবেন, তার
থেকে ভালো ব্যবহার আপনি
আশা করতে পারেন কি??
ভালো ব্যবহারই মানুষকে
সুন্দর ও সুখী পথের
নির্দেশনা দেয়।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now