বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
লালু ১ তৃতীয় পর্ব
"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)
X
যেমন বৃষ্টি
তেমনি ঝড়ো
হাওয়া!
দাঁড়াবার জো
কি! কোথায়
চাকর-বাকর, কোন্
ঘরে শোয় তারা—
কিছুই জানেন না
তিনি। চেঁচিয়ে
ডাকলেন, কিন্তু
কারও সাড়া
মিলল না।
একধারে একটা
বেঞ্চি ছিল,
লালুর বাবার
গরীব মক্কেল
যারা, তাহারই
এসে বসে। গুরুদেব
অগত্যা তাতেই
বসলেন।
আত্মমর্যাদার
যথেষ্ট লাঘব
হলো; অন্তরে
অনুভব করলেন,
কিন্তু উপায় কি!
উত্তরে বাতাসে
বৃষ্টির ছাঁটের
আমেজ রয়েছে—
শীতে গা
শিরশির করে—
কোঁচার খুঁটটা
গায়ে জড়িয়ে
নিয়ে, পা দুটি
যথাসম্ভব উপরে
তুলে, যথাসম্ভব
আরাম পাবার
আয়োজন করে
নিলেন।
নানাবিধ
শ্রান্তি ও
দুর্বিপাকে দেহ
অবশ, মন তিক্ত,
ঘুমে চোখের
পাতা ভারাতুর,
অনভ্যস্ত গুরু-
ভোজন ও রাত্রি-
জাগরণে দু-একটা
অম্ল উদগারের
আভাস দিলে—
উদ্বেগের অবধি
রইল না। হঠাৎ
এমনি সময়
অভাবনীয় নতুন
উপদ্রব। পশ্চিমের
বড় বড় মশা দুই
কানের পাশে
এসে গান জুড়ে
দিলে। চোখের
পাতা প্রথমে
সাড়া দিতে চায়
না, কিন্তু মন
শঙ্কায় পরিপূর্ণ
হয়ে গেল—কি
জানি এরা
সংখ্যায় কত।
মাত্র মিনিট-দুই—
অনিশ্চিত
নিশ্চিত হলো;
গুরুদেব বুঝলেন
সংখ্যায় এরা
অগণিত। সে
বাহিনীকে
উপেক্ষা করে
বিশ্বে এমন
বীরপুরুষ কেউ
নেই। যেমন তার
জ্বলুনি তেমনি
তার চুলকুনি।
স্মৃতিরত্ন দ্রুত
স্থান ত্যাগ
করলেন, কিন্তু
তারা সঙ্গ
নিলে। ঘরের
মধ্যে জলের জন্য
যেমন, ঘরের
বাইরে মশার
জন্য তেমন। হাত-
পায়ের নিরন্তর
আক্ষেপে,
গামছার সঘন
সঞ্চালনে
কিছুতেই তাদের
আক্রমণ প্রতিহত
করা যায় না।
স্মৃতিরত্ন এ-পাশ
থেকে ও-পাশে
ছুটে বেড়াতে
লাগলেন, শীতের
মধ্যেও তাঁর
গায়ে ঘাম
দিলে। ইচ্ছে
হলো ডাক ছেড়ে
চেঁচান, কিন্তু
নিতান্ত
বালকোচিত হবে
ভেবে বিরত
রইলেন। কল্পনায়
দেখলেন
নন্দরানী
সুকোমল শয্যায়
মশারির মধ্যে
আরামে নিদ্রিত,
বাড়ির যে
সেখানে আছে
পরম নিশ্চিন্তে
সুপ্ত—শুধু তাঁর
ছুটোছুটিরই
বিরাম নেই।
কোথাকার
ঘড়িতে চারটে
বাজলো, বললেন,
কামড়া
ব্যাটারা যত
পারিস, কামড়া,—
আমি আর
পারিনে।—বলেই
বারান্দায় একটা
কোণে পিঠের
দিকটা যতটা
সম্ভব বাঁচিয়ে
ঠেস দিয়ে বসে
পড়লেন। বললেন,
সকাল পর্যন্ত যদি
প্রাণটা থাকে ত
এ দুর্ভাগা দেশে
আর না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now