বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>Hello! (আমি)
>হ্যা রাতুল বলো! (নিধি)
>কোথায় তুমি?
> এইতো বাসাতেই আছি, কেন?
>আজ বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে
পারবে?
>আচ্ছা সমস্যা নেই কোথায় আসতে হবে
বলো?
>পদ্মার পারে আসো!
>ঠিক আছে চলে আসবো!
>ঠিক আছে, আমি অপেক্ষা করবো।বাই
>বাই
টু টু টু
কথা হচ্ছিলো নিধি আর আমার মাঝে।
আমি রাতুল। টেক্সটাইল
ইন্জিনিয়ার সিরাজগঞ্জ এর একটা
প্রাইভেট পলিটেকনিকের
প্রফেসর। নিধি আমার হবু বউ। তার সাথে
আমার সম্পর্ক
কলেজ লাইফ থেকে! নিধি আর আমার
পরিচয় ফেবু এর
মাধ্যমে! একটা কমেন্ট নিয়ে দুজনের
পরিচয় হয়। তারপর
বন্ধুক্ত। ভালই চলছিলো আমাদের সম্পর্ক
কিন্তু কথায়
আছেনা একটা ছেলে আর একটা মেয়ে
কখন বন্ধু হতে
পারে না ঠিক তাই হলো। প্রেমে পরে
গেলাম এই কালো
মেয়েটার মায়া ভরা মায়াতে। হ্যাঁ
মায়া দেখতে একটু কালো,
বেশি কালো না শ্যাম বর্ণের। মেয়েটা
আমাকে অনেক
ভালোবাসে। গত পরশু আমি ওর কথা
বাড়িতে জানাই। বাবা মার
আদরের দুলাল আমি তাই তারা এক কথায়
বিয়েতে রাজি হয়ে
যায়। যাইহোক বিকেলের দুটো ক্লাস
নিয়ে চলে গেলাম
পদ্মার পাড়ে!
পদ্মার পাড়ে গিয়ে দেখি নিধি আমার
আগেই চলে এসছে।
>কেমন আছো নিধি?(আমি)
>ভালো। তোমাকে এমন মনে হচ্ছে কেন,
তোমার
কী শরীর খারাপ? আমাকে বলোনি তো!
(উফফ, এই
মেয়ে কেমন করে যে আমার মনের
অবস্থা বুঝে
ফেলে তা আজও বুঝলাম না)
>আসলে, কীভাবে যে কথাটা বলি!(আমি)
> কি কথা, নিশংকোচে বলো!(নিধি)
>আমি তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাই
না।(যতটা সম্ভব
সিরিয়াস লুক নিলাম)
কথাটা শোনা মাত্র নিধি মনেহয় চমকে
উঠলো। তার চোখে
পানি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো।
>আমার অপরাধ?(কান্না জড়িত কণ্ঠে)
>তোমার কোনো অপরাধ নেই। তোমাকে
এখন আমার
আর ভালো লাগে না।(আমি)
>প্লিজ রাতুল, আমি সত্যি তোমাকে
ভালোবাসি। তুমি শুধু আমার।
এভাবে বলো না, বুকে কষ্ট লাগে!(মায়া
এক প্রকার কান্নাই
শুরু করলো)
> থামো। একদম কাছে ঘেষার চেস্টা
করবে না। আজ
থেকে তোমার আমার সম্পর্ক এখানেই
শেষ। আর
শোনো সামনের শুক্রবার আমার বিয়ে।
তাই আমার সাথে
যোগাযোগ করার চেস্টাও করো না।
(আমি)
>রাতুল!(বলেই আমার শাটের কলার চেপে
ধরলো আর কি
ভেবে যেন ছেড়ে দিলো)
নিধি আমাকে রেখে চলে যাচ্ছে আর
আমি ওর যাওয়া
দেখছি।
কিছুদুর গিয়ে আবার আমার সামনে
ফিরে এসে ঠাসসসস করে
আমাকে একটা চড় উপহার দিলো। মনেহয়
এটা ব্রেকআপ
উপহার।তারপর আমার মায়াবীনিটা
বলতে লাগলো
>ছেড়েই যখন যাবি তাহলে কেন সপ্ন
দেখালি? কেন
আমার জীবন নিয়ে খেলা করলি? (আজ
পযর্ন্ত এরকম
রাগতে ওকে কখনো দেখি নি। যা
করেছি রাগ করাটাই
স্বাভাবিক)
>............(আমি এক গালে হাত দিয়ে চুপ
করে দাড়িয়ে আছি)
> এই কুত্তা কথা বলস না কেন? কেন
করলি আমার সাথে এমন?
>.............(এখনো চুপ)
আবার ঠাসসসস!
আমি দুগালে হাত দিয়ে দারিয়ে আছি!
এবার নিধি চলে গেল। তখন আমার
মামাকে ফোন দিলাম
> মামা কাজ হয়ে গেছে!(আমি)
>কিছু সন্দেহ করে নি তো?(মামা)
>আরে না। সন্দেহ করলে আর দুটো চড়
দিতো না!
মামা ওমনি হেসে বললো
>বিয়ে যখন করছো আগেই দেখে নাও
তোমার বউ এর
হাতের জোর কেমন!(মামা)
>আরে মামা রাখো এখন তারাতারি
কাজ শুরু করো।(আমি কিছুটা
বিরক্তি নিয়ে)
>আচ্ছা বাসায় এসো।(মামা)
>আসসি ফোন রাখো!
টু টু টু
আসলে নিধিকে সারপ্রাইজ দিবো বলে
ওকে বলি নি যে বাবা
মা ওর সাথেই বিয়ে ঠিক করে আসছে!
নিধির বাবা মা কেও
মেনেজ করতে হয়েছে যেন শুক্রবারে আগ
পযর্ন্ত
ওকে একা না রাখে। বলাতো যায়না যে
অভিমানি মেয়ে যদি
কিছু একটা করে বসে!
।।
বাসায় এসে দিলাম ঘুম। এক ঘুমে উঠে
দেখি মা আমার গায়ে
পানি ঢালছে। মানে আমার জ্বর হয়েছে।
মামা আমার কানে কানে বললো ভাগ্নে,
কি মাইরটাই খাইলা এক
মাইরে জ্বর! আমি কিছু বললাম না।মাকে
বললাম আমাকে ছারো
তোমরা আগে নিধিকে দেখতে যাও।
বিয়েটা কিন্তু
শুক্রবারেই হবে।
আসলে আজকে আমাদের পরিবার
নিধিকে দেখতে যাবে।
যখন প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো
তখন নিধি বাড়িতে
ছিলো না। আর আমিও নিধির বাবাকে
মানে আমার শ্বশুর
আব্বাকে বলেছিলাম বিষয়টা নিধির
কাছ থেকে গোপন
রাখতে। তিনি রাজিও হয়েছিলেন।
তারপর মা বাবা ছোট্ট বোন
আর মামা গিয়ে নিধির সামনে দেখতে
আসার মিথ্যা নাটক করে
আসলো আর শুক্রবারেই বিয়ে ঠিক হলো।
রাতে নিধির মেসেজ আসলো।
> ধন্যবাদ।(নিধি)
>কেন?(আমি একটু অবাগ হয়েই মেসেজের
রিপ্লে দিলাম)
>আমাকে ছেড়ে দেবার জন্য।আর শুনুন
সামনে শুক্রবার
আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ছেলে
ইন্জিনিয়ার। কিন্তু তোমার
থেকে ভালো। (নিধি)
>Congratulations (আমি)
>Same to you! (নিধি)
>আচ্ছা নিধি তোমার তো অন্য কারো
সাথে বিয়ে হচ্ছে
আর আমারো অন্য কারো সাথে। তাই না
(আমি মাথায় একটা দুষ্টু
বুদ্ধি নিয়ে)
>হ্যাঁ।
>আমরা কি সারাজীবন বন্ধু হয়ে কাটাতে
পারি না?
>তোমার মতন পচা একটা মানুষ আমার বন্ধু
হতে পারে না!
>আচ্ছা তোমার স্বামীর বাসরঘরে
ঢোকার আগ পযর্ন্ত
প্লিজ! তুমি যদি সত্যি আমাকে
ভালোবেসে থাকো তাহলে
রাজি হও!(আমি)
>আমিতো তোমার মতন ভালোবাসার
অভিনয় করিনি সত্যি
ভালোবেশে ছিলাম। তাই আমি রাজি!
(নিধি)
>ওকে আমার মায়াবীনি(আমি নিধিকে
আদর করে মায়াবীনি
ডাকতাম)
।।
আজকে আমার আর নিধির বিয়ে হয়ে
গেল। অথচ নিধি
এখনো জানে না যে ওর সাথেই আমার
বিয়ে হয়েছে!
গাড়িতে আসাে সময় আমার দিকে
ফিরেও তাকায় নি। শুধু
ফোনে আমার ছবিটাতে হাত বুলাচ্ছিলো
আর চোখের পানি
ফেলছিলো। আমি সেটা আড় চোখে
দেখেছি। নিধি আমার
বাড়ি চিনতো না তাই তখন কোনো
সমস্যা হয় নি। বন্ধুদের
সাথে আড্ডা দিয়ে বাসর ঘরের সামনে
দাড়িয়ে নিধিকে
মেসেজ দিলাম।
>মায়াবীনি তোর জামাই ঘরে ঢুকেছে?
>না। তুই কি বাসর ঘরে ঢুকেছিস?(নিধি
এখন আমাকে তুই করে
বলে তাই আমিও বলি)
>নারে! ভয় করছে!(আমি)
>কেন? তোর বউ কি পেত্নি নাকি?হি হি
হি(আমাকে খোচা
দিলো কিন্তু জানে না সেটা ওর পিছে
গিয়েই লাগবে)
>জানি না। আমি এখনো বউকে দেখিনি!
>না দেখেই বিয়ে করে নিলি?
>আরে কবুল পড়ার পর তাকে দেখি নি।
>দেখ গে শাকচুন্নিটা কি করছে। শোন
কিছুদিন পরে তার
সাথে আমার দেখা করাবি।
>কেন?
>আমি জানতে চাই কেন সে আমার কাছ
থেকে তোকে
ছিনিয়ে নিলো।
>আচ্ছা।(বলেই ঘরে প্রবেশ করলাম)
দেখি নিধি বড় একটা ঘোমটা দিয়ে বসে
আছে। আমার
উপস্থিতি টের পেয়ে মোবাইল টা
বালিশের নিচে রেখে
সালাম করলো তারপর আবার খাটে গিয়ে
বসে পড়লো। আমি
তখন তার ফোনে মেসেজ দিলাম
>মায়াবীনি একটু তাকা না
মেসেজ দেখেই চোখ বড় করে আমার
দিকে তাকালো
>তুই এখানে কেন? আমার জামাই
কোথায়?(নিধি)
>তোর সামনে।
>মানে?
তখন সব কিছু বলে দিলাম। সব শোনার পর
কুত্তা বিলাই টিকটিকি
ইত্যাদি ইত্যাদি উপাধি লাভ করলাম।
>কান ধরো(নিধি)
>কেন?(আমি একটু ঢোক গিললাম)
>ধরতে বলছি ধরো।(শাসন করে)
>আচ্ছা ধরছি বলেই নিধিন কান ধরলাম।
>এই আমার কান না তোমার কান ধরো।
(বেশি রাগি)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now