বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_____ভয়ংকর আত্মহত্যা__ খুব ভোরেই বাবার কাছে ফোন আসলো ফুপুর বাড়ি থেকে। ফুপুর মেজো মেয়ের বিয়ে কোন সংগত কারনে আনুষ্ঠানিক যাত্রা ছাড়াই।আমাদের ফ্যামেলি থেকে একজন কে যেতে হবে এবং আজই। বাবা দায়িত্ব টা আমাকেই দিলেন কিন্তু আমি ঠিক তেমন একটা চিনিনা ক্লাস ফাইভ এ থাকতে গিয়েছিলাম আট বছর আগের কথা। সকাল দশটায় রাওনা দিলাম চার ঘন্টা ট্রেন জার্নির পর মুহিত পুর স্টেশনে গিয়ে পৌঁছুলাম। সেখান থেকে একটা ভেন নিয়ে সোজা জাম্বিল পাড়া বাজারে গেলাম আমার কোন ফুপাতো ভাইনাই তাই অন্যএকটা ছেলেকে পাঠিয়েছে আমাকে রিসিভ করার জন্য ছেলেটি আমাকে দেখেই চিনতে পারলো। ছেলেটিকে সঙ্গেনিয়ে একটা চায়ের দোকানে বসলাম। দুজনেই চায়ে চুমুক দিচ্ছি এমন সময়ে হটাৎ একটা ছেড়া পেন্ট খালি গা চুল গুফের জন্য মুখ অস্পষ্ট পাগল। আমাকে হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখাচ্ছে একটা রুটি কিনে চাচ্ছে, আমি একটা রুটি কিনে দিলাম।এটা কে অবশ্য বাজার বললেও ভূল হবে পাঁচ শাতটা দোকান মাত্র আশেপাশে দুইচার কিলোর মধ্যে কোন বাড়িঘর নেই যদিও বাজারের পাশেই রেললাইন তবুও অন্ধকার ছন্ন অজপাড়া গ্রাম বললে এটাকে ভূল হবেনা।ছেলেটাকে সঙ্গে নিয়ে রাওনা দিলাম ফুপুর বাড়ির দিকে মাঝখানে একটা হাটু পানির বিল পাড়ি দিতে হলো অবশেষে সন্ধায় পৌঁছুলাম বাড়িতে।ফুপুদের বাড়ির সাথে আর দুটা বাড়ি এর আশেপাশে আর কোন বাড়ি নেই। চারদিক জনমানব শূন্য বিদ্যুৎ তো দূরের কথা হারিকেনের তৈলটুকু কিনতে গেলে এককিলো হেটে যাওয়া লাগে জাম্বিল পাড়া বাজারে। সন্ধার পরেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্নর আবরন পড়ে যায় পড়ে যায় পুরো এলাকায়। কনকনে শীত রাতের খাবারের পর বাইরেবের হলাম একা একা খুব খারাপ লাগছিল মাথায় সামান্য যন্ত্রনা হচ্ছিলো একদিকে আরো শীতের দিন, রাত মাত্র নয়টা অথচো কোথাও বিন্দু মাত্র আলোটুকু পর্যন্ত নেই অবশো উজ্বল চাঁদ উঠেছে চাঁদের আলোতে সব কিছু অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। না, একটু হেটে আসা যাক বাজারে গেলে হয়তো চা টা পাওয়া যাবে ফ্লানের মকফ্বল টা পড়ে হাটা শুরু করলাম বাজারের দিকে দশ মিনিটের মতো হাটলাম পানি ভেঙ্গে বিল পার হলাম। বিল পার হওয়ার পর পরিবেশটা কেমন যেন বদলে গেলো মাথায় ভোতা যন্ত্রনা হচ্ছে। অবাক কান্ড বাজারের সব দোকান বন্ধ রেলাইন এর সাথে চায়ে দোকানের বেঞ্চে এসে বসলাম শুধু রেল লাইনের লেম্পপোষ্টা ছাড়া আর কোন আলো নেই। চারদিক আবছা অন্ধকার কেমন যেন গাঁ ছমছম করে উঠলো ভয়ভয় করতে লাগলো। হটাৎ গাঁ শিউরে উঠলো সেই লাল আলোয় অস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি একটা মেয়ে রেল লাইনে শুয়ে আছে মনে হচ্ছে ট্রেন ও আচ্ছে। চোথের সামনে স্যুাসাইড হচ্ছে আর আমি উঠে দাড়াতেও পাচ্ছি না কেমন যেন শরীর অবশ হয়ে আচ্ছে আর প্রচন্ড ভয় হচ্ছে। তবুও উঠে দাড়ালাম চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছি মেয়েটার দিকে কাছে যেতে না যেতেই আলোর বেগে ট্রেন এসে দেহটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিলো। বুকে সাহস নিয়ে এগুতে লাগলাম লাশটার দিকে কিন্তু ছিন্নভিন্ন দেহতো দূরের কথা একফোটা রক্ত পর্যন্ত নাই।চোখের সামনে যা দেখলাম অবিশ্বাস্য, তবুও আশেপাশে খুজতে লাগলাম হয়তো কেটে পড়েছে কিন্তু কোথাও নেই চারদিকে শুধু স্তব্ধ আবছা অন্ধকারে ঘেরা। আবারো চায়ের দোকানে এসে বসলাম, আশপাশে ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আচ্ছে গোঙ্গানির আওয়াজ আস্তে আস্তে সে শদ্ব তিব্রতর হচ্ছে। হটাৎ চার পাঁচটা কুকুর এসে ঘিরে ধরলো আমাকে এগুলো ঠিক কুকুর না কুকুরেরর মতো এক অদ্ভুত প্রানী চোখ দুটো টকটকে লাল আগুনের গোলার মতো জ্বলছে।আর বোঝার বাকি রয়লোনা কি ঘটতে চলেছে। প্রানপনে চিৎকার করার চেষ্টা করছি কিন্তু গলাদিয়ে শদ্ববেরুচ্ছে না। আমার মাথা ঠিক কাজ করছেনা কি করবো এখন ব্রেনের প্রতিটা সেলে ভয় ঢুকেগেছে, নার্ভগুলো উত্তেজিত,শরীর ঘেমে কাদামাটা হাটুর কাপুনিতে শরীর আরো দূর্বল হতে লাগলো প্রচন্ড পানি পিপাঁসায় বুক চিড়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই ওই সেই খালি গায়ে ছেড়াপেন্ট এর পাগলটা কুকুর গোলোকে হে হে বলে তাড়িয়ে দিলো। আমার দেহে যেন প্রান ফিরেআসলো। মাথা ফিরাতেই পাগল টাকে আর কোথাও দেখতে পেলামনা। দ্রুত হাটতে লাগলাম বাড়ির দিকে। বিলের কাছে কি যেন দেখা যাচ্ছে কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম লম্বাচৌরা ধবধবা সাদ পাঞ্জাবী সাদা পাগরি পড়া তিনটা লোক চেহেরাটা একেবারেই অস্পষ্ট পাশে মরার খাটিয়া। এই নিথর পাথারের মধ্যে লোক গুলোকে পেয়ে একটু সাহস ফিরে এলো আমার। কাছে যেতেই একজন বললো, ভাই একটু সাহায্য করবেন আমাদের মধ্যে একজন চলে গেছে লাশটা আমরা নিয়েযেতে পাচ্ছি না আপনি একটু এগিয়ে দিলে ভালো হতো। আমি বললাম, অবশ্যই ধরুন চারজনে মিলে খাটিয়াটা কাধে তুললাম। বিকট এক পচা মাংসের গন্ধ আসতেছে খাটিয়ার ভেতর থেকে আর এতটাই ভারি মনে হচ্ছে দুটা মোটা মানুষ এখানে।আমি বললাম, ভাই কোথা থেকে আনলেন। কোন উত্তর আসলোনা। আবারো বললাম,কিভাবে মারা গেছে আবারো কেউ কথা বললোনা।আমি মানুষ গুলোর মুখ দেখার চেষ্টা করছি কিন্তু দেখা যাচ্ছেনা কেমন যেন অস্পষ্ট চোখ খোলা মেরে যায়।ফুপুর বাড়ির কাছে এসেছি প্রায় সামনের ঝোপ টা পাড় হলেই বাড়ি দেখা যাবে রাস্তায় উঠলাম। কিন্তু এরা বিপরিত রাস্তা ধরে চলতে লাগলো। আমি বললাম, দাড়ান আমা রাস্তা এদিক দিয়ে আমি আর যেতে পারবোনা আর তাছাড়া আমি এখানের রাস্তা ঘাট চিনিওনা। সামনে থেকে একজন কর্কশ কন্ঠে বললো আরেকটু আসেন।যেতে লাগলাম তাদের সাথে কিন্তু এই আরেকটু যে কতটুকু এসেছি আমি নিজেও টের পেলাম না। রাস্তার এক কোনে ওরা দাড়ালো খাটিয়া নামাল। বললো, দাড়ান আমরা আচ্ছি তারা চলেগেল পাশেই বড় একটা ঝোপের দিকে ওইখানে একটা অন্ধকারছন্ন ইটের ঘর দেখা যাচ্ছে এটাকে ঘর বললেও ভূল হবে উচু মাটির স্তুপ একটা আন্ধকারে ঘেরা। আমি দাড়িয়ে রইলাম খাটিয়ার পাশে লাশ থেকে পচা গন্ধটা আরো তিব্র ভাবে বারাচ্ছে।হটাৎ বাজারের সেই পাগলটা তাকে দেখেই আমি ছিটকে পড়েগেলাম, কর্কশ কন্ঠে বললো যদি বাঁচতে চাস তাড়াতাড়ি এখান থেকে ভাগ।কোন মতে ঝোকটা সামলে নিয়ে প্রানপনে দৌড়াতে লাগলাম। দৌড়ানির একপর্যায়ে একটা গাছের শিকড় এর সাথে হোচট খেয়ে পরে গেলাম তারপর থেকে আর কিছু মনে নাই।সকাল দশটাই ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি আমাকে ঘিরে অনেক লোকজন দাড়িয়ে আছে সবাই ফেলফেল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। রাতের সব ঘটনা তাদের খুলে বললাম। বেটে সাইজের একজন লোক এসে পাশে বসলো এবং বলতে লাগলো এই গ্রামের রহস্য গুলো। অনেক দিন আগে তখন এখানে বাজার ছিলনা, তখন রেললাইনটা সচল ছিল এটাই ছিল শেষ ষ্টেশন। এই গ্রামের রিমা নামের একটা মেয়ের রেললাইনের পাশের গ্রামের একটা ছেলের সাথে তার সম্পর্ক থাকে। ছেলেটির সাথে রিমার অনেক দিনের সম্পর্ক ছিল একপর্যায়ে রিমা প্রেগন্যান্ট হয়। তাদের চুক্তি অনুযায়ী একদিন রাতে রিমা বের হয়ে যায় তারা পালিয়ে বিয়ে করবে বলে। কিন্তু ছেলেটি রিমার সাথে প্রতারণা করে আর রিমা ট্রেনের নিচে স্যুাসাইড করে। দেহটা এতোটাই বিচ্ছিন্ন হয়েছিল যে সবাই ভয়পেত কেউ আর এটাকে দাফন করে মাটিচাপা দেয়নি। কুকুর শিয়ালের টানা হেচরায় শেষ হয়েযায়।তারপর থেকে সন্ধার পর যারা চলাচল করতো তারা নাকি একটা মেয়েকে ঘুরাঘুরি তরতে দেখতো। আবার রাতে অনেকে খাটিয়ায় করে লাশ আনতেও দেখতো আসলে আশেপাশে গ্রামে কেউ মারা যেতনা।আমি বললাম, ওই ইটের ঘরের রহস্য কি লোকগুলো যে ওখানে ডুকলো। সে বললো, ওটাই ছিলো রিমাদের বাড়ি এ ঘটনার পর তার বাবা মা বাড়ি ঘড় ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যায়। আসলে এখানে আর ট্রেন ও চলেনা নদী ভাঙ্গনে ষ্টেশন ভেঙ্গে গাছে, আর বাজারে সন্ধার পর একটা পাখিও থাকেনা এই এলাকায় সন্ধার পর কেউ ঘোরাঘোরি করেনা। কথাগুলো শোনার পর মনে হচ্ছে নিজেকে অন্যকোন এক গ্রহে আবিষ্কার করলাম।ব্যাগ গুছিয়ে রাওনা দিলাম বাড়ির দিকে এই রহস্যময় গ্রহে আর বেশিক্ষন থাকতে ইচ্ছে করছেনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now