বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রম্য ফ্যান্টাসি ফিকশন
রিচল্যান্ডের ড্রাগন-গন
জাকিউল অন্তু
আজ ঘুম থেকে উঠেছি একটু তাড়াতাড়ি । ছুটির দিনে আমি একটু বেশীই ঘুমাই। বেলা বাড়লে পর উঠি। তেমন বেলা নয় এই ধরুন বিকেলনাগাদ ঘুম ভেঙে যায় আরকি।
তারপর আস্তাবলে ঢুকে পোষা পেগাসাসগুলোকে খাওয়াই। খাইয়েদাইয়ে ওদের গোসল করিয়ে আস্তাবল পরিষ্কার করে ঢুকি বড় গুদামঘরে।
ওখানে আমার একমাত্র পোষা পুরুষ ড্রাগন "প্যারাগন" থাকে। "প্যারাগন " নামটা আমিই দিয়েছি। এই ড্রাগন আমায় প্রতিনিয়ত যেভাবে জ্বালায় তাতে ড্রাগনরুপী এই "প্যারা" যত তাড়াতাড়ি "গন" হয় মানে চলে যায় ততই ভালো।
আগে আমার গুদামে দুটো ড্রাগন ছিলো। প্যারাগনের সাথে ছিলো "রুপাগন " নামের আরেকটা মহিলা ড্রাগন।
এই নামটাও আমার ই দেয়া। ওর গায়ের আশেঁ ইলিশ মাছের মতন রুপোলী আভা ছিলো বলেই এই নামটা দিয়েছিলাম।
প্যারাগনের সাথে রুপাগনের বেশ ভাব ছিলো কিন্তু একদিন ঐ পাশের রাজ্যের " ছেঁচড়াগন " নামের এক ড্রাগনের উপস্থিতিই ওদের প্রেমের ব্যাঘাত ঘটালো।
প্যারাগন ছিলো ক্ষেত মার্কা ড্রাগন। ওড়ার স্টাইল ভালো ছিলনা। বেশী দূর পর্যন্ত উড়তেও পারতোনা।
মুখ দিয়ে আগুন ছোড়ার সময় নতুন ধূমপায়ীদের মত খকখক করে কাশতো বেকুবটা।
হাসতে গেলে দাঁতের ফাক দিয়ে আগুন বেরুতো যা দেখতে বিচ্ছিরি লাগতো।
ওদিকে "ছেঁচড়াগন" ছিলো বীরড্রাগন(বীরপুরুষ আরকি) টাইপের ড্রাগন। এক বার পাখা ঝাপটে মেঘ টেঘ ভেদ করে একেবারে পঞ্চম আকাশ পর্যন্ত চলে যেত ও।
অক্সিজেনের অভাব না হলে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত যাওয়াটাও অসম্ভব ছিলোনা ওর জন্য।
একবার তো মেঘ চিরে উড়ে যাওয়ার সময় যাওয়ার সময় এমন ভয়ানক শব্দে বজ্রপাত ঘটিয়ে ফেলেছিল ছেঁচড়া টা যে সেই বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে পাশে থাকা এক ভদ্রলোক ভয়ে পায়জামার ভেতরেই বর্জ্যপাত করে ফেলেছিলেন প্রায়।
আমি দ্রুত টয়লেটের রাস্তাটা দেখিয়ে দেয়ায় উনি সে যাত্রায় বেঁচে যান।
এছাড়া ছেঁচড়াগন রুপাগন কে সামনে পেলেই নানান কসরত দেখাতো। মুখ দিয়ে আগুন ছুড়ে লাভ চিহ্ন দেখানো, লেজ বাঁকিয়ে ডিগবাজি দেয়া আরো কত কি।
এতসব কেরদানি দেখে সুন্দরী ড্রাগন রুপাগন প্যারাগন কে ছেড়ে ছেঁচড়াগনের সাথে পালিয়ে গেলো।
বেচারা প্যারাগন আমাকে প্যারা দেওয়ার জন্য একলাই থেকে গেলো।প্রতিরাতে ওর ব্যর্থ প্রেমিক টাইপের কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম আমার কাঁচা ঘুম পাকা ভাবে ভেঙে যেত।
অগত্যা পেগাসাসের ঝরে যাওয়া পালক দিয়ে তৈরি নরম বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে ওকে সান্তনা দিয়ে আসতাম। সেই সান্তনা দিয়ে আসাটা ও এক বিরাট ঝক্কির বিষয় ছিল।
প্যারাগন কাঁদার সময় চোখের পাশাপাশি আরো কিছু বিশেষ অঙ্গ দিয়ে পানি ছাড়ার কাজটা করতো।
ফলে পুরো গুদাম ঘরে কমপক্ষে এক কোমর পানি জমে যেতো।
সেই নোংরা পানি সাঁতরে পেরিয়ে গিয়ে সান্তনা দিয়ে আসতে হতো ওকে। নইলে কান্না থামতোই না।
আরেকটা কথা প্যারাগন যে শুধু মূত্র বিসর্জন করতো তাও কিন্তু না। অতিরিক্ত মন খারাপ হলে আরো ভয়াবহ কিছু বিসর্জন দেয়াও ওর জন্য অসম্ভব ছিলনা।
ভাবছেন ড্রাগন রা কি আর ওসব করে? মিথ্যে কথা। কিন্তু আমি নিজে সাক্ষী।ওরাও অন্যসব গবাদিপশুর মতন গোবর করে। হ্যা!
বিশ্বাস হচ্ছেনা তো। ভাবছেন ড্রাগন মুখ দিয়ে আগুন ছুড়তে পারে তাই বলে অন্য দিক দিয়ে গোবর?অসম্ভব!
দাঁড়ান আরো একটা ঘটনা বললে ব্যপারটা পরিষ্কার হবে।
অবশ্য ঘটনা না বলে দুর্ঘটনা বলাটাই শ্রেয়।
আমি তখন ছোট। দাদু বেঁচে ছিলেন তখন। একদিন হঠাৎ ই দাদুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।
এঘর ওঘর সারাবাড়ি সারা মহল্লা এবং সারা রাজ্য খোঁজাখুঁজি করেও যখন দাদুকে পেলাম না তখন মনে হলো গুদামঘর টা একবার দেখে আসি।
কারন তখন সময় পেলেই দাদু তার পোষা ড্রাগন "বিড়িগন " এর সাথে বসে ধূমপান করতেন।
"বিড়িগন " এর মুখ দিয়ে বের হওয়া আগুন দিয়েই বিড়ি ধরাতেন।
কিন্তু ঘরে ঢুকে আমরা যা দেখলাম তার জন্য আলাদা প্রস্তুতি থাকা দরকার ছিলো। যা আমাদের ছিলোনা।
পুরো গুদামজুড়ে বিড়িগন গোবর করে রেখেছে। আর সেই গোবরে লেপ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন দাদু!
চারদিকে গোবরের গন্ধে টেকা যাচ্ছেনা। কোনমতে দাদুকে উদ্ধার করে ঘষেমেজে পরিষ্কার করে তাকে বৈদ্য ডেকে চিকিৎসা করালাম।
কিন্তু সমস্যা একটা থেকেই গেলো। ঐ দুর্গন্ধ! যেটা দাদুকে বেশ আপন করে নিয়েছিলো। তারওপর আবার গ্যাসের সমস্যা ছিলো দাদুর।
এই দুয়ে মিলে কি যে দারুন এবং দুর্ধর্ষ সমন্বয় তৈরি হয়েছিলো তা অন্ততপক্ষে আমাদের রাজ্যের প্রচলিত ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। অন্য রাজ্যের ডিকশনারি ঘাঁটলে হয়তো পাওয়া যেতে পারে ।
খুব প্রয়োজন না হলে তাই গন্ধগোকুল দাদুর কাছে ঘেঁষতাম না কেউ।
দুর্গন্ধ এতটা প্রবল ছিলো যে একদিন এক প্রতিবেশী বলেছিলো "তোদের ময়লার ঝুড়িগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করিসনা কেনরে?গন্ধের জ্বালায় তো আর পারিনা। "
প্রায় একমাস পর একদিন নিজের গায়ের গন্ধ সহ্য করতে না পেরে দাদু মারা গেলো।
প্রশ্ন আসতে পারে গন্ধ তো শুরু থেকেই ছিলো তাহলে এতো পরে মারা গেলো কেন?
আরে এই একমাস তো দাদুর সর্দি ছিলো। তাই গন্ধটা পান নি। তাই সর্দি শেষ আর উনিও শেষ।
প্রত্যকের মনেই ড্রাগন পোষার একটা গুপ্ত বাসনা থাকে। কিন্তু আমি বলছি । ভুলেও ড্রাগন পুষতে যাবেন না।
এই দেখুন না ড্রাগনের কথা বলতে গিয়ে আমার নিজের পরিচয় দিতেই বেমালুম ভুলে গেছি।
আমি রোজারিও।আমাদের রাজ্যের নাম রিচল্যান্ড।সব ধনী লোকদের বসবাস এই রাজ্যে তাই বোধহয় এই নামকরণ।
পরিবারের সবাই ওপারে চলে গেছে ।না না মারা যায়নি। রাজ্যের একপ্রান্তে যে নদীটা আছে তার ওপারে চলে গেছেন মা বাবা। ওখানে নিরিবিলি তে থাকেন উনারা। আমি মাঝেমধ্যে দেখে আসি তাদের।
বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কখনো বসে কখনো বা দাঁড়িয়ে অথবা দৌড়োদৌড়ি করে ফুরচ্ছি।
আমি এই বাড়িতে একা থেকে গেছি একটা কারনে।কাউকে যদি না বলেন সেই শর্তে কারন টা বলা যেতে পারে। আর কাকেই বা বলবেন, বলে হবেটাই বা কি?
রিচল্যান্ডের রাজকন্যা পিংকীর সাথে আমার ইয়ে মানে ইয়ে আছে আরকি। বেশ কয়েকবছর হয়ে গেলো আমাদের এই সম্পর্কের।
রাজমহলের পেছনের দিকটায় গাছের কোটরে বসে যবে থেকে গান গাওয়া শুরু করেছি তার কয়েকদিন পর থেকেই রাজকন্যাকে তার জানালায় দাঁড়িয়ে আমার গান শুনতে দেখেছি।
প্রথমে ভেবেছিলাম আমার গান বুঝি তার ভালো লাগে তাই ব্যাকুল হয়ে জানালায় দাঁড়ায়।
কিন্তু পরে শুনেছিলাম মানুষের কন্ঠের সাথে কাকের কন্ঠের যে একটা মিল আছে তা আমার গান শুনে প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছে ও।
যারপরনাই অবাক ও হয়েছে। আর তাই রোজ জানালায় আগমন।
পিংকী সপ্তাহে একবার আমার বাড়িতে আমার সাথে দেখা করতে আসতো। উঁচু রাজপ্রাসাদের জানালা দিয়ে বেরিয়ে ওর ড্রাগন "পাখিগন" এর পিঠে চড়ে।
দূর থেকে উড়ন্ত ড্রাগনের পিঠে ওকে দেখলে মনে হতো "পাখিগন " যেন আমার প্রানপাখিকেই পিঠে করে এগিয়ে আসছে।
কত টক ঝাল মিষ্টি আর তেতো স্মৃতি যে আমাদের রয়েছে তার শেষ নেই।
কিন্তু দুমাস হলো একটা সমস্যা হয়ে গেছে। পিংকীর বাবা রাজা মরিস আমাদের ব্যপারটা জেনে ফেলেছে আর পিংকীকে বন্দী করে রেখেছে।
বসে বসে খাওয়া ছেলের হাতে তিনি মেয়ে তুলে দেবেন না বলে ঠিক করেছেন। যদিও আমি এর উত্তরে একবার বলেছিলাম যে আপনি চাইলে আমি দাঁড়িয়ে অথবা শুয়ে শুয়েও খেতে পারি।
কিন্তু উনি শোনেননি সে কথা। উল্টে রামধমক দিয়েছেন আমাকে। ব্যাটার নাম মরিস না হয়ে "মরিচ" হওয়ার দরকার ছিলো। এতো ঝাল মেজাজ। বাপরে বাপ!
আজ দুমাস হলো পিংকীকে দেখিনা। শুনেছি ও বলেছে আমার সাথে বিয়ে না হলে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে পড়বে।
যখন ভাবি পিংকী ওর দামী ওড়নার লোভ কাটিয়ে সেই ওড়নাতেই আমার জন্য ফাঁসিতে ঝুলতে চায় তখন সত্যিই খুব ভাগ্যবান মনে হয় নিজেকে।
কিন্তু আর বোধহয় উপায় নেই। এই সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ তো দেখিনা। অন্য কেউ দেখলেও আমাকে জানায়নি।
যাই। বিছানায় বসে বসেই অনেক বকবক করলাম। ওদিকে আমার ড্রাগন প্যারাগনের বিরহী কান্নার আওয়াজ পাচ্ছি।
নিজের প্রেমটা তো সফল হলোনা। ওকে একটু সান্তনা দিয়ে আসি।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now