বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : #নীলা ম্যাডাম এর ড্রাইভার !!!
Writer : Pantha Shahria !!!
- কলেজে উঠার পর থেকে যে
কোনদিন ক্লাস করছি মনেই নাই..
সারাদিন খালি বাঁদরের মতো
এগাছ থেকে ও গাছ আবার ও গাছ
থেকে এ গাছ... এমন করেই দিন
শেষ.....
অবশেষে পরিক্ষাই ফেল... বাহ্
চমেৎকার.... না মানে বেশি
সাবজেক্ট এ ফেল করিনাই..
ঐ মনে হয় তিন চারটাতে করছি...।
তাও কেমন ফুরতি লাগতেছে.. আরো
বেশি সাবজেক্ট এ ফেল করার
কথা ছিলো তো তাই হি হি...
এদিকে বাসাই এসেই দেখি যত প্রকার
ঘূর্ণিঝড় আছে সব শুরু....
আর আমি তো আম জনতার মতো দাঁড়াই আছি..
আর আব্বা চারিদিকে ঘুরাই ঘুরাই
তার মূল্যবান ভাষণ দিতাছে...।
- তোর অনেক জ্বালাতন সহ্য করছি
তাও কিছু কই নাই... এবার তো
আর আমার বাড়িতে তোর জায়গা
নাই....
এই ধর তোর ব্যাগ... এখানে
সব জামা কাপড় গুছানো আছে
এই মুহূর্তে আমার সামনে থেকে
চলে যা...।
- সামান্যা তিন সাবজেক্ট এ ফেল
করার জন্য তুমি নিজের ছেলেকে
পর করে দিতেছ আব্বা...।
- পাশের বাসার জয় এর মতো
শত শত ছেলে এক সাথে মানুষ করা যাবে কিন্তুু তোর মতো এক পিস
মানুষ করা যাবে না...
তোর সাথে আর চিল্লাইতে পারমু না
এবার কই যাবি কেঁটে পর...।
- হুমমমম হুমমমমম থাকমু না...
চলেই যামু.... তাও একবার
ভেঁবে দেখো আব্বা...
আমি যাদি চলেই যাই বাড়িটা কেমন
ফাঁকা হয়ে যাবে না বলো...।
- টাকা রোজগার করতে যে কী
ঠেঁলা.... তখন এই সব বাঁদরামি
ভূত চলে যাবে...।
- আচ্ছা আর কোনদিন তো আসমুই
না, এখন তো অন্তত একটু
খেয়ে নিই ।
- না... আমার বাড়ির ভাত তো
জন্য বন্ধ.... আর আমিই ক্যান
এতো তোর সাথে কথা
বলছি.... যা দূর হয়ে যা...।
- আব্বা কিছু তো টাকা দিবা
নাকি... খালি হাতে কই যামু...।
- সেটা তো আমি জানি না..
কই থেকে কামাই রোজগার করবি
সেটা তোর ব্যাপার... এখন যাতো বিরক্ত করিস না।
- ঠিক জানতাম... তুমি তো আমার
বাপ শিওর কিছু তো ভেঁজাল করবাই,
তাই তো সকাল বেলাই তোমার ওখান
থেকে হাজার দশের মেরে
দিছি.........।
- সাহরিয়া ভালই ভালই কইতেছি
আমার টাকা দিয়ে দে...।
- না না এতো পাগল আমি না..
তোমার হাতে টাকা দিলে ওই
টাকা আর জীবনে আমার মুখ
দেখবে না।
থাকো তুমি তোমার বাড়ি....
আমি না একদিন এর থেকে
দশ গুণ বড়ো বাড়ি করমু হুমমমম।
- যা যা তোর কী ক্ষমতা যেটা
আমি জানি।
- নেহি ডেডি... তুমি তোমার পোলাকে
চেনো না হুমমমম।
এই গেলাম আমি টাটা....।
- হুমমমমমমমম যা যা .....।
- কী বাপ রে ভাই কোন দয়া মায়া নাই...
এখন কই যামু......
একটা ফ্রেন্ড থাকে ঢাকাই তারে ফোন
দিলাম...
ওমা হেতের ফোন তো দেখি বন্ধ।
আগে পেঁট ভরে খাই তাঁরপর অন্য
কিছু....
ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম...
বাস থেকে নামলাম....
ওরে বাছ... ওতো মানুষ ক্যান...
এখন করমু কীইইইই সেটা ভাঁবা
লাগবে....
কোন না কোন খানে তো একটা
দয়ালু মহানুভব মানুষ আছেই..
যার আমার মতোই একজন কে দরকার..
হঠাৎ মোশারক করিম এর একটা
নাটক এক সিন মনে পড়ে গেলো....
যেই কোন বড়লোকের গাড়ি দেখমু
বাড়ির ভেঁতর থেকে বের হচ্ছে ওমনি
ঝাঁপাই পড়মু...
আর মিথ্যা বলা স্টার্ট কারণ সত্যি
কথার ভাত নাই...।
এমন ভাবে তিনটা গাড়ির উপরে ঝাঁপ
দিছি কোন লাভ হয় নাই.. কারণ
তাঁদের আমার কোর দরকার নাই।
এটাই শেষ কাজ হইলে হইবো
না হইলে....... কী আর করার আবার
ট্রাই করমু....।
- ঝাঁপ দেওয়া আগে দেখি ওমা এটাতে
একটা মেয়ে তাও আবার হেব্বি দেখতে
যেমনেই হোক এখানেই একটা কাজ
জুটাইতে হইবো।
- এই এই কী করছেন... পাগল নাকি
হুমমমমমমমম ।
- ওহহহহহহ ম্যাডাম একটু বাহিরে
আসবেন দুইখান কথা আছে।
- কী কথা.....
গাড়ির জানালা খুলে।
- আমার বাপ মা কেউ নাই ম্যাডাম ,
এখন কী করমু বুঝতেছিনা... তার
মধ্যে ঢাকা শহরে নতুন আসছি...
আমার যেই চাচা আছে ওই হালাই
সব সম্পত্তি নিয়ে আমারে বাড়ি
থেকে বের করে দিছে।
এখন যদি আপনি একটা কিছু না
দেন আমি শিওর ঐ সমনের ব্রিজ
থেকে লাফ দিয়ে মরে যামু...
এবার আপনেই কন আপনার সামান্য
একটা হেল্প এর জন্য একটা ছেলে
মারে যাবে... আপনার
একটু ও কষ্ট হবে না....।
- ঠিকআছে তবে আমি কী কাজ দিবো।
- মনে হয় হেব্বি অ্যাকটিন করছি.....
না মানে কাজ তো চোখের সামনেই
আছে...।
- মানে....।
- আমি থাকতে তোমার এত্ত কষ্ট
করে ড্রাইভ করতে হবে কেনো।
না মানে তুমি বলার জন্য থুক্কু।
- ঠিকআছে... তুমি ড্রাইভ করতে
পারো...।
- সেটা আবার বলতে...।
- ওকে কবে থেকে আসবা।
- কবে কী এখন থেকেই.....
সরেন একটু....।
- ওহহহহহহ... ম্যাডাম এসি ও তো আছে।
- ঐ সব গাড়িতেই তো থাকে...।
- ও হ্যা তাই তো।
- তো তোমার নাম কী?
- আমার নাম সাহরিয়া... আপনার।
- নীলা...।
- একটা কথা বলি...।
- হুমমমমমমম।
- আচ্ছা আমাকে চিনেন না জানেন না
আর কাজ দিয়ে দিলেন... আমি তো
খারাপ ও হতে পারি... আবার কিডন্যাপ ও করতে পারি তো।
- এই যে হ্যালো পিচ্চি... তোমারে দেখে
ওই সব মনে হয় না বুঝলা...।
- হি হি... আর দেখতে ও অনেক কিউট
তাই না...।
- চুপপপপপপপপপ.... খুব বেয়াদব তো
তুমি.... সত্যি করে বলো তো কেসটা
কী.... বাপ মা মরা গেলে তো এমন
দাঁত কেলাইতে না।
- না মানে ইয়ে ম্যাডাম..... সব কাহিনী
খুলে বললাম.....।
- হা হা হা... তোমারে দেখলেই বুঝা যায়
কেমন ফাজিল।
- ওমন ভাঁবে হেঁসো না পাগলি.... হার্ডঅ্যাটাক করমু তো...(মনে মনে)।
আচ্ছা আমরা কই যাচ্ছি এখন....।
- আমার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা
করতে।
- ম্যাডাম আপনার বয়ফ্রেন্ড ও আছে।
- হুমমমমমম থাকবে না কেনো।
- হুমমমম সেটাই... চলেন।
- ওই তো এসে গেছে দাঁড়াও...।
- ওকে....।
গাড়ি থেকে নেমে চলে গেলো..
দেখে তো বেশ ভালই স্মার্ট
মনে হচ্ছে... তবে জাতের
ছেঁচড়া দেখেই বুঝা যাচ্ছে ...।
কিছুক্ষণ পড়ে চলে আসলো।
- সাহরিয়া এবার বাসাই চলো।
- ওকে.... আচ্ছা ম্যাডাম কীইইইই
করলেন।
- তেমন কিছু না কয়টা টাকা চাইছিলো
সেটাই দিতে আসছি।
- আচ্ছা কতো টাকা।
- এই তো বেশি না এক লাখ।
- কীইইইই এক লাখ তাও বেশি
না... আপনাকে একটা কথা বলি।
- হুমমমমম বলো।
- পোলাডা না একটু ও সুবিধার না...
দেখেই মনে হচ্ছে ছেঁচড়া।
- হোয়াট..।
- না কিছু না....।
চলো বাসাই চলো....।
বাসাই ঢুকার পড়ে....
- নীলা এই ছেলেটা কে।
- এই যে টাকলু কাকু... আমি নীলা
ম্যাডাম এর ড্রাইভার... একটু
সম্মান দিয়ে বলো।
- থাপ্পড় দিয়ে সোজা করমু বেয়াদব
আমি নীলার বাবা...।
- হি হি আগেই চিনছিলাম....
সরি কাকু...।
- তো এখানে কেন...।
- আবার সেই দুঃখের কাহিনী স্টার্ট
করে দিলাম...।
এমন সময়....।
- ওর কথা শুনবে না বাবা...
পুরাই ফাজিল একটা...
তার পরে সব কাহিনী বলে দিলো।
- আরে বাহ্ তোমার মতোই একটা
ছেলে খুঁজছিলাম আছি।
- হুমমমমম সেটা দেখতেই পাচ্ছি...
কিন্তুু কাকু না মানে থুক্কু স্যার।
- আরে কাকুই ভালো বলো।
- কাকু নীলার চাল চলন কিন্তুু
সুবিধার না.. এক্কেবারে ছেঁচড়া
একটা পোলাকে ভালোবাসে।
- আরে বাহ্.... এটাই তো বলতে
চাই ছিলাম তোমারে....
এখন কী করে কী করবো বলো তো।
- কাকু সাহরিয়া যখন কামিং সব
টেনশন গোইং....।
এরপরে খুঁজতে খুঁজতে ওই পোলার সব
বের করে ফেল্লাম....।
- কাকু পোলা তো আরো দুইটা মেয়ের
সাথে লাইন মারে....।
- কীইইই....।
- হুমমমমমমমমম।
- আজকে বিকেলেই ধরে আনমু চলেন।
- হুমমমমম ঠিকআছে।
- কাকু ঐ যে দেখেন সালা ছেঁচড়া
আরো একটা মেয়ের সাথে আছে...
চলেন অ্যাটাক ...।
- হুমমমমমমম চল...।
- কী বাবা রাফি... এটা কী আবার
নতুন ধরছো।
- কে তুই.....।
- এই দিকে দেখো বাবা।
- আংকেল আপনি......।
- জে ঐটা আংকেল..... আপু
তুমি এখন যাও হেতের লগে আমাগো
কথা আছে... পারলে একটা থাপড়ানি
দিয়া যাও......।
- কেনো সে কী করছে...।
- বাবা রাফি তুই বলবি নাকি....
কাকু গাড়ি থেকে লাঠি টা নিয়ে আসেন
তো...।
- না না আমি সব বলছি... বাবু
তুমি আমার পাঁচ নাম্বার....
- কীইইইই রে ভাই তুই আমার টার্গেট
ও তো ফেল করাই দিলি......
এমন সময় ঠাসসসসসস করে একটা
থাপড়ানি দিয়ে মেয়েটা চলে গেলো।
বাড়িতে ধরে এনে হাত পা বেঁধে
ফ্লোরে শুয়াই রাখছি.....
এমন সময় নীলার ফোন ওর ফোনে
আসলো।
- বাবু কই তুমি।
- তোমার বাবু এখন হুইয়া আছে।
- সাহরিয়া তুমি...।
- হুমমমমমম..বাড়িতে আসো সব বুঝতে
পাড়বা।
- ঐ তোমরা রাফিরে এমন ভাবে বেঁধে
রাখছো কেনো।
- বাবা রাফি তুই বলবি নাকি.. আবার
প্রথম থেকে শুরু করমু।
- নীলা আমি তোমার বাবার টাকার
জন্য তোমাকে ভালোবেসে
ছিলাম.... এর আগে ও আমি অনেক
মেয়ের সাথে এমন করছি...।
- এই কথা টা না যেই শুনছে ওমনি
নীলা আমার হাত থেকে লাঠিটা নিয়ে
মারতে লাগলো....
- সালা হারামি তোরে তো আমি
সব দিছি... এখনি আমার সব টাকা
ফেরত দিবি... আর আমার দেয়া চেনটা
খোল তাঁড়াতাড়ি....।
সব তো মিটমাট......।
- সাহরিয়া তুই না থাকলে এমনটা হতো
নারে (কাকু)।
- ঠিকআছে কাকু... নীলারে আমার সাথে
আমার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাই।
- ওইটাতো ছিলো হালকা ছেঁচড়া.. তোরে
তো দেখে মনে হয় ওর থেকে বড়
ছেঁচড়া...।
- হি হি হি ঠিক বুঝছেন।
- রুমে গিয়ে দেখি নীলা কাঁদছে...
ওহহহহহ ম্যাডাম এমন কেউ মরে
নাই যে এমন কাঁদতে হইবো...
এবার চলেন।
- কই।
- আমার গ্রামের বাড়ি।
- কেনো।
- আরে আমার বাপরে দেখামু না,
যে তাঁর পোলা ও কম না.... বড়লোক
হইয়া গেছে।
- মানে।
- কিছু না।
গাড়িতে করে যাচ্ছি...।
- হু হা হা হা...।
- এতো দাঁত কেঁলানোর কী আছে।
- বলছিলাম না পোলাটা হেব্বি
ছেঁচড়া।
- তো এতো হাঁসার কী আছে।
- কিছু না....
বাড়িতে যেতেই দেখি আব্বা
বাহিরে বসে আছে...
- নীলা তুমি বসো আমি আসছি।
- কী ডেডি বলছিলাম না তুমি
ঐ সাহরিয়ারে চেনো না..।
- কী অকাম করছিস বল।
- অকাম না ডেডি গাড়িতে তোমার
বউ মা বসে আছে ... দাঁড়াও নিয়ে
আসছি....
এর মধ্যে তো গ্রামের প্রায় সব লোক
অবাক।
- নীলা এই যে এইটা হলো আমার ডেডি.....।
- বাহ্ কী সুন্দর... আচ্ছা মা তুমি এই
বাঁদরটাকে কী দেখে পছন্দ করছ...।
- এই খাইছেরে.....
দেখি নীলা আব্বারে সালাম
করলো...
আর আমার দিকে তাঁকিয়ে
মুচকি একটা হাঁসি দিলো.....।
- হায়ে হায়ে হাঁসছে মানে তো সব
লাইন ক্লিয়ার....।
- সাহরিয়া তোমার সাথে কথা আছে
রুমে চলো (আস্তে আস্তে)।
- ডেডি তোমরা একটু দাঁড়াও.. আমি
এই যামু আর আসমু।
রুমের মধ্যে ঢুকে...।
- ঐ সবাইরে কী বলছো হুমমমম।
- না মানে বলছি তুমি আমার
বউ হি হি হি।
- ঠাসমমমমমমমমমমম।
- আসলে না সরি.... তোমারে
সবার সামনে ম্যাডাম কইলে কেমন
লাগতো বলো।
- আরে ঠিকিতো বলছো গাধা.....
- সত্যি.....।
- হুমমমমমমমম....।
- উমমমমমমমমমমমমমমম্মা।
- এটা কী হলো।
- পাপ্পি.... হি হি হি হি..।
>>সমাপ্তThe End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now