বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিসের ক্ষুধায় ক্ষুৎপীড়িত আমার দেহসত্তার পুরোপুরি অংশ আজো মাঝরাতে জেগে থাকে, তা আমি অদ্যপি ঠাহর করতে পারি না। কেবল বুঝতে পারি মস্তিষ্কের ঘিলু কেমন যেন শীতল থেকে শীতলতর হয়ে আসছে। ভয় পাই। কখন জানি জমাট বেঁধে বরফ হয়ে যায়। বুঝি, এত সেই না পাওয়ার কষ্টগাথা। বিশ্রী ধরনের এই কষ্টটাকে কেন জানি এখন একদম মেনে নিতে পারি না। প্রতিচিকীর্ষায় ভুগি। জেগে থাকা রাতগুলো কেন জানি অনেক গহীন হয়ে থাকে।
তখনো আমি এখনকার মতো হৃতসর্বস্ব ছিলাম। খেই হারানো এ জীবনে ভালোবাসা আসবে, ভাবতে চেষ্টাই করিনি। আমার চেহারাটাই সম্ভবত মনমরা টাইপের ছিল। আষাঢ়ের এক মেঘলা দিনে কলেজের করিডরে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎ তুমি কোত্থেকে উদয় হলে। আমি কিন্তু আসলেই সেদিন খুব করে চমকে দিয়েছিলাম। ভদ্রতার পর্দায় লেপ্টে থাকা আমার দুটি চোখ নির্লজ্জ হয়ে উঠল। বিশ্বাস কর, সেই প্রথম কোনো মানবীকে এমন আগ্রহ নিয়ে দেখলাম। আমার সারা শরীর অদৃশ্য হয়ে কেঁপে উঠল। কথা বলার প্রস্তুতি নিতে যাব, ঠিক তক্ষুণি তুমি ধমকে উঠলেÑ কী এত কষ্ট আপনার? এ রকম মনমরা হয়ে থাকেন কেন? আর কোনোদিন যেন এ রকমভাবে আপনাকে না দেখি। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার একার না।’ কথাগুলো আমার কান ভেদ করে মস্তিষ্কে গিয়ে কতবার যে প্রতিধ্বনি তুলল। যখন সম্ভিত ফিরে পেলাম দেখলাম আমার সামনে কেউ নেই। কেবল হাতের ভেতর তোমার কোনো এক ফাঁকে গুঁজে দেয়া একটা চিঠি।
রাতে তোমার চিঠিটা খুললাম। দেখলাম আমার সম্পর্কে খুঁটিনাটি সব খবরই তুমি রাখ। আমি কবে একদিন ছেঁড়া দু’টাকার নোট নিয়ে ঝালমুড়ি কিনতে গিয়ে ফেরত এসেছিলাম, সে কথাও তুমি উল্লেখ করেছ। আমি বুঝতে পারিনি এ জন্যই তুমি সেদিন ক্লাসে তোমার কান্না আটকে রাখতে পারনি।
তোমার চিঠি পড়ে সে রাতে আমি বাচ্চাদের মতো কতখানি কাঁদলাম। ভালোবাসাহীনভাবে বেঁচে থাকা এ আমি তোমার ভালোবাসা মাখানো চিঠি পড়ে আবেগী হয়ে উঠলাম। ভাবলাম, আমি কত বোকা! একটা মেয়ে আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে অথচ আমি তার কিছু জানতে পারলাম না। হীনম্মন্যতায় ভোগা অস্বচ্ছ দৃষ্টি কতখানি চক্চক্ করছিল সেদিন, দেখলে বুঝতে আমি ভালোবাসার জন্য কতখানি কাঙাল ছিলাম। তারপর প্রথম যেদিন তোমার সঙ্গে আমার ভালোবাসার সাক্ষাৎ হলো, সেদিনও আমি তোমাকে নিজ মুখ কিছু বলতে পারলাম না। কেবল সারাক্ষণ দৃষ্টি নিচু করে চোখের পানি ফেললাম। চোখের ভাষার সঙ্গে চোখের জলের ভাষা মিশে যে ব্যাকরণ তৈরি হলো, তুমি তা অতি সহজেই বুঝে ফেললে। সেই প্রথম আমি নাদানের মতো এক পৃথিবী ভালোবাসা মস্তিষ্কে বহন করে লজ্জাহীন হয়ে তোমার হাতে হতে রাখলাম। ভালোবাসা তাহলে এমন হয়!
কেয়া, কী সুন্দরভাবেই না জীবনটা চলছিল, লক্ষ্য করেছিল? আমাদের সমাজের মানুষ কী আসলে ভালোবাসতে জানে না, নাকি ভালোবাসার মূল্যটাই বোঝে না? খুব জানতে ইচ্ছা করে। একটা অপার্থিব অনুভূতি তারপর থেকে গ্রাস করে নিল আমাকে। একটা মুহূর্তের জন্য আমি স্থির হতে পারি না। নিকষ অন্ধকারে আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় অন্ধকার অস্তিত্বের সঙ্গে আমাকে মিশিয়ে ফেলার জন্য। যে আমার গলা পেঁচিয়ে ঘুমানোর স্বপ্নে তুমি মাতোয়ালি ছিলে, অন্য একটা পুরুষের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমাতে তুমি মন থেকে কতখানি প্রশ্রয় পাও জানতে ইচ্ছা করে। আবার করে না। প্রশ্নটা যেখানে ভালোবাসার, সেখানে আমার অতৃপ্ত কাঙাল মন তোমার ভালো ছাড়া খারাপ কাম্য করতে পারে না। পারে না বলেই মেঘডাকা এক দুপুরে তোমার তেরোটা চিঠি নিঃশেষ করে দিয়েছি। পরক্ষণে হাউমাউ করে কেঁদেছি।
একা আমি একাই থেকে গেলাম। আকাশে বাঁধভাঙা জ্যোৎস্না থাকলেও এখন আর গৃহত্যাগী হওয়ার ইচ্ছা জাগে না। প্রকৃতির তিরস্কারে দোমড়ানো মোচড়ানো হৃদয় হাতুড়ি দিয়ে সমতল করার চেষ্টায় কর্মরত থাকে স্বয়ং প্রকৃতি। দু’হাতের তর্জনী দিয়ে কান চেপে ধরি। তবু শব্দটা পৌঁছে যায়। আমি ব্যর্থ। আমি একা, অসহায়। ভালোবাসাকে উচ্ছেদ করতে পারলেই সব নিস্তব্ধ। কিন্তু ভালোবাসা কি উচ্ছেদের মতো কিছু। কেয়া, তুমি কি পেরেছ পুরান সেই ভালোবাসাকে দমন করতে? তা থেকে প্রতিকার পেতে? জানি পারনি। আমরা সবাই ব্যর্থ। আমাদের চোখে এখনো অশ্রু ঝরে। কারণ এ যে ভালোবাসা! হৃদয়টা যে ভালোবাসার!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now