বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তোমার হবেনা ক্ষতি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রামীম (০ পয়েন্ট)

X বহুকাল হাতের এ অস্ত্রটির ব্যবহার হয় না। অকেজো হয়ে পড়েছিল, যেন জীবনের চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে এ অস্ত্রটিকেও দিয়েছিলাম জলাঞ্জলি। আজ কলম নামের অস্ত্রটি আবারো তুলেছি সাগ্রহে। কিন্তু কেমন জানি ‘শোভা’র সংজ্ঞাটির মুখ মলিন হয়ে আসছে। আসলে বহুদিনের হারানো অভ্যাসের ফাইলগুলোর নিচে চাপা পড়েছিল। যেন কোনো একটা কাজে ওটার ওপর আবারো চক্ষুযুগল নিবারণ করেছি। আমার সঙ্গের সঙ্গীরাও বলছেÑ তোর হাতে ওই অস্ত্রটি মানায় না অপু। হঠাৎ কানে বিঁধল তাদের বাণীর বাণ। মনে হলো এ বাণের যন্ত্রণার রং বছর কয়েক আগে দেখা তোমার সিঁথির সিঁদুরের মতো লাল, টকটকে লাল। যে লাল বর্ণকে আজো বড় ভালোবেসে লালন করে রেখেছি। তাই তো কলমের নিবটাকে বড়ই ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। থর থর করে কাঁপছে হাতের আঙ্গুলগুলো। তবুও চালাতে হবে এ অস্ত্র আমার। মনকে তাই বোঝাচ্ছি, যে হাত মানুষের শরীরে গুলি করতে কাঁপে না অথচ সে হাত সামান্য সাদা পৃষ্ঠার বুককে কলম দিয়ে ঝাঁজরা করতে ভয় কিসের; আঁকড়ে ধর এ অস্ত্র। দীর্ঘ কর তোমার মনোযোগ। এখন গভীর রাত। দূরের আকাশে চাঁদ মামার অবাধ উঁকি-ঝুঁকি। আজ খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি চাঁদটাকে। কারণ আজ একটুও আমি পড়ে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে মিশেছি না। ওরা আমাকে বার বার অস্পষ্ট কণ্ঠে ডাকছে। আমি তাদের থেকে একটা রাত চেয়ে নিয়েছি। হয়ত ওরা নেশার ঘোরে আমার চাওয়াটাও চালান করেছে ওদের পাকস্থলীতে। আজ যেন এই প্রশ্নের উত্তরগুলোকে আশ্রয় করে লিখছি এ চিঠি। তুমি তো জানো আমি কোন বিষয়ে পড়তাম। আজ খুব হাসি পাচ্ছে। বুক চিরে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছেÑ তোমরা সবাই দেখ আমি ইংরেজিতে পড়ি। এটুকু তো তোমার মনে আছে আমি পড়াশোনা করতে একটুও ভালোবাসতাম না। ভাবতাম, ইংরেজি আমার কোনো দিনই হয়ে উঠবে না। এ অলস ঠোঁট একটা বাক্যও বলতে ব্যর্থ ছিল। সেই তুমি কোথায় থেকে এসেছিলে বল তো। কি জন্যই বা আমাকে শক্তি দিয়েছিল। সে শক্তির জোর অত বেশি ছিল কেন? কই আমি তো আজ শক্তি অর্জনের জন্য কত কিছুই করি। কিন্তু পাই না তো আগের মতো সেই তেজ। বেলা! তোমার চোখেও আমি গর্বের আলো দেখতে পেতাম। যে আলোর বিচ্ছুরণকে আরো শক্তিশালী করতে আমি আমার পড়াশোনা আরো বেশি শুরু করেছিলাম। আমি শেষ পর্যন্ত তোমাকেই যেন অবসর সময় দিতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। সেই ব্যর্থতার পুরস্কার হিসেবে তুমি আমাকে চির অবসর দিয়ে গেলে বুঝি। এখন আমার হাতে অনেক সময়, অনেক অনেক অবসর। নিজের ভেতরকার যে বেলা দেবীকে পূজা করে অগ্রসর হতাম, সে দেবীকে যেন কারা আজ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তাই দেবীকে যখন বিসর্জন দিতে পেরেছিলাম আর জীবনটা তো খুব সামান্যÑ এটাকে তাই বিসর্জন দিয়েছি অন্ধ জগতে। দারুণ অন্ধকার। এত অন্ধকার যে আলোর রশ্মি উঁকি দিতেও ভয় পায়। আজ আর নয়। এখনই ছুটতে হবে আমাকে। কারণ আমার চাকরি গভীর রাতে। আমাকে এখন কর্মের পাল্লায় মাপলে সেটা হয়ত বড়ই লজ্জাজনক কিন্তু মনের গভীরে যে ঘর বেলার আলোয় আলোকিত সে আলো আজো প্রজ্বলিত। তোমার কখনো কোনো ক্ষতি হবে না আমার দ্বারা আপাতত এ জ্ঞানটুকুই আমার সাহচর্যে থাকল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now