বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালোবাসার হরেক রঙ
লিখেছেন - আমজাদ হোসেন আবির
(১)
চোখের সামনে প্রিয় মানুষ টা কেমন যেন লাগছে আজ , লাগার কথাটাই স্বাভাবিক, যোজন যোজন দূরে থাকা মানুষ এরকম সামনে আছে ভাবতেই অন্যরকম লাগে,কত কত স্বপ্ন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে কেবল এই দূরত্বের কারণে।
আর আজ সেই তুমি আমার সামনে, আজ আমার পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের একজন হওয়ার কথা। জানো মিমি তোমার সাথে সম্পর্ক টা অনেকটা জেদ করেই শুরু করেছিলাম। মৌরি কে একসময় প্রচণ্ড ভালবাসতাম, ওকে নিয়েই একেকটা স্বপ্ন সাজাতাম। একটা-সময় ও জানিয়ে দিলো ও আমাকে একজন বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবেনি। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে ওকে চুপি চুপি ভালবাসতাম, ভাবতাম একসময় ও ফিরে আসবে, বুঝতে পারবে আমার ভালোবাসা। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় শক টা পেলাম ওর কাছ থেকেই। হ্যাঁ যখন দেখি সে একদিন বন্ধু-মহলে সবার সামনেই জানিয়ে দিলো ওর জীবন সে অন্য কারো সাথে জড়িয়ে নিয়েছে। এখন সে আর সিঙ্গেল নেই। সেদিন চুপচাপ চলে এসেছিলাম, বাসায় ঢুকার সাথে সাথেই বাথরুমে ডুকে ২ ঘণ্টা কেঁদেছিলাম আমি, আমাদের ছেলেদের এক সমস্যা তোমাদের মেয়েদের মতো আর বালিশে মাথা গুঁজিয়ে কাঁদতে পারে না, পাছে যদি কেউ দেখে ফেলে সেই ভয় থাকে।
এরপর নিজেকে সামলাতে খুব বেশি কষ্ট হত, কারণ ও কখনই একা আসতো না সবসময় আসার সময় ওর সঙ্গী কে নিয়ে আসতো। একসময় আমিই সবার সাথে দেখা করা কমিয়ে দিলাম। আমাদের বন্ধুক্ত তখন অন্য এক রূপে , মাঝখানে তোমার সাথে ঝগড়া হল ঠিক হল আমরা কেউ কারো সাথে যোগাযোগ রাখবো না, এরপর মনে হয় ২০ ঘণ্টার মতো তোমাকে ছাড়া থেকেছি, এর মাঝে তুমি অনেকবার ফোন আর মেসেজ দিয়ে আমার কল লগ ভরিয়ে দিয়েছিলে।
আর আমি যখন ফোন দিয়েছিলাম সাথে সাথেই ফোন ধরেই একটা কথাই বলছিলে তুই এতো ভাব নেস ক্যান ? আগের জন্মে আমি শিউর তুই মেয়ে ছিলি। এভাবেই তোমার সাথে দিন দিন আকৃষ্ট হতে থাকলাম, মন খারাপের সময় টা তে তোমাকে পাশে পেতাম, তুমি চুপচাপ আমার মনের কথাগুলো শুনতে, আমার গান গুলো চুপচাপ উপভোগ করতে।
(২)
আজ আমি একটানা কথা বলে যেতে পারছি, তুমি সামনে আছো পারবো না কেন বল। আজ আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে না, আমি জানি এইভাবে হাজার ঘণ্টা তোমার সামনে বসে থাকলে আমার এক ফোঁটা পানি লাগবে না।
আচ্ছা তোমার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে ? তখন মনে হয় আমাদের বন্ধুক্তের প্রারম্ভ চলছিল, আমি তোমাকে দুষ্টামি করে বউ ডাকতাম, আবার লাভ ইউ ও বলতাম। ইচ্ছে ছিল তোমাকে রাগানোর, তুমি রাগতে তো না ই, উল্টা বলতে হ্যাঁ জামাই বল, আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতাম তোমার উত্তর শুনে, এইভাবেই চলছিল, আমার যেই মাঝরাত গুলো তো মন খারাপ করে আকাশ দেখার কথা সেই সব রাতে আমি তোমার সাথে অট্টহাসিতে মেতেছি। আর তুমি ভয় পেয়ে বলতা “ এই আস্তে হাসতে পারিস না, আঙ্কেল আন্টি উঠলে মজা বুঝবি। ” এইভাবে চলতে চলতে আমাদের সম্পর্ক টা কখন তুই থেকে তুমি তে চলে গিয়েছিল এটা আসলে একদম মনের অজান্তেই।
কিন্তু একটা জিনিস মাঝে মাঝে কষ্ট দিত জানো, যেই তুমি দুষ্টামি করে হলেও বলতা ভালোবাসি, সেই তুমি আমাদের সম্পর্কের পর ভালোবাসি বলতে লাগিয়েছ দীর্ঘ ১ মাস, আর আমি এই এতদিন পিপাসিত কাকের মতো তোমার কানের কাছে কা কা কা করে গিয়েছি সেই একটি শব্দ শুনার জন্যে।
মনে আছে তোমার ? সম্পর্কের শুরুতে তুমি খুব করে বলতে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার জন্যে, আর আমি হেসে উড়িয়ে দিতাম, বলতাম যা হওয়ার তা হবেই। আর মাঝখানে এসে এই আমিই বলতাম সামনে কি হবে, কিভাবে আমরা এক হব, আর তখন এই তুমি বলতা “যা হওয়ার দেখা যাবে, কিন্তু প্লিজ তোমাকে ছাড়তে বলো না। ”
ফোনের ব্যাটারি ডেড হয়েছে অনেক্ষন আগেই, অপেক্ষা করো আমি পাশের রুমের টিএন্ডটি থেকে ফোন টা সেরে আসি, প্লিজ রাগ করো না বাবু টা, আমি এই যাবো আর এই আসবো।
(৩)
বেশি দেরী করে ফেললাম ? সরি রে, আসলে ওরা ফোন ধরতেই এতো লেইট করে, বুঝ তো সরকারী চাকরি মানেই এইরকম।
আচ্ছা তোমার সেইদিনের কথা মনে আছে যেদিন তুমি আমাকে তোমার জীবন কাহিনী শুনিয়েছিলে, যেদিন বলেছিলে তোমার শৈশবে পাশবিক নির্যাতনের কথা, বলেছিলে তোমার প্রথম প্রেম কিংবা ২য় ভালোলাগার মানুষ টার কথা, যদিও তেমন অনুভূতি না হলেও একটু খারাপ লেগেছিল কোনটা জানো, তুমি যখন বলেছিলে তুমি তখনও ওই মানুষটার জন্যে অপেক্ষা করো, এখনও উত্তর খুঁজে বেরাও কেন সে তোমার থেকে দূরে চলে গিয়েছিল। তবে সেদিন সবকিছু কাটিয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলাম কারণ তুমি যখন বলেছিলে এই আমিই একজন যে তোমার জীবন কাহিনী শুনছি। সেদিন বুঝেছি তুমি ঠিক কত টা বিশ্বাস করো আমাকে।
কিন্তু জানো আমি তখনও জানতাম না ভালোবাসা মানেই বিশ্বাস, আমার ক্ষেত্রে তোমার বিশ্বাস টা সৃষ্টি হয়েছিল ভালোবাসা থেকেই, কেমনে জানবো বলো তুমি তো তখন বলই নি তুমি যে আমাকে ভালোবাসো।
আচ্ছা তোমার সেইদিনের কথা মনে আছে যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল , আমি বাস স্ট্যান্ডে বসেছিলাম তোমার অপেক্ষায় কখন তুমি আমাকে নিতে আসবে, তুমি বাস স্ট্যান্ডে এসেই একের পর এক ফোন দিচ্ছিলে,আমি কিন্তু তোমাকে দূর থেকে দেখেই চিনেছি, তোমার চিন্তিত চেহারা টা দেখার জন্যেই ইচ্ছে করে ফোন টা ধরিনি প্রথমে।
মনে আছে তোমার সেদিন রিক্সায় উঠেই তুমি রিক্সার হুড তুলে দেওয়ার জন্যে চেঁচামেচি করছিলে আর আমি দিচ্ছিলাম না মাথায় ব্যথা পাবো বলে, আর তুমি তখন কি কি খোঁড়া যুক্তিই না দেখাচ্ছিলে, প্রথম টা যদিও মানা যায় তোমার আত্নীয় স্বজন কেউ দেখে ফেলবে কিন্তু পরের টা কি ছিল, এইটা কি বলছিলে তুমি, কত সুন্দর করে বল্লা " প্রেমিকের সাথে রিক্সায় চরলে হুড তুলে দিতে হয় ” আমি মনে হয় সেদিন আমার লাইফের সবচেয়ে বেশি হেসেছিলাম। আহ কি দিনটাই ছিল সেদিন। আর তোমার কি জনপ্রিয়তা রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই এই মিমি কেমন আছিস, এই মিমি কাল পড়তে যাবি, এই মিমি কতদিন তোকে দেখিনা।
আমি না হিংসায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম, আগে শুনেছি মেয়েদের এই টাইপের কথা শুনলে হিংসে হয় কিন্তু আমি ছেলে হয়ে কেন হিংসে হচ্ছিল আসলেই বুঝতে পারছিলাম না, শুধু বুঝেছিলাম হিংসে হচ্ছে । ইচ্ছে হচ্ছিল ওই পাবলিক দের গিয়ে বলি “ দেখছিস না ওর সাথে একজন আছে ক্যান ওকে ডিস্টার্ব করছিস।”
আমাদের সম্পর্ক টা যেন এক স্বপ্নের মতো ছিল রিলেশনের ৪ মাসেও আমাদের একটিবার ঝগড়া হয় নি, কিন্তু তখনও ভাবিনি আমার জন্যে এত-বড় ঝড় অপেক্ষা করছিল, তিসা যেদিন বলেছিল তোমার অন্য কারো সাথে এখনও যোগাযোগ হয়, এবং তাকে তুমি বল আমার সাথে তোমার কোন সম্পর্কই নেই আমরা কেবল বেস্ট ফ্রেন্ড। পায়ের নীচ থেকে নিজের মাটি সরে গিয়েছিল। আমি তখন তিসা কে জবাব দিয়েছিলাম তোর কোথাও ভুল হচ্ছে, মিমি কখনই এরকম হতে পারে না, আমি ওকে আমার নিজের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি। ও তখন একটা কথাই বলেছিল প্রেম করা ভালো, কিন্তু প্রেমে অন্ধ হওয়া মোটেও ভালো না, আমি ওকে বলেছিলাম প্রেমে যদি অন্ধই নাহয়, প্রিয় মানুষ টা কে যদি নিজের চেয়ে বেশি ভালো না বাসি তাহলে এ কেমন ভালোবাসা।
নিজের বিশ্বাস এর ভীত টা বাড়াতেই সেদিন তোমার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার কান্না শুনে নিজেকে সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হচ্ছিল তুমি যখন বার বার বলছিলে তুমি কিভাবে আমাকে অবিশ্বাস করতে পারো, তখন যেন আমার বুকে হাতুড়ি দিয়ে কে আঘাত করছিল। সেদিন ই তিসার সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম, আর আমাদের প্রেমের ভীত টা আরও যেন শক্ত হয়েছিল।
(৪)
বিশ্বাস জিনিস টার মূল্য খুব করে আবার বুঝতে পারি কখন জানো ? এই গত তিনদিন আগে তুমি যখন ২ বছর পড়ে আমাকে ফোন দিয়ে বল্লা আজ রাতের বাসে তুমি চট্টগ্রাম আসছো, তোমার খালু অসুস্থ আর খালা মেয়ে মানুষ একা আসাটা সেফ না, তাই তুমি চাচ্ছ আমিই যেন তোমাকে রিসিভ করি, প্রথমে ভেবেছিলাম এক নিমিষেই না বলে দিই।
কিন্তু পরের মুহূর্তে মনে হল এতদিন ধরে জমিয়ে রাখা ইচ্ছে টা এবার পূরণ করেই ফেলি, তাই ভিতরে মেরে ফেলা মানুষ টার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বলে ফেললাম ওকে আমি আসবো।
বাস আসার কথা ৭ টায় আমি সেই ৬ টা থেকেই অপেক্ষা করছিলাম যাতে তোমাকে হারিয়ে না ফেলি, এবার বাস থেকে নেমেই দুজনের দুজন কে চিনতে এতটুকু কষ্ট হয় না, অনেক পাল্টে গিয়েছ তুমি আগের চেয়ে মোটা হয়েছ, এখন তুমি বোরকা পর, পুরাদস্তুর গৃহিণীর মতই লাগছিল। এবারও আমরা রিক্সা তেই চরছিলাম কিন্তু এবার তুমি একবার ও বল নি হুড তুলতে, আর আমারও কেউ দেখার ভয় টাও ছিল না, রিক্সা টা উঠেই জানতে চেয়েছিলে কই যাচ্ছ, বলেছিলাম আমার বাসায় , ওইখান থেকে তুমি কিছু খেয়ে রেস্ট নিলে এরপর তোমাকে দিয়ে আসবো, তুমি চুপচাপ মেনে নিয়েছিলে , এটাই হয়ত বিশ্বাস।
কিন্তু জানো আমার এই বিশ্বাস টাই কাচের ফ্রেম হাত থেকে পড়লে ঠিক যেভাবে ভাঙ্গে সেইভাবেই ভেঙ্গে গিয়েছিল সেদিন যেদিন তুমি বলেছিলে “ তোমার অপেক্ষার সেই মানুষ টা ফিরে এসেছে, ফিরে এসেছে বলতে সে সরাসরি তোমার বাবা কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, আর তুমিও না করতে পারো নি, এখন তুমি কি করবে ” যদিও এমন ভাবে তুমি বলছিলে তুমি আমার থেকে অনুমতি নিচ্ছ কিন্তু তুমি আসলেই সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছ আগে , আর আমাকে জাস্ট জানাতে এসেছ।
(৫)
আমাদের সম্পর্কের ১ বছরে আমাদের ঠিক এতক্ষণ এভাবে সামনে থাকা হয় নি, কিন্তু আজ দুই বছর পর এসে তুমি দুইদিন ধরে আমার সামনে ছিলে, আমার জন্যে এ এক অন্যরকম অনুভূতি।
তোমার চাহনি টা হয়ত আমি কখনও ভুলতে পারবো না, কেমনে ভুলি বল তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল তোমার চোখ, যখন তোমাকে চেয়ারে সাথে বাঁধছিলাম, তুমি এক অন্যরকম চাহনি দিচ্ছিলে তখন অনেক প্রশ্ন, কান্না সব জমা ছিল চোখের মাঝে। ইচ্ছে ছিল তোমার উপর অনেক অত্যাচার করব, ইচ্ছে ছিল তিল তিল করে কষ্ট দিয়ে মারবো তোমাকে যা আমি গত দুইবছর ধরে নিঃসঙ্কোচে করে যাচ্ছি। কিন্তু মিমি তোমার চেহারা আমাকে আটকে দিয়েছে।
কিচ্ছু করতে পারিনি তোমাকে , কেবল দুইদিন না খাইয়ে রেখেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো আমি নিজে কিছু খাওয়া তো দূরে থাক এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত খাই নি। পারিনি আমি, আমার মুখ দিয়ে নামে নি।
ওই যে শব্দ শোনা যাচ্ছে উনারা এতক্ষণে এলেন, সেই তখন ফোন দিয়েছি ওদের আর এতক্ষণে ওদের আসার সময় হল, আচ্ছা সরকারী মানুষ গুলো সব ই এরকম কেন?
ও হ্যাঁ তোমাকে যা বলছিলাম, কেন খেতে পারিনি জানো, কারণ সব কিছু তোমার চোখের ওই চাহনির কারণে খুব বেশি ভয় পাই আমি ওইটা কে, হয়ত তুমি নিথর হয়ে পড়ে আছো বলেই এতক্ষণ এভাবে কথা বলে যেতে পারছি, নাহলে কোনদিন ই তা সম্ভব হত না।
যেই মানুষ টা গত দুই বছর ধরে একের পর এক নিকৃষ্ট অপরাধ করে গেছে, কারো চোখের দিকে তাকিয়ে এতটুকু হাত কাপেনি, সে কিনা কেবল তোমার ওই চোখের ভয়ে তোমার সামনে দাড়িয়ে তোমাকে খুন করতে ভয় পাচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো পিছন দিক থেকে গলায় তাঁর পেঁচিয়ে তোমাকে খুন করল। নিজের শেষ অপরাধ টা কাপুরুষের মতই করল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now