বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : #গুন্ডি_মেয়ের_মিষ্টি_পাপ্পি !!!
Writen by Pantha Shahria !!!
- ওহহহহ আজ কালের রিক্সা ওয়ালা
গুলার ও রাজার মতো চাহিদা।
দুকলা ছাড়া একলা যাবে না ...
এখন আমি আর এক জন কই পামু ,
সবাই তো দুকলা হয়ে ঘুরে আমার
কপালে কিচ্ছু জুটল না ।
দূর আর যদি একটা "গফ" থাকতো
তাইলে অন্তত এই রিক্সার চিন্তা
করা লাগত না ।
কী আর করার হেঁটেই কলেজ এর
দিকে রওনা দিলাম ।
হঠাৎ পিছন থেকে অনবরত
বাইকের হর্ন এর শব্দ ... একে তো
রিক্সা না পাওয়াই, এই রোদের মধ্যে
হেঁটে যাচ্ছি তাঁর ওপরে আবার এমন
কানের কাছে হর্ন এর শব্দ সহ্য হয় ।
পিছনে ঘুরতেই দেখি নিধি আপু
তাঁর স্কুটি নিয়ে আমার পিছনে
এমন হর্ন দিচ্ছে ।
বলার মতো অনেক কথা ছিল
কিন্তুু তাঁকে দেখে সব হাওয়া ।
কারণ নামটার যত মিষ্টি তাঁর
মধ্যে মিষ্টির কোন ছিটাফোঁটা নাই ।
পুরাই গুন্ডি টইপের একটা মেয়ে ,
খালি আমি কেন কলেজ এর বড়
ভাইয়েরা ও তাঁর সাথে কথা বলতে
ভয় ।
তাঁর মুখ যেমন চলে
হাত পা তাঁর থেকে বেশি ছোটাছুটি করে ।
সবাই তো কাছে যেতেই ভয় পায় , আর
এই মেয়ে খালি খালি আমার পিছনে ক্যান
পড়ে থাকে আমি বুঝি না ।
- ওই রিয়া ...একা হেঁটে হেঁটে কই যাস ।
- মেজাজটা কেমন লাগে বলেন একবার ,
দেখতেই পাচ্ছে ঘাড়ে ব্যাগ আছে তাও জিজ্ঞেস
করছে ।
কিন্তুু কী আর করার .. তাঁর মুখের উপরে
তো আর বলার মতো সাহস আমার নাই ।
- আপু আমার নাম রিয়া না সাহরিয়া ...
নামের লেজটা ধরে ঢাকেন ক্যান ।
- আমার ইচ্ছা হইছে তাই ... তোর কী এতে
কোন প্রবলেম আছে ।
- না কোন প্রবলেম নাই , কিসের
আবার প্রবলেম ।
- ওকে ... কই যাচ্ছিস ।
- কলেজে যাইতেছিলাম ।
- তো রিক্সা করে যাবি ।
- না মানে রিক্সা ওয়ালা দুকলা ছাড়া
একলা নিবে না তাই ।
- ওহহহহহ আচ্ছা ...তা হলে আমার
স্কুটিতে চর ।
- হি হি হি তোমার ওই বুলেটে চড়ার
মতো ক্ষমতা আমার নেহি , এই
উঠতে বলবা , আবার উঠতে গেলেই
থাপ্পড় দিবা আমি জানি ।
- কী বললি ... ভালই ভালই উঠে পড় না
হলে সত্যি সত্যি থাপড়ানি খাবি ।
- না মানে বলছিলাম কী তুমি একটা
মেয়ে , আর আমি তোমার পিছনে
চড়ে গেলে লোকে কী বলবে বলো ।
হঠাৎ স্কুটি থেকে নামতেছে ...
- খবরদার যদি দৌড়ানি দিছিস
তাহলে তোরে ওই লেকের পানিতে
চুবামু ।
- কী আর করার মাত্র দৌড় দেয়ার
প্লান নিছিলাম ... তাঁর আগেই এমন
ওয়ারনিং... আমার বাপরে দেখে না আমি
যতটা ভয় করি ... এই মেয়েরে দেখে আমি
তাঁর চাইতে শত গুন বেশি করি ।
স্কুটি থেকে নেমে আমার শার্টের কলার
ধরল ।
- লোকে কী বলবে তাই না , এবার
দেখি কোন লোকে আজ তোরে
বাঁচাই ।
- আচ্ছা আচ্ছা তোমার কথায় সই
কী করব বলো ।
- আজকে আমার স্কুটি তে করে কলেজ
এ যাবি বুঝলি ।
- না মানে তুমি চালাবা আর আমি পিছনে
থাকবো এটা কেমন লাগে ... তাঁর থেকে
আমি চালাই তুমি বসে থাকো ।
হায় হায় মুখের উপরে কথা বলছি ।
সরি ... না মানে মুখ ফসকে কথা গুলো
বেরিয়ে গেছে ।
- আচ্ছা আচ্ছা ওকে তুই চালা আমি পিছনে
বসছি ... আর ভুলে ও যদি জোরে
ব্রেক মেরে গায়ে টাচ করিস ...
তাহলে মেরে তোর নাক ফেটে দিমু ।
- কী মেয়েরে ভাই ... এইটুকু রাস্থার
জন্য কতো ভয়ে ভয়ে চলতে হবে ,
কার কপালে যে এই গুন্ডি মেয়েটা
আছে আল্লাহ্ জানে তাঁর কী অবস্থা
হবে ।
- ওই বিড়বিড় করে কী বলছিস ।
- কই কিচ্ছু না তো ... ।
- হুমমমম ভদ্র পোলার মতো কলেজে
যাবি ।
- আর কলেজে যাওয়া এমনিতেই সবাই
যেমন হা করে তাকাই আছে (মনে মনে ) ।
- আপু কলেজে চলে আসছি ।
- আচ্ছা এবার নেমে সোজা ক্লাস এ
যাবি ... যদি কোন মেয়ের সাথে
ট্যাংকি মারতে দেখি না ... তোরে একদম
খেয়ে ফেলমু ।
- ওলে বাবা ... আমি কী তোমারে ভয়
পাই নাকি হি হি হি ... বলেই এক দৌড়
আমারে এখন আর কে পায় ।
জীবনে আর নিধি আপুর সামনে পরমু না ।
আহা কী শান্তি লাগতেছে এখন ... এতক্ষন
মনে হয় অক্সিজেন ছাড়া ছিলাম ।
শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে ক্লাস এ যাচ্ছি ।
- হাই ... সাহরিয়া কেমন আছো (নীলা) ।
- হ্যালো ... নীলা এইতো ফাটাফাটি তুমি ।
- আমি ও ভালো ... আচ্ছা তুমি তো ওই নিধি
আপুর ভয়ে আর আমাদের সাথে
কথায় বলো না ।
- আরে দূর কে বলল আমি নিধি আপুকে
দেখে ভয় করি ... উল্টাে সে আমাকে
দেখে ভয় করে বুঝলা ।
- আচ্ছা আমি গেলাম আমার ক্লাস
আছে কেমন ... পরে ওই পুকুর
পারে আসবা কেমন ।
- আরে আমি আসব না তো কে আসবে হা হা হা ।
উল্টো ঘুরতেই ঠাসসসসসস করে একটা চটকানি
খেলাম ।
- ওহহহহহহহ ... আচ্ছা আপু মারলা ক্যান
আর এত্তজোরে কেউ মারে ।
- তোরে না কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে
বারণ করছি ।
- আরে আমি তো কিচ্ছু বলি নাই
আমার কাছে নোট চাচ্ছিল ।
- বাহ ... দুনিয়াই ভালো ছাত্র এর অভাব
পড়ছে তো তাই তোর কাছে নোট চাইবে ।
- হুমমমমম ।
- ওই হারামি হুমমমম কী হুমমমম ...
আমি তোরে দেখে ভয় পাইছি কোনদিন
শুনি । বানাই বানাই মিথ্যা কথা
বলা তোর ছুটাইতেছি ... আর
আহা দরদ কত ক্লাস শেষে পুকুর
পারে এসো ...
ভুলে ও যদি ওই দিকে যাস তা
হইলে তো দুই পা ভেঙ্গে ফেলে
দিমু ... এবার ক্লাস এ যা ।
- বাচ্চা পোলা গো মতো মাথা
নাড়াই চলে আসলাম ।
আমি জানি না আমার সাথেই ক্যান
এমন করে ।
আরো তো অনেক পোলা আছে তাঁদের
তো শাষণ করে না ।
আরে নিধি আপু দেখতে ও কিন্তুু হেব্বি
দেখলেই সব পোলার বুকের ধুকধুকানি
বেড়ে যাবে হি হি হি ।
কিন্তুু যে গুন্ডি মেয়েরে বাবা ভালোবাসি
তো আমি জীবনে ও বলতে পারমু না ।
ভবতেছি কী করা যায় ,
একটা সুযোগ পেলেই কাজে লাগামু ।
মাত্র ক্লাস থেকে বেড় হতেই দেখলাম
নিধি আমি তাঁর এর ক্লাসমেট রিয়াদ
ভাইয়ের সাথে কথা বলছে ।
মনে মনে ভাবছি এটাই সুযোগ ,
নিধি আপু কে ওনার সাথে কথা বলতে
এমন ভাব করলাম যে আমি রেগে
গেছি ।
একবার তাকাই রাগ করে চলে
আসার মতো করে চলে আসলাম ।
মনে হয় কাজ হইছে ... আমাকে
কয়েকবার পিছন থেকে সাহরিয়া সাহরিয়া
বলতে ডাকতেছে ।
কিন্তুু কে শুনে কার কথা , এক দৌড় দিয়ে
একটা ঝোপের আড়ালে লুকাই পড়লাম ।
দেখলাম আমাকে কেমন পাগল এর
মতো করে খুজতেছে ।
হি হি হি এবার বুঝবা মনু ... কেমন লাগে ।
ফোন অফ ফেসবুক অফ সব একে
বারে বন্ধ ।
সাত দিন আরামছে কেটে দিলাম ...
না এখন কলেজে যাওয়া দরকার ।
কলেজে যেতেই সবাই হা করে
আছে মনে হয় আমি একজন খুনি
কাউকে খুন করে আবার সাত দিন
পরে ফিরে আসছি ।
- সাহরিয়া তুই এতদিন কইছিলি (সজিব) ।
- সেই কথা আর কইস নারে ভাই এক ঘুমে
সাতদিন কাবার ।
- হারামি ফাজলামি বন্ধ কর ... নিধি আপু
তোরে কেমন পাগল এর মতো খুঁজেছে
জানিস ।
- দূর হেতের কথা বাদদে থাপরানি দেওয়ার
আর কোন মানুষ পায় নাই তাই ।
চারিদিকে উকি ঝুকি মাড়লাম
না নিধি আপু নাই ...তার মানে
আরামছে নীলার সাথে গল্প করা হবে ।
আহহহহহহা কী মজা ।
নীলার কাছে যেতেই ।
- সাহরিয়া কই ছিলা তুমি ... নিধি আপু
তোমাকে সত্যি অনেক ভালো বাসে
তোমার জন্য প্রতিদিন ওই পুকুর পারে
বসে থাকে ।
- নীলার কথা শুনে আর দেরি করলাম না
এক দৌড়ে পুকুর পারে চলে গেলাম ।
দেখলাম একটা পরী সেখানে
শাড়ি পরে বসে আছে ।
- কাছে যেতেই দেখলাম চোখের নিচে
কালি পরে গেছে... মনে হয় অনেক
কেঁদেছে আর রাতে ঘুমাই নাই ।
মাত্র একটু রোমান্টিক ভাবে কাছে
যাচ্ছি ...
ওমনি দুই গালে ২+২+৪ টা থাপ্পড়
এমনিতেই আমার চোখ দিয়ে পানি
বাড়াই গেছে ।
কিসের মধ্যে কী হয়ে গেলো ।
- এখানে কেন আসছিস হুমমমম
যা না যা কয়দিন পরে তো এমনি মরে
যেতাম ।
- ওহহহহহ খালি আমার বেলা সব দোষ
তুমি অন্য পোলাদের সাথে কথা বলো
তাঁর বেলা কিচ্ছু না তাই না ।
আমার যখন সব দোষ তাহলে আমি
চলে যাচ্ছি ।
আসলে কষ্টে কাঁদছি নারে ভাই ওই
গুন্ডি মেয়েটার হাতে হেব্বি জোর
গাল দুইটা লাল হয়ে গেছে ।
চলে আসতেছি ...।
- এমন সময় পিছন থেকে হাত টেনে
ধরল ... ওই কই যাস ।
- এক্কেে বারে চলে যাবো ... তুমি ওই
পোলার সাথে কথা বলো যাও ।
- আচ্ছা বাবা সরি ... আমি রেগে গেছিলাম
তোকে ... না মানে তোমাকে কতো
পাগলের মতো খুঁজছি জানো ।
- হুমমমমম ... দুই গালে হাত
দিয়ে আছি ।
- আচ্ছা অনেক জোরে লাগছে তাই না ।
- না না লাগবে ক্যান একটু ও লাগে নাই ।
- হি হি হি বোকা ... আসো যতো গুলো
মারছি তাঁর চাইতে বেশি পাপ্পি দিচ্ছি ।।
ওহহহহহহহহ কী যে কমু ভাই
মনে হয় .................. হারাই গেছি ।
- ওই আর অন্য মেয়ের সাথে কথা
বলবা না ।
- হুমমমমম তুমি ও আর কোন পোলার
সাথে কথা বলবা না কিন্তুু ।
- ওকে ...।
- আচ্ছা মেয়েদের সাথে কথা বলব না
কিন্তুু একটু একটু মাইয়াদের সাথে কথা
বলব কেমন ।
- কী বললি শয়তান ... দাঁড়া একবার ...
- আমারে আর কে ধরে
যতো গুলো পাওয়ার ফুল পাপ্পি
খাইছি ... হি হি হি ...।
>>The End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now