বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক প্লেট ফুসকা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X "আমার একটা পিক দে তো। যেটা তোর কাছে সবচাইতে বেশি সুন্দর ও ভালো লাগে" 'বৃষ্টি আমাকে ভেজাতে পারিনি...!! তুমি ভিজিয়াছ আমায়....... ভিজিয়েছো আমায়, তোমার আঁখি জলে...' একটি নীরব সন্ধ্যা। দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে ঘন কালো মেঘে আবচ্ছন্ন। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ব্যালকনির কাঁচ খুলে বসতেই নাকে এলো পাশের বাড়ির ছাদে লাগোয়া ছোট কামিনী ফুলের গন্ধ। আমি ব্যালকনিতে থাকা ইজি চেয়ারটাতে বসে গীটার বাজিয়ে গানটি গুন গুন করে গাইছি। তখনি ফোনের ডাটা কানেকশন অন থাকায় মেসেন্জার এ টুং করে বেজে উঠল মেসেজ আসার শব্দ। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি অরনির মেসেজ। সেখানেই লেখা.. "আমার একটা পিক দে তো। যেটা তোর কাছে সব চাইতে সুন্দর ও বেশি ভালো লাগে" অরনির এমন মেসেজ দেখে একটু না বরং বেশ অবাকই হলাম। কারন, আমার ভালো লাগা দিয়ে ও কি করবে? আর বড় কথা ও কি করে জানে ওর পিক আমার কাছে আছে? আমি একটু ভেবে রিপ্লে দিলাম... - তোর কি মনে হয়, তোর পিক আমার কাছে আছে? - হুমম...। থাকবে না কেনো? দে জলদি। তোর দেয়া পছন্দের পিকটাই আমি প্রোফাইলে দিবো। - হঠাৎ........?? - ইচ্ছে হল তাই। অরনির কনফিডেন্স দেখে বেশ অবাকই হচ্ছি। কারন, ও জানে কি করে আমার কাছে ওর পিকচার আছে? যদিও ওর পিক প্রায় শ খানেক আছে আমার কাছে। অরনি ফেসবুকে আগে পিক আপলোড দিত। কিন্তু এখন আর দেয় না। আগের সব পিক আমি সেভ করে রাখছি। কারন, অরনির চোখ আর মুখের হাসি আমার না দেখলে ভালোই লাগে না। তবে ওর পিক আছে আমার কাছে সেটা তো ওর জানার কথা না। আবারো মেসেন্জারে টুং করে শব্দ বেজে উঠল।.... - কই দে..? (অরনি) - আচ্ছা দিচ্ছি। আমার কাছে থাকা ওর সবচাইতে সুন্দর পিকটা দিলাম। সেন্ড করেই মনে হল অনেক বড় একটি ভূল করে ফেলেছি। কারন, যে পিক সেন্ড করেছি সেটা অরনি কখনই আপলোড করেনি। এটা আমি চুরি করে আমার ফোনের ক্যামেরায় তুলেছিলাম। যেটা ও জানেই না। আবারো মেসেজ আসলো... - এই পিকটা কোথায় পেয়েছিস? - কেনো..? তুই তো এটা আপলোড দিয়েছিলি। - মিথ্যা বলিস না আবির। আমি জানি এই পিক আমি কখনও কোনোদিন আপলোড দেয়নি। - ইয়ে মানে..আসলে..তোর অজান্তেই আমি তুলে নিয়েছিলাম। সরি। - কবে? - যেদিন ভার্সিটি থেকে পিকনিকে গিয়েছিলাম আমরা সবাই সেদিন। - ওহ..খুব ভালো হয়েছে। - ধন্যবাদ। - কাল টি.এস.সি তে আসবি কথা আছে। - কি কথা? - আই আগে তারপর বলবো। - আচ্ছা। কথাটি শেষ করতেই অফ লাইনে চলে গেল ও। আমি একটু ভয় পেলাম। অরনি কি খুব রেগে গেল নাকি? তবে তার রাগ করাটাও স্বাভাবিক। না বলে পিক তুললে যে কোনো মেয়েই রাগ করবে। তবে আমি তো অন্য ছেলেদের মত না। যে চুরি করে পিক তুলে সেই পিক দিয়ে খারাপ কিছু করবো। আমি অরনিকে ভালোবাসি খুব। ভালোবাসি বলেই ওর ফ্রেন্ড হওয়া সত্তেও এত কাছে থেকে একবারো বুঝতে দিইনি ভালোবাসি। কিন্তু আমি এ কদিন সবসময় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি ভালোবাসি। যদিও মুখে বলিনি আকার ইঙ্গিতে বলেছি। কারন যদি সব জেনে রাগ করে বন্ধুত্বটা নষ্ট করে দেয়। তখন তো ওর সাথে কথাও বলতে পারবো না। তবে কাল ও আমায় ডাকলো কেনো? কি জানি কি হবে। . অরনির সাথে পরিচয় ভার্সিটিতে এসেই। আমি সবার থেকে ক্ষ্যাত ছিলাম। ক্লাসে আসতাম শার্টের বোতামগুলো আলাদাভাবে লাগিয়ে। ডান পায়ের জুতা বা পায়ে পরে। এসব দেখে সবাই হাসাহাসি করতো। হাসতো অরনিও। তবে ওর হাসিটা ছিল সবার থেকে আলাদা। খুব মোহনীয় লাগতো। রোজ ইচ্ছে করেই ক্ষ্যাত সেজে ক্লাসে যেতাম। আর স্যারের কটু কথাতে সবাই হাসতো। আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখতাম অরনির সেই মোহনীয় হাসিটা। যা আমার হৃদয়ে অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে তুলতো। তারপর আসতে আসতে কথা বলা। বন্ধুত্ব,,তারপর ক্ষ্যাত থেকে স্মার্ট হওয়া। সবই অরনির কৃতিত্ব। . সেদিন পিকনিকে অরনি বাসন্তি কালারের শাড়ি, চুলে মানে কানের পাশে গোজা ছিল কামিনী ফুলের কয়েকটা কন্দ। মোহনীয় হাসির সংমিশ্রনে তাকে অপরুপা লাগছিল বেশ। ওখানে সব ছেলেদের চোখ ওর দিকে ছিলো আমারো ছিল সেই প্রথম থেকেই। তাই কিছু বোঝার আগেই পিকটা তুলে নিয়েছিলাম। তাই হয়ত সে রাগ করেছে। দেখি কাল যেয়ে কি হয়। . (পরের দিন) . "কেমন আছিস"? পড়ন্ত বিকেল। টি.এস.সির কোনো এক প্রাঙ্গনে বসে আছি। অরনি এসেই কেমন আছি জিঙ্গাসা করলো। আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম। এত নরম হয়ে কেনো কথা বলছে মেয়েটা? এটা কি তবে ঝড়ের পূর্বাভাস? - কি হল বল..কেমন আছিস? - হুম ভালো। তুই? - আমিও ভালো। তুই তো বেশ সুন্দর ছবি তুলতে পারিস। - হুমম - আমার কতগুলো পিক আছে তোর কাছে? - ঐ একটাই ছিল। - সত্যি? - হুম - মোবাইল টা দেতো দেখি। - মোবাইল আনি নাই। ভূলে রেখে আসছি। মোবাইল ওর কাছে দেয়া যাবে না। কারন, মোবাইলে ওর পিক অনেকগুলা আছে। ওর পিক দেখার পর যদি রাগ করে বসে সেই ভয়ে মোবাইল আনা সত্তেও মিথ্যে বললাম। - ঐ তো মোবাইল, পকেটে ভেসে আছে। - ওহ আনছি তাহলে। আমি তো মনে করেছি ভুলে.. - চুপ গাধা। দে মোবাইল। ধরা পড়ে গেছি। তাই ইচ্ছে না থাকা সত্তেও মোবাইলটি অরনির হাতে দিলাম। তবে টেনশন নেই। পাসওয়ার্ড দেয়া আছে। পাসওয়ার্ড দেয়া দেখে অরনি বললো.. - পাস কী বল? - ভূলে গেছি। - আমি কিন্তু জানি। - মানে? - পাস আমি জানি কি দেয়া। - বেশ তো। দেখি তাহলে পাস কি দিস? - "oroni" এটাই তো পাস তাই না? আমি অরনির দিকে তাকালাম না ভয়ে। তবে বেশ অবাক হলাম। আমার ফোনের পাসওয়ার্ড ও কি করে জানলো? অবশ্য জানাটা ব্যাপার না। কারন ছেলেরা যাকে ভালোবাসে সচারচার তার নামটাই পাসওয়ার্ড হিসেবে ইউস করে। তবে কি তাহলে অরনি জেনে গেল আমি তাকে ভালোবাসি? মুখটা ভয়ার্ত আর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ো জিঙ্গাসা করলাম.. - তু..তু..তুই কিভাবে জানলি? - জানি আমি। (পাসওয়ার্ড খুলে অরনি বললো) - ওয়ালপেপারে আমার ছবি..ইম্প্রেসিভ। - হুম টেনশন ওয়ালপেপার নিয়ে নয়। টেনশন গ্যালারি নিয়ে। গ্যালারিতে অরনির এতগুলাই পিক আছে যে হয়ত অরনির কাছেও নেই। গ্যালারি ওপেন করে অরনি অবাক চোখে ছবিগুলো দেখতে লাগল। দেখা শেষ হতেই বললো... - এত্তগুলা পিক? - হুম। - শুধুই হুম?আর কিছু বলবি না? - হুম - তো বল। - দেখ পিকগুলোর জন্য আমি সরি। না বলে তোলা আমার ঠিক হয়নি। প্লীজ কিছু মনে করিস না। - এইটুকুই..? আর কিছুই বলবি না? - হুম - তো বল। - আমি তোকে খুব... - ভালোবাসিস। - হুম - কবে থেকে? - ভার্সিটির সেই প্রথম দিনগুলো থেকে। - মানে? - মানে আমার ক্ষ্যাতময় সময়টা থেকে। যখন সবাই আমাকে দেখে হাসতো। সবাই মজা করতো। তুইও হাসতি। তোর ঐ সেই মন মাতানো হাসি আমার মাঝে কেমন বিরামহীন রেলগাড়ির ঝিক ঝিক শব্দ করে তুলতো। তোর হাসি কানে বাজতো সারাট সময়। মতিন স্যারের গুমোটময় ফিজিক্স ক্লাসে সবাই যখন মনোযোগী হয়ে ব্ল্যাকবোর্ড এ তাকিয়ে থাকত। তখন আমি চেয়ে থাকতাম তোর মায়াবী আর কালো টিপ পরা মুখের দিকে। তুই সারাটা ক্লাস মনোযোগী হয়ে ক্লাস করতি তখন তোর পরে আসা সাদা ওড়না যে কতবার ছুয়ে দিয়েছি। তোর হাতে চুপিসারে কতবার যে আংগুলের ছোয়া দিয়েছি। ভালোবাসি তো সেই প্রথমোদীনে। ভালোবাসি তোকে আমার উদাসীদিনে। ভালোবাসি তোকে আমার সম্মোহীত মুহুর্তে। ভালোবাসি তোকে ফিজিক্স এর সেই লাস্যময়ী কড়া স্যারের ক্লাসে। ভালোবাসি তোকে তোর মায়াবী হাসিতে। . কথাগুলো বেশ তাড়াতাড়িই বললাম। কথাগুলো শেষ করে অরনির দিকে তাকাতেই সে মুচকি এক হাসি দিয়ে বললো... - বাপরে...তা আমি কি রং এর ড্রেস পরতাম। কি রং এর ওড়না নিয়ে আসতাম সব মনে আছে? - হুম। থাকবে না কেনো? - তিন বছর আগের ব্যাপার এগুলো। - আমার তো মনে হয় এইমাত্র সব হয়েছে। সবকিছু সেই আগের মতই চোখে ভাসে। - হুমম বুঝলাম। দুজনেই চুপ হয়ে গেলাম। কি কথা বলবো বুৃজতে পারছি না। হয়ত অরনিও চুপ হয়ে কি বলবে সেটা ভাবছে। আমি ভাবছি সে রাগ করে কিছু বলবে। তখনি অরনি বললো... - ঐ শোন গাধা যে তুই এতটা বড় তা আমি জানতাম না। আচ্ছা একদিনও কি তোর মনে হয়নি তোর সাথে এতদিন আছি অথচ একবারো বুঝিস নাই ভালোবাসি আমিও যে তোকে। কি গাধা রে তুই। তোর সাথে সময় কাটানো। তোর গাধামী স্বভাব। তোর সরল কথাবলা। মাঝে মাঝে দাঁতভাঙা শব্দে তোর কবিতা। সব মিলিয়ে তোকে আমিও ভালোবেসে ফেলি। ভেবেছিলাম তুই জানাবি তা না,,মাহিন এর থেকে সব জেনে এরাকম প্ল্যান করে এতকিছু করলাম। আমাকে ভালোবাসিস সেটা আমাকে না বলে মাহিনকে সব বলতি। আমার পিক যা আছে সব মাহিনকে যেয়ে বলতি। তাইতো জানতে পারলাম। না হলে তোকে... অরনির কথা শুনে আমি চুপসে গেলাম। মনে হয় রেগে গেছে। শালা মাহিন বেশি বোঝে। বলেছিলাম অরনিকে না বলতে। অবশ্য মাহিন ভালোই করেছে বলে। সহজ করে দিল। ভার্সিটিতে আমরা তিনজন একি সাথে থাকতাম। তাই হয়ত ভালো করেছে। - চুপ করে কেনো আছিস গাধা? (অরনি) - ইয়ে না মানে...এই নে ধর। - নুপুর? এটা তো সেই হারিয়ে যাওয়া নুপুর। আমি, মাহিন আর অরনি দৌড়াদৌড়ি করেছিলাম একদিন। সেসময় অরনির এক পা হতে নুপুর খুলে পড়ে যায়। আর সেটা তুলে রাখি আমি। - কি ফাজিল রে তুই। তোকে আমি ঐদিন জিঙ্গাসা করেছিলাম পেয়েছিস কিনা। কিন্তু তুই বলেছিলি না পাস নাই। - হুমম। - তা কেনো মিথ্যে বলেছিলি? - কারন, তখন তোর কিছুই তো আমার কাছে ছিল না। অরনি কিছু বললো না। মুচকি এক হাসি দিল। আমিও ওর হাসি দেখে মুচকি হাসলাম। হাসি থামিয়ে অরনি বললো... - তা এখন তোর কাছে কি কি আছে? - তেমন কিছুই নেই। তবে তুই আছিস। - আজ থেকে তুমি করে বলবা হুম? - আচ্ছা বলবো। এখন একটা পাপ্পি দাও। - চুপ ফাজিল ছেলে। গার্লফ্রেন্ড হতে না হতেই এসব কি? কিছুই বললাম না। অরনির গালে কিস দিয়ে দিলাম এক দৌড়। অরনিও দৌড়াচ্ছে। আমাকে তাড়া করছে। বেশ লাগছে এতদিন আমিই তাড়া করে ফিরতাম। আর আজ অরনি। দৌড়ে যাচ্ছি কোনো এক ফুসকার স্টলে। অরনির রাগ ভাঙাতে বেশি কিছু না এক প্লেট ফুসকাই যথেষ্ট।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now