বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নারিকেল পাতার নাকফুল (6& Last Part)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X শাওনঃ অনু চোখ বন্ধ কর একটা খুব ভাল জিনিস দেবো তোকে..... অনন্যা চোখ বন্ধ করে রাখলো কিছু খন পর শাওন অনুর হাতে একটা কাগজ দিয়ে বললো চোখ খুলবি না দাড়া একটু...... অনন্যা চোখ বন্ধ করে দাড়িয়েই রইলো, অনেকখন পরে কোন শব্দ না পেয়ে অনন্যা চোখ খুলে দেখে শাওন আবার তাকে রেখে চলে গেছে অনন্যা শাওনের দেওয়া কাগজটা চোখ মুছতে মুছতে পড়া শুরু করলো..... অনু আমার জানু, খুব ইচ্ছে করছিলো তোকে দেখতে তাই এসেছিলাম তোকে দূর থেকে দেখবো বলে কিন্তু আল্লাহ্‌ আবার আমাকে তোর কাছে নিয়ে এলো। তবে হয়তো উপরওয়ালা যা করেন ভালোর জন্যেই করেন, আজ আবার মন ভরে তোর শরীরের গন্ধ নিয়ে গেলাম.... লিখাটা পড়ে অনন্যা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো....... শাওন তুই আমাকে কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছিস........ রাতে অনন্যা বাপ্পিকে মেসেজ করলো..... অনন্যাঃ তুমি কি আমায় চাও না বাপ্পি..?? আমি যে আর অপেক্ষা করতে পারছিনা..... বাপ্পিঃ অনন্যা আর একটু এইতো সময় হয়ে এসেছে আমি চলে আসছি তোমার কাছে... অনন্যা তুমি তো অপরূপ সুন্দরি... আর আমার চেহারাতো ভালো না... আমকে কি তোমার পাশে মেনে নিবে তোমার পরিবার........ অনন্যাঃ যদি আমার ভালোবাসায় বিশ্বাস থাকে তাহলে এসে নিয়ে যাও আমাকে..... বাপ্পিঃ আমি আসছি অনন্যা........ অনন্যা ঘুমিয়ে পরলো...... এর কিছু খন পরই চুপি চুপি শাওন অনন্যার রুমে ঢুকে... আজ শাওনের অনেক ইচ্ছে করছিলো অনন্যার ঘুমন্ত মায়াবি মুখটা মন ভরে আবার দেখবে। রাত ৩ টা বাজে শাওন এক দৃষ্টিতে তার অনুকে দেখছিলো এমন সময় অনন্যা আচমকা শাওনের হাত ধরে ফেলে........ অনন্যাঃ প্লিজ শাওন পালিয়ে যাসনে আবার প্লিজ........ শাওনঃ হুহ আমি কে যে তুই আমাকে আটকে রাখবি.......?? অনন্যাঃ তুই আমার কেউ না, তবুও তোকে ছাড়া থাকা অসম্ভব..... শাওনঃ আচ্ছা যদি তোর কাছে একটা জিনিস চাই তুই দিবি আমায়..... অনন্যাঃ বল তোর কি চাই তাই দিবো তোকে। তুই প্রয়োজন হলে আমাকে নিয়ে নে তবুও কষ্ট নিস না শাওন..... শাওনঃ আচ্ছা যা চাইবো দিবিতো.......?? অনন্যাঃ তোর কছম যা চাইবি তাই দিবো.... শাওনঃ আচ্ছা তাহলে আজকের মত ছেড়ে দে। আমার একটু কাজ আছে এর পরের বার এলে আমাকে আটকে রাখিস। অনন্যাঃ শাওন তোর অনুর সাথে কি করে এতো রাগ করতে পারিস তুই......?? শাওনঃ এই চিঠিটা রাখ আমি যাওয়ার পরে পড়ে নিস......... বলেই শাওন জানালা দিয়ে এক লাফে বেরিয়ে গেলো...... অনন্যা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চিঠিটা খুলে পড়া শুরু করলো....... অনু আমার জানু, অনু কি করবো বল, আমার মন যে মানে না আমি তো তোকে খুব বেশি ভালোবাসি, তাই বার বার ছুটে আসি তোর কাছে। অনু কি করে বোঝাবো আমি যে খুব বেশি দিন বাচবো না তোকে ছাড়া। অনু তুই তো বলতি যে আমার চোখে যাদু আছে, আমি যে কোন মেয়েকে বশ করে নিতে পারি। তাহলে কেনো তোকে বশ করতে পারলাম না। আসলে তুই মিথ্যে বলেছিলি...... তোর ভালবাসা পাওয়ার জন্য কত কষ্ট পেলাম কিন্তু দিলি না তোর ভালবাসা। তাই এখন করি না আর কোনো সুখের আশা। অনু তোর বালিশের নিচে আমি একটা দুই নাম্বার জিনিস রেখে আসছি, দেখে নিশ........ অনন্যা দুই নাম্বার কথাটা শুনে পাগলের মত তার বালিশের নিচে হুমড়ি খেয়ে পরে..... দেখে ময়লা একটা ঠোঙ্গা মোরানো, খুলে যা দেখলো তার জন্য অনন্যা একদমই প্রস্তুত ছিল না...... এর ভিতর একটা চিঠি আর একটা নারিকেল পাতার তৈরি নাকফুল... আর চিঠিটাতে লিখা...... কবিতাঃ তোমাতে আমি...... তোমার জন্য সকল ভালোবাসা, আর আনন্দের আশা.... তোমার কাছে ছুটে আশা এখন হয়ে গেছে আমার নেশা.... আমি পারি না তোকে ছেড়ে এখন থাকতে এক প্রহর..... ইচ্ছে হয় তোর শরীরের মাতাল গন্ধে সারা বেলা হই বিভোর.... তোমাতে আমি কত হারিয়ে গেছি সকাল সন্ধ্যা ভোর.. তবুও তুমি হলে না গো আপন, করলে মোরে শুধু পর... আমি তোমায় ভাবি আমার দেহের বিশাল একটা অঙ্গ বল কি এমন দোষে দিলেনা তুমি আমার ভালোবাসার সঙ্গ..... জানি তুমি খুঁজে ছিলে আমার অদৃশ্য অস্তিত্বকে ..... আর মন ভরে ভালোবেসেছো আমার দেওয়া ছলনাকে.... তুমি চাও নি কখনই আমার ভালবাসার রঙিন গোলাপ ফুল.... চেয়ে ছিলে শুধু অগাদ ছলনার নারিকেল পাতার নাকফুল..... এ গ্রাম হতে ও গ্রাম , ঘুরে ঘুরে পুরোপুরি নষ্ট করলাম মাথা..... অবশেষে পেলাম খুজে কোমল সুন্দর সতেজ নারিকেল পাতা.... খুঁজে পেয়ে নারিকেল পাতা করি নি ভুল এবার একচুল.... তাই বানিয়ে দিলাম তোমার সখের নারিকেল পাতার নাক ফুল... কবিতাটা পরেই অনন্যা পাগলের মত দৌড়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো.... শাওনকে পাগলের মত খুঁজতে লাগলো অনন্যা........ এদিক সেদিক, এখানে ওইখানে.... পুরো এলাকা খুঁজেও পাওয়া গেলোনা শাওনকে.... অনন্যা এই রাত তিনটার সময় রাস্তায় কেঁদে কেঁদে চিৎকার করে শাওনকে ডাকছে...... এলাকার প্রায় অর্ধেক লোকের ঘুম নষ্ট করে দেয়। অবশ্য অনন্যার করুণ মুখের অবস্থা দেখে কেঁদেছিল অনেকেই...... অনন্যা ডাকতে ডাকতে এক সময় অজ্ঞান হয়ে যায়... অনন্যা মাটিতে পড়ার আগেই ধরে ফেলে শাওন...... এরপর তার মায়াবি পরীকে কোলে তুলে নিয়ে আলতো করে ঠোটে চুমু খেয়ে হাটা শুরু করে শাওন। হাটতে হাটতে নদীর পাড়ে চলে আসে শাওন...... শাওন তার প্রাণের ময়না অনুকে ছুড়ে ফেলে দেয় পানিতে...... পানির স্পর্শে এসে অনন্যার জ্ঞান ফিরে আসে....... অনন্যা চোখ খুলেই জিজ্ঞেস করে..... অনন্যাঃ অই শাওন আমি পানিতে কেন...?? শাওনঃ তোর বাপ্পি তোরে ফেলে রেখে গেছে.. অনন্যাঃ উফফফ আল্লাহ্‌, অনেক ঠান্ডা লাগছে..... শাওন পানি থেকে তোল না আমায়... শাওনঃ (অন্য দিকে তাকিয়ে) তোর বাপ্পিকে ডাক.... অনন্যাঃ তুই নামবি কিনা বল.....?? শাওনঃ sry.... অনন্যাঃ আবার কিন্তু চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যাব.... শাওনঃ পানিতেই আছিস, যত খুশি চিল্লা আর অজ্ঞান হয়ে যা.... No সমস্যা.. অনন্যাঃ দেখ শাওন আর রাগ করিস না প্লিজ.... সত্যি অনেক শীত করতেছে.......... শাওনঃ তো উঠে আয়...... অনন্যাঃ শেষ বার বলতেছি, আসবি কিনা বল.....?? শাওনঃ অই আমি কি তোর বয়ফ্রেন্ড নাকি যে খালি অর্ডার করিস... অনন্যাঃ অই হারামজাদা তুই আমার বয়ফ্রেন্ড না হইলে আমার ঠোটে চুমু খাইছিস কেন....?? শাওনঃ মানে তুতত...তুই অজ্ঞান হোসনি.... অনন্যাঃ হিহিহি.... ফ্রিতে কোলে উঠতে গেলেতো একটু আকটু ভান করতেই হয়..... শাওনঃ দাড়া শালী দেখাইতেছি তোরে মজা... শাওন লাফ দিয়ে পানিতে নেমে গেলো..... অনন্যাও শাওনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরললো আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বললো অনন্যাঃ শাওন আমার মাথায় হাত দিয়ে বল, তুই আর কখনই আমাকে ছেড়ে যাবি না। শাওনঃ অনু এই ভালবাসাতো আমার না বাপ্পির জন্য..... অনন্যা অনেক জোরে শাওনের ঘাড়ে কামর দিয়ে ধরলো....... অনন্যাঃ শালা সাতটা মাস অনেক জালাইছিস.... তোরে কে বলছে বাপ্পি নাম দিয়ে ফেসবুক চালাইতে.... শাওনঃ আর তোরে কে বলছে আমার ফেক আইডির সাথে প্রেম করতে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now