বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটা লাবিব ও অধরার
লাবিব: লাবিব ছেলেটা অন্যরকম। কিছুটা রাগি,খানিকটা আত্নমর্যাদাসম্পন্ন।তার বাবা মার ডিভোর্স হয়েছিল যখন সে খুব ছোট।ডিভোর্স এর পরে তারা নিজেরা আলাদা আলাদা সংসার শুরু করে।তবে তার বাবা তার জন্য বিশাল একটা বাড়ি আর বেশ কিছু টাকা রেখে গেছেন।তাই ভালোবাসা জিনিসটা লাবিব তেমন পায়নি।
অধরা : অধরা মেয়েটা খুব শান্ত,শিষ্ট।মা বাবা মারা যাওয়ার কারনে সে একটা অনাথ আশ্রম এ বড় হয়েছে। ছোট বেলা থেকেই সে অনেক ইমোশনাল।
তাদের দুইজনের দেখা হয় ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হয়ার পর।এখান থেকেই গল্পের শুরু
অধরা কলেজে লাবিবকে দেখার পর থেকেই তার ভাল লাগা শুরু হয়।এবং ধীরে ধীরে তার মনে তা ভালবাসার জন্ম দেয়।সে লাবিবকে নানান উপহার দিতে শুরু করে।কিন্তু সে উপহার দেয়ার সময় নিজের নামটা গোপন রাখে । আর নিজের নামের জায়গায় লেখে "" অদেখা পৃথিবী ""। এভাবে কেটে যায় দুইটা বছর। HSC এক্সামের পর সবাই যখন কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে আসে,, তখন অধরা ভাবে যে সে আজ লাবিবকে তার মনের সব কথা খুলে বলবে। তাই সে লাবিবকে ডাক দেয়।
অধরা :: লাবিব তোমাকে কিছু কথা বলার জন্য ডেকেছি।তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকে তোমাকে আমার ভাল লাগতে শুরু করে। এখন আমি তোমাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি,ভালবাসার মায়াজালে আটকে গেছি।
( অধরার কথা শুনে লাবিব রেগে যায়।)
লাবিব:: তুমি আমাকে ভাল বাসলেই ত আর আমার তোমাকে ভালবাসতে হবে না। আমি আমার পছন্দ মত কাউকে ভালবাসব।তোমার মধ্যে এমন কি আছে যে আমি তোমার মত একটা মেয়েকে ভালবাসব।
এইসব আরো অনেক কথা বলে লাবিব অধরাকে অনেক অপমান করে কলেজের সবার সামনে। অধরা কাদতে কাদতে বলে
অধরা :: আমি তোমার ভালবাসা চাই না। কিন্তু আমি তোমাকে পাগলের মতো ভালবাসি এবং তোমাকে সারা জীবন তেমনি ভালবাসব।তুমি যখন চাও না ঠিক আছে, আজকেরপর থেকে আমাকে আর তোমাকে দেখতে হবেনা।। আমি আর কখনো তোমার সামনে আসব না।কথা দিচ্ছি।
এরপর অধরা তার কথা রেখেছিল।সে আর কোনোদিন লাবিবের সামনে আসেনি। এভাবে কেটে যায় প্রায় খানিকটা সময়।এর মধ্যেই লাবিব ইউনিভার্সিটির এক মেয়েকে পছন্দ করে এবং কয়দিনের মধ্যেই তাদের বিয়ে হয়।কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই লাবিবের পছন্দ করা সেই মেয়ে লাবিবের সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেয়।এবং তার কিছুদিন পর সেই মেয়েটা একটা চিঠির খামে লিখে রেখে চলে যায়।চিঠির খামে ছিল ডিভোর্স পেপার।এবং বেশ কিছু কথা যেমন :: আমালে ভালবেসে তুমি অনেক বড় ভুল করেছ।আমি অন্য একজনকে ভালবাসি।এবং আমি তার সাথে এখন অনেক সুখে আছি। তোমার সব সম্পদ যেহেতু আমার নামে দিয়েছ সো সব সম্পদ এখন আমার। তোমার সম্পদে এখন আর তোমার কোনো অধিকার নেই।লাবিব এখন অনেক নিঃসঙ্গ।।সে এখন অধরা নামের অনেক আগের সেই মেয়েটার কথা মনে করে।অধরাকে এখন সে পাগলের মত খুজছে। কিন্তু কোথাও পায়না। কলেজ থেকে তার অনাথ আশ্রমের ঠিকানা পায়।সেখানে গিয়ে জানতে পারে যে অধরা নামের মেয়েটি অনেক আগে ই সেখান থেকে চলে গেছে। তবে সে লাবিবের নামে একটা চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিল।লাবিব চিঠিটা পড়তে শুরু করে।চিঠিটা ছিল এমন
লাবিব,আমি জানি না তুমি আমাকে কখনো খুজবে কিনা। কিন্তু যদি খুজো তাহলে আমার চিঠিটা এখন তোমার কাছে। তোমার ঐ দিনের আচরণের পর আমি অনেক কেদেছি।যদিও এতে তোমার কোনো দোষ ছিল না। সে দিনের পর থেকে আমার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।হয় ত সেই অস্বাভাবিকতা তীব্র হতে শুরু করে। আমার এক ফ্রেন্ডের পরিচিত এক ডক্টর এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছু টেস্ট দেন আমাকে। এবং রিপোর্ট দেখে তিনি বলেন যে আমার নাকি ব্রেনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।এভাবে চলতে থাকলে আমি এক সময় এবনরমাল এর মত হয়ে যেতে পারি,অবুঝ শিশুর মত। আমি চাই না এ চিঠিটা পাওয়ার পর তুমি আমাকে খোজ।জানবে আমি যেখানে আছি ভাল আছি।কথা দিচ্ছি তোমাকে কখনো ভুলব না।
ইতি তোমার অদেখা পৃথিবী। লাবিব চিঠিটা পড়ার পর অধরাকে খুজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। কিন্ত সে অধরাকে আর কিছুতেই খুজে পায়না। সে প্রতিদিনই কোনো না কোনো রাস্তায়,হসপিটালে অধরাকে খুজে বেড়ায়, সে বুঝতে পারে যে সে এখন অধরাকে ভালবেসে ফেলেছে। এবং এই ভালবাসাটা মিথ্যে না।...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now