বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তোমার সাথে রিলেশন করাই ভূল হয়েছে
সো আর না অনেক হয়েছে।।।
-রিলেশনের ১মাস পর এই কথাই বলছিলা আজ প্রায়
৪বছরে একই কথা কমপক্ষে ২০০০বার বলেছ।।।
-তুমি কি হিসাব করেছ....
-অবশ্যই।।।।আজ কি সিরিয়াসলি ব্রেকআপ হবে???
-হুম আমি সিরিয়াস।।।তোমার সাথে আগামী সাত
দিন কোন যোগাযোগ হবে না।।।
-মাত্র ৭দিন।।।
-তোমার কাছে কম মনে হচ্ছে।।।
-অবশ্যই ৭এর পাশে ০ লাগিয়ে দাও ৭০দিন হয়ে
যাবে অর্থাৎ ২মাস ১০দিন।।।
-ফাজলামি করছ...
-না তো কিসের ফাজলামি।।।
-আমার স্বপ্ন ছিল একজন শান্ত ভদ্র একটা ছেলের
সাথে সম্পর্ক হবে যাকে নিয়ে আমি সারাটা
জীবন আনন্দে থাকব কিন্তু কে জানত আমার
কপালে ছিল তোমার মত ফাজিল ছেলের নাম!!!
-এখনো টাইম আছে দৌড় দাও....আরেকটা কথা
শান্ত মেয়েরা কিন্তু তাদের জীবন সঙ্গি
হিসেবে শান্ত ছেলে পায় না তারা পায় তাদের
উল্টো টা।।।
-দৌড় দিব মানে...তোমাকে এত সহজে ছেড়ে
দিব ভেবেছ তুমি হচ্ছ জাত ফাজিল আমি চলে
গেলেই অন্য মেয়ের পিছু ধরবে।।।
-ধরতে তো হবেই তুমি থাকবা না আবার অন্যকেও
থাকতে দিবা না সেটা তো হবে না।।।
-অবশ্যই হবে...সাত দিন নো যোগাযোগ এর
মধ্যে যদি অন্য কোন মেয়েকে দেখে
ক্রাশ খেয়েছ বা রিলেশনে জড়িয়েছ তাহলে
খবর আছে।।।
-কোন চ্যানেলে....
-কি???
-খবর দেখাবে...
-উফ আল্লাহ এইটা কিরকম ফাজিল.....
-তুমিই তো বললা জাত ফাজিল....
-দূর আমি গেলাম....
-আচ্ছা যাও আর হ্যাঁ ৭দিন মনে থাকে যেন চাইলে
ব্রেক আপ টা দীর্ঘস্থায়ী করে ২মাস ১০দিন
করতে পার।।।
.
রুপা রাগ করে উঠে চলে গেল আমিও কিছুক্ষণ ওর
যাওয়া দেখে উঠে পরলাম সারাদিন যদি প্রেমিকার
সাথে কাটিয়ে দেই তাহলে তো আর হবে না
অন্যদেরও কিছু সময় দেয়া প্রয়োজন অবশ্য
রুপার সাথে আমার প্রেম আলাপ হয়না বললেই
চলে সব সময় জগড়া লেগেই থাকবে তারপর
ব্রেকআপ হবে কিছুদিন পর আবার সেটা রিলেশন
হবে।।।এই নিয়ে ওর সাথে আমার ৮৯তম
ব্রেকআপটা হল আমাদের এই ব্রেকআপ নিয়ে
আমার একটা নাম আছে সেটা হল চায়না ব্রেকআপ
অর্থাৎ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।।।।আজ
ব্রেকআপ হয়েছে সো আজকে আর রুপা
ফোন মেসেজ কিছুই দিবেনা তবে কাল ঠিকি
ফোন দিবে জগড়া করবে তারপর রোমান্টিক
কান্না হবে কিছুক্ষণ এইটা হল নিয়ম মাফিক রুটিন।।।
এবার রুপার পরিচিয় সম্পর্কে বলি শুধু এতটুকুই বলছি
একি ব্যাংকে কাজ করি অর্থাৎ কলিগ এবার কিভাবে
সম্পর্ক হল বলি মেয়েটা সব সময় আমার কথা
শুনে হাসত আমি যেকোন কথাই বলি সে হাসবে
ওর আবার হাসা রোগ আছে।।।রুপা নাকি আমার কথা
বলার স্টাইল দেখে প্রেমে পরেছে এ বিষয়ে
আমার দ্বিমত আছে আর আমি ওর হাসি দেখে
ক্রাশ খেয়েছি পরে সেটা ভালবাসায় রুপ নিয়েছে
যাই হউক সেইগুলা অনেক আগের ব্যাপার অর্থাৎ
৪বছর আগের এখন এইসব নতুন করে বলার
প্রয়োজন নেই।।।।।
.
রুপা তো চলে গেছে এখন আমি একাই হাটছি
কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গানও শুনছি হঠাৎ
মোবাইল কাঁপিয়ে কল আসল কি ভাবছেন রুপা কল
দিয়েছে আরে নাহ রুপা কল দিবে তো কাল এখন
দিয়েছে দুঃসম্পর্কের এক ছোট ভাই নিশ্চই
বেচারার মন খারাপ ভাল করার জন্য ফোন দিছে এরা
আমাকে মন ভাল করার ডাক্তার ভাবে....
-হ্যালো ফায়ারসার্ভিস থেকে বলছি এবার বলুন
কোথায় আগুন লেগেছে।।।(আমি)
-আরে ফাহিম ভাই রেখেন তো আমি আছি বিরাট
টেনশনে...(সিহাব)
-২টা টেনশনের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে থাক উঠে
দেখবি টেনশন হাওয়া।।।
-টেনশনের ঔষধ পাব কোথায়???
-আমার কাছ থেকে একসময় নিয়ে যাস এখন বল কি
নিয়ে টেনশনে আছিস।।।।
-রুমার সাথে ব্রেকআপ হয়ে গেছে।।।।
-বেটা এইটা তো সুখবর টেনশনের কি???নতুন
আরেকটা ধর।।।
-বলেন কি ভাই আমি রুমা কে সত্যি অনেক
ভালবাসি।।।।
-তাহলে কল দে দেখবি মম গলে গেছে....
-ফোন দিচ্ছি ধরছে না....
-এবার দে নিশ্চিত ধরবে।।।
-ধরার পর কি বলব???
-বলবি ভালবাসি....
-শুধু এইটুকুই...
-আপাতত এইটুকুই কাজ হওয়ার কথা,না হলে অন্য
রাস্তা....
-সেইটা কি???
-পরে বলব তুই আগে এইটা বল.....
-থ্যানকু ফাহিম ভাউ....
.
ফোন কেটে আবার গান শুনতে লাগলাম আজ
অফিস ছুটি ভেবেছিলাম রুপাকে নিয়ে ঘুরব তা আর
হল না ৭দিনের ব্রেকআপ করে উনি চলে
গেলেন যদিও স্থায়ীত্ব থাকবে ১২ঘন্টার মত।।।
বাসায় চলে আসলাম এসে গোসল করে দিলাম ঘুম
এক ঘুমে রাত ৮টা অবশ্য ৮টা এর জায়গায় ১০টা হত যদি
আম্মু না ডেকে তুলতেন....
.
-আম্মু...(আমি)
-কি হয়েছে...(আম্মু)
-না মানে একটা স্বপ্ন দেখছিলাম....
-কি স্বপ্ন.....
-আমি বিয়ে করে ফেলেছি তাও আবার পালিয়ে....
-এইসব কি বলছিস তুই যদি পালিয়ে বিয়ে করিস তাহলে
মান ইজ্জত সব যাবে....
-স্বপ্নে করছি বাস্তবে তো করিনি।।।
-এমনিতেই তর বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছে....
-কোন দিন বিয়ে হচ্ছে।।।
-কেন???
-তার আগের দিন অন্য আরেকটা মেয়েকে
নিয়ে পালিয়ে যাব সাথে মান ইজ্জত ও বস্তা ভরে
নিয়ে গেলে কেমন হয়!!
-ফাজলামি ছাড় আর মায়ের সাথে ফাজলামি করতে
নেই বড় হচ্ছিস দিন দিন কিন্তু বুদ্ধি বাড়ছে না।।।
-আম্মুর সাথে করা যাবেনা তাহলে আব্বুর সাথে
গিয়ে করি....
-কি???উফ তর জ্বলায় বাসায় থাকা যাবে না।।।যা তর
বাপের সাথে গিয়া ফাজলামি কর।।।
.
অতঃপর আব্বুর কাছে গেলাম...
-আব্বু...
-কি হয়েছে...
-না মানে আম্মু বলল তোমার সাথে কিছুক্ষণ
ফাজলামি করে যেতে।।।
-কি বললি তুই তো দেখছি দিন দিন পাগলের কাতারে
চলে যাচ্ছিস...এই খানে যে লাঠি টা ছিল সেটা
কোথায়???পাগলামি আমি বের করছি দাঁড়া....
-আব্বু আমি কি লাঠিটা খুঁজে দিব.....আচ্ছা আব্বু লাঠি
দিয়ে কি করবেন???
-তর হাড্ডি গুলা ভাঙ্গব.....
-আগে বলবা না তাহলে কি আমি এতক্ষণ দাঁড়িয়ে
থাকি।।।
.
এক দৌড়ে আবার রুমে চলে আসলাম...প্রতিদিনই
আমি এইরকম কিছুনা কিছু করে আব্বু বা আম্মুকে
রাগাই ব্যাপার টা বেশ মজা লাগে ছোট বেলা
থেকেই এভাবে চলছে যাকে বলে অভ্যাস।।।
রাতে আমি তেমন বের হই না আজও বের হওয়ার
ইচ্ছে নেই তবুও বের হলাম ভাল লাগছিল না রুমের
মধ্যে.....
.
রাতে হাটা আমার একদমই পছন্দ না তবুও আজ হাটছি
কেন জানি ভাল লাগছে হয়ত বিকেলে ঘুমানোর
জন্যই বিরক্তি ভাব টা চলে গেছে...এমন সময়
মোবাইলে মিউজিক বাজতে শুরু করল অর্থাৎ কল
এসেছে পকেট থেকে ফোন বের করেই
টাস্কি খাওয়ার মত হল রুপা ফোন দিয়েছে ওর তো
ফোন কাল করার কথা গত ৪বছরের মধ্যে শুধু
আজ দেখি ব্যাতিক্রম হয়ে গেল....
-হ্যালো রুপা বলছেন।।।
-হুম আমিই।।।
-হঠাৎ করে ফোন বিষয় কি???
-তোমাকে ফোন দিতে বিষয় লাগে।।।
-অবশ্যই না কিন্তু এর আগে ব্রেকআপ করে এত
তাড়াতাড়ি ফোন দাওনি তো তাই বললাম।।।।
-কারণ আছে এজন্য দিয়েছি এখন কয়টা বাজে।।
-তোমার বাসার কি দেয়াল ঘড়ি পগারপার হয়ে
গেছে।।।
-পগারপার কি??
-মানে নষ্ট হয়ে গেছে সেজন্য আমাকে
ফোন করে সময় জানতে চাচ্ছ।।।
-না নষ্ট হয়নি টাইম বল।।।
-রাত ১০.৪৫মিনিট ১৪সেকেন্ড এখন হয়ত
১৬সেকেন্ড হয়ে গেছে।।।
-তুমি রাত ১২টার মধ্যে আমার সামনে থাকবে আমি
গেইটের সামনে অপেক্ষা করছি।।।
-আচ্ছা।।।
-এত সহজে আচ্ছা বললে যে তারমানে তুমি আসছ
না।।।
-আসার কথা যদি বিপদ না ঘটে অর্থাৎ ধর রাত ১২টার
সময় তোমার বাসার দিকে যাচ্ছি মাঝ পথ থেকে
পুলিশ আমাকে অন্য কিছু ভেবে ধরে নিয়ে
গেল।।।তারপর হাজতে ঢুকিয়ে রাম প্যাঁদানি শুরু
করল।।।
-আজেবাজে কথা একদম বলবা না।।।তুমি আসবে,না
আসলে আমি এখানেই গেইটের কাছে সারা রাত
দাঁড়িয়ে থাকব।।।
-বাংলা সিনেমা কি ইদানিং বেশি দেখা শুরু করেছ।।।
-আমি সিরিয়াস ভাবেই বলছি...আমাকে কি তোমার
মত ফাজিল মনে হয়।।
-অবশ্যই না।।।।তুমি হচ্ছ বাংলা সিনেমার রিনা খানের
মত সিরিয়াস টাইপ মহিলা।।
-বাই আসলে আসো না আসলে নাই।।।
-অকে.....
.
ফোন টা কেটে একটা রিকশা ডাক দিলাম এত রাতে
রিকশা না পাওয়ার কথা কিন্তু অনেক পাওয়া যায় কারণ রাত
যত বেশি ভাড়া তত বেশি।।।রিকশা নিয়ে কিছুক্ষণ
ঘুরাঘুরি করে রুপার বাসার সামনে গেলাম রাত প্রায়
এখন ১১টা ৫৩মিনিট।।অদ্ভুত তো রুপা সত্যি দাঁড়িয়ে
আছে।।।।
-কি মেডাম কি জন্যে এত রাতে তলব করলেন।।।
-১২টা বাজতে কত সময় আছে।।।
-২মিনিট এর মত।।।
-তুমি হয়ত ভূলে গেছ আজ আমার জন্মদিন
তোমার মনে থাকার কথাও না কারণ গত ৪বছরে তুমি
কখনই আমার জন্মদিনে উইশ করনি।।।যাই হউক তুমি
২মিনিট দাঁড়াও আমি আসছি।।।
(রুপা দৌঁড়ে বাসার ভিতর চলে গেল আবার বেরিয়ে
এল হাতের মধ্যে একটা প্যাকেট নিয়ে।।।)
-প্যাকেটে কি???
-একটা ছোট্ট কেক তোমাকে নিয়ে কাটব বলে
আনিয়েছি।।।
-ও আচ্ছ সময় হয়েগেছে কাটব নাকি....
-হুম।।।
কেক কাটা হল অবশ্য কি দিয়ে কাটব সেটা ভাবছিলাম
কারণ রুপা চাকু-টাকু কিছু আনেনি তবে চামচ এনেছে
ওইটা দিয়েই পরে কাজ চালিয়েছি।।রুপাকে যখন
কেক খাওয়ালাম তখন কোন এক অজানা কারণে ওর
চোখ দিয়ে ঝর্ণা দ্বারায় পানি বেয়ে পরছিল।।।।
যখন ও গেইটের ভিতর ঢুকে যাবে তখন ওর হাত
ধরলাম....
-এই যে মেডাম।।।
-কি???
-এই নিন আপনার জন্মদিনের গিফট।।
(পকেট থেকে একটা আংটি বের করে
দিলাম...অনেক আগেই কিনেছিলাম কিন্তু দিব দিব
বলে দেইনি...আজও দিতাম না কিন্তু কেন যেন
মনে হল আজকেই দেয়া উচিত)
-তুমি আমার জন্ম তারিখ মনে রেখেছ।।।
-না মনে নেই তবে কয়েকদিন থেকে মনে
হচ্ছিল সামনে আমার একটা বিশেষ দিন আছে সেটা
যে তোমার জন্মদিন হবে সেইরকমই আইডি
ছিল।।।
রুপা হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরল কেন ধরল জানিনা
মেয়েদের বুঝা কোন ছেলের পক্ষে সম্ভব
না।।রুপার সাথে এত দিন একসাথে চলার পরও আমি
ওকে সম্পর্ণ ভাবে বুঝতে পারিনি তবে শুধু এটাই
জানি ও যখন অনেক খুশি থাকে তখন আমাকে
কাছে পেলেই জড়িয়ে ধরে...তবে এখন
পর্যন্ত বেশি জড়িয়ে ধরেনি এই নিয়ে ৬বার
ধরেছে।।।
.
-রুপা...
-কি???
-বাসায় যাও রাত অনেক হয়েছে।।।
-বাসায়ই তো আছি শুধু গেইটের কাছে....
-তাও ঠিক না তোমার এখন নিয়ম রুমে থাকা সো
যাও।।।
-যাচ্ছি আর ১মিনিট ধরে থাকি।।।
-শুধু একমিনিট.....
.
রুপা বাসায় ঢুকে গেল বাহিরের লাইটের আলোয়
যখন ওর মুখ দেখতে পেলাম তখনও ওর গালে
চোখ থেকে বেয়ে ঝর্ণা দ্বারায় পানি পরছিল
সেই পানি চিকচিক করছিল তবে ওর ঠোঁটে হাসি ছিল
মানুষ খুবই অদ্ভুত বেশি খুশিতেও কাঁদে আবার দুঃখ
পেলেও কাঁদে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now